সালাত নফল

রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন। -বনী-ইসরাঈল ১৭:৭৯
.
তারা রাত অতিবাহিত করে তাদের রব-এর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে থেকে; -আল ফুরকান ২৫:৬৪
.
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত, -আয-যারিয়াত ৫১:১৭-১৮
.
নিশ্চয় রাতের বেলার উঠা প্রবৃত্তি দলনে প্রবলতর এবং বাকস্ফুরণে অধিক উপযোগী। -আল মুয্‌যাম্মিল ৭৩:৬
.
ফরয সলাতের পর সর্বোত্তম সলাত হচ্ছে রাতের সলাত। -মুসলিম ২৬৪৫
.
মানুষ ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় কর। -তিরমিজী ২৪৮৫
.
প্রতি রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন আর তিনি বলতে থাকেন, আমিই বাদশাহ। কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আছে এমন যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দিয়ে দেব; কে আছে এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। ফজর উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত এ ভাবেই চলতে থাকে। -মুসলিম ১৬৪৬
.
তোমাদের রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) প্রতিষ্ঠা করা উচিত। কেননা, এ হল তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অবলম্বিত রীতি। রাতের সালাত আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়; মন্দ কাজের কাফফারা এবং শারীরিক রোগের প্রতিরোধক। -তিরমিজী ৩৫৪৯
.
যে ব্যক্তি (ঘুমাতে) তার বিছানায় এসে রাতে উঠে সালাত পড়ার নিয়ত করলো, কিন্তু ঘুমের আধিক্যের কারণে তার ভোরে ঘুম ভাংলো, তাকে তার নিয়াত অনুযায়ী সওয়াব দেয়া হবে। তার এ ঘুম তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার জন্য দান-খয়রাত হিসাবে গণ্য। -ইবনে মাজাহ ১৩৪৪
.
একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের সালাতের পদ্ধতি কী? তিনি বললেনঃ দু’ দু’ রাক‘আত করে। আর ফজর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলে এক রাক‘আত মিলিয়ে বিতর করে নিবে। -বুখারী ১১৩৭
.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) বাদে সাত বা নয় কিংবা এগার রাক‘আত। -বুখারী ১১৩৯
.
আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রমাযানে আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, রমাযান মাসে ও রমাযানে ব্যতীত অন্য সময়ে (রাতে) তিনি এগার রাক‘আত হতে বৃদ্ধি করতেন না। তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! আমার দু’চোখ ঘুমায় বটে কিন্তু আমার কালব নিদ্রাভিভূত হয় না। -বুখারী ২০১৩
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ রাতে এগার রাকআত সালাত আদায় করতেন, এর মধ্যে এক রাকআত বিতর হিসেবে আদায় করতেন। এ সালাত শেষ করে তিনি ডান পার্শ্বে শুইতেন। অবশেষে মুয়াযযিন তার কাছে এলে তিনি সংক্ষিপ্ত দু রাকআত ফজরের সুন্নাত সালাত আদায় করতেন। -মুসলিম ১৫৯০
.
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) তাঁর খালা উম্মুল মু‘মিনীন মাইমূনাহ (রাযি.)-এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং আল্লাহর রাসূল ﷺ ও তাঁর পরিবার সেটির দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নাবী ﷺ রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। অতঃপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা হতে ঘুমের রেশ দূর করলেন। পরে তিনি সূরাহ্ আলু-ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল ﷺ একটি ঝুলন্ত মশ্কের নিকট গেলেন এবং উত্তমরূপে উযূ করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর মতই করলাম এবং তাঁর পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাকা’আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু’ রাক‘আত। অতঃপর বিতর আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুআয্যিন তাঁর নিকট এলো। তখন তিনি দাঁড়িযে দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। -বুখারী ৯৯২
.
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমি নাবী ﷺ এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সুরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আলে ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন। তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতেسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ (আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন,سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন)। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষন ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবংسُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى (আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিল তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, জারীর (রহঃ) এর হাদীসে অতিরিক্ত রয়েছে যে, নাবী ﷺ বললেন,سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ (যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শোনেন আমাদের প্রতিপালক! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা)। -মুসলিম ১৬৮৭
...

যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে বসে আল্লাহর যিকর করবে এবং এরপর দু’রাকআত সালাত আদায় করবে, তার জন্য একটি হজ্জ ও উমরা পালনের সওয়াব হবে।  আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ রাসূল ﷺ বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তির জন্য হজ্জ ও উমরার পরিপূর্ণ সওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সওয়াব হবে।- তিরমিজী ৫৮৬

.
নাবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ভোরে উঠে, তখন তার প্রতিটি জোড়ার উপর একটি সাদাকা রয়েছে। প্রতি সূবহানাল্লাহ সাদাকা, প্রতি আলহামদুলিল্লাহ সাদাকা, প্রতি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সাদাকা, প্রতি আল্লাহু আকবার সাদাকা, আমর বিল মা'রুফ (সৎকাজের আদেশ) সাদাকা, নাহী আনিল মুনকার (অসৎকাজের নিষেধ) সাদাকা। অবশ্য চাশতের সময় দু রাকআত সালাত আদায় করা এ সবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। -মুসলিম ১৫৪৪
.
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; নাবী ﷺ আমাদের যাবতীয় কাজের জন্য ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে তিনি কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (আর বলতেন) যখন তোমাদের কারো কোন বিশেষ কাজ করার ইচ্ছা হয়, তখন সে যেন দু'রাকআত সালাত পড়ে এরূপ দু'আ করে।
(আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা, ওয়া আসতাক্বদিরুকা বিক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকাল ‘আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু, ওয়ালা- আক্বদিরু, ওয়া তা‘অ্লামু ওয়ালা- আ‘অ্লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লা-মুল গ্বুইঊব। আল্লা-হুম্মা, ইন কুনতা তা‘অ্লামু আন্না হা-যাল আমরা (উদ্দিষ্ট বিষয়ের নাম বলবে) খাইরুল লী ফী দীনী ওয়ামা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাক্বদুরহু লী, ওয়া ইয়াসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহি। আল্লা-হুম্মা, ওয়া ইন কুনতা তা‘অ্লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী ওয়ামা‘আ-শী ওয়া ‘আ-কিবাতি আমরী ফাস্বরিফহূ ‘আন্নী, ওয়াস্বরিফনী ‘আনহু ওয়াক্ব দুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না, সুম্মা আরদ্বিনী বিহী।)
(অর্থঃ) ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের দ্বারা আমার উদ্দিষ্ট কাজের মঙ্গলামঙ্গল জানতে চাই এবং আপনার ক্ষমতা বলে আমি কাজে সক্ষম হতে চাই। আর আমি আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। কারণ, আপনি ক্ষমতাবান আর আমার কোন ক্ষমতা নেই এবং আপনি জানেন আর আমি জানিনা। আপনই গায়িব সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। ইয়া আল্লাহ! যদি আপনার জ্ঞানে এ কাজটিকে আমার দ্বীনের ব্যাপারে, আমার জীবন ধারণে ও শেষ পরিণতিতে; রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেনঃ আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে মঙ্গলজনক বলে জানেন তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন। আর যদি আমার এ কাজটি আমার দ্বীনের ব্যাপারে, জীবন ধারণে ও শেষ পরিণতিতে রাবী বলেন কিংবা তিনি বলেছেন দুনিয়ায় আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে, আপনি আমার জন্য অমঙ্গলজনক মনে করেন, তবে আপনি তা আমার থেকে ফিরিয়ে নিন। আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর যেখানেই হোক, আমার জন্য মঙ্গলজনক কাজ নির্ধারিত করে দিন। তারপর আমাকে আমার নির্ধারিত কাজের প্রতি তৃপ্ত রাখুন। রাবী বলেন, সে যেন এসময় তার প্রয়োজনের বিষয়ই উল্লেখ করে। -বুখারী ৫৯৪০
.
রাসূল ﷺ একদিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেনঃ হে আমার পিতৃব্য! আপনাকে কি আত্মীয়তার হক আদায় হিসাবে একটি জিনিস দিব, আপনাকে কি একটি বস্তু দান করব, আপনাকে কি উপকৃত করব? আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাসূল ﷺ বললেনঃ হে পিতৃব্য! এমন ভাবে চার রাকআত সালাত আদায় করবেন যে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করে রুকূর পূর্বে পনরবার পাঠ করবেন। এরপর রুকূ করে তাতে পাঠ করবেন দশবার, পরে রুকূ থেকে মাথা তুলে পাঠ করবেন দশবার, পরে সিজদা করে পাঠ করবেন দশবার, পরে সিজদা থেকে মাথা তুলে পাঠ করবেন দশবার, পরে আবার সিজদা করে পাঠ করবেন দশবার, সিজদা থেকে মাথা তুলে কিয়ামের পূর্বে পাঠ করবেন দশবার। এইভাবে প্রতি রাকা’আত হবে পঁচাত্তরবার, আর চার রাকআতে হবে মোট তিনশতবার। আপনার পাপরাশি স্তুপ দিয়ে সাজান বালুকারাশির টিলার মত যদি হয়, তবূও এতে আল্লাহ্ তা’আলা তা মাফ করে দিবেন। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বললেনঃ হে্ আল্লাহর রাসূল! এমন কে আছে যে প্রতিদিন তা পাঠ করতে সক্ষম হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি প্রতিদিন আপনি তা না পারেন তবে প্রতি সাপ্তাহে একবার করবেন। প্রতি সপ্তাহে একবার করে না পারলে প্রতি মাসে একবার। রাসূল ﷺ এইভাবে বলতে বলতে শেষে বললেনঃ অন্তত বছরে একবার তা পাঠ করবেন। -তিরমিজী ৪৮২

সালাত তারাবীহ

যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় কিয়ামে রমাযান আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। -বুখারী ২০০৮
.
আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে আমরা রোযা পালন করেছি। তিনি আমাদেরকে নিয়ে রামাযান মাসে কোন (নফল) নামায আদায় করেননি। অবশেষে তিনি রামাযানের সাত দিন বাকী থাকতে আমাদেরকে নিয়ে নামাযে দাড়ালেন। এতে এক-তৃতীয়াংশ রাত চলে গেল। আমাদেরকে নিয়ে তিনি ষষ্ঠ রাতে নামাযের উদ্দেশ্যে দাড়াননি। তিনি আবার আমাদের নিয়ে পঞ্চম রাতে নামাযের উদ্দেশ্যে দাড়ান। এতে অর্ধেক রাত চলে গেল। আমরা তাকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের বাকী রাতটিও নামায আদায় করে পার করে দিতেন।
তিনি বললেনঃ ইমামের সাথে যদি কোন লোক (ফরয) নামাযে শামিল হয় এবং ইমামের সাথে নামায আদায় শেষ করে তাহলে সে লোকের জন্য সারা রাত (নফল) নামায আদায়ের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। এরপর মাসের তিন রাত বাকী থাকা পর্যন্ত তিনি আর আমাদের নিয়ে নামায আদায় করেননি। আবার তিনি তৃতীয় (২৭শে) রাত থাকতে আমাদের নিয়ে নামাযের জন্য দাড়ালেন। তার পরিজন ও স্ত্রীগণকেও তিনি এ রাতে ডেকে তুললেন। এত (দীর্ঘ)-সময় ধরে তিনি নামায আদায় করলেন যে, যার ফলে সাহরীর সময় চলে যাওয়ার সংশয় হল আমাদের মনে। বর্ণনাকারী জুবাইর ইবনু নুফাইর বলেন, আবু বকর (রাঃ)-কে আমি বললামঃ "ফালাহ" কি? তিনি বললেন, সাহরী খাওয়া। -তিরমিজী ৮০৬, আবূ দাউদ ১৩৭৫, ইবনে মাজাহ ১৩২৭, নাসাঈ ১৩৬৭
.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ গভীর রাতে বের হয়ে মসজিদে সালাত আদায় করেন, কিছু সংখ্যক পুরুষ তাঁর পিছনে সালাত আদায় করেন। সকালে লোকেরা এ সম্পর্কে আলোচনা করেন, ফলে লোকেরা অধিক সংখ্যায় সমবেত হন। তিনি সালাত আদায় করেন এবং লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। সকালে তাঁরা এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। তৃতীয় রাতে মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ বের হয়ে সালাত আদায় করেন ও লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসল্লীর সংকুলান হল না, কিন্তু তিনি রাতে আর বের না হয়ে ফজরের সালাতে বেরিয়ে আসলেন এবং সালাত শেষে লোকদের দিকে ফিরে প্রথমে তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়ার পর বললেনঃ শোন! তোমাদের (গতরাতের) অবস্থান আমার অজানা ছিল না, কিন্তু আমি এই সালাত তোমাদের উপর ফরজ হয়ে যাবার আশংকা করছি (বিধায় বের হই নাই)। কেননা তোমরা তা আদায় করায় অপারগ হয়ে পড়তে। আল্লাহর রাসূল ﷺ এর ওফাত হলো আর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে যায়। -বুখারী ২০১২
.
'আবদুর রাহমান ইবনু ‘আবদ আল-ক্বারী (রহ.) বলেন, আমি রমাযানের এক রাতে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে মসজিদে নাবাবীতে গিয়ে দেখি যে, লোকেরা এলোমেলোভাবে জামা‘আতে বিভক্ত। কেউ একাকী সালাত আদায় করছে আবার কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করছে এবং ইকতেদা করে একদল লোক সালাত আদায় করছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি আমি একজন ক্বারীর (ইমামের) পিছনে জমা করে দেই, তবে তা উত্তম হবে। এরপর তিনি ‘উবাই ইবনু ‘কাব (রাঃ)-এর পিছনে সকলকে জমা করে দিলেন। পরে আর এক রাতে আমি তাঁর [‘উমার (রাঃ)] সাথে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে সালাত আদায় করছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, কত না সুন্দর এই নতুন ব্যবস্থা! তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাক তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা সালাত আদায় কর, এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন, কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা সালাত আদায় করত। -বুখারী ২০১০
.
উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) উবাই ইবনে কা'ব এবং তামীমদারী (রাঃ)-কে লোকজনের জন্য এগার রাকাআত (তারাবীহ) কায়েম করিতে নির্দেশ দিয়াছিলেন। কারী একশত আয়াতবিশিষ্ট সূরা পাঠ করিতেন, আর আমরা নামযে দীর্ঘ সময় দাঁড়াইতে দাঁড়াইতে (ক্লান্ত) হইয়া পড়িলে সাহায্য গ্রহণ করিতাম অর্থাৎ লাঠির উপর ভর দিতাম। আমরা ভোর হওয়ার কিছু পূর্বে ঘরে প্রত্যাবর্তন করিতাম। -মুয়াত্তা মালিক ২৪৪
.
লোকজন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে রমযানে তেইশ রাক’আত তারাবীহ পড়িতেন- তিন রাকাআত বিতর এবং বিশ রাকাআত তারাবীহ। -মুয়াত্তা মালিক ২৪৫
.
রমযানের কারী অর্থাৎ ইমাম আট রাকাআতে সূরা বাকারা পাঠ করিতেন। কোন সময় উক্ত সূরা বার রাকাআতে পাঠ করিলে লোকেরা মনে করিতেন যে, কারী (ইমাম) নামায হালকা পড়িয়াছেন। -মুয়াত্তা মালিক ২৪৬
.
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমি নাবী ﷺ এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সুরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আলে ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন।
তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতে "সুবহা-না রব্বিয়াল আযীম", বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন, "সামি'আল্লা-হু লিমান হামিদাহ"। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষন ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবং "সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা-", বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিল তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। -মুসলিম ১৬৮৭
.
আলী ও উমার (রাঃ) প্রমুখ সাহাবায়ি কিরাম হতে বর্ণিত রিওয়ায়াত অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিমের অভিমত তারাবীহ বিশ রাক’আত। এই মত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ (রাহঃ)-এর। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, আমাদের মক্কা নগরীর লোকদেরকেও বিশ রাক’আত আদায় করতে দেখেছি। কিন্তু মাদীনায় বসবাসকারীদের অভিমত বিতর সহকারে তারাবীহর রাক’আত সংখ্যা একচল্লিশ এবং এরকমই আমল করেন এখানকার লোকেরা। (সূনান আত তিরমিজী ৮০৬)

সালাত ওয়াজিব

একবার রাসূল ﷺ আমাদের কাছে বের হয়ে এসে ইরশাদ করলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের জন্য একটি সালাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রক্ত বর্ণের বহু উট থেকেও তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। এই সালাতটি হল বিতর। এশার সালাত ও সুবহে সা’দিক উভয়ের মধ্যবর্তী সময়টিকে আল্লাহ্ তা’আলা এর জন্য তোমাদের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। -তিরমিজী ৪৫২

.
হে আহলে কুরআন! তোমরা বিতরের সালাত পড়ো। নিশ্চয় আল্লাহ বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন। -ইবনে মাজাহ ১১৬৯
.
আয়িশাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতরের সালাতে কি (সূরা) পড়তেন? তিনি বলেন, তিনি প্রথম রাকাতে সূরাহ আলা, দ্বিতীয় রাকআতে সূরাহ কাফিরূন, তৃতীয় রাকআতে সূরাহ ইখলাস ও মুআব্বিযাতাইন (সূরাহ ফালাক ও নাস) পড়তেন।
-ইবনে মাজাহ ১১৭৩
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বিতরের সালাতে “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” দ্বিতীয় রাকআতে “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং শেষ রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করতেন। আর শুধুমাত্র শেষ রাকআতেই সালাম ফিরাতেন।
-সূনান নাসাঈ ১৭০৪
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বিতরের সালাত তিন রাকআত আদায় করতেন। প্রথম রাকআত “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” দ্বিতীয় রাকআতে “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” তৃতীয় রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করতেন এবং রুকুতে যাওয়ার পুর্বে দোয়ায়ে কুনূত পড়তেন। যখন সালাত শেষ করতে যেতেন তখন তিনি শেষ পর্যন্ত তিনবারسُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পড়তেন।
-সূনান নাসাঈ ১৭০২
.
এক রাতে দুইবার বিতর নেই। -তিরমিজী ৪৭০

তোমরা তোমাদের রাতের শেষ সালাত বিতরকে বানিও। -মুসলিম ১৬২৮

যার আশংকা থাকে যে, শেষ রাতে সে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাতেই বিতর আদায় করে নেয়। আর যে ব্যাক্তি শেষ রাতে উঠতে পারবে বলে আশা রাখে সে যেন রাতের শেষ ভাগে বিতর আদায় করে। কেননা শেষ রাতের সালাতে রহমতের ফিরিশতার উপস্থিতির কাল এবং তাই উত্তম। -মুসলিম ১৬৩৯

কেউ যদি বিতর আদায় না করে শুয়ে পড়ে বা তা আদায় করতে ভূলে যায়, তবে যখনই স্মরণ হবে বা সে নিদ্রা থেকে উঠবে, তখনই তা আদায় করে নিবে। -তিরমিজী ৪৬৫
.
(اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ)
{আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা-রিক লী ফীমা আ‘তাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউকদা ‘আলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইয্যু মান ‘আ-দাইতা তাবা-রাকতা রববানা ওয়া তা‘আলাইতা।}
[হে আল্লাহ! যাদের আপনি হিদায়াত করে তাদের সাথে আমাকেও হিদায়াত করুন, যাদের আপনি অকল্যাণ থেকে দূরে রেখেছেন তাদের সাথে আমাকেও অকল্যাণ থেকে দূরে রাখুন, যাদের আপনি আপনার অভিভাবকত্বে রেখেছেন তাদের সাথে আমাকেও আপনার অভিভাবকত্বে রাখুন। আপনি যা দিয়েছেন তাতে আপনি বরকত দিন। আপনি আমার তাকদিরে যা রেখেছেন এর অসুবিধা থেকে আমাকে রক্ষা করুন, আপনই তো ফয়সালা দেন, আপনার বিপরীত তো ফয়সালা দিতে পারে না কেউ। আপনি যার বন্ধু তাকে তো লাঞ্ছিত করতে পারবে না কেউ। হে আমার রব! আপনি তো বরকতময় এবং সুমহান।]
একদা হাসান ইবন আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লাম আমাকে কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন, যা আমি বিতিরের নামাযে পাঠ করি। রাবী ইবন জাওয়াসের বর্ণনায় আছে “বিতিরের দুআ কুনূতে পড়ে থাকি। -সূনান আবু দাউদ ১৪২৫

সালাত ফরজ সুন্নাহ

নিশ্চয় সালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয। -আন-নিসা ৪:১০৩
.
সূর্য হেলে পড়ার পর (হতে) (রাতের) ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করবে এবং কায়েম করবে ফাজরের কুরআন পাঠও। -আল-ইসরা ১৭:৭৮
.
অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও আর সকালে। আর অপরাহ্নে ও যুহরের সময়ে। -আর-রুম ৩০:১৭-১৮
.
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা সঠিকভাবে আদায় করবে এবং অলসতাহেতু তার কিছুই পরিত্যাগ করবে না, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করাবার জন্য অংগীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (সঠিকভাবে) আদায় করবে না, তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট কোন অংগীকার নাই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং ইচ্ছা করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। -আবু দাউদ ১৪২০
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ তিনটি সময়ে সালাত আদায় এবং মৃত ব্যাক্তিকে কবরস্থ করা হতে আমাদেরকে নিষেধ করতেন, সূর্য যখন আলোকজ্জ্বল হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে পরিষ্কারভাবে উপরে না উঠা পর্যন্ত। যখন সূর্য ঠিক মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হলে, যাবৎ না সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হয়। - মুসলিম ১৮০২
.
নাবী করীম ﷺ বলেন জিবরীল (আঃ) বায়তুল্লাহর কাছে দুইদিন আমার ইমামমত করেছেন। এর প্রথম দিন তিনি যুহরের সালাত আদায় করেছেন যখন একটি বস্তুর ছায়া জুতার ফিতার মত সামান্য লম্বা হয় আসরের সালাত আদায় করেছেন যখন একটি বস্তুর ছাড়া তাঁর সমান হয়; মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য ডুবে যায় এবং রোযাদার ইফতাঁর করে ইশার সালাত আদায় করেছেন যখন শাফাক বা সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর শেষ লালিমার পরবর্তী শভ্রতা মিলিয়ে যায়। ফজরের সালাত আদায় করেছেন যখন উজ্জল হয়ে সুবহে সা’দিকের উন্মোষ ঘটে এবং রোযাদারদের জন্য খাদ্য গ্রহণ হারাম হয়ে যায়।
তিনি দ্বিতীয় দিন যুহর আদায় করেছেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তাঁর সমান হয়; অর্থাৎ গতদিনের আসরের সালাত আদায় করার সময়ে; আসরের সালাত আদায় করোছেন যখন প্রতিটি বস্ত্তর ছায়া তাঁর দ্বিগুণ হয়; মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন প্রথম দিনের সময়েই; ইশার সালাত আদায় করেছেন যখন রাত্রির তিন ভাগের এক ভাগ অতিক্রান্ত হল; এরপর ফজর আদায় করেছেন যখন ভালভবে পৃথিবী ফর্সা হযে গেল। তাঁরপর জিবরীল (আ ) আমার দিকে ফিরলেন বললেনঃ হে মুহাম্মাদ এ হল আপনার পূর্ববর্তী নাবীগনের সালাতের ওয়াক্ত। এ দুয়ের মাঝের ওয়াক্তই হল সালাতের ওয়াক্ত। - তিরমিজী ১৪৯
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এক প্রশ্নকারী এসে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তিনি তখন তার কোনও উত্তর দিলেন না। আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, তারপর ফজর আদায় করলেন যখন ফজরের ওয়াক্ত (মাত্র) প্রতিভাত হল। আর লোকেরা (অন্ধকারের জন্য) একে অন্যকে চিনতে পারছিল না। তারপর তাকে (বিলালকে) আদেশ করলেন। অতঃপর তিনি যুহররের ইকামাত দিলেন সূর্য হেলামাত্র। তখন কেউ কেউ বলাবলি করছিল যে, এখন দুপুর হয়েছে মাত্র। অথচ তিনি তাদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত ছিলেন। তারপর তাঁকে (বিলালকে) আদেশ করলেন। তিনি আসরের ইকামাত দিলেন সূর্য তখনও উপরেই ছিল। তারপর তাকে (বিলালকে) আদেশ করলেন। তিনি মাগরিব আদায় করলেন সূর্য অস্ত যাওয়ামাত্র। তারপর তাকে (বিলালকে) আদেশ করলেন। তিনি এশার  ইকামাত দিলেন শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পর। এর পরের দিন ফজরের সালাত বিলম্বিত করলেন এমন কি সালাত শেষ করার পর কেউ কেউ বলাবলি করছিল যে, সূর্য উঠে গেছে কিংবা প্রায় উঠে উঠে। তারপর যুহর দেরী করে আদায় করলেন গত দিনের আসরের ওয়াক্তের কাছাকাছি সময়ে। তারপর আসর এতখানি দেরী করে আদায় করলেন যাতে সালাতশেষে লোকেরা বলছিল যে, সূর্য লাল হয়ে গিয়েছে। তারপর মাগরিবে এতখানি দেরী করলেন যে, শাফাক গায়েব হওয়ার কাছাকাছি সময় এসে গেল। তারপর এশা রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করলেন। তারপর ভোর হলে প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেন, ওয়াক্ত এই সীমার মধ্যবতী। -মুসলিম ১২৬৯

যে ব্যাক্তি সূর্য উঠার আগে ফজরের সালাতের এক রাকআত পায়, সে ফজরের সালাত পেল। আর যে ব্যাক্তি সূর্য ডুবার আগে আসরের সালাতের এক রাকাআত পেল সে আসরের সালাত পেল। -বুখারী ৫৫২

আল্লাহর রাসূল ﷺ যখন ফজরের সালাত শেষ করতেন তখন নারীরা চাদরে সর্বাঙ্গ আচ্ছাদিত করে ঘরে ফিরতেন। অন্ধকারের দরুণ তখন তাঁদেরকে চেনা যেতো না। -বুখারী ৮৬৭

ভোরের আলো প্রকাশিত হলে ফজর সলাত আদায় করবে। কারণ এতে তোমাদের জন্য অত্যধিক সাওয়াব বা অতি উত্তম বিনিময় রয়েছে। -আবূ দাউদ ৪২৪

ফজরের সালাত যতঈ ফর্সা হওয়ার পর আদায় করবে, ততই তোমাদের অধিক সওয়াবের কারণ হবে। -নাসাঈ ৫৫০
...
যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিয়মিত বার রাক’আত সুন্নাত আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর বানিয়ে দিবেনঃ যোহরের পূর্বে চার রাকআত, এরপর দু’রাকআত, মাগরিবের পর দু’রাকআত এশার পর দু’রাকআত, ফজরের পূর্বে দু’রাকআত। -তিরমিজী ৪১৪
.
রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং এর পর চার রাকআত সুন্নাত আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। -তিরমিজী ৪২৭
...
মক্কার পথে রাসূলুল্লাহ ﷺ (একবার বিশ্রাম গ্রহণের জন্য) রাত্রিতে অবতরণ করিলেন এবং বিলালকে নামাযের জন্য জাগাইয়া দেওয়ার দায়িত্বে নিযুক্ত করিলেন। তারপর বিলাল ঘুমাইলেন এবং অন্য সকলেও ঘুমাইলেন। এমন কি তাহারা জাগিলেন সূর্য ওঠার পর। হতচকিত অবস্থায় দলের লোকজন জাগ্রত হইলেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাহাদিগকে সওয়ার হওয়ার এবং সেই উপত্যকা হইতে বাহিরে চলিয়া যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর তিনি বলিলেনঃ এই উপত্যকায় অবশ্যই শয়তান রহিয়াছে। তারপর তাহারা সওয়ার হইলেন এবং সেই উপত্যক হইতে বাহির হইয়া গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে অবতরণ এবং ওযু করার নির্দেশ দিলেন। আর বিলালকে নামাযের জন্য আযান অথবা ইকামত বলার হুকুম করিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ লোকজনকে নামায পড়াইলেন। তারপর তাঁহাদের দিকে মুখ ফিরাইলেন এবং তাঁহাদের ঘাবড়ানোর অবস্থা অনুধাবন করিলেন।
তখন তিনি বলিলেনঃ হে লোকসমাজ! আল্লাহ আমাদের আত্মাসমূহকে কাবু করিয়াছিলেন, আর তিনি যদি ইচ্ছা করিতেন এই সময় ব্যতীত ভিন্ন সময়ে আত্মাসমূহকে আমাদের নিকট ফেরত দিতে পারিতেন। যদি তোমাদের কেউ নামায হইতে ঘুমাইয়া পড় অথবা উহাকে ভুলিয়া যাও, অতঃপর হঠাৎ নামাযের কথা স্মরণ হয়, তবে সেই নামাযকে উহার নির্ধারিত সময়ে যেইরূপে পড়িতে সেইভাবে পড়িবে। তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ আবু বকর (রাঃ)-এর দিকে দৃষ্টি করিলেন। তারপর বলিলেনঃ বিলাল যখন দাঁড়াইয়া নামায পড়িতেছিল তখন তাহার কাছে শয়তান আসিল এবং তাহাকে ঠেস দেওয়াইয়া বসাইল এবং শিশুকে যেভাবে (থাপি দিয়া) শান্ত করা হয় ও ঘুম পাড়ানো হয় সেইভাবে তাহার সঙ্গে বারবার করিতে থাকিল। এমন কি (শেষ পর্যন্ত) বিলাল ঘুমাইয়া পড়িল।
তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বিলালকে আহবান করিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আবু বকর (রাঃ)-কে যেরূপ বলিয়াছিলেন বিলালও অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করিলেন। ইহা শুনিয়া আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল। -মুয়াত্তা মালিক ২৬
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ খায়বার যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় রাত্রে সফর করলেন। অবশেষে যখন তাঁর তন্দ্রা পেল, তখন তিনি শেষ রাত্রে (এক স্থানে) মনযিল করলেন এবং বিলাল (রাঃ) কে নির্দেশ দিলেন, তুমি আমাদের জন্য এ রাতের প্রতি লক্ষ্য রাখ। তারপর বিলাল (রাঃ) সালাত আদায় করেন যা তার সামার্থ ছিল। রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কিরাম ঘুমিয়ে পড়েন। ফজরের সময় ঘনিয়ে এলে বিলাল (রাঃ) পূর্ব দিকে মুখ করে তাঁর বাহনের উপর হেলান দিয়ে বসে পড়লেন। বিলালের চোখ নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। তখন তিনি তার সাওয়ারীতে হেলান দেয়া অবস্থায়ই ছিলেন। ফলে রাসুলুল্লাহ ﷺ বিলাল (রাঃ) বা সাহাবীদের কেউই জাগলেন না, যতক্ষন না সূর্যের কিরণ তাঁদের উপর পতিত হল।
তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ সর্বপ্রথম জাগলেন, এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ পেরেশান হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন হে বিলাল! বিলাল বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান। আপনার আত্মা যিনি ধরে রেখেছেন, আমার তিনি ধরে রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, সাওয়ারীগুলোকে এখান থেকে নিয়ে চল। তারপর কিছুদূর নেওয়ার পর রাসুলুল্লাহ ﷺ উযু করলেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে আদেশ দিলেন। তিনি সালাতের ইকামত দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করে বললেন, তোমাদের কেউ যদি সালাত ভুলে যায়, তবে স্মরণমাত্র যেন আদায় করে নেয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,  أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي "আমার স্মরণে সালাত কায়েম কর"। ইউনুস (রহঃ) বলেন, এর স্থলে ইবন শিহাব  لِلذِّكْرَى পাঠ করতেন। -মুসলিম ১৪৩৩

জুমুআ

হে মুমিনগণ, যখন জুমু’আর দিনে সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। -আল-জুমু’আ ৬২:৯
.
নাবী ﷺ বলেন যে, যখন জুমু'আর দিন হয় মসজিদের দরজা সমুহের প্রত্যেক দরজায় ফেরেশতাগণ বসে থাকেন। তারা মর্যাদা অনুযায়ী আগমনকারীদের নাম লিখে নেন। প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে, যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসেন তখন তাঁদের খাতা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাঁরা খুতবা শুনতে থাকেন। অতএব, সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর জুম’আয় প্রথম আগমনকারী একটি উট সাদাকাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি গরু সাদাকাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি ভেড়া সাদাকাকারীর ন্যায় সওয়াব পাবে। এমনকি তিনি মুরগি এবং ডিমের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। -নাসাঈ ১৩৮৯
.
তোমাদের কেউ যখন জুমুআর সলাত আদায় করে, তখন সে যেন তার পরে চার রাকাআত সলাত আদায় করে। -মুসলিম ১৯২১
.
জুমুআর দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। কোন মুসলমান সে মুহূর্তটিতে আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে দিবেন। এ মুহূর্তটি অতি অল্প। -মুসলিম ১৮৪৬, ১৮৫৮
.
জুমু‘আহর দিনের বার ঘন্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, তখন কোন মুসলমান আল্লাহর নিকট যাই দু’আ করে আল্লাহ তাই কবুল করেন। এ মুহুর্তটি তোমরা ‘আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। -আবূ দাউদ ১০৪৮
.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একদা তূর নামক স্থানে আসলাম। তথায় আমি কা’ব (রাঃ) কে পেলাম, সেখানে আমি এবং তিনি একদিন অবস্থান করলাম। আমি তাকে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদিস বর্ণনা করতাম, আর তিনি আমাকে ‘তাওরাত’ থেকে বর্ণনা করতেন। আমি তাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন সর্বোৎকৃষ্ট দিন যাতে সূর্য উদিত হয়, জুমু'আর দিন। সেই দিনে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিনই তাকে জান্নাত থেকে অবতরন করানো হয়েছে, সে দিনই তাঁর তাওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। ভূপৃষ্ঠে বনী আদম ছাড়া এমন কোন জীব জন্তু নেই যা জুমু'আর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংগঠিত হবার ভয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে না থাকে। সেই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে কোন মু’মিন সালাতে রত থাকা অবস্থায় তা পেয়ে আল্লাহর কাছে যদি সেই সময় কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ্‌ তাকে নিশ্চয় তা দিবেন।
তারপর কা’ব জিজ্ঞাসা করলেন, সেই মুহূর্তটি প্রতি বছর কি একদিনই হয়? আমি বললাম, বরং তা প্রতি জুমু'আর দিনেই হয়। তখন কা’ব তাওরাত থেকে পাঠ করলেন, তারপর বললেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ সত্যই বলেছেন, তা প্রত্যেক জুমু'আর দিনেই হয়। তখন আমি বের হলে বসরা ইবনু আবূ বসরা গিফারী (রাঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, তুমি কোথা থেকে আসছ? আমি বললাম, ‘তূর’ থেকে। তিনি বললেন যদি তোমার সেখানে যাওয়ার পূর্বে তোমার সাথে আমার সাক্ষাৎ হতো, তা হলে তুমি সেখানে যেতে না। আমি তাকে বললাম, তুমি এমন কথা কেন বলছ? আমি তো রাসুলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনটি মসজিদ ছাড়া সফর করা যাবে না। মসজিদে হারাম, আমার মসজিদ (মসজিদে নববী) এবং মসজিদে বায়তুল মুকাদ্দাস।
তারপর আমি আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, যদি আপনি আমাকে দেখতেন যে, আমি 'তূর' নামক স্থানে গিয়েছি ও কা’ব (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি আর আমি এবং তিনি একদিন সেখানে অবস্থান করেছি। আমি তাকে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস বর্ণনা করে শুনাতাম আর তিনি আমাকে তাওরাত থেকে বর্ননা করে শুনাতেন। তখন আমি তাকে বললাম যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সর্বোৎকৃষ্ট দিন যাতে সূর্য উদিত হয় জুমু'আর দিন। সেই দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিনই তাকে জান্নাত থেকে অবতরণ করানো হয়েছে, সে দিনই তার তওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনই তার মৃত্যু হয়েছে এবং সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। ভূ-পৃষ্ঠে বনী আদম ছাড়া এমন কোন জীব-জন্তু নেই, জুমু'আর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে উৎকর্ণ হয়ে না থাকে। সেই দিনে এমন একটি মুহৃর্ত রয়েছে যে কোন মুমিন সালাতে রত থাকা অবস্থায় তা পেযে আল্লাহর কাছে যদি সেই সময় কোন কিছু প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে তা নিশ্চয়ই দিবেন।
কা’ব (রাঃ) বলেছেন, সেই দিনটি প্রতি বছর একদিনই হয়, তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, কা’ব (রাঃ) সত্য বলেনি। আমি (আবূ হুরায়রা) বললাম, তারপর কা’ব (রাঃ) পুনরায় (তওরাত) পড়লেন। তখন তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ সত্যই বলেছেন, সেই মুহূর্তটি প্রত্যেক জুমু'আর দিনেই হয়। তখন আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, কা’ব (রাঃ) সত্যই বলেছেন, আমি সেই মুহূর্তটি সম্পর্কে অবশ্যই অবগত আছি। আমি বললাম, হে আমার ভাই! আপনি আমাকে সেই মুহূর্তটি সম্পর্কে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তা জুমু'আর দিনে সূর্য অস্ত যাওয়ার পুর্বে শেষ সময়। তখন আমি বললাম, আপনি কি রাসুলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেননি যে, কোন মুমিন ব্যক্তি সালাতে রত থাকা অবস্থায় তা পায় (এবং সে সময় কোন দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন) অথচ সে সময় তো কোন সালাত নেই। তিনি বললেন, তুমি কি রাসুলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুননি যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে এবং বসে বসে পরবর্তী সালাতের অপেক্ষায় থাকে, সে ব্যক্তি সালাতেই থাকবে, যতক্ষন পর্যন্ত না তার কাছে পরবর্তী সালাত উপস্থিত হয়। আমি বললাম, কেন নয়? নিশ্চয়! তিনি বললেন, এটাও সেই রকমই।
-সূনান নাসাঈ ১৪৩৩

মাসজিদ, জামাআত

আল্লাহ তা'আলার কাছে সব চাইতে প্রিয় জায়গা হলো মাসজিদসমূহ আর সব চাইতে খারাপ জায়গা হলো বাজারসমূহ। -মুসলিম ১৪১৪
.
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সুপ্রসন্নতা অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি মাসজিদ তৈরী করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর তৈরী করেন। -আত তিরমিজী ৩১৮; বুখারী ৪৫০; নাসাঈ ৬৮৯; ইবনে মাজাহ ৭৩৬
.
কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া সারা পৃথিবীই নামায আদায়ের উপযোগী। -আত তিরমিজী ৩১৭; আবু দাউদ ৪৯২
.
সমগ্র ভূপৃষ্ঠ পবিত্র, পবিত্রকারী ও মসজিদ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে সুতরাং যেখানে যার সালাতের ওয়াক্ত হবে, সেখানে সে সালাত আদায় করে নিবে। -মুসলিম ১০৪৬
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অপরাপর মসজিদের সালাত অপেক্ষা আমার মসজিদের (মাসজিদে নবাবী) সালাত হাজার গুণ শ্রেষ্ঠ (ফাযীলাতপূর্ণ)। অন্যান্য মসজিদের সালাতের তুলনায় মাসজিদুল হারামের সালাত এক লক্ষ গুণ উত্তম (ফাযীলাতপূর্ণ)। -ইবনে মাজাহ ১৪০৬
.
মসজিদে হারাম (কা‘বা), আমার মাসজিদ (মসজিদে নাববী) এবং মসজিদে আকসা (বাইতুল মাকদিস)- এ তিন মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে না। -বুখারী ১৮৬৪
.
কোন জনপদে বা বনজঙ্গলে তিনজন লোক একত্রে বসবাস করা সত্ত্বেও তারা জামা‘আতে সলাত আদায়ের ব্যবস্থা না করলে তাদের উপর শয়তান আধিপত্য বিস্তার করে। অতএব তোমরা জামা‘আতকে আকঁড়ে ধর। কারণ নেকড়ে (বাঘ) দলচ্যুত বকরীটিকেই খেয়ে থাকে। -আবূ দাউদ ৫৪৭
.
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুআযযিনের আযান শুনে বিনা কারণে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাআতে নামায আদায় করবে না তার অনত্র আদায়কৃত নামায আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না (অর্থাৎ তার নামাযকে পরিপূর্ণ নামায হিসেবে গণ্য করা হবে না)। সাহাবীরা ওজর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ যদি কেউ ভয়ভীতি ও অসুস্থতার কারণে জামাআতে হাযির হতে অক্ষম হয় তবে তার জন্য বাড়ীতে নামায পড়া দুষণীয় নয়। -আবু দাউদ ৫৫১
.
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেন আমাদের ধারণা হলো মুনাফিক যার নিফাক স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং রুগ্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউই সলাতের জামা'আত পরিত্যাগ করে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় রুগ্ন ব্যক্তিও দু'জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে সলাতের জামা'আতে উপস্থিত হত। -মুসলিম ১৩৭৩
.
রাসুলুল্লাহ বলেছেন যে, মুনাফিকদের জন্য সবচাইতে ভারী সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত। তারা যদি এই দুই সালাতে কী মর্যাদা আছে জানতে পারত; তবে হামাগুড়ি দিয়েও এ দুই সালাতে উপস্থিত হতো। আমি মনস্থ করেছিলাম যে, আমি সালাত সম্পর্কে আদেশ করি যে, ইকামত দেওয়া হোক। এরপর একজনকে নির্দেশ করি যে, সে লোকদের নিয়ে-সালাত কায়েম করুক। তারপর আমি লাকড়ীর বোঝাসহ একদল লোক নিয়ে সেই সব লোকের ঘরে চলে যাই যারা সালাতে উপস্থিত হয় না। অতঃপর তাদের ঘর আগুন দিয়ে তাদের সহ জ্বালিয়ে দেই। -মুসলিম ১৩৫৭
.
যে ব্যক্তি ‘ইশার সলাত জামা‘আতে আদায় করল, সে যেন অর্ধরাত ‘ইবাদাতে কাটালো। আর যে ব্যক্তি ‘ইশা ও ফজরের সলাত জামা‘আতে আদায় করল, সে যেন সারা রাতই ‘ইবাদাতে কাটালো। -আবূ দাউদ ৫৫৫
.
জামা’আতের সাথে সালাত আদায় করলে ঘর বা বাইরে সালাত আদায় করার চাইতে পঁচিশগুণ সওয়াব বৃদ্ধি পায়। কেননা, তোমাদের কেউ যদি ভাল করে উযূ করে কেবল সালাতের উদ্দেশ্যেই মসজিদে আসে, সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত যতবার কদম রাখে তার প্রতিটির বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা তার মর্যাদা ক্রমান্বয়ে উন্নীত করবেন এবং তার একটি করে গুনাহ মাফ করবেন। আর মসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ তাকে সালাতই গণ্য করা হয়। আর সালাতের শেষে সে যতক্ষণ ঐ স্থানে থাকে ততক্ষণ ফিরিশতাগণ তার জন্য এ বলে দুয়া করেন: ইয়া আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, ইয়া আল্লাহ! তাকে রহম করুন, যতক্ষণ সে কাউকে কষ্ট না দেয়, সেখানে উযূ ভঙ্গের কাজ না করে। -বুখারী ৪৬৩
.
জামা‘আতে সালাতের ফাযীলত একাকী আদায়কৃত সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশী। -বুখারী ৬৪৫; মুসলিম ১৩৬৩
.
(মসজিদ হতে) যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার পুণ্য সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক, যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। -বুখারী ৬৫১
.
কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সলাত আদায় করার জন্য) কোন একটি মাসজিদে উপস্থিত হয় তাহলে মাসজিদে যেতে সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন। -মুসলিম ১৩৭৪
.
যে ব্যক্তি সকালে এবং সন্ধ্যায় সলাত আদায় করতে মসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহ তা'আলা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর উপকরণ প্রস্তুত করেন। -মুসলিম ১৪১০; বুখারী ৬৬২
.
কেউ যদি আল্লাহ তা'আলার সন্তোষ অর্জনের উদ্দেশ্যে একাধারে চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার (প্রথম তাকবীর) সাথে জামাআতে সালাত আদায় করে তবে তাকে দুটি মুক্তি সনদ লিখে দেয়া হয়। একটি হল জাহান্নাম থেকে মুক্তির, অপরটি হল মুনাফিকী থেকে মুক্তির। -তিরমিজী ২৪১
.
নাবী ﷺ বলেন, সাত ব্যাক্তিকে আল্লাহ তার (আরশের) ছায়াতলে ছায়া দিবেন, যে দিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না।
১. ন্যায়পরায়ণ ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক)।
২. ঐ যুবক যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছে।
৩. ঐ ব্যাক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে জড়িত।
৪. ঐ ব্যাক্তি যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অন্যকে ভালবাসে এবং মিলিত হয় এ প্রেরণা নিয়ে এবং পৃথক হয় এ প্রেরণাসহ।
৫. ঐ ব্যাক্তি যাকে কোন অতিজাত সুন্দরী মহিলা (অসৎ কাজে) আহবান করে, আর সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।
৬. ঐ ব্যাক্তি, যে কিছু দান করল এবং এত গোপনভাবে করল যে, তার ডান হাত জানতে পারল না, তার বাম হাত কি দান করেছে,
৭. ঐ ব্যাক্তি যে একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁর দুই চোখে (আল্লাহর ভয়ে) অশ্রু ঝরে।
-মুসলিম ২২৫২; বুখারী ৬৬০; আত তিরমিজী ২৩৯১
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ তার সাহাবাগণকে পিছনের কাতারে দেখে বললেন, সামনে এসো এবং আমার অনুসরণ কর, অতঃপর দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা তোমাদের অনুসরণ করবে। এমন কিছু লোক সবসময় থাকবে যারা সালাত এ পিছনে থাকবে। আল্লাহ তাদেরকে (নিজ রহমত হতেও) পিছনে রাখবেন। -মুসলিম ৮৬৬
.
একদল লোক সর্বদা প্রথম কাতার থেকে পিছনের দিকে সরতে থাকবে। ফলে আল্লাহও তাদেরকে জাহান্নামের পিছন দিকে রাখবেন। -আবূ দাউদ ৬৭৯
.
নারীদের জন্য ঘরের আঙ্গিনায় সলাত আদায়ের চাইতে তার গৃহে সলাত আদায় করা উত্তম। আর নারীদের জন্য গৃহের অন্য কোন স্থানে সলাত আদায়ের চাইতে তার গোপন কামরায় সলাত আদায় করা অধিক উত্তম। -দাউদ ৫৭০
.
সূলায়ক গাতফানী (রাঃ) জুমআর দিনে এলেন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ খুতবা দিচ্ছিলেন। সুলায়ক (রাঃ) বসে পড়লেন। নাবী ﷺ বললেন, হে সূলায়ক! তুমি দাঁড়িয়ে সংক্ষেপে দু'রাকআত সালাত আদায় করে নাও। তারপর বললেন, তোমাদের কেউ জুমু'আর দিন মসজিদে এলে, ইমাম তখন খুৎবারত থাকলে সংক্ষিপ্ত আকারে দু' রাকআত সালাত আদায় করে নেবে। -মুসলিম ১৮৯৭
.
খাবার সামনে আসার পর কোনও সালাত নেই এবং পেশাব পায়খানার বেগ থাকা অবস্থায়ও কোন সালাত নেই। -মুসলিম ১১২৮
.
সালাতের ইকামাত দেওয়া হলে, তার জন্য দৌড়ে আসবে না, বরং ধীরে সুস্থে আসবে। তারপর যা পাবে, আদায় করবে আর যা ছুটে যায়, তা পূর্ণ করে নিবে। কেননা, তোমাদের কেউ যখন সালাতের উদ্দেশ্যে চলে তখন সে সালাতেই গণ্য। -মুসলিম ১২৩৭
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা নামাযের সময় কাতারগুলো সোজা কর, পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও, উভয়ের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ কর এবং তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা কাতারের মধ্যে শয়তানের দন্ডায়মান হওয়ার জন্য ফাঁক রাখবে না। যারা কাতারের মধ্যে পরস্পর মিলিত হয়ে দাঁড়াবে আল্লাহ্ তাদেরকে তাঁর রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি কাতারে মিলিত হয়ে দাঁড়াবে না আল্লাহ্ তাকে তাঁর রহমত হতে বঞ্চিত করবেন।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, “তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও” কথার অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি এসে কাতারে প্রবেশ করার চেষ্টা করতে পারে। তখন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ কাঁধ নরম করে দেবে যাতে সে সহজে কাতারের মধ্যে দাঁড়ানোর স্থান করে নিতে পারে। -আবু দাউদ ৬৬৬
.
একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে “ইতিকাফ” করাকালীন সাহাবীদেরকে উচ্চস্বরে কিরআত পাঠ করতে শুনে পর্দা উঠিয়ে বলেনঃ জেনে রাখ। তোমরা প্রত্যেকেই তোমাদের রবের সাথে গোপন আলাপ রত আছ। অতএব তোমরা (উচ্চস্বরে কিরআত পাঠের দ্বারা) একে অন্যকে কষ্ট দিও না তোমরা একে অন্যের চাইতে উচ্চস্বরে কিরআত পাঠ কর না। -আবু দাউদ ১৩৩২
.
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমার দিকে একটা কাঁকর নিক্ষেপ করলো। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। তিনি বললেনঃ যাও, এ দু’জনকে আমার কাছে নিয়ে এস। আমি তাদের নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কারা? অথবা তিনি বললেনঃ তোমরা কোন স্থানের লোক? তারা বললোঃ আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি বললেনঃ তোমরা যদি মদিনার লোক হতে, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা দু’জনে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছো! -বুখারী ৪৫৬
.
তোমরা কাউকে যখন সমজিদে বেচতে বা কিনতে দেখবে তখন বলবে, আল্লাহ্ তোমার এ তেজারত (ব্যাবসা) লাভজনক না করুন। কাউকে যখন দেখবে সে মসজিদে কোন জিনিস হারানোর ঘোষণা দিচ্ছে তখন বলবে, ‘আল্লাহ্ তোমার জিনিসটি ফেরত না দিন'। -তিরমিজী ১৩২৪
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমাকে বেশী উঁচু করে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়নি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তোমরা (অচিরেই) মসজিদ এমনভাবে কারুকার্য করবে যেমনটি ইহুদী ও নাসারারা (নিজ নিজ উপাসনালয়) নকশা ও কারুকার্য মন্ডিত করে থাকে। -আবু দাউদ ৪৪৮
.
লোকেরা মাসজিদ নিয়ে পরস্পর গৌরব ও অহঙ্কারে মেতে না উঠা পর্যন্ত ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না। -আবূ দাউদ ৪৪৯; ইবনে মাজাহ ৭৩৯
.

আমর ইবনুল হারিস ইবনু মুসতালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ বলা হয়, সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে দুই ব্যক্তির, স্বামীর অবাধ্যা স্ত্রীর এবং এমন ইমামের যাকে মুসল্লিরা অপছন্দ করে। রাবী মানসূর বলেনঃ ইমাম সম্পর্কে আমরা জিজ্ঞাসা করলে আমাদের বলা হল : যালিম বা অন্যায়চারী ইমামদের বেলায়ই উক্ত কথা প্রযোজ্য। কিন্তু যে ইমাম সুন্নাতের প্রতিষ্টা করেন, তাঁর ক্ষেত্রে তাঁকে অপছন্দকারী ব্যক্তির উপরই গুনাহ বর্তাবে। -তিরমিজী ৩৫৯

নাজাছাত

নাজাছাতে গলীজা (যে নাপাকীর হুকুম শক্ত)

মানুষের মল-মূত্র, রক্ত, বীর্য, মুখভর্তি বমি, পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে নির্গত যে কোন তরল বস্তু; মদ; 
শূকরের গোশত, পশম, হাড়সহ সবকিছু; 
হালাল পশুর পায়খানা, রক্ত; 
হারাম পশুর পায়খানা, পেশাব, রক্ত ও দুধ; 
হাঁস, মুরগী, পানকৌড়ি ও তিতিরের পায়খানা; 
পশুর ক্ষতস্থান থেকে নির্গত পুঁজ অথবা অন্য কোন তরল পদার্থ; 
নাপাক বস্তু থেকে নিঃসৃত নির্যাস; 
মৃত পশুর গোশ্ত, চর্বি ইত্যাদি এবং 
দাবাগাতহীন চামড়া।

তরল নাজাসাতে গালীযা শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা এক দিরহাম (গোলকৃতভাবে একটা কাঁচা টাকা বা হাতের তালুর নিচ স্থান পরিমাণের সমান) পর্যন্ত হলে মাফ। অর্থাৎ, পাক না করে নামায পড়া জায়েয। তবে বিনা ওজরে স্বেচ্ছায় এরূপ করা মাকরূহ।

নাজাছাতে গলীজার মধ্যে যেগুলো গাঢ় যেমন: পায়খানা ইত্যাদি তা এক সিকি (৪.৫ মাশা বা ৪.৮৬ গ্রাম) পরিমাণ পর্যন্ত কাপড় বা শরীরে লাগলে মাফ। অর্থাৎ, পাক না করে নামায পড়া জায়েয। তবে বিনা ওজরে স্বেচ্ছায় এরূপ করা মাকরূহ।

বর্ণিত পরিমাণের অতিরিক্ত হলে উভয় ক্ষেত্রেই তা ধৌত করা ব্যতিরেকে পাক হবে না এবং পাক না করে নামায পড়া জায়েয নয়।

.

নাজাছাতে খফীফা (যার হুকুম কিছুটা হালকা)

গরু, মহিষ, বকরী ইত্যাদি সকল হালাল পশুর পেশাব, ঘোড়ার পেশাব; 
কাক, চিল, শকুন ইত্যাদি সকল হারাম পাখির বিষ্ঠা; 
হালাল পাখির পায়খানা যদি দুর্গন্ধযুক্ত হয়।

নাজাছাতে খফীফা শরীর বা কাপড়ে লাগলে যে অঙ্গে লেগেছে তার এক-চতুর্থাংশের কম হলে মাফ, আর পূর্ণ এক-চতুর্থাংশ বা আরও বেশী হলে মাফ নয়। হাত, পা, জামার হাতা, কলি, কাপড়ের আঁচল, পায়জামার দুই মুহরীর প্রত্যেকটা ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ বলে গণ্য হবে।

.

হাঁস, মুরগি ও পানকৌড়ি ব্যতীত অন্যান্য হালাল পাখির বিষ্ঠা (যেমন কবুতর, চড়ুই, শালিক ইত্যাদির বিষ্ঠা) এবং বাদুর ও চামচিকার পেশাব-পায়খানা পাক। এমনিভাবে মশা, মাছি, ছারপোকা এবং মাছের রক্তও পাক।

.

নাজাহাত কম হোক বা বেশী হোক পানিতে পড়লে সেই পানি নাজাছাত বা নাপাক হয়ে যাবে নাজাহাতে গলীজা পড়লে পানিও নাজাছাতে গলীজা হয়ে যাবে এবং নাজাহাতে খফীফা পড়লে নাজাছাতে খফীফা হবে। তবে প্রবাহিত পানিতে বা ১০০ বর্গহাত কিংবা তার চেয়ে বড় কোন কুয়া হাউজ ইত্যাদিতে নাপাকী পড়লে তা নাপাক হবে না। তবে নাপাকী পড়ার কারণে তার রং স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে গেলে নাপাক হয়ে যাবে। যে পানি দ্বারা কোন নাপাক জিনিস ধৌত করা হয়, সে পানি নাপাক হয়ে যায়।

মৃতকে যে পানি দ্বারা গোসল দেয়া হয় সে পানিও নাপাক।

রাস্তা-ঘাটে বা বাজারে যে পানি বা কাদার ছিটা কাপড়ে কিংবা শরীরে লাগে তাতে স্পষ্টত কোন নাপাক জিনিস দেখা গেলে তা নাপাক আর স্পষ্টত কোন নাপাক জিনিস দেখা না গেলে নাপাক নয়।

পেশাবের অতি ক্ষুদ্র ফোটা যা চোখে দেখা যায় না তার কারণে শরীর কাপড় অপবিত্র হয় না।

গাভী, বকরী দহন করার সময় যদি দুই একটি লেদা বা সামান্য গোবর দুধের মধ্যে পড়ে এবং সাথে সাথে তা বের করে ফেলা হয় তাহলে তা মাফ। কিন্তু যদি লেদা বা গোবর দুধের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যায়, তাহলে সম্পূর্ণ দুধ নাপাক হয়ে যাবে, তা খাওয়া জায়েয হবে না।

উৎপন্ন ফসল মাড়াই করার সময় গরু অথবা অন্য কোন পশু তার উপর পেশাব করলে তা নাপাক হবে না। তবে মাড়াবার সময় ব্যতীত অন্য সময় পেশাব করলে নাপাক হয়ে যাবে।

কুকুর, শুকর, বানর এবং বাঘ, চিতাবাঘ প্রভৃতি হিংস্র প্রাণীর ঝুটা নাপাক।

বিড়ালের ঝুটা পাক, তবে মাকরূহ। কোন পানিতে বিড়াল মুখ দিয়ে থাকলে তা দ্বারা উযূ করবে না। অবশ্য যদি অন্য পানি না পাওয়া যায় তবে ঐ পানি দ্বারাই উযূ করবে। আর দুধ বা তরকারী ইত্যাদি খাদ্য খাবারের মধ্যে মুখ দিয়ে থাকলে যদি মালিক অবস্থাপন্ন হয় তাহলে তা খাবে না- খাওয়া মাকরূহ হবে। যদি গরীব হয় তবে তার জন্য তা খাওয়া মাকরূহ নয়। তবে বিড়াল যদি সদ্য ইঁদুর ধরে এসে তৎক্ষণাৎ কোন পানি বা খাদ্য খাবারে মুখ দেয় তবে তা নাপাক হয়ে যাবে। আর যদি কিছুক্ষণ দেরী করে নিজের মুখ চেটে চুষে পরিষ্কার করে তারপর মুখ দেয় তখন নাপাক হবে না- এখন পূর্বের মাসআলার ন্যায় মাকরূহ হবে।

যে সব প্রাণী ঘরে থাকে যেমন সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর, তেলাপোকা, টিকটিকি এবং মুরগি যে গুলো সর্বত্র ছাড়া থাকে- এদের ঝুটা মাকরূহ তানযীহী। ইঁদুর যদি রুটির কিছু অংশ খেয়ে থাকে সেদিক দিয়ে কিছুটা ছিড়ে ফেলে অবশিষ্ট অংশ খাবে।

হালাল পশু ও হালাল পাখীর ঝুটা পাক। ঘোড়ার ঝুটাও পাক। যে কোন রকম পোশা পাখী যদি মরা না খায় এবং তার ঠোটে কোন রকম নাপাকী থাকার সন্দেহ না থাকে তবে তাদের ঝুটাও পাক।

হালাল পশু ও হালাল জানোয়ারের ঝুটা পাক। তাদের ঘামও পাক। যাদের ঝুটা মাকরূহ তাদের ঘামও মাকরূহ।

মুসলমান অমুসলমান সব লোকের ঝুটা পাক, তবে কোন নাপাক বস্তু তার মুখে থাকা অবস্থায় পানি উচ্ছিষ্ট করলে ঐ পানি নাপাক হয়ে যাবে।

অশ্লীলতা

তারা যখন কোন অশ্লীল কাজ করে তখন তারা বলে- ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এ কাজই করতে দেখেছি, আর আল্লাহ আমাদেরকে এসব কাজ করার আদেশ দিয়েছেন।’ বল, ‘আল্লাহ অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না, আল্লাহর সম্বন্ধে তোমরা কি এমন কথা বলছ যা তোমরা জান না?’ -আল-আ'রাফ ৭:২৮
.
যারা পছন্দ করে যে, মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার বিস্তৃতি ঘটুক তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাতে। আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না। -আন-নূর ২৪:১৯
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কোন আমল দ্বারা মানুষ বেশী জান্নাতে প্রবেশ করবে? তিনি বললেন, আল্লাহর ভীতি ও সদ্বাচারের কারণে। জিজ্ঞাসা করা হল, কোন কাজের দরুন মানুষ বেশী জাহান্নামে যাবে? তিনি বললেনঃ মুখ ও লজ্জাস্থানের কারণে। -তিরমিজী ২০১০
.
নাবী ﷺ বলেছেনঃ যে কেউ আমার জন্য তার দু'পা ও দু'চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থানের দায়িত্ব নেবে আমি তার জন্য বেহেশতের দায়িত্ব নেব। -বুখারী ৬৩৫১
.
আর যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ। -আল-ইসরা ১৭:৩২
.
আদম সন্তানের উপর যিনার যে অংশ লিপিবদ্ধ আছে তা অবশ্যই সে প্রাপ্ত হবে। দু'চোখের যিনা হল দৃষ্টিপাত করা, দু’কানের যিনা হল শ্রবণ করা, জিহ্বার যিনা হল কথোপকথন করা, হাতের যিনা হল স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হল হেঁটে যাওযা, অন্তরের যিনা হল আকৃষ্ট ও বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়িত করে এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। -মুসলিম ৬৫১৩
.
যখন কেউ যিনা করে, তখন তার থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং তা তার মাথার উপর মেঘের ন্যায় অবস্থান করে। আর যখন সে তা থেকে বিরত হয়, তখন ঈমান তার কাছে পুনরায় ফিরে আসে। -আবু দাউদ ৪৬১৭
.
কিয়ামতের পূর্ব নিদর্শনসমুহের মধ্যে হল এই যে, ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে, মূর্খতার প্রসার ঘটবে, মদ পান করা হবে, ব্যাপকভাবে ব্যাভিচার-হবে, পুরুষের সংখ্যা কমবে, নারীর সংখ্যা এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে যে, পঞ্চাশ জন নারীর তত্ত্বাবধায়ক হবে একজন পুরুষ। -বুখারী ৬৩৫২
.
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের নীতি-পদ্ধতি পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করবে, বিঘতে বিঘতে ও হাতে হাতে, এমনকি তারা যদি গোসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে তাহলেও তোমরা তাদের অনুসরণ করবে। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! পূর্ববর্তী উম্মাত বলতে তো ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরাই উদ্দেশ্য? তিনি বললেন, তবে আর কারা? -মুসলিম ৬৫৩৯
.
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেনঃ বনু ইসরাঈলের যে অবস্থা এসেছিল আমার উম্মতরাও ঠিক তাদেরই অবস্থায় পতিত হবে। এমনকি তাদের কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে তবে আমার উম্মতেরও কেউ তাতে লিপ্ত হবে। বনূ ইসরাঈলরা তো বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে আর আমার উম্মতরা বিভক্ত হবে তিহাত্তর দলে। এদের একটি দল ছাড়া সব দলই হবে জাহান্নামী। সাহাবীগণ (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এরা কোন দল? তিনি বললেনঃ আমি এবং আমার সাহাবীরা যার উপর প্রতিষ্ঠিত। -তিরমিজী ২৬৪২
.
আর (স্মরণ করো) লূতের কথা, যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই তোমরা এমন এক অশ্লীল কাজ করছ যা তোমাদের পূর্বে পৃথিবীর কেউ করেনি। -আল আনকাবুত ২৯:২৮
আমি তাদের চোখগুলোকে অন্ধ করে দিলাম। -আল-কামার ৫৪:৩৭
সূর্যোদয়ের সময়ে এক প্রচন্ড ধ্বনি তাদের উপর আঘাত হানল। -আল-হিজর ১৫:৭৩
আমি জনপদের উপরকে নীচে উল্টে দিলাম এবং ক্রমাগত পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম। -হূদ ১১:৮২
.
আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে লূত জাতির অনুরূপ অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার সর্বাধিক আশঙ্কা করি। -ইবনে মাজাহ ২৫৬৩, তিরমিজী ১৪৬৩
যে মানুষ লুত সম্প্রদায়ের কুকর্ম করে সে অভিশপ্ত। -আত তিরমিজী ১৪৫৬
তোমরা যখন কাউকে লূতের কাওমের মত কাজে লিপ্ত দেখবে, তখন এর কর্তা এবং যার সাথে এরূপ করা হবে, উভয়কে হত্যা করবে। -আবু দাউদ ৪৪০৩, তিরমিজী ১৪৬২
.
যে লোক কোন পুরুষ বা স্ত্রীলোকের মলদ্বারে সংগম করে (কিয়ামাতের দিন) আল্লাহ তা'আলা তার দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকাবেন না। -আত তিরমিজী ১১৬৫
.
ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশ’টি করে বেত্রাঘাত কর। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। -আন নূর ২৪:২
ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক নারীকে ছাড়া বিয়ে করবে না এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া বিয়ে করবে না। আর মুমিনদের উপর এটা হারাম করা হয়েছে। -আন নূর ২৪:৩
আর যারা সচ্চরিত্র নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে না, তবে তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর এবং তোমরা কখনই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর এরাই হলো ফাসিক। -আন নূর ২৪:৪
তবে যারা এরপরে তাওবা করে এবং নিজদের সংশোধন করে, তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -আন নূর ২৪:৫
এবং যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চার বার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। -আন নূর ২৪:৬
আর পঞ্চমবারে সাক্ষ্য দেবে যে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে নিশ্চয় তার উপর আল্লাহর লা‘নত। -আন নূর ২৪:৭
আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চার বার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী। -আন নূর ২৪:৮
আর পঞ্চমবারে সাক্ষ্য দেবে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয়, তবে নিশ্চয় তার উপর আল্লাহর গযব। -আন নূর ২৪:৯

আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী তলব করবে। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় বা আল্লাহ্‌ তাদের জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করেন। -আন নিসা ৪:১৫
.
আর তোমাদের মধ্যে যে দুজন এতে লিপ্ত হবে তাদেরকে শাস্তি দেবে। যদি তারা তাওবাহ্‌ করে এবং নিজেদেরকে সংশোধণ করে নেয় তবে তাদের থেকে বিরত থাকবে। নিশ্চয় আল্লাহ পরম তাওবাহ্‌ কবুলকারী, পরম দয়ালু। -আন নিসা ৪:১৬
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর, তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা মহিলাদের জন্য একটি পথ বের করে দিয়েছেন। অবিবাহিত অবিবাহিতার সাথে ব্যভিচার করে একশ বেত্রাঘাত কর এবং এ বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর বিবাহিত বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করেলে একশ বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপ (করে হত্যা করবে)। -মুসলিম ৪২৬৭
.
তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকবেন না (রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন না)। পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের বেশধারী নারী এবং দায়ুছ (পাপাচারী কাজে পরিবারকে বাধা দেয় না)। আর তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, মাদকাসক্ত ব্যক্তি (যে মদ্যপ তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে) এবং দানকৃত বস্তুর খোঁটা দানকারী ব্যক্তি (দান করার পর যে দানের উল্লেখ করে গঞ্জনা দেয়)। -নাসাঈ ২৫৬৪
.
সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রায়ই তাঁর সাহাবীদেরকে বলতেন, তোমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছ কি? রাবী বলেন, যাদের বেলায় আল্লাহর ইচ্ছা, তারা রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করত।
তিনি একদিন সকালে আমাদেরকে বললেনঃ গত রাতে আমার কাছে দু'জন আগন্তুক আসল। তারা আমাকে উঠাল। আর আমাকে বলল, চলুন। আমি তাদের সাথে চলতে লাগলাম। আমরা কাত হয়ে শায়িত এক ব্যাক্তির কাছে পৌছলাম। দেখলাম, অপর এক ব্যাক্তি তার নিকট পাথর নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে তার মাথায় পাথর নিক্ষেপ করছে ফলে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে। আর পাথর নিচে গিয়ে পতিত হচ্ছে। এরপর অবার সে পাথরটি অনুসরণ করে তা পুনরায় নিয়ে আসছে। তিনি আসতে না আসতেই লোকটির মাথা পুর্বের ন্যায় পুনরায় ভাল হয়ে যায়। ফিরে এসে আবার অনুরূপ আচরণ করে, যা পূর্বে প্রথমবার করেছিল। তিনি বলেনঃ আমি তাদের (সাথীদ্বয়কে) বললাম, সুবহান্নাল্লাহ! এরা কারা? তিনি বললেনঃ তারা আমাকে বলল, চলুন, চলুন।
তিনি বলেনঃ আমরা চললাম, এরপর আমরা চিৎ হয়ে শায়িত এক ব্যাক্তির কাছে পৌছলাম। এখানেও দেখলাম, তার নিকট এক ব্যাক্তি লোহার আকড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর সে তার চেহারার একদিকে এসে এটা দ্বারা মুখমন্ডলের একদিক মাথার পিছনের দিক পর্যন্ত এবং অনুরূপভাবে নাসারন্দ্র, চোখ ও মাথার পিছন দিক পর্যন্ত চিরে ফেলছে। আওফ (রহঃ) বলেন, আবূ রাজা (রহঃ) কোন কোন সময় 'ইয়ুশারশিরু' শব্দের পরিবর্তে 'ইয়াশুককু' শব্দ বলতেন। এরপর ঐ লোকটি শায়িত ব্যাক্তির অপরদিকে যায় এবং প্রথম দিকের সাথে যেরূপ আচরণ করেছে অনুরূপ আচরণই অপরদিকের সাথেও করে। ঐ দিক হতে অবসর হতে না হতেই প্রথম দিকটি পুর্বের ন্যায় ভাল হয়ে যায়। তারপর আবার প্রথমবারের ন্যায় আচরণ করে। তিনি বলেনঃ আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! এরা কারা? তিনি বলেনঃ তারা আমাকে বলল, চলুন, চলুন।
আমরা চললাম এবং চুনা সদৃশ একটি গর্তের কাছে পৌছলাম। রাবী বলেন, আমার মনে হয় যেন তিনি বলেছিলেন, আর তথায় শোরগোলের শব্দ হচ্ছিল। তিনি বলেনঃ আমরা তাতে উঁকি মারলাম, দেখলাম তাতে বেশ কিছু উলঙ্গ নারী ও পুরুষ রয়েছে। আর নিচ থেকে নির্গত আগুনের লেলিহান শিখা তাদেরকে স্পর্শ করছে যখনই লেলিহান শিখা তাদেরকে স্পর্শ করে, তখনই তারা উচ্চস্বরে চিৎকার করে উঠে। তিনি বলেনঃ আমি তাদেরকে বললাম, এরা কারা? তারা আমাকে বলল, চলুন , চলুন।
তিনি বলেনঃ আমরা চললাম এবং একটি নদীর (তীরে) গিয়ে পৌছলাম। রাবী বলেনঃ আমার যতদূর মনে পড়ে বলেছিলেন, নদীটি ছিল রক্তের মত লাল। আর দেখলাম, এই নদীতে এক ব্যাক্তি সাঁতার কাটছে। আর নদীর পানিতে অপর এক ব্যাক্তি রয়েছে এবং সে তার কাছে অনেকগুলো পাথর একত্রিত করে রেখেছে। আর ঐ সাতারকারী ব্যাক্তি বেশ কিছুক্ষন সাঁতার কাটার পর সে ব্যাক্তির কাছে এসে পৌছে, যে নিজের নিকট পাথর একত্রিত করে রেখেছে। তথায় এসে সে তার মুখ খুলে দেয় আর ঐ ব্যাক্তিতার মুখে একটি পাথর ঢুকিয়ে দেয়। এরপর সে চলে যায়, সাঁতার কাটতে থাকে। আবার তার কাছে ফিরে আসে, যখনই সে তার কাছে ফিরে আসে তখনই সে তার মুখ খুলে দেয়, আর ঐ ব্যাক্তি তার মুখে একটি পাথর ঢুকিয়ে দেয়। তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা? তারা বলল, চলুন, চলুন।
তিনি বলেনঃ আমরা চললাম এবং এমন একজন- কুশ্রী ব্যাক্তির কাছে এসে পৌছলাম, যা তোমার দুটিতে সর্বাধীক কুশ্রী বলে মনে হয়। আর দেখলাম, তার নিকট রয়েছে আগুন, যা সে জ্বালাচ্ছে ও তার চতূর্দিকে দৌড়াচ্ছে। তিনি বলেনঃ আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম, ঐ লোকটি কে? তারা বলল, চলুন, চলুন।
আমরা চললাম এবং একটা সজীব শ্যামল বাগানে উপনীত হলাম, যেখানে বসন্তের হরেক রকম ফুলের কলি রয়েছে। আর বাগানের মাঝে আসমানের থেকে অধিক উচু দীর্ঘকায় একজন পুরুষ রয়েছে যার মাথা যেন আমি দেখতেই পাচ্ছি না। এমনিভাবে তার চতুষ্পার্শ্বে এত বিপুল সংখ্যক বালক-বালিকা দেখলাম যে, এত বেশি আর কখনো আমি দেখিনি। আমি তাদেরকে বললাম, উনি কে? এরা কারা? তারা আমাকে বলল, চলুন, চলুন।
আমরা চললাম এবং একটা বিরাট বাগানে গিয়ে পৌছলাম। এমন বড় এবং সুন্দর বাগান আমি আর কখনো দেখিনি। তিনি বলেনঃ তারা আমাকে বলল, এর ওপরে চড়। আমরা ওপরে চড়লাম। শেষ পর্যন্ত সোনা-রুপার ইটের তৈরি একটি শহরে গিয়ে আমরা উপনীত হলাম। আমরা শহরের দরজায় পৌছলাম এবং দরজা খুলতে বললাম। আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হল, আমরা তাতে প্রবেশ করলাম। তখন তথায় আমাদের সাথে এমন কিছু লোক সাক্ষাৎ করল যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সুন্দর, যা তোমার দৃষ্টিতে সর্বাধিক সুন্দর মনে হয়। আর শরীরের অর্ধেক এমনই কুশ্রী ছিল যা তোমার দৃষ্টিতে সর্বাধিক কুশ্রী মনে হয়। তিনি বলেনঃ সাথীদ্বয় ওদেরকে বলল, যাও ঐ নদীতে গিয়ে নেমে পড়। আর সেটা ছিল সুপ্রশস্ত প্রবাহমান নদী, যার পানি ছিল দুধের মত সাদা। ওরা তাতে গিয়ে নেমে পড়ল। অতঃপর এরা আমাদের কাছে ফিরে এল, দেখা গেল তাদের এ কুশ্রীতা হয়ে গিয়েছে এবং তারা খুবই সুন্দর আকৃতির হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেনঃ তারা আমাকে বলল, এটা জান্নাতে আদন এবং এটা আপনার বাসস্থান।
তিনি বলেনঃ আমি বেশ উপরের দিকে তাকালাম, দেখলাম ধবধবে সাদা মেঘের ন্যায় একটি প্রাসাদ রয়েছে। তিনি বলেনঃ তারা আমাকে বলল, এটা আপনার বাসগূহ। তিনি বলেনঃ আমি তাদেরকে বললাম, আল্লাহ তোমাদের মাঝে বরকত দিন! আমাকে ছেড়ে দাও। আমি এতে প্রবেশ করি। তারা বলল, আপনি অবশ্য এতে প্রবেশ করবেন। তবে এখন নয়। তিনি বলেন আমি এ রাতে অনেক বিস্ময়কর ব্যাপার দেখতে পেলাম- এগুলোর তাৎপর্য কি?
তারা আমাকে বলল- আচ্ছা! আমরা আপনাকে বলে দিচ্ছি। ঐ যে প্রথম ব্যাক্তিকে যার কাছে আপনি পৌছেছিলেন, যার মাথা পাথর দিয়ে চুর্ন-বিচুর্ণ করা হচ্ছিল, সে হল ঐ ব্যাক্তি যে কুরআন গ্রহন করে তা ছেড়ে দিয়েছে। আর ফরয সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকে।
আর ঐ ব্যাক্তি যার কাছে গিয়ে দেখেছেন যে, তার মুখের এক ভাগ মাথার পিছন দিক পর্যন্ত এমনিভাবে নাসারন্ধ্রে ও চোখ মাথার পিছন দিক পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছিল। সে হল ঐ ব্যাক্তি, যে সকালে আপন ঘর থেকে বের হয়ে এমন কোন মিথ্যা বলে যা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আর এ সকল উলঙ্গ নারী-পুরুষ যারা চুলা সদৃশ গর্তের অভ্যন্তরে রয়েছে তারা হল ব্যাভিচারী ও ব্যাভিচারিনার দল।
আর ঐ ব্যাক্তি, যার কাছে পৌছে দেখেছিলেন যে, সে নদীতে সাতার কাটছে ও তার মুখে পাথর ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছিল সে হল সুদখোর।
আর ঐ কুশ্রী ব্যাক্তি, যে আগুনের কাছে ছিল এবং আগুন জ্বালাচ্ছিল আর সে এর চতূর্পার্শে দৌড়াচ্ছিল, সে হল জাহান্নামের দারোগা, মালিক ফেরেশতা।
আর ঐ দীর্ঘকায় ব্যাক্তি যিনি বাগানে ছিলেন, তিনি হলেন, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) আর তার আশেপাশের বালক-বালিকারা হলো ঐসব শিশু, যারা ফিৎরাত (স্বভাবধর্মের) ওপর মৃত্যু বরন করেছে।
তিনি বলেনঃ তখন কিছু সংখ্যক মুসলমান জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের শিশু সন্তানরাও কি? তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ মুশরিকদের শিশু সন্তানরাও। আর ঐসব লোক যাদের অর্ধেকাংশ অতি সুন্দর ও অর্ধেকাংশ অতি কুশ্রী। তারা হল ঐ সম্প্রদায় যারা সৎ-অসৎ উভয় প্রকারের কাজ মিশ্রিতভাবে করেছে। আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
-বুখারী ৬৫৭১

মুসলিম নারী

মুসলিম, মু’মিন, অনুগত, সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, বিনয়ী, দানশীল, সিয়াম পালনকারী, লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী [আল-আহযাব ৩৩:৩৫]

সহজ-সরল [আন-নূর ২৪:২৩]

.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো মহিলা যদি পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে, রমাযানের সিয়াম পালন করে, গুপ্তাঙ্গের হিফাযাত করে, স্বামীর একান্ত অনুগত হয়। তার জন্য জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশের সুযোগ থাকবে। -মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩২৫৪

.

তোমরা এমন স্ত্রীলোকদের বিবাহ করবে, যারা স্বামীদের অধিক মহাব্বাত করে এবং অধিক সন্তান প্রসব করে। কেননা আমি (কিয়ামতের দিন) তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে (পূর্ববর্তী উম্মতের উপর) গর্ব প্রকাশ করব। -আবু দাউদ ২০৪৬

.

উষ্ট্রারোহী মহিলাদের মধ্যে কুরাইশ বংশীয় মহিলারা সর্বোত্তম। তারা শিশুদের প্রতি স্নেহশীলা এবং স্বামীর মর্যাদা রক্ষার্থে উত্তম হেফাজতকারিণী। -বুখারী ৪৭১১

.

পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে মর্যাদা দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী স্ত্রীরা অনুগতা থাকে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা তা (নিজের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) হিফাযত করে; যা আল্লাহ হিফাযত করতে আদেশ দিয়েছেন। -আন নিসা ৪:৩৪

.

মুআয (রাঃ) সিরিয়া থেকে ফিরে এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাজদাহ করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে মু‘আয! এ কী? তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে দেখতে পাই যে, তথাকার লোকেরা তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদেরকে সাজদাহ করে। তাই আমি মনে মনে আশা পোষণ করলাম যে, আমি আপনার সামনে তাই করবো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তা করো না। কেননা আমি যদি কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ ছাড়া অপর কাউকে সাজদাহ করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সাজদাহ করতে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! স্ত্রী তার স্বামীর প্রাপ্য অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত তার প্রভুর প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না। স্ত্রী শিবিকার মধ্যে থাকা অবস্থায় স্বামী তার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে চাইলে স্ত্রীর তা প্রত্যাখ্যান করা অনুচিত। -ইবনে মাজাহ ১৮৫৩

.

স্বামী যদি মনোবাসনা পূরণের জন্য তার স্ত্রীকে ডাকে তবে সে যদি চুলার কাছেও থাকে তবুও যেন অবশ্যই সাড়া দেয়। -তিরমিজী ১১৬১

.

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক মহিলাকে দেখে ফেলেন। তারপর তিনি (তার স্ত্রী যায়নাবের কাছে যান এবং মনোবাসনা পূর্ণ করে বেরিয়ে আসেন। পরে বললেন, মহিলারা যখন সামনে আসে তখন শয়তানের সূরতে আসে। তোমাদের কেউ যদি কোন মহিলাকে দেখে ফেলে আর তাকে পছন্দনীয় মনে হয় তবে সে যেন তার স্ত্রীর কাছে চলে আসে। কেননা স্ত্রীরও তা আছে যা এ মহিলার আছে। -তিরমিজী ১১৫৯

.

কোন স্ত্রী স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ছাড়া নফল রোযা রাখবে না। -বুখারী ৪৮১৩

.

যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সাথে একই বিছানায় শোয়ার জন্য ডাকে, আর তার স্ত্রী অস্বীকার করে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা ঐ মহিলার ওপর লা’নত বর্ষণ করতে থাকে। -বুখারী ৪৮১৪

.

তিন ব্যক্তি এমন যাদের সালাত তাদের কানও অতিক্রম করে না, পলাতক গোলাম যতক্ষণ না সে (মালিকের কাছে) ফিরে আসে, এমন মহিলা যে তার স্বামীর অসন্তুষ্টিতে রাত্রি যাপন করে, এমন ইমাম মুসল্লিরা যাকে অপছন্দ করে। -তিরমিজী ৩৬০

.

বলা হয়, সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে দুই ব্যক্তির, স্বামীর অবাধ্যা স্ত্রীর এবং এমন ইমামের যাকে মুসল্লিরা অপছন্দ করে। -তিরমিজী ৩৫৯

.

যখন কোন নারী দুনিয়ায় তার স্বামীকে কষ্ট দেয় তখন জান্নাতের আয়াতলোচনা হুরগণ (এই নারীকে লক্ষ্য করে) বলে, আল্লাহ্ তোমার ধ্বংস করুন, তুমি তাঁকে কষ্ট দিওনা। ইনি তো তোমার কাছে অতিথি। অচিরেই তিনি তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমাদের কাছে চলে আসবেন। -তিরমিজী ১১৭৫

.

একবার ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমরা সা’দকা করতে থাক। কারন আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা আরয করলেনঃ কী কারনে, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর না-শোকরী করে থাক। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যাক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তাঁরা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষের অর্ধেক নয়? তাঁরা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়য অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে না? তাঁরা বললেন, ‘হাঁ’। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি। -বুখারী ২৯৮

মুসলিম পুরুষ

মুসলিম, মু’মিন, অনুগত, সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, বিনয়ী, দানশীল, সিয়াম পালনকারী, লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী [আল-আহযাব ৩৩:৩৫]

...নারীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করবে না, যদি না তারা সুস্পষ্ট ব্যভিচার করে। তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর। [আন-নিসা ৪:১৯]