কৃতকর্মের ফল

তোমাদেরকে ভয় ও ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি (এসবের) কোনকিছুর দ্বারা নিশ্চয়ই পরীক্ষা করব, ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর। -আল-বাকারা ২:১৫৫
.
তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তাতো তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন। -আশ-শূরা ৪২:৩০
.
মানুষের কৃতকর্মের কারণে সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে। -আর-রুম ৩০:৪১
.
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। -আন-নূর ২৪:৩১
.
আর তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, তারা প্রতি বছর একবার অথবা দু’বার কোন না কোন বিপদে পতিত হয়? তবুও তারা তাওবাহ করেনা, আর না তারা উপদেশ গ্রহণ করে। -আত-তাওবা ৯:১২৬
.
আমি যখন কোন জনবসতিকে ধ্বংস করতে চাই তখন তাদের সচ্ছল ব্যক্তিদেরকে আদেশ করি (আমার আদেশ মেনে চলার জন্য)। কিন্তু তারা অবাধ্যতা করতে থাকে। তখন সে জনবসতির প্রতি আমার ‘আযাবের ফায়সালা সাব্যস্ত হয়ে যায়। তখন আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করে দেই। -আল-ইসরা ১৭:১৬
.
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলেনঃ হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে।তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠি চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না। যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাশীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন। -ইবনে মাজাহ ৪০১৯

মহামারি

তোমরা নিজেদের হত্যা করনা।
-সূরা আন-নিসা ৪:২৯
.
যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠি চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০১৯
.
প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর আপতিত হয়েছিল। অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়োনা। আর যখন প্লেগ এমন স্থানে দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়োনা।
-সহীহ বুখারী ৩২২৭, সহীহ মুসলিম ৫৫৮০, ৫৫৮১, ৫৫৮২, ৫৫৮৩, ৫৫৮৭,  ৫৫৮৫
.
প্লেগ একটি আযাব বিশেষ। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন তাদের উপর তা প্রেরন করেন। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর মুমিন বান্দাগনের উপর তা (আযাবের সুরতে) রহমত স্বরূপ করে দিয়েছেন। কোন ব্যাক্তি যখন প্লেগাক্রান্ত স্থানে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে। তবে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে।
-সহীহ বুখারী ৩২২৮
.
অসুস্থ উটপালের মালিক (অসুস্থ উটগুলিকে) সুস্থ উটপালের মালিকের (উটের) কাছে আনবে না।
-সহীহ মুসলিম  ৫৫৯৭
.
কুষ্ঠ রোগীদের দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে থেকো না।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৫৪৩
.
কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি দূরে থাক তুমি বাঘ থেকে।
-সহীহ বুখারী ৫৩০২
.
উমার (রাঃ) শাম এর দিকে রওয়ানা হলেন। ‘সারগ’ পর্যন্ত পৌছলে 'আজনাদ' অধিবাসীদের (প্রতিনিধি ও অধিনায়ক) আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ) ও তাঁর সহকর্মীগণ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন। তখন তাঁরা খবর দিলেন যে, শামে মহামারী শুরু হয়ে গিয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন উমার (রাঃ) বললেন, প্রথম যুগের মুহাজিরদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলে তিনি তাঁদের পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁদের খবর দিলেন যে শামে মহামারী শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়লেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন, আপনি একটা বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, তাই আমরা আপনার ফিরে যাওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না। আর কেউ কেউ বললেন, আপনার সাথে রয়েছে প্রবীণ ব্যক্তি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ। তাই আমরা তাঁদেরকে এ মহামারীর মুখে এগিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না।
তিনি বললেন, আপনারা উঠুন। এরপর বললেন, আনসারীদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাঁদেরকে তাঁর কাছে ডেকে আনলে তিনি তাঁদের কাছেও পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা মুহাজিরদের পথ অনুসরণ করলেন এবং মুহাজিরগণের ন্যায় তাঁদের মধ্যেও মতপার্থক্য হল। তিনি বললেন, আপনারা উঠুন! এরপর তিনি বললেন, (মক্কা) বিজয়ের আগে হিজরতকারী কুরায়শের মুরব্বীদের যারা এখানে রয়েছেন, তাঁদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলাম। তাঁদের দুজেনও কিন্তু দ্বিমত পোষণ করলেন না। তাঁরা (সকলেই) বললেন, আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি যে, আপনি লোকদের নিয়ে ফিরে যান এবং তাঁদেরকে এ মহামারীর মুখে এগিয়ে দিবেন না।
তখন উমার (রাঃ) লোকদের মাঝে ঘোষণা দিলেন, আমি ফজর পর্যন্ত সওয়ারীর উপর থাকবো, তোমরাও (ফজর পর্যন্ত সওয়ারীর উপর) অবস্থান কর। তখন আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর তাকদীর থেকে পলায়ন করে? তখন উমার (রাঃ) বললেন, হে আবূ উবায়দা! তুমি ভিন্ন অন্য কেউ এ কথা বললে (রাবী বলেন) উমার (রাঃ) তাঁর বিরুদ্ধাচরণ অপছন্দ করতেন (তিনি বললেন) হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহরই তাকদীরের দিকে পলায়ন করছি। তোমার যদি একপাল উট থাকে আর তুমি একটি উপত্যকায় অবতীর্ণ হওয়ার পর দেখ যে, দুটি প্রান্তর রয়েছে, যার একটি সবুজ শ্যামল অপরটি শূন্য। সে ক্ষেত্রে তুমি যদি সবুজ শ্যামল প্রান্তরে (উট) চরাও, তাহলে আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে, আর যদি তৃণশূন্য প্রান্তরে চরাও, তাহলেও আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে।
এ সময় আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এলেন, তিনি (এতক্ষণ) তাঁর কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে (হাদীসের) ইলম রয়েছে। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা কোন এলাকায় এর সংবাদ শুনতে পাও, তখন তার উপরে (দুঃসাহস দেখিয়ে) এগিয়ে যেয়ো না। আর যখন কোন দেশে তোমাদের সেখানে থাকা অবস্থায় দেখা দেয়, তখন তা থেকে পলায়ন করে বেরিয়ে পড়ো না। তখন উমার (রাঃ) আল্লাহর হামদ করলেন। তারপর চলে গেলেন।
-সহীহ মুসলিম ৫৫৯১

কিয়ামত নিকটবর্তী

শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থিত স্বর্ণসম পর্বত বের করে দিবে। এ কথা শুনামাত্রই লোকজন সেদিকে চলতে রওনা হবে। সেখানকার লোকেরা বলবে, আমরা যদি লোকদেরকে ছেড়ে দেই তবে তারা সমস্ত কিছুই নিয়ে চলে যাবে। এ নিয়ে তারা পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে এবং এতে একশতের মধ্যে নিরানব্বই জন লোকই নিহত হবে। -মুসলিম ৭১৬৮

তাদের সকলেই বলবে, আমার মনে হয় আমি জীবন্ত থাকব। -মুসলিম ৭১৬৪

সুতরাং এ সময় যারা উপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই গ্রহণ না করে। -মুসলিম ৭১৬৬
.
কুরায়শ বংশীয় জনৈক লোক বাইতুল্লাহ শরীফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তার কারণে একটি বাহিনী এ কা’বা গৃহের বিপক্ষে যুদ্ধ করার ইচ্ছা করবে। তারপর তারা যখন “বাইদা” নামক এক ময়দানে পদার্পণ করবে তখন তাদের মাঝের অংশটি ভূমিতে ধ্বসে যাবে। এ সময় অগ্রভাগের সৈন্যরা পশ্চাতের সৈন্যদেরকে উচ্চঃস্বরে ডাকতে থাকবে। অতঃপর প্রত্যেকেই ভূমিতে ধ্বসে যাবে। বেঁচে যাওয়া একটি ব্যক্তি ছাড়া তাদের কেউ আর বাকী থাকবে না। সে-ই তাদের সম্বন্ধে অন্যদেরকে খবর দিবে। -মুসলিম ৭১৩৪ ও ৭১৩৬
.
অচিরেই রোমকরা আমাদের সাথে শান্তি চুক্তি করবে। অতঃপর তোমরা (তাদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করবে এবং তোমরা ও তারা (পরস্পরের) শত্রু হবে। এরপর তোমরা বিজয়ী হবে এবং গনীমতের মাল লাভ করবে। তোমরা নিরাপদ থাকবে এবং (যুদ্ধ থেকে) ফিরে আসবে। এমনকি তোমরা সবুজ-শ্যামল উচ্চ স্থানে অবতরণ করবে। তখন ক্রুশধারীদের মধ্যকার এক ব্যক্তি (ক্রুশ) উত্তোলন করে বলবে, সালীব (ক্রুশ) বিজয়ী হয়েছে। তখন এক মুসলমান ক্রোধান্বিত হয়ে ক্রুশের নিকট গিয়ে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে। তখন রোমকরা সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করবে এবং তাদের সকলে যুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হবে।  তারা যুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হবে এবং আশিটি পতাকার অধীনে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হবে। প্রতিটি পতাকার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য। -ইবনে মাজাহ ৪০৮৯ (বুখারী ৩১৭৬)

মুসলিমরা রাগের সাথে তাদের যুদ্ধাস্ত্রের দিকে ধাবিত হবে এবং যুদ্ধে লিপ্ত হবে। আল্লাহ তাদেরকে শহিদী মৃত্যু দিয়ে সম্মানিত করবেন। -আবূ দাউদ ৪২৯৩
.
নাবী ﷺ বলেছেনঃ তোমরা কি ঐ শহরের কথা শুনেছ, যার একদিকে স্থলভাগ এবং একদিকে জলভাগ? উত্তরে সহাবাগণ বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল ﷺ! শুনেছি। অতঃপর তিনি বললেন, কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ইসহাক (আঃ) এর সন্তানদের সত্তর হাজার লোক এ শহরের লোকেদের সঙ্গে লড়াই না করবে। তারা শহরের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছবে কোন অস্ত্র দ্বারা যুদ্ধ করবে না এবং কোন তীরও চালাবে না; বরং তারা একবার লাইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ ‘ওয়াল্লা-হু আকবার বলবে, সাথে সাথে এর এক প্রান্ত ধ্বসে যাবে।
অতঃপর দ্বিতীয়বার তারা "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ ও ‘ওয়াল্ল-হু আকবার" বলবে। এতে শহরের অপর প্রান্ত ধ্বসে যাবে। এরপর তারা তৃতীয়বার 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ ও ‘ওয়াল্লা-হু আকবার' বলবে। তখন তাদের শহরের দ্বার খুলে দেয়া হবে। তারা যখন তাতে প্রবেশ করে গনীমাতের মাল ভাগাভাগিতে ব্যতিব্যস্ত থাকবে, তখন কেউ উচ্চঃস্বরে বলে উঠবে, দাজ্জালের আগমন ঘটেছে। এ কথা শুনা মাত্রই তারা ধন-সম্পদ ফেলে দেশে ফিরে যাবে।
-মুসলিম ৭২২৩
.
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না রোমীয় (সিরিয়ার অন্তর্গত) সেনাবাহিনী আমাক অথবা দাবিক নহরের কাছে অবতীর্ণ হবে। তখন তাদের মুকাবিলায় মদীনাহ হতে এ দুনিয়ার সর্বোত্তম মানুষের এক দল সৈন্য বের হবে। তারপর উভয় দল সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হবার পর রোমীয়গণ বলবে, তোমরা ঐ সমস্ত লোকেদের থেকে পৃথক হয়ে যাও, যারা আমাদের লোকেদেরকে বন্দী করেছে। আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করব। তখন মুসলিমগণ বলবে, আল্লাহর শপথ আমরা আমাদের ভাইদের থেকে কক্ষনো সম্পর্কচ্ছেদ করব না। পরিশেষে তাদের পরস্পর যুদ্ধ হবে। এ যুদ্ধে মুসলিমদের এক তৃতীয়াংশ সৈন্য পলায়নপর হবে। আল্লাহ তা’আলা কক্ষনো তাদের তাওবাহ্ গ্রহণ করবেন না। সৈন্যদের এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে এবং তারা হবে আল্লাহর কাছে শহীদানের মাঝে সর্বোত্তম শহীদ। আর সৈন্যদের অপর তৃতীয়াংশ বিজয়ী হবে। জীবনে আর কক্ষনো তারা ফিতনায় আক্রান্ত হবে না। তারাই কুম্ভনতিনিয়া বিজয় করবে।
তারা নিজেদের তলোয়ার যাইতুন বৃক্ষে লটকিয়ে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ভাগ করতে থাকবে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে শাইতান (শয়তান) উচ্চঃস্বরে বলতে থাকবে, দাজ্জাল তোমাদের পেছনে তোমাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ কথা শুনে মুসলিমরা সেখান থেকে বের হবে। অথচ এ ছিল মিথ্যা সংবাদ। তারা যখন সিরিয়া পৌছবে তখন দাজ্জালের আগমন ঘটবে। যখন মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হতে শুরু করা মাত্র সলাতের সময় হবে। অতঃপর ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন এবং সলাতে তাদের ইমামাত করবেন। আল্লাহর শত্রু তাকে দেখামাত্রই বিচলিত হয়ে যাবে যেমন লবণ পানিতে মিশে যায়। যদি ঈসা (আঃ) তাকে এমনিই ছেড়ে দেন তবে সেও নিজে নিজেই বিগলিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। অবশ্য আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর হাতে তাকে হত্যা করবেন এবং তার রক্ত ঈসা (আঃ) এর বর্শাতে তিনি তাদেরকে দেখিয়ে দিবেন।
-মুসলিম ৭১৭০
.
একবার কুফা নগরীতে লাল ঝঞ্ঝা বিশিষ্ট বায়ু প্রবাহিত হলো। এমন সময় জনৈক লোক কুফায় এসে বলল যে, হে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ সতর্ক হও, কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না উত্তরাধিকার সম্পদ অবণ্টিত থাকবে এবং যতক্ষণ না মানুষেরা গনীমাতের বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ না করবে। তারপর তিনি নিজ হাত দ্বারা সিরিয়ার প্রতি ইশারা করে বললেন, আল্লাহর শক্ররা একত্রিত হবে মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য এবং মুসলিমগণও তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য একত্রিত হবে। এ কথা শ্রবণে আমি বললাম, আল্লাহর শক্র বলে আপনাদের উদ্দেশ্য হলো রোমীয় (খ্ৰীষ্টান) সম্প্রদায়। তিনি বললেন, হ্যাঁ! এবং তখন ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তখন মুসলিম জাতি একটি দল অগ্রে প্রেরণ করবে, তারা মৃত্যুর জন্য সম্মুখে এগিয়ে যাবে। বিজয় অর্জন করা ছাড়া তারা প্রত্যাবর্তন করবে না। এরপর পরস্পর তাদের মধ্যে যুদ্ধ হবে। যুদ্ধ করতে করতে রাত্রি অতিবাহিত হয়ে যাবে। তারপর দু’ পক্ষের সৈন্য জয়লাভ করা ছাড়াই ফিরে চলে যাবে। যুদ্ধের জন্য মুসলিমদের যে দলটি এগিয়ে গিয়েছিল তারা প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে।
অতঃপর পরবর্তী দিন মুসলিমগণ মৃত্যুর জন্য অপর একটি দল সামনে পাঠাবে। তারা সবাই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর পরবর্তী দিন মুসলিমগণ মৃত্যুর জন্য অপর একটি দল সামনে পাঠাবে। তারা বিজয়ী না হয়ে ফিরবে না। এদিনও পরস্পরের মধ্যে মারাত্মক যুদ্ধ হবে। পরিশেষে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। উভয় বাহিনী বিজয়লাভ করা ছাড়াই স্বীয় শিবিরে প্রত্যাবর্তন করবে। যে দলটি সামনে ছিল তারা সরে যাবে। অতঃপর তৃতীয় দিন আবার মুসলিমগণ মৃত্যু বা বিজয়ের উদ্দেশে অপর একটি বাহিনী পাঠাবে। এ যুদ্ধ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকবে। পরিশেষে বিজয়লাভ করা ছাড়াই উভয় বাহিনী প্রত্যাবর্তন করবে। তবে মুসলিম বাহিনীর সামনের সেনাদলটি শাহীদ হয়ে যাবে। তারপর যুদ্ধের চতুর্থ দিনে অবশিষ্ট মুসলিমগণ সকলেই যুদ্ধের জন্য সামনে এগিয়ে যাবে। সেদিন কাফিরদের উপর আল্লাহ তা’আলা অকল্যাণ চক্র চাপিয়ে দিবেন। তারপর এমন যুদ্ধ হবে যা জীবনে কেউ দেখবে না অথবা যা জীবনে কেউ দেখেনি। পরিশেষে তাদের শরীরের উপর পাখী উড়তে থাকবে। পাখী তাদেরকে অতিক্রম করবে না; এমতাবস্থায় তা মাটিতে পড়ে নিহত হবে।
একশ’ মানুষ বিশিষ্ট একটি গোত্রে, মাত্র এক লোক বেঁচে থাকবে। এমন সময় কেমন করে গনীমাতের সম্পদ নিয়ে লোকেরা আনন্দোৎসব করবে এবং কেমন করে উত্তরাধিকার সম্পদ ভাগ করা হবে। এমতাবস্থায় মুসলিমগণ আরেকটি ভয়ানক বিপদের খবর শুনতে পাবে এবং এ মর্মে একটি শব্দ তাদের কাছে পৌছবে যে, দাজ্জাল তাদের পেছনে তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ সংবাদ শুনতেই তারা হাতের সমস্ত কিছু ফেলে দিয়ে রওনা হয়ে যাবে এবং দশজন অশ্বারোহী ব্যক্তিকে সংবাদ সংগ্রাহক দল হিসেবে প্রেরণ করবে। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, দাজ্জালের খবর সংগ্রাহক দলের প্রতিটি লোকের নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম এবং তাদের ঘোড়ার রং সম্পর্কেও আমি জ্ঞাত আছি। এ পৃথিবীর সর্বোত্তম অশ্বারোহী দল সেদিন তারাই হবে।
-মুসলিম ৭১৭৩
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের একটি খনিজ সম্পদের নিকট পরপর তিনজন খলীফার পুত্র নিহত হবে। তাদের কেউ সেই খনিজ সম্পদ দখল করতে পারবে না। অতঃপর প্রাচ্যদেশ থেকে কালো পতাকা উড্ডীন করা হবে। তারা তোমাদেরকে এত ব্যাপকভাবে হত্যা করবে যে, ইতোপূর্বে কোন জাতি তদ্রূপ করেনি। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও কিছু বলেছেনঃ যা আমার মনে নাই। তিনি আরো বলেনঃ তাকে আত্মপ্রকাশ করতে দেখলে তোমরা বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তার সাথে যোগদান করো। কারণ সে আল্লাহর খলীফা মাহ্দী। -ইবনে মাজাহ ৪০৮৪ (যইফ)
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বাইতুল মাকদিসে বসতি স্থাপন ইয়াসরিবের বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং ইয়াসরিবের বিপর্যয় সংঘাতের কারণ হবে। যুদ্ধের ফলে কুসতুনতীনিয়া বিজিত হবে এবং কুসতুনতীনিয়া বিজয় দাজ্জালের আবির্ভাবের আলামত। -আবূ দাউদ ৪২৯৪
.
কিয়ামাত পর্যন্ত আমার উম্মতের একদল সত্য দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে লড়তে থাকবে এবং অবশেষে ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন। মুসলিমদের আমীর বলবেন, আসুন সলাতে আমাদের ইমামাতি করুন! তিনি বলবেন না, আপনাদেরই একজন অন্যদের জন্য ইমাম নিযুক্ত হবেন। এ হলো আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত এ উম্মতের সম্মান। -মুসলিম ২৮৬
.
কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না কাহতান গোত্র হতে এক লোকের আগমন ঘটবে, যে লোকেদেরকে লাঠি দিয়ে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। -মুসলিম ৭২০০
.
রাত দিন শেষ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জাহজাহ নামে কোন লোক শাসনকর্তা হবে। -মুসলিম ৭২০১
.
আমার পরিবারের একজন আরবের অধিপতি না হওয়া পর্যন্ত পৃথিবী ধ্বংস হবে না। আমার নামের অনুরূপই তার নাম হবে। -তিরমিজী ২২৩০
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ আমার বংশ থেকে মাহদীর আবির্ভাব হবে, সে হবে প্রশস্ত ললাট ও উন্নত নাকবিশিষ্ট। তখনকার দুনিয়া যেরূপে যুলুমে ভরে যাবে, সে তার বিপরীতে তা ইনসাফে ভরে দিবে, আর সে সাত বছর রাজত্ব করবে। -আবূ দাউদ ৪২৮৫
.
শীঘ্রই ইরাকবাসীরা না খাদ্যশস্য পাবে না দিরহাম পাবে। অনারবদের কারণে এ বিপদ সংঘটিত হবে। তারা তা (খাদ্যশস্য বা দিরহাম) দেয়া বন্ধ করে দিবে। অচিরেই সিরিয়াবাসীদের নিকট কোন দীনার আসবে না এবং কোন খাদ্যশস্যও আসবে না। রোমের দিক থেকে এ বিপদ কোন দিক থেকে আবির্ভাব হবে। উম্মাতের শেষভাগে একজন খলীফা হবে, সে হাত ভরে ভরে ধন-সম্পদ দান করবে, গুণে গুণে দিবে না। -মুসলিম ৭২০৭
.
অনাবৃষ্টির কারণেই কেবল দুর্ভিক্ষ হবে না। বরং অধিক বৃষ্টিপাত হতে থাকবে এবং জমিন কোন কিছু উৎপাদন করবে না (ফলে তা দুর্ভিক্ষের কারণ হয়ে থাকে)। -মুসলিম ৭১৮৩
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আমি ঘুমের অবস্থায় দেখতে পেলাম যে, আমি কা‘বার তাওয়াফ করছি। হঠাৎ একজন লোককে দেখতে পেলাম ধূসর বর্ণের আলুথালু কেশধারী, তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে কিংবা টপকে পড়ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি মারিয়ামের পুত্র। এরপর আমি তাকাতে লাগলাম, হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি স্থুলকায় লাল বর্ণের, কোঁকড়ানো চুল, এক চোখ কানা, চোখটি যেন ফোলা আঙ্গুরের মত। লোকেরা বলল এ-হল দাজ্জাল! -বুখারী ৭১২৮
.
দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে। আর তা আঙ্গুরের মতো ফোলা হবে। -মুসলিম ৭২৫১

দাজ্জালের বামচোখ কানা হবে। তার দেহে ঘন পশম হবে। -মুসলিম ৭২৫৬

দাজ্জালের সাথে প্রবাহমান দুটি নহর থাকবে। একটি দৃশ্যত ধবধবে সাদা পানি বিশিষ্ট এবং অপরটি দৃশ্যত লেলিহান অগ্নির মতো হবে। যদি কেউ সুযোগ পায় তবে সে যেন ঐ নহরে প্রবেশ করে যাকে দৃশ্যত অগ্নি মনে হবে এবং চক্ষু বন্ধ করতঃ মাথা অবনমিত করে সে যেন সেটা থেকে পানি পান করে। সেটা হবে ঠাণ্ডা পানি। দাজ্জালের চক্ষু লেপা হবে এবং তার চোখের উপর নখের মতো পুরু চামড়া থাকবে এবং উভয় চোখের মাঝখানে পৃথক-পৃথকভাবে কাফির লেখা থাকবে। শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে সকল মু’মিন ব্যক্তি এ লেখা পাঠ করতে পারবে। -মুসলিম ৭২৫৭
.
তামীম আদ দারী (রাযিঃ) বলেছেন, আমরা দ্রুত পদব্রজে গীর্জায় প্রবেশ করতেই এক দীর্ঘাকৃতির এক লোককে দেখতে পেলাম। যা ইতোপূর্বে এমন আমরা আর কক্ষনো দেখিনি। লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় দু' হাটুর মধ্য দিয়ে তার উভয় হাত ঘাড়ের সাথে মিলানো।
আমরা তাকে বললাম, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে? সে বলল, তোমরা আমার সন্ধান কিছু না কিছু পেয়েই গেছ। এখন তোমরা বলো, তোমাদের পরিচয় কি? তারা বলল, আমরা আরবের বাসিন্দা। আমরা সমুদ্রে নৌকায় চড়ে ভ্রমণ করছিলাম। আমরা সমুদ্রকে উত্তাল তরঙ্গে উদ্বেলিত অবস্থায় পেয়েছি। এক মাস পর্যন্ত ঝড়ের কবলে থেকে অবশেষে আমরা তোমার এ দ্বীপে এসে পৌছেছি। অতঃপর ছোট ছোট নৌকায় আরোহণ করে এ দ্বীপে আমরা প্রবেশ করেছি। এখানে আমরা একটি সর্বাঙ্গ পশমে আবৃত জন্তুকে দেখতে পেয়েছি। পশমের মাত্রাতিরিক্তের কারণে আমরা তার আগা-পাছা চিনতে পারছি না। আমরা তাকে বলেছি, তোর সর্বনাশ হোক! তুই কে? সে বলেছে, সে নাকি জাসসা-সাহ। আমরা বললাম, জাসসা-সাহ! আবার কি? তখন সে বলেছে, ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, তোমরা সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষায় আছে। তাই আমরা দ্রুত তোর কাছে এসে গেছি। আমরা তার কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি না জানি এ আবার কোন জিন ভূত কিনা?
অতঃপর সে বলল, তোমরা আমাকে বাইসানের খেজুর বাগানের সংবাদ বলো। আমরা বললাম, এর কোন বিষয়টি সম্পর্কে তুই সংবাদ জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, বাইসানের খেজুর বাগানে ফল আসে কি না, এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করছি। তাকে আমরা বললাম, হ্যাঁ, আছে। সে বলল, সেদিন নিকটেই যেদিন এগুলোতে কোন ফল ধরবে না। তারপর সে বলল, আচ্ছা, তিবরিয়্যা সমুদ্রের ব্যাপারে আমাকে অবগত করো। আমরা বললাম, এর কোন বিষয় সম্পর্কে তুই আমাদের থেকে জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর মধ্যে পানি আছে কি? তারা বলল, হ্যাঁ, সেখানে বহু পানি আছে। অতঃপর সে বলল, সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন এ সাগরে পানি থাকবে না। সে আবার বলল, ‘যুগার’ এর ঝর্ণার ব্যাপারে তোমরা আমাকে অবহিত করো। তারা বলল, তুই এর কি সম্পর্কে আমাদের নিকট জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর ঝর্ণাতে পানি আছে কি? আর এ জনপদের লোকেরা তাদের ক্ষেত্রে এ ঝর্ণার পানি দেয় কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, এতে অনেক পানি আছে এবং এ জনপদের লোকেরা এ পানির মাধ্যমেই তাদের ক্ষেত আবাদ করে।
সে আবার বলল, তোমরা আমাকে উম্মীদের নাবীর ব্যাপারে খবর দাও। সে এখন কি করছে? তারা বলল, তিনি মাক্কাহ থেকে হিজরত করে মাদীনায় চলে এসেছেন। সে জিজ্ঞেস করল, আরবের লোকেরা তার সাথে যুদ্ধ করেছে কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, করেছে। সে বলল, সে তাদের সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেছে। আমরা তাকে খবর দিলাম যে, তিনি আরবের পার্শ্ববর্তী এলাকায় জয়ী হয়েছেন এবং তারা তার বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, এ কি হয়েই গেছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, বশ্যতা স্বীকার করে নেয়াই জনগণের জন্য কল্যাণকর ছিল।
এখন আমি নিজের ব্যাপারে তোমাদেরকে বলছি, আমিই মাসীহ দাজ্জাল। অতি সত্ত্বরই আমি এখান থেকে বাইরে যাবার অনুমতি পেয়ে যাব। বাইরে যেয়ে আমি সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠ প্রদক্ষিণ করব। চল্লিশ দিনের ভেতর এমন কোন জনপদ থাকবে না, যেখানে আমি প্রবেশ না করব। তবে মাক্কাহ্ ও তাইবাহ (মাদীনা) এ দুটি স্থানে আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। যখন আমি এ দু’টির কোন স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করব, তখন এক ফেরেশতা উন্মুক্ত তরবারি হাতে সম্মুখে এসে আমাকে বাধা দিবে। এ দুটি স্থানের সকল রাস্তায় ফেরেশতাদের পাহারা থাকবে।
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, জেনে রেখ। উল্লেখিত দ্বীপ সিরিয়া সাগরে অথবা ইয়ামান সাগরের পার্শ্বস্থ সাগরের মাঝে অবস্থিত। যা পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত।
-মুসলিম ৭২৭৬
.
কারো প্রতি ভীষণ রাগই সর্বপ্রথম দাজ্জালকে মানুষের সম্মুখে প্রকাশ ঘটবে। -মুসলিম ৭২৫০
.
মাক্কাহ মাদীনাহ ছাড়া পৃথিবীর গোটা শহরেই দাজ্জাল অনুপ্রবেশ করবে। তবে মাক্কাহ মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। কেননা এ দু’ শহরের প্রতিটি রাস্তায়ই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এর পাহারাদারীতে নিযুক্ত থাকবে। পরিশেষে দাজ্জাল মাদীনার এক নিকটবর্তী স্থানে অবতরণ করবে। তখন মাদীনাতে তিনবার ভূমিকম্প হবে। যার ফলে প্রত্যেক মুনাফিক ও কাফির মাদীনাহ হতে বের হয়ে তার কাছে চলে যাবে। -মুসলিম ৭২৮০

দাজ্জাল এসে জুরুফ এর এক অনুর্বর জমিতে নামবে এবং এখানেই সে তার শিবির স্থাপন করবে। -মুসলিম ৭২৮১
.
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পর কোন এক মুসলিম লোক তার দিকে এগিয়ে যাবে। তারপর পথে অস্ত্রধারী দাজ্জাল বাহিনীর সঙ্গে তার দেখা হবে। তারা তাকে প্রশ্ন করবে, কোথায় যাবে? সে বলবে, আবির্ভূত দাজ্জালের কাছে যাব। তারা তাকে আবারো প্রশ্ন করবে, তুমি কি আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আননি? সে বলবে, আমাদের প্রতিপালক গুপ্ত নন। দাজ্জালের লোকেরা তাকে লক্ষ্য করে বলবে, তোমরা তাকে হত্যা করে দাও। তখন তারা একে অপরকে বলবে, আমাদের রব কাউকে তার সামনে নেয়া ব্যতিরেকে হত্যা করতে কি তোমাদেরকে বারণ করেননি? তারপর তারা তাকে নিয়ে দাজ্জালের কাছে যাবে। দাজ্জালকে দেখামাত্রই সে বলবে, হে লোক সকল! এ-তো সেই দাজ্জাল, যার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে বর্ণনা দিয়েছেন। তারপর দাজ্জাল তার লোকদেরকে আগম্ভক লোকের মাথা ছিন-ভিন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলবে, তাকে ধর এবং তার মাথা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দাও। তারপর তার পেট ও পিঠে আঘাত করা হবে। আবার দাজ্জাল তাকে প্রশ্ন করবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে না। সে বলবে, তুমি তো মাসীহ দাজ্জাল।
তারপর দাজ্জাল তার ব্যাপারে নির্দেশ দিবে। দাজ্জালের হুকুমে মাথা হতে পা পর্যন্ত তাকে করাতে চিরে দু টুকরো করে দেয়া হবে। তারপর দাজ্জাল উভয় টুকরার মধ্যস্থলে দণ্ডায়মান হয়ে তাকে সম্বোধন করে বলবে, উঠো। সে সোজা দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর আবারো তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনবে না? অতঃপর আগম্ভক ব্যক্তি বলবে, তোমার সম্পর্কে কেবল আমার মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা বেড়েই চলবে। তারপর আগম্ভক লোক বলবে, হে লোক সকল! আমার পর দাজ্জাল আর কারো সঙ্গে এমন আচরণ করতে সক্ষম হবে না। এরপর যবাহ করার জন্য দাজ্জাল তাকে পাকড়াও করবে। কিন্তু তার গলা ও ঘাড় তামায় রূপান্তর করা হবে। ফলে দাজ্জাল তাকে যবাহ করতে সক্ষম হবে না। উপায়ন্তর না দেখে দাজ্জাল তখন তার হাত-পা ধরে তাকে নিক্ষেপ করবে। লোকেরা মনে করবে, দাজ্জাল তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে। বস্তুতঃ সে জান্নাতে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহ রবুল আলামীনের কাছে এ লোকই হবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় শাহাদাতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
-মুসলিম ৭২৬৭
.
The Dajjal would be followed by seventy thousand Jews of Isfahan wearing Persian shawls. sunnah.com/muslim:2944
ইস্পাহানের সত্তর হাজার ইয়াহুদী দাজ্জালের অনুগামী হবে, তাদের গায়ে থাকবে তায়লাসান চাদর। -মুসলিম ৭১২৫
আসবাহান এর সত্তর হাজার ইয়াহুদী দাজ্জালের অনুসারী হবে, তাদের শরীরে (তায়ালিসাহ) কালো চাদর থাকবে। -মুসলিম ৭২৮২
.
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমদের সঙ্গে ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের যুদ্ধ না হবে। মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করবে। ফলে তারা পাথর বা গাছের পিছনে লুকিয়ে থাকবে। তখন পাথর বা গাছ বলবে, হে মুসলিম! হে আল্লাহর বান্দা! এই তো ইয়াহুদী আমার পিছনে লুকিয়ে আছে। এসো, তাকে হত্যা কর। কিন্তু ‘গারকাদ’ নামক গাছ দেখিয়ে দিবে না। কারণ এটা হচ্ছে ইয়াহুদীদের সহায়তাকারী গাছ। -মুসলিম ৭২২৯
.
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা’আলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী।
দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা আল-কাহফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল ﷺ! সে পৃথিবীতে কয়দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, চল্লিশদিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে।
আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেটাতে এক দিনের সলাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল ﷺ! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক কাওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফুরীর দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহ্বানে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশমণ্ডলীকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে।
তারপর দাজ্জাল অপর এক কাওমেরর কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। আমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়।
অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুটুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহবান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রববুল আলামীন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে প্রেরণ করবেন। তিনি দু' ফেরেশতার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারস ও জাফরান রং এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুঁকবেন তখন ফোটা ফোটা ঘাম তার শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কফিরের কাছে যাবেন সে তার শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন।
অতঃপর ঈসা (আঃ) ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ঈসা (আঃ) তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দিবেন। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর প্রতি এ মর্মে ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটেয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ-মাজুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি "বুহাইরায়ে তাবরিয়া"র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি?
তারা আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এবং তার সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তা’আলা ইয়া'জুজ-মা'জুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যথায় তাদের পচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে।
এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বারাকাত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বারাকাত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামাত সংঘটিত হবে।
-মুসলিম ৭২৬৩
.
কিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে না যে পর্যন্ত সম্পদের প্রাচুর্য না আসবে। এমনকি কোন ব্যক্তি সম্পদের যাকাত নিয়ে ঘুরবে কিন্তু নেয়ার মতো লোক পাবে না। আরবের মাঠ ঘাট তখন চারণভূমি ও নদী-নালায় পরিণত হবে। -মুসলিম ২২২৯
.
কিয়ামতের কয়েকটি নিদর্শন এই যে, অর্থ-সম্পদের বিস্তার ও প্রাচুর্য দেখা দেবে, ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে, বিদ্যা বিলুপ্ত হবে। কোন ব্যক্তি মাল বিক্রিকালে বলবে না, আমি অমুক গোত্রের ব্যবসায়ীর সাথে পরামর্শ করে নিই। আর বিরাট লোকালয়েও লেখক তালাশ করে পাওয়া যাবে না। -নাসাঈ ৪৪৫৭
.
অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না।
তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন।
তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।
তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই।
অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না।
যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।
আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।
-আল কাহাফ ১৮: ৯৩-৯৯

যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে। -আল আম্বিয়া ২১:৯৬
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ নিশ্চয় ইয়াজূজ-মাজূজ প্রতিদিন সুড়ঙ্গ পথ খনন করতে থাকে। এমনকি যখন তারা সূর্যের আলোকরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছে যায় তখন তাদের নেতা বলে, তোমরা ফিরে চলো, আগামী কাল এসে আমরা খনন কাজ শেষ করবো। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা (রাতের মধ্যে) সেই প্রাচীরকে আগের চেয়ে মযবুত অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। যখন তাদের আবির্ভাবের সময় হবে এবং আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মানবকুলের মধ্যে পাঠাতে চাইবেন, তখন তারা খনন কাজ করতে থাকবে। শেষে যখন তারা সূর্যরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছবে তখন তাদের নেতা বলবে, এবার ফিরে চলো, ইনশাআল্লাহ আগামী কাল অবশিষ্ট খনন কাজ সম্পন্ন করবো। তারা ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার করবে। সেদিন তারা ফিরে যাবে এবং প্রাচীর তাদের রেখে যাওয়া ক্ষীণ অবস্থায় থেকে যাবে। এ অবস্থায় তারা খননকাজ শেষ করে লোকালয়ে বের হয়ে আসবে এবং সমুদ্রের পানি পান করে শেষ করবে। মানুষ তাদের ভয়ে পালিয়ে দূর্গের মধ্যে আশ্রয় নিবে। তারা আকাশপানে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে। রক্তে রঞ্জিত হয়ে তা তাদের দিকে ফিরে আসবে। তখন তারা বলবে, আমরা পৃথিবীবাসীদের চরমভাবে পরাভূত করেছি এবং আসমানবাসীদের উপরও বিজয়ী হয়েছি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করবেন। কীটগুলো তাদের হত্যা করবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ভূপৃষ্ঠের গবাদি পশুগুলো সেগুলোর গোশত খেয়ে মোটাতাজা হয়ে মাংসল হবে। -ইবনে মাজাহ ৪০৮০
.
ইয়াজুজ-মাজুজ জাবালে খামার নামক স্থানে গিয়ে পৌছবে। এ হলো, বাইতুল মুকাদ্দাসের একটি পর্বত। এখানে পৌছে তারা বলবে, আমরা তো পৃথিবী বাসীদেরকে নিঃশেষ করে দিয়েছি। এসো, আকাশমণ্ডলীর সত্তাকেও নিঃশেষ করে দেই। এ বলেই তারা আকাশের পানে তীর ছুড়তে থাকবে। আল্লাহ তা’আলা তার রক্তে রঞ্জিত করে তাদের প্রতি আবার ফিরিয়ে দিবেন। -মুসলিম ৭২৬৪
.
অপরিচিতের ন্যায় ইসলাম শুরু হয়েছিল, অচিরেই তা আবার অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সাপ যেমন সংকুচিত হয়ে তার গর্তে প্রবেশ করে তদ্রুপ ইসলামও দুই মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। -মুসলিম ২৬৮
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ শীঘ্রই ফিতনা দেখা দেবে। তখন উপবিষ্ট ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে ভাল (ফিতনামুক্ত) থাকবে, দাঁড়ানো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে ভাল থাকবে, চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে ভাল থাকবে। যে ব্যক্তি সে ফিতনার দিকে তাকাবে, ফিতনা তাকে ঘিরে ধরবে। কাজেই তখন কেউ যদি কোথাও কোন নিরাপদ আশ্রয়স্থল কিংবা আত্মরক্ষার ঠিকানা পায়, তাহলে সে যেন সেখানে আশ্রয় নেয়। -বুখারী ৭০৮২
.
শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন মুসলিমদের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সম্পদ হবে ছাগল। ফিতনা থেকে দ্বীন রক্ষার্থে পলায়নের জন্য তারা এগুলো নিয়ে পর্বতের চূড়ায় এবং বৃষ্টিপাতের জায়গাগুলোতে আশ্রয় নেবে। -বুখারী ৭০৮৮
.
অচিরেই দুর্যোগ দেখা দিবে। সাবধান, সেখানে ফিতনাহ দেখা দিবে। তখন বসে থাকা লোক চলমান লোক থেকে নিরাপদ থাকবে। আর চলমান লোক তখন দ্রুতগামী লোক হতে ভাল থাকবে। সাবধান যখন ফিতনাহ আপতিত হবে অথবা সংঘটিত হবে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি উটের মালিক সে তার উট নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আর যার বকরী আছে সে তার বকরী নিয়ে ব্যস্ত থাকুক এবং যার জমিন আছে সে তার জমিন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকুক।
যার উট, বকরী ও জমিন কিছুই নেই, সে তার তরবারি হাতে ধারণ করতঃ প্রস্তরাঘাতে সেটার ধারালো তীক্ষ অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে। অতঃপর সে নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক। এ কথা শুনে তখন জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল ﷺ! যদি চাপ সৃষ্টি করে দু’ সারির কোন একটিতে অথবা দু’ দলের কোন এক দলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কোন এক লোক তার তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে বা তীর এসে আমার গায়ে লাগে এবং আমাকে সে মেরে ফেলে, তবে আমার অবস্থা কি হবে? উত্তরে তিনি বললেন, তবে সে তার এবং তোমার পাপের বোঝা বহন করবে এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামে পতিত হবে।
-মুসলিম ৭১৪২
.
সহসা এক হিজরতের পর অপর হিজরত পালিত হয়। তখন দুনিয়াবাসীদের মধ্যে তারাই উৎকৃষ্ট লোক হিসাবে পরিগণিত হবে, যারা ইবরাহীম (আঃ) এর হিজরত স্থলে (সিরিয়াতে) হিজরত করে স্থায়ী বসতি স্থাপন করবে। -আবু দাউদ ২৪৭৪
.
ইবন হাওয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে ইসলামী হুকুমাত এমন বিস্তার লাভ করবে যে, তোমরা সকলে সংগঠিত সেনাবহিনীতে যোগদান করবে। একটি সেনাবাহিনী সিরিয়ায়, অপরটি ইয়ামানে এবং আরও একটি ইরাকে গঠিত হবে। এরূপ ভবিষ্যৎবাণী শুনে ইবন হাওয়ালা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি উক্ত সময়টি পাই, তবে আমার জন্য কোথায় থাকা উত্তম হবে? তিনি বলেন, তোমার জন্য সিরিয়ায় থাকা উত্তম হবে। কারণ তা হবে আল্লাহ্‌র যমিনসমূহের মধ্যে বাছাইকৃত সর্বোত্তম যমিন। আল্লাহর নেক বান্দাগণ উক্ত যমিন চয়ন করে নিবেন। তোমরা যখন তাতে বসতি স্থাপন করবে তখন তোমাদের ডানদিক বেছে নিবে এবং প্রথমেই পানির কুপ খননের ব্যবস্থা করবে। কারণ আল্লাহ্ আমার উসিলায় সিরিয়া ও তার অধিবাসীদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। -আবু দাউদ ২৪৭৫
.
আবদুল্লাহ্ ইবন হাওয়ালা আল আযদী (রাঃ) বলেনঃ রাসূলূল্লাহ্ ﷺ আমার মাথার উপর হাত রেখে বললেন, হে হাওয়ালার পুত্র! যখন তুমি দেখতে পাবে যে, সিরিয়ার পবিত্র ভূমিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তখন মনে করবে যে, অধিক ভূমিকম্প, কষ্ট ও মহা-দুর্ঘটনা ঘনিয়ে এসেছে। আর কিয়ামত তখন লোকের এত নিকটবর্তী হবে, যেমন আমার এ হাত তোমার মাথার নিকটবর্তী। -আবু দাউদ ২৫২৭
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ হে আনাস! নিশ্চয়ই লোকেরা বিভিন্ন শহরে পত্তন করবে। জেনে রেখো, তার মধ্যে বাসরাহ ও বুসাইরাহ নামক একটি শহরও হবে। তুমি যদি এর পাশ দিয়ে যাও বা এতে প্রবেশ করো তাহলে সাবধান থাকবে। এর লবণাক্ত জমিন থেকে এর ‘কাল্ল’ নামক স্থান থেকে এবং বাজার ও নেতাদের দরজা থেকে এবং আশপাশ থেকে। কেননা এটা ধ্বসে যাবে। নিক্ষিপ্ত হবে আর ভূমিকম্পে প্রকোম্পিত হবে। আর এক দল লোক রাতের বেলা ঘুমিয়ে থাকবে; কিন্তু প্রত্যুষে তারা বানর শূকরে পরিণত হবে। -আবূ দাউদ ৪৩০৭
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ আমার উন্মাত যখন পনেরটি বিষয়ে লিপ্ত হয়ে পড়বে তখন তাদের উপর বিপদ-মুসীবত এসে পড়বে। প্রশ্ন করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি কি?
তিনি বললেনঃ যখন গানীমাতের মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, আমানাত লুটের মালে পরিণত হবে, যাকাত জরিমানারূপে গণ্য হবে, পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং তার মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধুর সাথে ভালো ব্যবহার করবে কিন্তু পিতার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে, মাসজিদে শোরগোল করা হবে, সবচাইতে খারাপ চরিত্রের লোক হবে তার সম্প্রদায়ের নেতা, কোন লোককে তার অনিষ্টতার ভয়ে সম্মান করা হবে, মদ পান করা হবে, রেশমী বস্ত্র পরিধান করা হবে, এবং এই উন্মাতের শেষ যামানার লোকেরা তাদের পূর্ব যুগের লোকদের অভিসম্পাত করবে, তখন তোমরা একটি অগ্নিবায়ু অথবা ভূমিধস অথবা চেহারা বিকৃতির আযাবের অপেক্ষা করবে।
-আত তিরমিজী ২২১০ যঈফ
.
কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে, যে পর্যন্ত না কারো চাবুকের মাথা এবং জুতার ফিতা তার সাথে কথা বলবে এবং তার উরুদেশ বলে দিবে তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার কি করেছে। -আত তিরমিজী ২১৮১
.
ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ যুল্খালাসাহর পাশে দাওস গোত্রীয় মহিলাদের নিতম্ব দোলায়িত না হবে। -বুখারী ৭১১৬

কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না দাওস গোত্রীয় নারীদের নিতম্ব যুলখালাসাহ মূর্তির কাছে ঘর্ষিত হবে। যুলখালাসাহ্ একটি মূর্তি ছিল, দাওস গোত্রীয় লোকেরা জাহিলী যুগে তাবালাহ্ নামক স্থানে এর পূজা করত। -মুসলিম ৭১৯০
.
আবিসিনিয়ার এক লোক কা’বা ঘরকে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে; তার উভয় পায়ের নলা ছোট ছোট হবে। -মুসলিম ৭১৯৭
.
কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারী, বকরীর পালের মহামারীর মত, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ’ দ্বীনার (স্বর্ণমুদ্রা) দেয়ার পরেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। অতঃপর এমন এক ফিত্না আসবে যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। -বুখারী ৩১৭৬
.
ছয়টি (আলামত সংঘটিত হওয়ার আগে) দ্রুত তোমরা নেক আমাল করতে শুরু করো। তা হলো দাজ্জাল প্রকাশিত হওয়া, ব্যাপক ধোয়া দেখা দেয়া, দাব্বাতুল আরয (অদ্ভুত জন্ত) বের হওয়া, পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, কিয়ামাত এবং মাওত। -মুসলিম ৭২৮৮
.
কিয়ামতের আলামতের মধ্যে রয়েছে ইল্ম ওঠে যাবে, অজ্ঞতা বেড়ে যাবে, ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে, মদ্য পানের মাত্রা বেড়ে যাবে, পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে এবং নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাবে যে, একজন পুরুষকে পঞ্চাশজন নারীর দেখাশুনা করতে হবে। -বুখারী ৫২৩১
.
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না দশটি আলামত প্রকাশিত হবে। পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে ভূখণ্ড ধ্বস পশ্চিমপ্রান্তে ভূখণ্ড ধ্বস, আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধ্বস, ধূয়া ছড়িয়ে পড়া, দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ, দাব্বাতুল আর্‌য প্রকাশ পাওয়া, ইয়া'জুজ-মা'জুজ বের হওয়া, পশ্চিমপ্রান্ত হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং সর্বশেষ "আদন" দেশের প্রান্ত হতে আগুন উত্থিত হবে যা লোকেদেরকে তাড়িয়ে এক স্থানে একত্রিত করবে। অন্য বর্ণনায় দশম আলামত হিসেবে কোথাও ঈসা (আঃ) এর অবতরণের কথা উল্লেখ রয়েছে, আবার কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বশেষ এমন দমকা হাওয়া প্রবাহিত হবে, যা মানুষকে উড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। -মুসলিম ৭১৭৮

এ আলামতসমূহের পর এক অগ্ন্যুৎপাতের প্রকাশিত হবে, যা তাদেরকে ইয়ামান থেকে হাশরের মাঠ পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। -মুসলিম ৭১৭৭

তারা যেখানে অবতরণ করবে আগুনও সেখানে অবতরণ করবে এবং তারা যেখানে দ্বিপ্রহরে কইলুলা করবে আগুনও সেখানে তাদের সাথে থাকবে। -মুসলিম ৭১৭৯
.
কিয়ামাতের পূর্বে হাযরামাওত হতে অথবা হাযরামাওতের সাগরের দিক হতে শীঘ্রই একটি অগ্নুৎপাত হবে এবং তা লোকদেরকে একত্র করবে। তোমরা সিরিয়াতে অবস্থান করবে। -আত তিরমিজী ২২১৭
.
মারইয়াম তনয় ঈসা (আঃ) দাজ্জালকে সন্ধান করে তাকে ধ্বংস করে দিবেন। তারপর সাতটি বছর লোকেরা এমনভাবে অতিবাহিত করবে যে, দু' ব্যক্তির মধ্যে কোন শক্রতা থাকবে না। তখন আল্লাহ তা’আলা সিরিয়ার দিক হতে শীতল বাতাস প্রবাহিত করবেন। ফলে যার হৃদয়ে কল্যাণ বা ঈমান থাকবে, এ ধরনের কোন লোকই এ দুনিয়াতে আর বেঁচে থাকবে না। বরং এ ধরনের প্রত্যেকের জান আল্লাহ তা’আলা কবয করে নিবেন। এমনকি তোমাদের কোন লোক যদি পর্বতের গভীরে গিয়ে আত্মগোপন করে তবে সেখানেও বাতাস তার কাছে পৌছে তার জান কবয করে নিবে।
তখন খারাপ লোকগুলো পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে। দ্রুতগামী পাখী এবং জ্ঞানশূন্য হিংস্রপ্রাণীর ন্যায় তাদের স্বভাব হবে। তারা কল্যাণকে অকল্যাণ বলে জানবে না এবং অকল্যাণকে অকল্যাণ বলে মনে করবে না। এ সময় শাইতান (শয়তান) এক আকৃতিতে তাদের কাছে এসে বলবে, তোমরা কি আহবানে সাড়া দিবে না? তারা বলবে, আপনি আমাদেরকে কোন বিষয়ের আদেশ করছেন? তখন সে তাদেরকে মূর্তি পূজার নির্দেশ দিবে। এমতাবস্থায়ও তাদের জীবনোপকরণে প্রশস্ততা থাকবে এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন-যাপন করবে। তখনই শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। যে এ আওয়াজ শুনবে সে তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্যদিকে উত্তোলন করবে। এ আওয়াজ সর্বপ্রথম ঐ লোকই শুনতে পাবে, যে তার উটের জন্য হাওয সংস্করণের কাজে নিযুক্ত থাকবে।
আওয়াজ শুনামাত্রই সে অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়বে। সাথে সাথে অন্যান্য লোকেরাও অজ্ঞান হয়ে যাবে। অতঃপর মহান আল্লাহ শুক্র ফোটার অথবা ছায়ার ন্যায় বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এতে মানুষের শরীর পরিবর্ধিত হবে। আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। অকস্মাৎ তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে। অতঃপর আহবান করা হবে যে, হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট আসো। অতঃপর (ফেরেশতাদের বলা হবে) তাদেরকে থামাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। তারপর আবারো বলা হবে, জাহান্নামী দল বের করো। জিজ্ঞেস করা হবে, কত জন? উত্তরে বলা হবে, প্রত্যেক হাজার থেকে নয়শ’ নিরানব্বই জন। অতঃপর তিনি বললেন, এ-ই তো ঐদিন, যেদিন কিশোরকে পরিণত করবে বৃদ্ধে এবং এ-ই চরম সঙ্কটাপন্ন অবস্থার দিন।
-মুসলিম ৭২৭১
.
ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ দু’টি বড় দল পরস্পরে মহাযুদ্ধে লিপ্ত না হবে। উভয় দলের দাবি হবে অভিন্ন। আর যতক্ষণ ত্রিশের কাছাকাছি মিথ্যাচারী দাজ্জাল-এর প্রকাশ না পাবে। তারা প্রত্যেকেই নিজেকে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল বলে দাবি করবে এবং যতক্ষণ ইল্ম উঠিয়ে নেয়া না হবে। আর ভূমিকম্প অধিক হারে না হবে। আর যামানা (কাল) সংক্ষিপ্ত না হবে এবং (ব্যাপক হারে) ফিতনা প্রকাশ না পাবে। আর হারজ ব্যপকতা লাভ করবে। হারজ হল হত্যা। আর যতক্ষণ তোমাদের মাঝে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি না পাবে।
তখন সম্পদের এমন সয়লাব শুরু হবে যে, সম্পদের মালিক তার সদাকাহ কে গ্রহণ করবে- এ নিয়ে চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়বে। এমন কি যার নিকট সে সম্পদ আনা হবে সে বলবে আমার এ মালের কোনই প্রয়োজন নেই। আর যতক্ষণ মানুষ উঁচু উঁচু প্রাসাদ নির্মাণের জন্য পরস্পরে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ না হবে। আর যতক্ষণ এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলবে হায়! আমি যদি এ কবরবাসীর স্থলে হতাম এবং যতক্ষণ সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত না হবে। যখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠবে এবং সকল লোক তা দেখবে এবং সেদিন সবাই ঈমান আনবে। কিন্তু সে দিন তার ঈমান কাজে আসবে না, যে এর আগে ঈমান আনেনি। কিংবা ইতোপূর্বে যারা ঈমান আনেনি কিংবা ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি- (সূরাহ আন‘আম ৬/১৫৮)।
আর অবশ্যই ক্বিয়ামাত এমন অবস্থায় কায়িম হবে যে, দু’ব্যক্তি (পরস্পরে বেচাকেনার উদ্দেশে) কাপড় খুলবে। কিন্তু তারা বেচাকেনা ও গুটিয়ে রাখা শেষ করতে পারবে না। অবশ্যই ক্বিয়ামাত এমন অবস্থায় কায়িম হবে যে, এক ব্যক্তি তার উটের দুধ দোহন করে নিয়ে ফিরেছে। কিন্তু সে তা পান করতে পারবে না। ক্বিয়ামাত এমন অবস্থায় কায়িম হবে যে, এক ব্যক্তি তার হাওয আস্তর করছে, কিন্তু সে পানি পান করাতে পারবে না। অবশ্যই ক্বিয়ামাত এমন (অতর্কিত) ভাবে কায়িম হবে যে, এক ব্যক্তি মুখের কাছে লোক্মা তুলবে কিন্তু সে তা আহার করতে পারবে না।
-বুখারী ৭১২১
.
কিয়ামাতের প্রথম নিদর্শন হলো, পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং একটা উদ্ভট জন্তু মানুষের নিকট চাশতের সময় বের হওয়া। এ দু'টির যে কোনটি প্রথমে প্রকাশ পাবে, পরক্ষণে অপরটিও দ্রুত প্রকাশ পাবে। -মুসলিম ৭২৭৩
.
শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন। অতঃপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে। -আয্‌-যুমার ৩৯:৬৮
.
উভয় ফুঁৎকারের মাঝে (ব্যবধান) চল্লিশ হবে। তারপর আকাশ হতে বৃষ্টিপাত হবে, এতে মানুষ উদগত হবে যেমন উদ্ভিদ উদগত হয়। এরপর তিনি বললেন, একটি হাড় ছাড়া মানুষের সকল শরীর পচে যাবে। আর সে হাড়টি হলো, মেরুদণ্ডের হাড়। কিয়ামাতের দিন এ হাড় হতেই পুনরায় মানুষকে পুনঃসৃষ্ট করা হবে। -মুসলিম ৭৩০৪

মুসলিম হয়েও আখেরাতে শাস্তিপ্রাপ্ত

যে ব্যক্তি জেনে শুনে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করে, তার জন্য জান্নাত হারাম। -সহীহ বুখারী ৪৩২৬


আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সহীহ বুখারী ৫৯৮৪

চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সহীহ বুখারী ৬০৫৬

আমার সকল উম্মাতই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কিন্তু যে অস্বীকার করবে। তারা বললেন, কে অস্বীকার করবে। তিনি বললেনঃ যারা আমার অনুসরণ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে-ই অস্বীকার করবে। -সহীহ বুখারী ৭২৮০

যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ না থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সহীহ মুসলিম ৭৬

যার অন্তরে অণুপরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায় অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা। -সহীহ মুসলিম ১৬৬

চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। -সহীহ মুসলিম ১৯৩

তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা'আলা কথা বললেন না। তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদের (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (১) যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে খোটা দেয়; (২) যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে দোকানদারী করে এবং (৩) যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করে। -সহীহ মুসলিম ১৯৫

তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা'আলা কথা বললেন না, তাদের (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না। রাবী আবূ মু'আবিয়াহ বলেন, তাদের প্রতি তাকাবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (এরা হলো) ব্যভিচারী বুড়ো, মিথ্যাবাদী শাসক বা রাষ্ট্রপ্রধান ও অহঙ্কার দরিদ্র ব্যক্তি। -সহীহ মুসলিম ১৯৬

যে ব্যক্তি কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হক বিনষ্ট করে তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম ওয়াজিব করে রেখেছেন এবং জান্নাত হারাম করে রেখেছেন। -সহীহ মুসলিম ২৫০

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নামবাসী দু' প্রকার মানুষ, আমি যাদের (এ পর্যন্ত) দেখিনি। একদল মানুষ, যাদের সঙ্গে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে, তা দ্বারা তারা লোকজনকে মারবে এবং এক দল স্ত্রী লোক, যারা কাপড় পরিহিত উলঙ্গ, যারা অন্যদের আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা, তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। ওরা জান্নাতে যেতে পারবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না অথচ এত এত দূর হতে তার সুঘ্ৰাণ পাওয়া যায়। -সহীহ মুসলিম ৫৪৭৫

আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। -সহীহ মুসলিম ৬৪১৫

উপকার করে খোটা দানকারী আর মাতাপিতার অবাধ্যতাকারী এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সূনান নাসাঈ ৫৬৭২

যে দেহের গোশত হারাম উপার্জনে গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। -মিশকাতুল মাসাবীহ ২৭৭২

তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়ে দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষবেশিনী বা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং মেড়া পুরুষ; (যে তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা দেয় না।) -হাদীস সম্ভার ১৭১৩

বিচারক তিন শ্রেণীর। এক শ্রেণী জান্নাতে যাবে এবং দু'শ্রেণী জাহান্নামে যাবে। আর যে জান্নাতে যাবে সে ব্যক্তি তো এমন, যে সত্যকে জানার পর সে অনুযায়ী বিচার করবে। পক্ষান্তরে, যে বিচারক সত্যকে সত্য হিসাবে জানার পরও স্বীয় বিচারে জুলুম করবে, সে জাহান্নামে যাবে। আর সে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত ভুল বিচার করবে, সেও জাহান্নামে যাবে। -সূনান আবু দাউদ ৩৫৩৫

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম ও জান্নাত পরস্পর ঝগড়া করল। অতঃপর জাহান্নাম বলল, প্রতিপত্তি সম্পন্ন অহংকারী লোকেরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। জান্নাত বলল, দুর্বল ও নিঃস্ব, লোকেরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। তখন আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা শাস্তি দেব। কোন কোন সময় তিনি (রাবী) বলেছেন, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা বিপদগ্রস্থ করব। এরপর তিনি জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা করুণাসিক্ত করব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে ভরপুর (খোরাক)। -সহীহ মুসলিম ৬৯০৯

দুনিয়া বিমুখতা

আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আমার বোনের ছেলে! আমরা নতুন চন্দ্র দেখতাম তারপর আবার নতুন চন্দ্র দেখতাম। আবারও নতুন চন্দ্র দেখতাম। অর্থাৎ- দু’মাসে তিনটি নতুন চন্দ্র দেখতাম। অথচ রসূলুল্লাহ ﷺ এর ঘরে আগুন জ্বলত না। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে খালা! আপনারা কিভাবে দিনাতিপাত করতেন? তিনি বললেন, দু’টো কালো বস্তু দ্বারা- তা হচ্ছে খুরমা ও পানি। তবে রসূলুল্লাহ ﷺ এর কতিপয় আনসারী প্রতিবেশী ছিল। তাদের ছিল দুগ্ধবতী উটনী ও বকরী- তারা রসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্য সেগুলো দোহন করে এর দুধ তার কাছে প্রেরণ করতেন এবং তিনি আমাদেরকে তাই পান করতেন। -মুসলিম ৭৩৪২

সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমিই সর্বপ্রথম আরব যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। যুদ্ধের সময় আমাদের অবস্থা দেখেছি যে হুবলা পাতা ও ঝাউগাছ ব্যতীত খাবারের কিছুই ছিল না। আমাদের মল বকরির মলের মত হয়ে গিয়েছিল। যা ছিল সম্পূর্ণ শুক্নো। -বুখারী ৬৪৫৩

জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে আবার চলতে শুরু করলাম। তখন জীবিকা হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেই একটি করে খেজুর পেত, তা সে চুষত এবং পরে আবার সেটা কাপড়ের মধ্যে রেখে দিত। তখন আমরা আমাদের ধনুকের দ্বারা গাছের পাতা পাড়তাম এবং সেটা খেতাম। ফলে আমাদের চোয়ালে ঘা হয়ে গেল। -মুসলিম ৭৪০৭

উকবা ইবনু গাযওয়ান (রাঃ) একদা আমাদের মাঝে ভাষণ দিলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সাথী সাত ব্যক্তির সপ্তম জন ছিলাম। তখন আমাদের নিকট গাছের পাতা ব্যতীত আর কোন খাদ্যই ছিল না। ফলে আমাদের চোয়ালে ঘা হয়ে গেল। এ সময় আমি একটি চাঁদর পেয়েছিলাম। অতঃপর আমার ও সা’দ ইবনু মালিকের জন্য আমি তাকে দু'টুকরা করে নেই। এক টুকরা দিয়ে আমি লুঙ্গি বানিয়েছি এবং অপর টুকরা দিয়ে লুঙ্গি বানিয়েছে সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ)। -মুসলিম ৭১৬৬
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের তিনশত ব্যক্তির উর্ধ্বে একটি দলকে আবু উবায়দার নেতৃত্বে যুদ্ধে পাঠান। তিনি আমাদের পাথেয় হিসাবে এক থলি খেজুর দিলেন। আবু উবায়দা (রাঃ) এ থেকে আমাদেরকে একমুষ্ঠি করে দিতেন। আর যখন তা নিঃশেষ হতে চললো, তখন তিনি একটি একটি করে খেজুর বণ্টন করতেন। আমরা শিশুদের ন্যায় তা চুষতাম এবং পরে পানি পান করতাম। যখন তাও শেষ হলো, তখন আমরা এর মূল্য অনুভব করতে পারলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের বর্শা দ্বারা গাছের পাতা ঝরিয়ে তা খেতে লাগলাম। এরপর পানি পান করতাম। এই জন্য ঐ সেনাদলের নাম ‘পাতার দল’ হয়ে গেল।
যখন আমরা সমুদ্র তীরে পৌঁছলাম, সেখানে আমরা এক জন্তু দেখতে পেলাম, যা বালুর টিলার ন্যায় পড়ে ছিল। তাকে আম্বর বলা হতো। আবু উবায়দা (রাঃ) বললেনঃ এটা মৃত জন্তু, তোমরা তা খাবে না। এরপর তিনি বললেনঃ আমরাতো রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সেনাদল, আর আল্লাহ্ পাকের রাস্তায় রয়েছি এবং আমরা নিরুপায়। অতএব তোমরা আল্লাহর নামে খাও। পরে আমরা তা থেকে খেলাম এবং মাছের কিছু অংশ শুকালাম। এর চোখের কোটরে তের ব্যক্তি বসতে পারতো।
বর্ণনাকারী বলেনঃ আবু উবায়দা (রাঃ) এর পাঁজরের এক পাশের একখানা হাড় নিলেন। তারপর সর্ববৃহৎ উটের পিঠে হাওদা বসান। তারপর সেটিকে সেই হাড়ের নিচ দিয়ে চালিয়ে নেন। আমরা এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তোমরা এত দেরী করলে কেন? আমরা বললামঃ আমরা কুরায়শদের দলের প্রতীক্ষায় ছিলাম। আর আমরা তাঁর নিকট ঐ জন্তুর ঘটনাও বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ এটা আল্লাহ্-প্রদত্ত রিয্‌ক, যা তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমাদের নিকট এর কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে কি? রাবী বলেন, আমরা বললামঃ হ্যাঁ।
-নাসাঈ ৪৩৫৫

অনন্তকালের আফসোস

যেদিন প্রত্যেকে সে যা ভাল আমল করেছে এবং সে যা মন্দ কাজ করেছে তা উপস্থিত পাবে, সেদিন সে কামনা করবে- যদি তার এবং এর মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকত! -আল ইমরান/৩:৩০

হায়! যদি তাদের সাথে থাকতাম তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করতাম। -আন নিসা/৪:৭৩

হায়! যদি আমাদেরকে ফেরত পাঠানো হত, আর আমারা আমাদের রবের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ না করতাম এবং আমারা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। -আল আনআম/৬:২৭

তারা যদি মুসলিম হত! -আল হিজর/১৫:২

হায় আমি যদি কাউকেও আমার রব-এর সাথে শরীক না করতাম! -আল কাহাফ/১৮:৪২

আর উপস্থাপিত করা হবে ‘আমলনামা, তখন তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে দেখবেন আতংকগ্রস্ত এবং তারা বলবে, ‘হায়, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটা কেমন গ্রন্থ! এটা তো ছোট বড় কিছু বাদ না দিয়ে সব কিছুই হিসেব করে রেখেছে। -আল কাহাফ/১৮:৪৯

হায়, দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরুপে গ্রহণ না করতাম! -আল ফুরকান/২৫:২৮

হায়! আমরা যদি আল্লাহ্‌কে মানতাম আর রাসূলকে মানতাম! -আল আহ্‌যাব/৩৩:৬৬

আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল; -আল আহ্‌যাব/৩৩:৬৭

আর যে রহমানের যিকর থেকে বিমুখ হয় আমারা তার জন্য নিয়োজিত করি  এক শয়তান, অতঃপর সে হয় তার সহচর। -আয্‌-যুখরুফ/৪৩:৩৬

সে শয়তানকে বলবে, হায় ! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত! -আয্‌-যুখরুফ/৪৩:৩৮

যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম। -আল মুল্‌ক/৬৭:১০

আমি যদি না জানতাম আমার হিসেব! -আল হাক্কাহ/৬৯:২৬

আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হত ! -আল হাক্কাহ/৬৯:২৭

হায়! আমি যদি  মাটি হতাম! -আন্‌ নাবা/৭৮:৪০

হায়! আমার এ জীবনের জন্য আমি যদি কিছু অগ্রিম পাঠাতাম। -আল ফাজ্‌র/৮৯:২৪

মৃতের দাফন সংক্রান্ত কিছু ফতোয়া

মসজিদে কারো জানাযার এলান করা বৈধ। মসজিদের মাইক আপনস্থানে রেখে (মাইক মসজিদের ভিতরে হোক বা বাইরে) এতে কারো জানাযার ঘোষণা করাও নাজায়েয নয়।

alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/3548
.
আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও নেককারদের মৃত্যু-সংবাদ দেওয়া সুন্নাত। মৃতের প্রভাব-প্রতিপত্তি উল্লেখ করে মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করা মাকরূহ। বিলাপ, আর্তনাদের সাথে প্রচার করা হারাম।
সাধারণভাবে মৃত্যু-সংবাদ পৌঁছাতে কোনো সমস্যা নেই। আর তা মৌখিকভাবে যেমন করা যায়, তদ্রূপ বর্তমানে মাইকের মাধ্যমেও করা যায়।
জানাযা কখন হবে এটি কোনো এলাকায় একবার জানিয়ে  দেওয়াই যথেষ্ট। দীর্ঘ সময় নিয়ে মাইকে  একই ঘোষণা বহুবার করা ঠিক নয়। কেননা এতে অন্যদের কষ্ট হতে পারে।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/2744
.

স্ত্রী মৃত স্বামীকে দেখতে পারবে, স্পর্শ করতে পারবে, এমনকি প্রয়োজনে তাকে গোসল ও দিতে পারবে।
কিন্তু স্বামী তার মৃত স্ত্রীকে স্পর্শ করতে পারবে না, গোসল দিতে পারবে না। তবে প্রয়োজনে (খাহেশাতে নফসানী ব্যতীত) দেখতে পারবে।
ifatwa.info/849

.

মৃতের দাফন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা উত্তম এবং বিনা ওজরে বিলম্ব করা মাকরূহ।
দাফনে দীর্ঘ বিলম্বের উদ্দেশ্যে লাশের পরিবর্তন ও বিকৃতি রোধে লাশকে হিমাগারে রাখা, ফর্মালিন মেডিসিন ইত্যাদি পচনরোধক ঔষধ দিয়ে রাখা জায়েয নয়। বরং লাশের স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার পূর্বেই দাফন করে দেওয়া জরুরি। এর অধিক বিলম্ব করা গুনাহ।

লাশ জানাযা-দাফনের জন্য প্রস্ত্তত হয়ে যাওয়ার পর সামাজিক, রাজনৈতিক বা দলীয় প্রথা পালনের উদ্দেশ্যে লাশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মকান্ড করা যেমন, লাশকে স্থানে স্থানে নিয়ে প্রদর্শন করা, শ্রদ্ধা নিবেদন করা, পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, ভিডিও করা, লাশকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে জীবনালোচনা করা, বিভিন্নমুখী ভাষণ-বক্তৃতা দেওয়া ইত্যাদি সবই গর্হিত।

মৃতের একাধিক জানাযা পড়া জায়েয নয়।

কোনো ব্যক্তি যে এলাকায় মারা যাবে তাকে সে এলাকার কবরস্থানে বা নিকটবর্তী কোনো কবরস্থানে দাফন করে দেওয়া উত্তম। ওজর ব্যতিত দূরবর্তী এলাকায় নিয়ে দাফন করা অনুত্তম।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1303
.
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাযার পিছনে চলতেন তখন অধিক চুপ থাকতেন এবং চিন্তায় খুব মগ্ন থাকতেন। সাহাবায়ে কেরামের আমল ব্যাপকভাবে এমনি ছিল; তাঁরা জানাযার পিছনে যাওয়ার সময় কোনো আওয়াজ করতেন না। জানাযার পিছনে চলার সময় মূল কাজ হল আখেরাতের ফিকিরে থাকা। যিকির করতে চাইলে তা হবে অনুচ্চ স্বরে। যিকির করতে গিয়ে আওয়াজ উঁচু করা মাকরূহ।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/2723
.
যেসব জায়গার মাটি শক্ত ও মজবুত সেসব জায়গায় লাহদ (বোগলী) কবর খনন করা সুন্নত। সেটা হল-স্বাভাবিকভাবে চার কোণা করে মাটি খোড়ার পর নীচে পশ্চিম (কিবলার) দিক দিয়ে একটি গর্ত করবে এবং পশ্চিম দিকের ঐ গর্তের মধ্যে লাশ রাখবে।
আর যেসব জায়গার মাটি নরম, লাহদ কবর করলে মাটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা আছে, সেসব জায়গায় সিন্দুক কবর করবে। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে চার কোণা করে মাটি খোড়ার পর নীচের দিকে গিয়ে মাঝ বরাবর একটি গর্ত করবে এবং সেখানে লাশ রাখবে।
কবরের গভীরতা সর্বনিম্ন নাভি পর্যন্ত থেকে সর্বোচ্চ একজন মধ্যম গড়নের ব্যক্তি দু’হাত উপরে তুলে দাঁড়ালে যতটুকু লম্বা হয় ততটুকুর মধ্যে রাখবে। তবে উপরের পরিমাণের মধ্যে যে এলাকায় যেটা প্রচলন সে এলাকায় সে পরিমাণই গভীর করা উচিত।
কবরের দের্ঘ্য হবে মৃতের দৈর্ঘ্য সমান এবং প্রস্থ হবে দৈর্ঘ্যরে অর্ধেক বা তারচেয়ে কিছুটা কম।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/2321
.
কবরের গভীরতা এ পরিমাণ হওয়া উচিত যেন লাশের দুর্গন্ধ না ছড়াং এবং হিংস্র পশুর আক্রমণ থেকেও লাশ হেফাযত থাকে। তাই অন্তত কোমর পরিমাণ গভীর করা উচিত। সম্ভব হলে পূর্ণ দেহ পরিমাণ গভীর করা উত্তম।
কবরে শায়িত ব্যক্তিকে বসানো, সওয়াল-জওয়াব করা এসব বরযখ নামক এক অদৃশ্য জগতে হবে। কাফন-দাফনের বিধানাবলির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই বরযখে মাইয়্যিত কিভাবে বসবে, ফেরেশতারা কোথায় থাকবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবার প্রয়োজন নেই। আল্লাহর হুকুম ও কুদরতেই এসব কিছু হবে। সুতরাং কবরে বেশি ফাঁকা না রেখে বাঁশগুলো লাশের কাছাকাছি রাখা নিয়ম।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/571
.
মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সুন্নত নিয়ম হল, ডান কাতে কিবলামুখী করে শোয়ানো। যেন মুখ ও সীনা কিবলার দিকে থাকে। এজন্য কবর এমনভাবে বানাবে যেন মাইয়্যেতকে সহজেই কিবলামুখী করা যায়। কিন্তু চিৎ করে রেখে শুধু চেহারা কিবলামুখী করে রাখলে সুন্নত আদায় হবে না।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1274
.
দাফনের সময় "মিনহা-খালাকনা-কুম ওয়া ফীহা-নু‘ঈদুকুম ওয়ামিনহা-নুখরিজুকুম তা-রাতান উখরা-।(ত্বোয়াহ ২০:৫৫)" পড়ার হাদীসকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম জঈফ তথা দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন।
ahlehaqmedia.com/কবরে-মাটি-দেবার-সময়-মিনহা
.
দাফনের সময় কবরের মাটি একটি ঝুড়িতে করে বাড়ির মহিলাদের কাছে নিয়ে আসা; মহিলারা দুআ পড়ে ঐ মাটি ছুঁয়ে দেয়; তারপর তা কবরে ঢেলে দেওয়া হয়।
এটি একটি অমূলক রসম, শরীয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই।
alkawsar.com/bn/article/1750
.
কবরের চার কোণে চার কুল পড়ে ডাল গেঁথে দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মনগড়া ও বিদআত।
alkawsar.com/bn/article/1010
.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের দাফন শেষ করে সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন প্রতিষ্ঠিত থাকে সেজন্য দু‘আ করো। কেননা তাকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
-সুনান আবূ দাউদ ৩২২১
.
সাধারণ অবস্থায় মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারতে যাওয়া থেকে বিরত থাকাই উচিত। তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা জায়েয। শর্তগুলো হচ্ছে-
নিয়মিত বা ঘন ঘন কবর যিয়ারতের জন্য যাবে না। কবরস্থানে গিয়ে জোরে জোরে কান্না করা, বিলাপ করা ইত্যাদি সবধরনের শরীয়তবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিপূর্ণ পর্দাসহ বের হবে। যাওয়া-আসা নিরাপদ হতে হবে। পথে কোনো ধরনের ফেতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকতে হবে।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/3406
.
মৃত্যুর পর শান্তি ও আযাব রূহ এবং দেহ উভয়ের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো শুধু রূহের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। তাই বলা উচিত হবে, হে আল্লাহ অমুকের মাগফিরাত করুন। রূহের মাগফিরাত করুন এমনটি না বলাই ভালো।

ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে বিনিময় নিয়ে কুরআন মাজীদ খতম করার যে প্রচলন রয়েছে তা সম্পূর্ণ বিদআত ও নাজায়েয।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1761
.
মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য দুআ করা এবং সাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন নফল ইবাদত যেমন- দান-সদকা, তেলাওয়াত, যিকির-আযকারই যথেষ্ট এবং এটাই করণীয়। আর নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখের অপেক্ষা না করে নিজ নিজ তাওফীক অনুযায়ী এগুলো মাঝে মধ্যেই করা দরকার।

দান-সদকা করার ক্ষেত্রে গরীব দুঃখীদেরকে নগদে প্রদান করা ভালো এবং সদকায়ে জারিয়া হয় এমন খাতে ব্যয় করা উত্তম। কোনো দিন-তারিখ নির্ধারিত না করে গরীব-মিসকীনদেরকে খানা খাওয়ানোটা ঈসালে সাওয়াবের একটি বৈধ পন্থা।

তিন দিনা, সাত দিনা, একইশা, চল্লিশা এ সকল নামে অনুষ্ঠান করাকে জরুরি মনে করা হয় বা কমপক্ষে এরূপ ধারণা রাখা হয় যে, এ তারিখগুলোর বিশেষত্ব রয়েছে। অথচ শরয়ী দলীল-প্রমাণ ছাড়া বিশেষ দিন-তারিখ নির্ধারণ করে নেওয়া বিদআত ও নাজায়েয।

যিয়াফত তথা আড়ম্বরপূর্ণ দাওয়াত অনুষ্ঠানকেই ঈসালে সওয়াবের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। অথচ শরীয়র্তে যিয়াফতের আয়োজনের কথা তো আছে আনন্দের মুহূতে, মুসিবতের মুহূর্তে নয়।
আর যিয়াফতের আয়োজনে অনেক ক্ষেত্রে সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এটি আদৌ ঈসালে সাওয়াবের গ্রহণযোগ্য পন্থা নয়।

অনেক ক্ষেত্রে সদাকার ব্যয়ভার নির্বাহ করা হয় মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া এজমালী সম্পদ থেকে। ওয়ারিশদের মাঝে কোনো নাবালেগ থাকলেও তার সম্পদ বাদ দেওয়া হয় না। অথচ নাবালেগের সম্পদ তার অনুমতি নিয়েও খরচ করা নাজায়েয। এমনিভাবে বালেগ ওয়ারিশদের ক্ষেত্রেও এটা লক্ষ রাখা হয় না যে, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি আছে কি না।

এ ধরনের অনুষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই লোক দেখানোর জন্য বা সামাজিক রেওয়াজে প্রভাবিত হয়ে করা হয়। এটাও নাজায়েয। শরীয়ত বিরোধী এ জাতীয় আরো কর্মকান্ড এসব অনুষ্ঠানে হয়ে থাকে। ফলে এর দ্বারা মৃত ব্যক্তির উপকার হওয়া তো দূরের কথা উল্টো ব্যবস্থাকারীগণ গুনাহগার হয়ে থাকে।

alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1649

If someone dies in your house

কবর

লাশ কবরে রাখার সময় নবী ﷺ বলতেন: "আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর তারীকার উপর রাখা হলো।"
(بِسْمِ اللهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ)
{বিসমিল্লাহি ওয়া আলা সুন্নাতি রাসুলিল্লাহ}
(بِسْمِ اللهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللهِ)
{বিসমিল্লাহ ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ}
( بِسْمِ اللهِ وَفِي سَبِيلِ اللهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللهِ)
{বিস্মিল্লাহি ওয়া ফী সাবীলিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ}
-সুনান ইবনু মাজাহ ১৫৫০
.
নবী ﷺ মৃতের দাফন শেষ করে সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন প্রতিষ্ঠিত থাকে সেজন্য দু‘আ করো। কেননা তাকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
(اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَثَبِّتْهُ)
{আল্লা-হুম্মাগফির লাহু, ওয়া ছাববিতহু}
[হে আল্লাহ্‌! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ্‌ আপনি তাকে (প্রশ্নোত্তরের সময়) স্থির রাখুন।]
-সুনান আবূ দাউদ ৩২২১
.
কবর যিয়ারাতে বলুন:
(السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَلَاحِقُونَ أَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمْ الْعَافِيَةَ)
{আসসালা-মু আলায়কুম, আহলাদ দিয়া-রি মিনাল মু'মিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা; ওয়া ইন্না- ইনশা-আল্লা-হু লালা-হিকূনা; আসআলুল্লা-হা লানা- ওয়ালাকুমুল আ-ফিয়াহু}
[হে কবরবাসী ঈমানদার মুমিন ও মুসলিমগণ! তোমাদের প্রতি সালাম। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট নিরাপত্তার আবেদন জানাচ্ছি।]
-মুসলিম ৯৭৫/ ২১৪৭
.
নবী ﷺ তার দুধ ভাই ‘উসমান ইবনু মাযঊন (রাঃ) এর লাশ দাফনের পর একটি পাথর শিয়রে রাখেন। যার দ্বারা কবরটি চিনতে পারা যায় এবং পরিবারের কেউ মারা গেলে তার কাছে দাফন করা যায়। -সুনান আবূ দাউদ ৩২০৬

রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘন ঘন কবর যিয়ারতকারিণীদের লা’নত করেছেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৫৭৪

ইতিপূর্বে আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করবে। কেননা, কবর যিয়ারতের ফলে মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়। -সূনান আবু দাউদ ৩২২১

তোমরা বেশি পরিমাণে জীবনের স্বাদ হরণকারীর অর্থাৎ মৃত্যুর স্মরণ কর। -সূনান আত তিরমিজী ২৩০৭

কবরস্থানের উপর জুতা খুলে ফেলো। -সুনান আবূ দাউদ ৩২৩০

জলন্ত অঙ্গারের উপর বসে কাপড় পুড়ে গিয়ে শরীরের চামড়া দগ্ধীভূত হওয়া, কবরের উপর বসার চেয়ে উত্তম। -মুসলিম ২১৩৮

যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। -বুখারী ১২৮০

কবর সম্পর্কিত ভুল

কবরের দিকে মুখ করে সলাত আদায় করবে না। -সহীহ মুসলিম ২১৪০

সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নাবী ও নেককারদের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়েছিল। সাবধান! তোমরাও কবরকে মসজিদ বানিও না। আমি তোমাদের তা থেকে নিষেধ করছি। -সহীহ মুসলিম ১০৭১

কোন উঁচু কবর দেখলে তা ভেঙ্গে দিবে। -সহীহ মুসলিম ২১৩৩

সকল মূর্তি ভেঙ্গে দেবে, সকল কবর সমান করে দেবে এবং সকল ছবির ওপর কালো কালি মেখে দেবে। এর একটিও যে ব্যক্তি করবে, সে মুহাম্মদ ﷺ  এর নাযিলকৃত দীনকে অস্বীকার করবে। -মুসনাদে আহমেদ ৮৮১

কবরে চুনকাম করা নিষেধ। -সুনান আবূ দাউদ ৩২২৫

কবর পাকা করা, কবরের উপর গৃহ নিৰ্মাণ করা নিষেধ। -সহীহ মুসলিম ২১৩৫

কবরের উপর কোন কিছু লিখা বা কিছু নির্মাণ করা এবং তা পদদলিত করা নিষেধ। -সূনান আত তিরমিজী ১০৫২

রাসুলুল্লাহ ﷺ কবরের উপর বাতি প্রজ্জলকারীদের উপর লা’নত করেছেন। -সূনান নাসাঈ ২০৪৭, সূনান আবু দাউদ ৩২২২, সূনান তিরমিজী ৩২০

যখন আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনের এই আয়াতটি নাযিল করলেন, ‘‘আপনি আপনার নিকটাত্মীদেরকে সতর্ক করে দিন’’ (শু‘আরা ২১৪) তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা আত্মরক্ষা কর। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে বানূ আব্দ মানাফ! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ! আল্লাহর রাসূলের ফুফু, আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে ফাতিমাহ বিন্তে মুহাম্মদ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না।
-সহীহ বুখারী ২৭৫৩

আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে আহবান করো না এমন কিছুকে যা না পারে তোমার কোন উপকার করতে, আর না পারে ক্ষতি করতে; যদি তুমি তা কর তাহলে তুমি যালিমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে। -সূরা ইউনুস ১০:১০৬

তার চেয়ে অধিক গুমরাহ কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাকে সাড়া দেবে না, আর তাদের ডাকাডাকি সম্পর্কেও তারা (একদম) বেখবর? -সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৫

নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে অংশী স্থাপন (শিরক) করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে এক মহাপাপ করে। -আন নিসা ৪:৪৮

শবে বরাত

লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বান বা মধ্য শা'বানের রজনীর তাৎপর্য বিবেচনায় আলিমরা একে শবে বারাআহ বা মুক্তির রজনী বলে নামকরন করেছেন। আমাদের কাছে এটি শবে বরাত নামে পরিচিত। এ রাতে নির্দিষ্ট কিছু পাপে লিপ্ত না এমন অসংখ্য মুসলিমকে আল্লাহ ক্ষমা করেন। বিভিন্ন বর্ণনায় কিছু অপরাধীর নাম পাওয়া যায় যারা এই ক্ষমার রাতেও ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে না। তারা হলো:

বিশুদ্ধ বর্ণনায়:
১. শিরকে জড়িত,
২. হিংসা-বিদ্বেষ বা পরশ্রীকাতরতায় জড়িত;

দুর্বল বর্ণনায়:
৩. ব্যাভিচারিনী,
৪. আত্মহত্যাকারী;

মারাত্মক দুর্বল বর্ণনায়:
৫. পিতামাতার অবাধ্য সন্তান,
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী,
৭. মদ্যপায়ী বা নেশাগ্রস্ত,
৮. টাখনু আবৃতকারে কাপড় পরিধানকারী (পুরুষ),
৯. প্রাণীর ছবি অংকনকারী,
১০. যে ব্যক্তি একের কথা অপরের কাছে লাগায়।

প্রত্যেক মুমিনের উচিৎ এই সকল অপরাধ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
.
শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস:

আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৯০
.
আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমি নাবী ﷺ কে (বিছানায়) না পেয়ে তাঁর খোঁজে বের হলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি বাকির কবরস্থানে, তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুলে আছেন। তিনি বলেন: হে আয়িশাহ! তুমি কি আশঙ্কা করেছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তা নয়, বরং আমি ভাবলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৮৯; সূনান তিরমিজী ৭৩৭
হাদিসটিকে আলবানী (রহ.) যঈফ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
.
যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত পড়ো এবং এর দিনে সওম রাখো। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেনঃ কে আছো আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দান করবো। কে আছো রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছো এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহবান করেন)। -ইবনে মাজাহ ১৩৮৮
হাদিসটিকে আলবানী (রহ.) যঈফ জিদ্দান অথবা মাওযু এবং আব্দুল মালেক (হাফি.) জয়ীফ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
.
আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ একাধারে সাওম পালন করে যেতেন এমনকি আমরা বলতাম তিনি সাওম পালন করেছেন (আর কখনও ভংগ করবেন না)। আবার কখনও তিনি সাওম ছেড়ে দিতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি সাওম ছেড়ে দিয়েছেন (আর কখনো সাওম পালন করবেন না)। আমি তাঁকে শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে এত অধিক (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি। তিনি যেন গোটা শাবান মাসই সাওম পালন করতেন। তিনি সামান্য (কয়টি দিন) ব্যতীত গোটা শাবান মাস সাওম পালন করতেন। -মুসলিম ২৫৯৩
.
প্রতি মাসে তিন দিন এবং গোটা রমযান মাস সাওম পালন করাই হল সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য। -মুসলিম ২৬১৮
.
মানুষের আমল (সপ্তাহে দু’বার) সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর দরবারে) উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই এর সাথে তার দুশমনি রয়েছে। তখন বলা হবে, এ দু’জনকে বর্জন করো অথবা অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা মীমাংসার প্রতি প্রত্যাবর্তন করে। -মুসলিম ৬৪৪১
.
মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। -বুখারী ১১৪৫
.
হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই। -আল-আদাবুল মুফরাদ ৭২১
.
হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অগ্রবর্তী হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং মু’মিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। -সূরা আল-হাশর ৫৯:১০
.

বিস্তারিত পড়তে পারেন খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) এর কুরআন সুন্নাহর আলোকে শবে বরাত ফযিলত ও আমল বই থেকে।

বিস্তারিত আলোচনা শুনতে পারেন ইউটিউবে