মাতা পিতা

তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। -আল-ইসরা ১৭:২৩
আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন’। -আল-ইসরা ১৭:২৪

আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। -লুকমান ৩১:১৪
আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শির্ক করতে জোর চেষ্টা করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তখন তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে। আর অনুসরণ কর তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়। -লুকমান ৩১:১৫

আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। তার গর্ভধারণ ও দুধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌঁছে এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে, ‘হে আমার রব, আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার উপর ও আমার মাতা-পিতার উপর যে নিআমত দান করেছ, তোমার সে নিআমতের যেন আমি শোকর আদায় করতে পারি এবং আমি যেন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পছন্দ কর। আর আমার জন্য তুমি আমার বংশধরদের মধ্যে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয় আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’। -আল-আহকাফ ৪৬:১৫

হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। -ইবরাহীম ১৪:৪১

‘হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন এবং ধ্বংস ছাড়া আপনি যালিমদের আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না।’ -নূহ ৭১:২৮

(মানুষের মধ্যে) সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক অধিকারী তোমার মা। তারপরও তোমার মা। তারপরও তোমার মা। তারপর তোমার পিতা। অতঃপর তোমার নিকটবর্তী জন। -মুসলিম ৬৩৯৫

এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সন্তানের উপর মাতা-পিতার কী অধিকার আছে? তিনি বলেনঃ তারা তোমার জান্নাত এবং তোমার জাহান্নাম। -ইবনে মাজাহ ৩৬৬২

পিতা হলো জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্যবর্তী দরজা। অতএব তুমি ঐ দরজা নষ্টও করতে পারো অথবা তার হেফাজতও করতে পারো। -ইবনে মাজাহ ৩৬৬৩, তিরমিজী ১৯০০

পিতার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহ তা'আলার সস্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টি রয়েছে। -তিরমিজী ১৮৯৯

পিতাকে ক্রীতদাস হিসাবে পেলে তাকে ক্রয় করে স্বাধীন করে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায়েই সন্তান তার পিতার হক আদায় করতে পারবে না। -তিরমিজী ১৯০৬

এক ব্যক্তি নবী ﷺ এর নিকট এসে বললো, আমার পিতা আমার সম্পদ শেষ করে দিয়েছে প্রায়। তিনি বলেনঃ তুমি ও তোমার সম্পদ তোমার পিতার জন্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেনঃ তোমাদের সন্তান তোমাদের উত্তম উপার্জন। অতএব তোমরা তাদের সম্পদ থেকে ভোগ করতে পারো। -ইবনে মাজাহ ২২৯২

নিকৃষ্ট কাবীরাহ গুনাহ হলো, আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন কিছুকে শরীক করা এবং মাতা-পিতার অবাধ্যতা। -বুখারী ৬২৭৩

সবচেয়ে ফযীলতের আমল যথাসময়ে সালাত আদায় করা। এরপর পিতা-মাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। তারপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা। -তিরমিজী ১৮৯৮

এক ব্যক্তি নাবী ﷺ এর কাছে এলো। এরপর সে তাঁর কাছে জিহাদে অংশ গ্রহণের অনুমতি চাইল। তখন তিনি বললেনঃ তোমার মাতা-পিতা কি জীবিত আছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তাদের উভয়ের সন্তষ্টি অর্জনের জিহাদ-সাধনা (চেষ্টা) কর। -মুসলিম ৬২৭৩, বুখারী ৫৫৪৭

জাহিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যুদ্ধে গমন করতে ইচ্ছা করেছি। এখন আপনার নিকট মতামত জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেনঃ তোমার মাতা আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার খেদমতে লেগে থাক। কেননা, জান্নাত তার পদদ্বয়ের নিচে। -সূনান নাসাঈ ৩১০৮, ইবনে মাজাহ ২৭৮১

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ সে ব্যক্তির নাক ধুলিমলীন হোক, আবার সে ব্যক্তির নাক ধুলিমলীন হোক, সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলীন হোক! বলা হল ইয়া রাসুলুল্লাহ! কার? যে ব্যক্তি তার পিতামাতা উভয়কে কিংবা একজনকে বার্ধক্যাবস্থায় পেল এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করার সুযোগ লাভ করল না। -মুসলিম ৬২৭৯

তিনটি দু‘আ এমন যেগুলো অবশ্য কবুল করা হয়। এতে কোন সন্দেহ নেই! মজলুমের দু‘আ, মুসাফিরের দু‘আ এবং সন্তানের উপর পিতার দু‘আ। -তিরমিজী ১৯০৫

যে ব্যক্তি চায় যে, তার রিযক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বর্ধিত হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। -বুখারী ৫৯৮৬

আমিই আল্লাহ, আমিই রাহমান। আমি আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম (রাহমান) থেকে এর নাম (রেহেম) উদগত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন ঠিক রাখবে আমিও তার সাথে আমার সম্পর্ক ঠিক রাখব আর যে ব্যক্তি তা ছিন্ন করবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলব। -তিরমিজী ১৯০৭

(আত্মীয়তার সম্পর্ক) ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -তিরমিজী ১৯০৯

সমানুরূপ ব্যবহারের মনোভাব নিয়ে সম্পর্ক রক্ষাকারী প্রকৃত পক্ষে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী নয়। প্রকৃতপক্ষে আত্মীতার বন্ধন রক্ষাকারী হল সে ব্যক্তি যে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে নিজে তা রক্ষা করে। -তিরমিজী ১৯০৮

যে ব্যক্তি দয়া প্রদর্শন করে না তাকেও দয়া প্রদর্শন করা হয় না। -তিরমিজী ১৯১১

আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, আমার মা, যিনি মুশরিক ছিলেন, তাঁর পিতার সঙ্গে আমার নিকট এলেন, যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কুরাইশরা চুক্তি করেছিল। তখন আসমা (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার কাছে এসেছেন। তিনি ইসলামের প্রতি আসক্ত নন। আমি কি তাঁর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করব?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, তাঁর সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর।’ -বুখারী ৩১৮৩

মেরাছ

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তান-সন্ততির (অংশ) সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, পুরুষ দুই নারীর অংশের সমান পাবে, তবে সন্তান-সন্ততি যদি শুধু দু’জন নারীর অধিক হয় তাহলে তাঁরা রেখে যাওয়া সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ ভাগ পাবে, আর কেবল একটি কন্যা থাকলে সে অর্ধেক পাবে এবং তার পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকে রেখে যাওয়া সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ পাবে যদি তার সন্তান থাকে, আর যদি তার সন্তান না থাকে এবং তার ওয়ারিশ মাতা-পিতাই হয়, সে অবস্থায় তার মাতার জন্য এক তৃতীয়াংশ, কিন্তু তার ভাই-বোন থাকলে, তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (ঐসব বণ্টন হবে) তার কৃত ওয়াসীয়াত অথবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমরা জান না তোমাদের পিতা এবং সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের পক্ষে উপকারের দিক দিয়ে অধিকতর নিকটবর্তী। (এ বণ্টন) আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাশীল।
-আন-নিসা ৪:১১
.
তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য- যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে আর যদি সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, তাদের কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর এবং তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির সিকি অংশ পাবে যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের সম্পত্তির আট ভাগের একভাগ- তোমাদের কৃত ওয়াসীয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। যদি পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন কোন পুরুষ বা নারীর শুধু বৈপিত্রেয় একটি ভাই বা একটি ভগ্নি থাকে, তবে প্রত্যেকের জন্য ছ’ ভাগের এক ভাগ। যদি তারা তার চেয়ে অধিক হয়, তবে সকলেই তৃতীয়াংশে শরীক হবে কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পরে, যদি কারো জন্য ক্ষতিকর না হয়, এ হল আল্লাহর বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
-আন-নিসা ৪:১২
.
লোকেরা তোমার কাছে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করছে; বল, আল্লাহ তোমাদেরকে পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্পর্কে ফাতাওয়া দিচ্ছেন, কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার যদি সন্তান না থাকে আর তার একটি বোন থাকে, তবে রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক সে পাবে, আর সে (মৃত নারী) যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে, আর দু’ বোন থাকলে তারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির দু’-তৃতীয়াংশ পাবে, আর যদি ভাই ও বোন দু’ই থাকে, তবে পুরুষ পাবে দু’জন নারীর সমান। আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যাতে তোমরা বিভ্রান্তিতে পতিত না হও। আল্লাহ যাবতীয় ব্যাপারে পূর্ণরূপে অবহিত।
-আন-নিসা ৪:১৭৬
.
(সম্পত্তি) বণ্টনকালে স্বজন, ইয়াতীম এবং মিসকীন উপস্থিত থাকলে তাদেরকেও তাত্থেকে কিছু দিয়ে দেবে, তাদের সঙ্গে দয়ার্দ্র ন্যায়ানুগ কথা বলবে।
-আন-নিসা ৪:৮

তালাক

পুরুষরা নারীদের কর্তা, কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এজন্যে যে, পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। কাজেই পূণ্যশীলা স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর আড়ালে আল্লাহর হেফাযতে তারা হেফাযত করে। আর স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদেরকে প্রহার কর। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, মহান। -আন নিসা ৪:৩৪


যদি তোমরা তাদের মধ্যে অনৈক্যের আশংকা কর, তবে স্বামীর আত্মীয়-স্বজন হতে একজন এবং স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন হতে একজন সালিস নিযুক্ত কর। যদি উভয়ে মীমাংসা করিয়ে দেয়ার ইচ্ছে করে, তবে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন, নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন, সকল কিছুর খবর রাখেন। -আন-নিসা ৪:৩৫


হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন। -আন নিসা ৪:১৯


যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গোনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে? -আন নিসা ৪:২০


তোমরা কিরূপে তা গ্রহণ করতে পার, অথচ তোমাদের একজন অন্য জনের কাছে গমন এবং নারীরা তোমাদের কাছে থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে। -আন নিসা ৪:২১


স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে এবং কোন মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই। তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে। আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী। যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের উপর দায়িত্ব। -আল বাকারা ২:২৩৬


আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে। অবশ্য যদি নারীরা ক্ষমা করে দেয় কিংবা বিয়ের বন্ধন যার অধিকারে সে (অর্থাৎ, স্বামী) যদি ক্ষমা করে দেয় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। আর তোমরা পুরুষরা যদি ক্ষমা কর, তবে তা হবে পরহেযগারীর নিকটবর্তী। আর পারস্পরিক সহানুভূতির কথা বিস্মৃত হয়ো না। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সেসবই অত্যন্ত ভাল করে দেখেন। -আল বাকারা ২:২৩৭


আর তোমাদের মধ্যে যারা মারা যাবে এবং স্ত্রী রেখে যাবে, তারা যেন তাদের স্ত্রীকে তাদের ঘর থেকে বের না করে তাদের এক বছরের ভরণ-পোষণের অসিয়াত করে। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায়, তবে বিধিমত নিজেদের মত তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ্‌ প্রবল পরাক্রান্ত , প্রজ্ঞাময়। -আল বাকারা ২:২৪০


আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেয়া পরহেযগারদের উপর কর্তব্য। -আল বাকারা ২:২৪১


যারা নিজ স্ত্রীর সাথে সংগত না হওয়ার শপথ করে তারা চার মাস অপেক্ষা করবে। অতঃপর যদি তারা প্রত্যাগত হয় তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -আল বাকারা ২:২২৬


আর যদি তারা তালাক দেয়ার সংকল্প করে তবে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। -আল বাকারা ২:২২৭


হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীগণকে তালাক দিতে ইচ্ছে কর তাদেরকে তালাক দিও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ রেখে এবং তোমরা ইদ্দতের হিসেব রেখো। আর তোমাদের রব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো। তোমারা তাদেরকে তাদের ঘড়বাড়ি থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও বের হবে না, যদি না তারা লিপ্ত হয় স্পষ্ট অশ্লীলতায়। আর এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা ; যে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে সে নিজেরই উপর অত্যাচার করে। আপনি জানেন না, হয়ত আল্লাহ্‌ এর পর কোন উপায় করে দেবেন। -আত ত্বালাক ৬৫:১


তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেরূপ ঘরে তোমরা বাস কর তাদেরকেও সেরূপ ঘরে বাস করতে দেবে ; তাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে না সংকটে ফেলার জন্য ; আর তারা গর্ভবতী হয়ে থাকলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয় করবে। অতঃপর যদি তারা তোমাদের সন্তানদেরকে স্তন্য দান করেন তবে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেবে এবং (সন্তানের কল্যাণ সম্পর্কে) তোমরা সংগতভাবে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ কর। আর তোমরা যদি নিজ নিজ দাবীতে অনমনীয় হও তাহলে অন্য নারী পিতার পক্ষে স্তন্য দান করবে। -আত ত্বালাক ৬৫:৬


বিত্তবান নিজ সমৰ্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবনোপকরণ সীমিত সে আল্লাহ যা দান করেছেন তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে সামথ্য দিয়েছেন তার চেয়ে গুরুতর বোঝা তিনি তার উপর চাপান না। অবশ্যই আল্লাহ কষ্টের পর দেবেন স্বস্তি। -আত ত্বালাক ৬৫:৭


আর তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীগণ তিন রজঃস্রাব কাল প্রতীক্ষায় থাকবে। আর তারা আল্লাহ্‌ ও আখেরাতের উপর ঈমান রাখলে তাদের গর্ভাশয়ে আল্লাহ্‌ যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন রাখা তাদের পক্ষে হালাল নয়। আর যদি তারা আপোষ-নিম্পত্তি করতে চায় তবে এতে তাদের পুনঃ গ্রহণে তাদের স্বামীরা বেশী হকদার। আর নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের; আর নারীদের উপর পুরুষদের মর্যাদা আছে। -আল বাকারা ২:২২৮


তোমাদের যে সব স্ত্রী আর ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদেরও; আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। -আত ত্বালাক ৬৫:৪


মুমিনগণ! তোমরা যখন মুমিন নারীদেরকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তখন তাদেরকে ইদ্দত পালনে বাধ্য করার অধিকার তোমাদের নাই। অতঃপর তোমরা তাদেরকে কিছু দেবে এবং উত্তম পন্থায় বিদায় দেবে। -আল আহ্‌যাব ৩৩:৪৯


অতঃপর তাদের ইদ্দত পূরণের কাল আসন্ন হলে তোমারা হয় যথাবিধি তাদেরকে রেখে দেবে, না হয় তাদেরকে পরিত্যাগ করবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে ; আর তোমার আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দেবে। এ দ্বারা তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান রাখে তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে কেউ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ করে দেবেন, -আত ত্বালাক ৬৫:২


তালাকে-‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই জালেম। -আল বাকারা ২:২২৯


অতঃপর যদি সে স্ত্রীকে তালাক দেয় তবে সে স্ত্রী তার জন্য হালাল হবে না, যে পর্যন্ত সে অন্য স্বামীর সাথে সংগত না হবে। অতঃপর সে (দ্বিতীয় স্বামী) যদি তালাক দেয় আর তারা উভয়ে (স্ত্রী ও প্রথম স্বামী) মনে করে যে, তারা আল্লাহ্‌র সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে, তবে তাদের পুনর্মিলনে কারো কোন অপরাধ হবে না। এগুলো আল্লাহ্‌র সীমারেখা, যা তিনি স্পষ্টভাবে এমন কওমের জন্য বর্ণনা করেন, যারা জানে। -আল বাকারা ২:২৩০


আর যখন তোমরা স্ত্রীকে তালাক দাও অতঃপর তারা ‘ইদ্দত পূর্তির নিকটবর্তী হয়, তখন তোমরা হয় বিধি অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দেবে, অথবা বিধিমত মুক্ত করে দেবে। তাদের ক্ষতি করে সীমালংঘনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না। যে তা করে, সে নিজের প্রতি যুলুম করে। আর তোমরা আল্লাহ্‌র বিধানকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের বস্তু করো না। -আল বাকারা ২:২৩১


আর তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তারা তাদের ‘ইদ্দতকাল পূর্ণ করে, এরপর তারা যদি বিধিমত পরম্পর সম্মত হয়, তবে স্ত্রীরা নিজেদের স্বামীদের বিয়ে করতে চাইলে তোমরা তাদেরকে বাধা দিও না। এ দ্বারা তাকে উপদেশ দেয়া হয় তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহ্‌ ও আখেরাতে ঈমান রাখে, এটাই তোমাদের জন্য শুদ্ধতম ও পবিত্রতম। আর আল্লাহ্‌ জানেন এবং তোমরা জান না। -আল বাকারা ২:২৩২


আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায় , তারা নিজেরা (স্ত্রীরা) চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় থাকবে। অতঃপর যখন তারা তাদের ‘ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে , তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আর তোমরা যা করো আল্লাহ্‌ সে সম্পর্কে সম্যক খবর রাখেন। -আল বাকারা ২:২৩৪


আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে (সে) নারীদের বিয়ের প্রস্তাব দাও বা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখো তবে তোমাদের কোন পাপ নেই। আল্লাহ্‌ জানেন যে , তোমরা তাদের সম্বন্ধে অবশ্যই আলোচনা করবে ; কিন্তু বিধিমত কথাবার্তা ছাড়া গোপনে তাদের সাথে কোন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না ; এবং নির্দিষ্ট কাল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ বন্ধনের সংকল্প করো না। -আল বাকারা ২:২৩৫

.

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে বর্ণিত, যে কোনো নারীকে বিয়ে করার পর মারা গেছে কিন্তু তার সাথে সঙ্গম করেনি এবং মোহরও ধার্য করেনি। তিনি বললেন, যে পূর্ণ মোহরের হকদার, সে ইদ্দাত পালন করবে এবং স্বামীর সম্পদের মীরাসও পাবে। -আবূ দাউদ ২১১৪


সাবিত ইবনু কায়স এর স্ত্রী নাবী ﷺ-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! চরিত্রগত বা দ্বীনী বিষয়ে সাবিত ইবনু কায়সের উপর আমি দোষারোপ করছি না। তবে আমি ইসলামের ভিতরে থেকে কুফরী করা অর্থাৎ স্বামীর সঙ্গে অমিল) পছন্দ করছি না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? সে বললঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তুমি বাগানটি গ্রহণ কর এবং মহিলাকে এক তালাক দিয়ে দাও। -বুখারী ৫২৭৩


তোমাদের মধ্যে যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে, তারা জেনে রাখুক-তাদের স্ত্রীরা তাদের মা নয়, যারা তাদেরকে জন্ম দান করে শুধু তারাই তাদের মা; তারা তো অসংগত ও অসত্য কথাই বলে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অধিক পাপ মোচনকারী ও বড় ক্ষমাশীল। -আল মুজাদালাহ্‌ ৫৮:২


আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে এবং পরে তাদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তবে একে অন্যকে স্পর্শ করার আগে একটি দাস মুক্ত করতে হবে, এ দিয়ে তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া যাচ্ছে। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ্‌ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত। -আল মুজাদালাহ্‌ ৫৮:৩


কিন্তু যার এ সামর্থ্য থাকবে না, একে অন্যকে স্পর্শ করার আগে তাকে একাদিক্রমে দু’মাস সিয়াম পালন করতে হবে; যে তাতেও অসমর্থ, সে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াবে; এটা এ জন্যে যে, তোমারা যেন আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আন। আর এগুলো আল্লাহ্‌র নির্ধারিত বিধান; আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। -আল মুজাদালাহ্‌ ৫৮:৪

মোহর ওয়ালীমা

শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ। -বুখারী ২৭২১

আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। -আন নিসা ৪:৪

পিতা মূসাকে বললেন, আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি ৮ বছর আমার চাকুরী করবে, যদি তুমি ১০ বছর পূর্ণ কর, তা তোমার ইচ্ছা। -আল কাসাস ২৮:২৭

রসূলুল্লাহ ﷺ এর বিবাহে মাহরের পরিমাণ ছিল ১২ উকিয়্যাহ্ ও ১ নাশ (৫০০ দিরহাম)। -মুসলিম ৩৩৮০

উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন তাঁকে বিবাহ করেন, তখন তিনি ছিলেন হাবশায়। নাজ্জাশী তাকে বিবাহ দেন এবং তাঁর মাহর আদায় করেন। ৪০০০ দিরহাম এবং তার নিজের পক্ষ হতে বিবাহ উপঢৌকন আদায় করেন। আর তাকে ঐ সকল দিয়ে শুরাহবীল ইবন হাসানা (রাঃ)-এর সাথে পাঠিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তার নিকট কিছুই পাঠাননি। আর তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের মাহর ছিল চারশত দিরহাম। -নাসাঈ ৩৩৫৩

নাবী ﷺ সাফিয়্যাহ (রাঃ)-কে আযাদ করে বিয়ে করেন এবং এই আযাদ করাকেই তাঁর মাহর নির্দিষ্ট করেন এবং তার ‘হায়স’(এক প্রকার সুস্বাদু হালুয়া) দ্বারা ওয়ালীমাহ’র ব্যবস্থা করেন। -বুখারী ৫১৬৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মধ্যে ছিলেন, তখনকার মাহর ছিল ১০ আওকিয়া (৪০০ দিরহাম)। -নাসাঈ ৩৩৫১

আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ) তিনি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর নিকট হাযির হলেন। তখন তাঁর শরীরে ও কাপড়ে হলুদ রংয়ের চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কী? তিনি বললেন, আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, তাঁকে কী পরিমাণ মাহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আঁটির ওজন পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি অথবা একটি আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর। -বুখারী ৩৭৮১

আবু তালহা (রাঃ) উম্মে সুলায়মকে বিবাহের পয়গাম দিলে সে বললোঃ হে আবু তালহা! আল্লাহর কসম! তোমার মত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু তুমি একজন কাফির, আর আমি একজন মুসলিম মহিলা। তোমাকে বিবাহ করা আমার জন্য বৈধ নয়। যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ করা, তাহলে তা-ই আমার মাহর হবে। আমি তোমার কাছে এর অতিরিক্ত কিছুই চাই না। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তা-ই তার মাহর ধার্য হলো। -নাসাঈ ৩৩৪৪

ফাযারা গোত্রের এক মহিলা একজোড়া জুতার বদলে বিয়ে করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তুমি একজোড়া জুতার বদলে তোমার জিন্দেগী ও সম্পদ সপে দিতে রাজী হয়ে গেলে? সে বলল, হ্যাঁ। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এই বিয়ে অনুমোদন করলেন। -আত তিরমিজী ১১১৩ (যঈফ)

এক মহিলা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এসে বললঃ আমি নিজেকে হিবা করে দেয়ার জন্যে এসেছি। এ কথা বলে সে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। তিনি তাকালেন ও মাথা নীচু করে রাখলেন। মহিলাটির দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘ হলে এক ব্যক্তি বললঃ আপনার যদি প্রয়োজন না থাকে, তবে একে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে মাহর দেয়ার মত কিছু আছে কি? সে বললঃ না। তিনি বললেনঃ খুঁজে দেখ। সে চলে গেল। কিছু সময় পর ফিরে এসে বললঃ আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পেলাম না। তিনি বললেনঃ আবার যাও এবং খোঁজ করো, একটি লোহার আংটি হলেও (আন)। সে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললঃ কসম আল্লাহর! কিছুই পেলাম না, একটি লোহার আংটিও না। তার পরনে ছিল একটি মাত্র লুঙ্গি, তার উপর চাদর ছিল না। সে আরয করলঃ আমি এ লুঙ্গিটি তাকে দান করে দেব। নাবী ﷺ বললেনঃ তোমার লুঙ্গি যদি সে পরে তবে তোমার পরনে কিছুই থাকে না। আর যদি তুমি পর, তবে তার গায়ে এর কিছুই থাকে না। এরপর লোকটি একটু দূরে সরে গিয়ে বসে পড়ল। এরপর নাবী ﷺ দেখলেন যে, সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি তাকে ডাকার জন্যে হুকুম দিলেন। তাকে ডেকে আনা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু মুখস্থ আছে? সে বললঃ অমুক অমুক সূরা। সে সূরাগুলোকে গণনা করে শুনাল। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে কুরআনের যা কিছু মুখস্থ আছে, তার পরিবর্তে মেয়ে লোকটিকে তোমার অধীনে দিয়ে দিলাম। -বুখারী ৫৮৭১

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে বিবাহ সহজে সম্পন্ন হয় তাই উত্তম বিবাহ। একদা নবী ﷺ এক ব্যক্তিকে বললেনঃ আমি তোমার সাথে অমুক মহিলার বিয়ে দিতে চাই, তুমি কি এতে খুশি আছো? সে বললো, হ্যাঁ। এরপর তিনি উক্ত মহিলাকে বললেনঃ আমি তোমাকে অমুক পুরুষের সাথে বিয়ে দিলে তুমি কি রাজি হবে? সে বললো, হ্যাঁ। সুতরাং তারা একে অপরকে বিয়ে করলো। তারপর লোকটি তার সাথে সঙ্গম করলো, কিন্তু তার জন্য কোনো মোহরানা নির্ধারণ করেনি এবং তাকে নগদ কিছু প্রদান করেনি। লোকটি হুদায়বিয়াতে উপস্থিত ছিলো। হুদায়বিয়ায় উপস্থিত সকলকে খায়বারের এক এক অংশ দেয়া হয়েছিল। অতঃপর লোকটি মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে সে বললো, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার সাথে অমুক মহিলার বিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ আমি তার জন্য কোনো মোহর নির্ধারণ করিনি এবং তাকে নগদ কিছুই দেইনি। সুতরাং আমি আপনাদের সাক্ষী করছি যে, আমার খায়বারের অংশটুকু আমি তাকে মোহরানা বাবদ প্রদান করলাম। অতঃপর মহিলাটি (স্ত্রী) তা গ্রহণ করে এবং তা এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করে দেয়। -আবূ দাউদ ২১১৭

নাবী ﷺ আশশিগার নিষিদ্ধ করেছেন। ‘আশ্-শিগার’ হলোঃ কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে অন্য এক ব্যক্তির পুত্রের সঙ্গে বিবাহ দিবে এবং তার কন্যা নিজের পুত্রের জন্য আনবে এবং দু কন্যাই মাহর পাবে না। -বুখারী ৫১১২

আলী (রাঃ) বলেছেন, মোহর (সাধারণত) ১০ দিরহামের কমে হয় না। -বুলুগুল মারাম ১০৩৪

উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ হুশিয়ার! তোমরা নারীর মাহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, কেননা যদি তা দুনিয়ায় উত্তম কার্য হতো, তাহলে তোমাদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তার অধিক উপযুক্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাঁর কোন স্ত্রীকে বা তার কন্যাদের কারও ১২ আওকিয়ার (৪৮০ দিরহাম) অধিক মাহর দেননি। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অধিক মাহর দান করে, শেষ পর্যন্ত ঐ স্ত্রীলোকের প্রতি ঐ ব্যক্তির অন্তরে শক্রিতার সৃষ্টি হয়। এমন কি সে বলে, তোমার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি। -নাসাঈ ৩৩৫২; আদ-দারেমী ২২৩৯, আবূ দাউদ ২১০৬

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ কোনো নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তার সে বিয়ে বাতিল। তিনি একথাটি তিনবার বলেছেন। আর সে যদি তার সাথে সহবাস করে, তাহলে এজন্য তাকে মোহর দিবে। যদি উভয় পক্ষের (অভিভাবকদের) মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, তাহলে শাসক হবেন তার অভিভাবক। কারণ যাদের অভিভাবক নাই তার অভিভাবক শাসক। -আবূ দাউদ ২০৮৩

যে ওয়ালীমায় কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে দাওয়াত করা হয় না সেই ওয়ালীমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে অবাধ্যতা করে। -বুখারী ৫১৭৭

নাবী ﷺ যখন কোন বিয়ে করেন, তখন ওয়ালীমা করেন, কিন্তু যাইনাব (রাঃ)-এর বিয়ের সময় যে পরিমাণ ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেছিলেন, তা অন্য কারো বেলায় করেননি। সেই ওয়ালীমা ছিল একটি ছাগল দিয়ে। -বুখারী ৫১৬৮

নাবী ﷺ তাঁর কোন এক স্ত্রীর বিয়েতে ২ মুদ যব দ্বারা ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেন। -বুখারী ৫১৭২

বিবাহ

নাবী ﷺ এর কতিপয় সাহাবী নাবী ﷺ এর সহধর্মিনীদের নিকট তাঁর গোপন ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বললেন, আমি কখনও বিয়ে করব না, কেউ বললেন, আমি কখনও গোশত খাব না, কেউ বললেন, আমি কখনও বিছানায় ঘুমাব না। তা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর প্রশংসা ও গুনগান করলেন এবং বললেনঃ “লোকদের কি হল যে, তারা এরূপ এরূপ বলছে? অথচ আমি তো সালাতও আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই, সাওম পালন করি এবং ইফতারও করি এবং বিয়েও করেছি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার কেউ নয়।” -মুসলিম ৩২৭৩

আর তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন’ তাদের বিয়ে সম্পাদন কর এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্থ হলে আল্লাহ্‌ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন; আল্লাহ্‌ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। -আন নূর ২৪:৩২
যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে। -আন-নূর ২৪:৩৩

হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা শাদী করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন শাদী করে। কেননা, শাদী তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌনতাকে সংযমী করে এবং যাদের শাদী করার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোযা পালন করে। কেননা, রোযা তার যৌনতাকে দমন করবে। -বুখারী ৪৬৯৬

তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। -আর-রুম ৩০:২১

তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা (স্বামীগণ) তাদের জন্য পরিচ্ছদ। -আল-বাকারা ২:১৮৭

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যখন বিয়ে করে তখন সে তার ঈমানের অর্ধেক পূর্ণ করে, অবশিষ্টাংশ লাভের জন্য সে যেন আল্লাহভীতি অর্জন করে। -মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩০৯৬

যাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষ বিয়ে করেছে, সেসব নারীকে বিয়ে করো না। -আন-নিসা ৪:২২
তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সঙ্গত হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা। -আন-নিসা ৪:২৩
নারীদের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নারীগণও তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, কিন্তু তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বাদে, তোমাদের জন্য এগুলো আল্লাহর বিধান। তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের ছাড়া অন্যান্য সকল নারীদেরকে মোহরের অর্থের বদলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি মাহ্‌র নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। -আন-নিসা ৪:২৪

দুধ পানের সস্পর্ক দ্বারা ঐসব লোক হারাম হয়ে যায় যারা রক্ত সম্পর্ক দ্বারা হারাম হয়। -মুসলিম ৩৪৪৮

আর তোমাদের মধ্যে কারো মুক্ত ঈমানদার নারী বিয়ের সামর্থ্য না থাকলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার দাসী বিয়ে করবে; আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। তোমরা একে অপরের সমান; কাজেই তোমরা তাদেরকে বিয়ে করবে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে এবং তাদেরকে তাদের মাহ্‌র ন্যায়সংগতভাবে দেবে। তারা হবে সচ্চরিত্রা, ব্যভিচারিণী নয় ও উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়। অতঃপর বিবাহিতা হওয়ার পর যদি তারা ব্যভিচার করে তবে তাদের শাস্তি মুক্ত নারীর অর্ধেক; তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারকে ভয় করে এগুলো তাদের জন্য; আর ধৈর্য ধারণ করা তোমাদের জন্য মঙ্গল। আল্লাহ ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু। -আন নিসা ৪:২৫

তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা কর তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। -আল মায়িদাহ ৫:৫

আর মুশরিক নারীকে ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা বিয়ে করো না। মুশরিক নারী তোমাদেরকে মুগ্ধ করলেও, অবশ্যই মুমিন কৃতদাসী চেয়ে উত্তম। ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে তোমরা বিয়ে দিওনা, মুশরিক পুরুষ তোমাদেরকে মুগ্ধ করলেও অবশ্যই মুমিন ক্রীতদাস তার চেয়ে উত্তম। -আল বাকারা ২:২২১

মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা কর। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্যে হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্যে হালাল নয়। কাফেররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদের দিয়ে দাও। তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা চেয়ে নাও এবং তারাও চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে। -আল মুম্‌তাহিনাহ্‌ ৬০:১০

যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিবাহ কর (স্বাধীন) নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশংকা কর যে, সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিবাহ কর) অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে (স্ত্রীরূপে ব্যবহার কর)। এতে পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশী। -আন-নিসা ৪:৩

আর তোমরা যতই ইচ্ছে কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে কখনই পারবে না, তবে তোমরা কোন একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না ও অপরকে ঝুলানো অবস্থায় রেখো না; যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -আন নিসা ৪:১২৯

যদি তোমাদের কাছে এমন কেউ বিবাহের প্রস্তাব দেয় যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদের পছন্দনীয় হয় তবে তাকে বিয়ে দিয়ে দাও। যদি এরূপ না কর তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও বিরাট বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। -তিরমিজী ১০৮৪

তোমরা এমন স্ত্রীলোকদের বিবাহ করবে, যারা অধিক মহাব্বাত করে এবং অধিক সন্তান প্রসব করে। কেননা আমি (কিয়ামতের দিন) তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে (পূর্ববর্তী উম্মতের উপর) গর্ব প্রকাশ করব। -আবু দাউদ ২০৪৬

নাবী ﷺ বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে শাদী করা যায়- তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে। অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। -বুখারী ৪৭১৯

নাবী ﷺ কাউকে এক মুসলিম ভাইয়ের শাদী প্রস্তাবের ওপরে অন্য ভাইকে প্রস্তাব দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব উঠিয়ে নেবে বা তাকে অনুমতি দেবে। -বুখারী ৪৭৬৬

মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী ﷺ -এর নিকট এসে এক মহিলাকে বিবাহ করার ব্যাপারে তাঁর সাথে আলাপ করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি যাও এবং তাকে দেখে নাও। হয়তো তাতে তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালোবাসার সৃষ্টি হবে। অতএব আমি এক আনসার মহিলার নিকটে এসে তার পিতা-মাতার নিকট তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিলাম এবং সাথে সাথে নাবী ﷺ -এর হাদীসও তাদের অবহিত করলাম। কিন্তু মনে হলো তার পিতা-মাতা এটা অপছন্দ করলো। রাবী বলেন, মেয়েটি পর্দার আড়াল থেকে উক্ত হাদীস শুনে বললো, রসূলুল্লাহ ﷺ আপনাকে পাত্রী দেখার আদেশ দিয়ে থাকলে আপনি দেখে নিন। অন্যথায় আমি আপনাকে শপথ দিচ্ছি (না দেখার জন্য)। সে যেন ব্যাপারটিকে অভিনব মনে করলো। রাবী বলেন, আমি তাকে দেখে নিলাম এবং তাকে বিবাহ করলাম। পরে মুগীরাহ (রাঃ) তার সাথে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। -ইবনে মাজাহ ১৮৬৬

হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করিবে আমি তো তাহার কাঙ্গাল। -আল কাসাস ২৮:২৪

হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে অনুসরণযোগ্য কর। -আল-ফুরকান ২৫:৭৪
.

মাহরাম

আর ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইপো, বোনপো, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। -আন-নূর ২৪:৩১
.
যাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষ বিয়ে করেছে, সেসব নারীকে বিয়ে করো না। -আন-নিসা ৪:২২
তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সঙ্গত হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা। -আন-নিসা ৪:২৩
নারীদের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নারীগণও তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, কিন্তু তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বাদে, তোমাদের জন্য এগুলো আল্লাহর বিধান। তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের ছাড়া অন্যান্য সকল নারীদেরকে মোহরের অর্থের বদলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি মাহ্‌র নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। -আন-নিসা ৪:২৪

দুধ পানের সস্পর্ক দ্বারা ঐসব লোক হারাম হয়ে যায় যারা রক্ত সম্পর্ক দ্বারা হারাম হয়। -মুসলিম ৩৪৪৮
.
.
নারীদের মাহরাম পুরুষ  (যে সব পুরুষদের সাথে পর্দা নেই)।
বাপ, দাদা, নানা ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু পুরুষগণ। দাদা ও নানীর চাচা।
দাদা/ দাদি/ নানা/ নানির ভাই।
আপন মামা তথা মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই।
আপন চাচা অর্থাৎ বাপের সহোদর, বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয় ভাই।
দুধ সম্পর্কীয় বাপ, চাচা, মামা, দাদা, নানা ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু পুরুষগণ।
শ্বশুর, আপন দাদা শ্বশুর ও নানা শ্বশুর এবং তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু পুরুষগণ।
সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই।
দুধ সম্পর্কীয় ভাই, দুধ ভাইয়ের ছেলে, দুধ বোনের ছেলে এবং তাদের ঔরষজাত পুত্র।
আপন ছেলে, ছেলের ছেলে, মেয়ের ছেলে এবং তাদের ঔরষজাত পুত্র; কন্যার স্বামী।
স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র।
দুধ সম্পর্কীয় ছেলে, উক্ত ছেলের ছেলে, দুধ সম্পর্কীয় মেয়ের ছেলে ও তাদের ঔরষজাত যে কোন পুত্র সন্তান এবং দুধ সম্পর্কীয় মেয়ের স্বামী।
ভাতিজা, ভাগিনা তথা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনের ছেলে ও তাদের অধঃস্থন কোন ছেলে।
শরীয়ত অনুমোদিত বৈধ স্বামী।
যৌন শক্তিহীন এমন বৃদ্ধ, যার মাঝে মহিলাদের প্রতি কোন আকর্ষণ নেই আবার মহিলাদেরও তার প্রতি কোন আকর্ষণ নেই।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক এমন বালক যার মাঝে এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি।
.
মাহরাম ছাড়া বাকি সকলে গায়ের মাহরাম। যেমন:
খালু/ ফুপা;
বাবা ও মায়ের খালাতো/ চাচাতো/ মামাতো/ ফুপাতো ভাই; ধর্মবাপ;
শ্বশুর/ শাশুড়ির ভাই; খালু শ্বশুর;
খালাতো/ মামাতো/ চাচাতো/ ফুপাতো ভাই, ধর্ম ভাই;
ভাসুর, দেবর, বোনের স্বামী, ননদের স্বামী; ভাইয়ের শ্যালক
স্বামীর খালাতো/ মামাতো/ চাচাতো/ ফুপাতো ভাই, দুলাভাই; 
ছেলে/ মেয়ের শ্বশুর; 
ছেলের শ্যালক; পালকপুত্র, ধর্মছেলে;
ননদের ছেলে।
.
.
পুরুষের মাহরাম নারী (যে সব নারীদের সাথে পর্দা নেই)।
শরীয়ত অনুমোদিত বৈধ।
মা, সৎ মা এবং দুধ পিতার স্ত্রী।
শ্বাশুরী (স্ত্রীর আপন মা), দাদী শ্বাশুরী, নানী শাশুড়ি এবং তাদের ঊর্ধ্বতন মহিলাগণ এবং স্ত্রীর দুধ মা, দুধ দাদী এবং দুধ নানী।
দাদি, নানী; দাদী ও নানীর মা এবং তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু মহিলাগণ।
দাদা/ দাদি/ নানা/ নানীর বোন; দাদার ফুফু, নানীর ফুফু
দুধ সম্পর্কীয় মা, খালা, ফুপু, নানী, দাদী ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু মহিলাগণ।
খালা তথা মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।
ফুপু, তথা পিতার সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন; দুধ পিতার বোন।
বোন (সহোদরা, বৈপিত্রেয়, বৈমাত্রেয়)।
দুধ সম্পর্কীয় বোন, দুধ বোনের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যে কোন কন্যা সন্তান।
যে স্ত্রীর সাথে দৈহিক মিলন সংঘটিত হয়েছে তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর মেয়ে, মেয়ের মেয়ে এবং তাদের অধস্তনরা।
আপন মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, ছেলের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যে কোন কন্যা সন্তান।
আপন ছেলে ও দুধ সম্পর্কের ছেলের স্ত্রী, নাতির স্ত্রী এবং অধস্তন সন্তানের স্ত্রীরা।
দুধ সম্পর্কীয় মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, ছেলের মেয়ে ও তাদের অধঃস্থন যে কোন কন্যা সন্তান।
ভাতিজি তথা সহোদর, বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে, ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, তাদের অধঃস্থন কন্যা সন্তান।
ভাগ্নি তথা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে, বোনের মেয়ের মেয়ে ও মেয়ের মেয়ের মেয়ে এবং তাদের অধঃস্থন কন্যা সন্তান।
যৌন শক্তিহীন এমন বৃদ্ধা যার প্রতি পুরুষের কোন প্রকার আকর্ষণ নেই।
অপ্রাপ্ত বয়স্কা এমন মেয়ে যার প্রতি পুরুষের এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি।
.
মাহরামগন ছাড়া বাকি সকলেই গায়ের মাহরাম। যেমন:
চাচী, মামী;
বাবা ও মায়ের খালাতো/ মামাতো/ চাচাতো/ ফুফাতো বোন; 
শ্বশুর/ শাশুড়ির বোন; 
ছেলে/ মেয়ের শাশুড়ি; 
খালাতো/ মামাতো/ চাচাতো/ ফুফাতো বোন, ভাবী;
শ্যালিকা, স্ত্রীর ভাবী; 
স্ত্রীর খালাতো/ মামাতো/ চাচাতো/ ফুফাতো বোন; 
শ্যালক/ শ্যালিকার মেয়ে; 
মেয়ের ননদ।
.
.
.
https://www.ifatwa.info/2722
https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/3472
hadithbd.com/mahram
.
.
.
মাহরাম

১. মাহরামে আবদী: বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে হারাম
আত্মীয়, দুধ সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্কের মাহরামগন। যেমন: বোন, সৎ বোন, দুধ বোন;
বাবার বোন, মার বোন;
দাদার বোন, দাদির বোন, নানার বোন, নানীর বোন;
শাশুড়ি, সৎ শাশুড়ি;
শশুরের মা, শাশুড়ির মা।

২. স্ত্রী ও সাময়িক মাহরামকে একত্রে বিয়ে করা নিষেধ।
স্ত্রীর বোন
শশুরের বোন, শাশুড়ির বোন

৩. বিয়ে অস্থায়ী হারাম
অন্যের স্ত্রী, কারো তালাকপ্রাপ্ত ইদ্দতপালনকারী, মুশরিক মহিলা। এ সমস্ত মহিলাদেরকে বিবাহ করা চিরস্থায়ী হারাম না বরং সাময়িক হারাম। তবে হালাল সম্ভাবনাময়।

https://www.ifatwa.info/1493
https://www.ifatwa.info/3383

নারীর পর্দা ও দেহ-সজ্জা

হে নবী-পত্নিগণ, তোমরা অন্য কোন নারীর মত নও। যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। -আল-আহযাব ৩৩:৩২

আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক-জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। -আল-আহযাব ৩৩:৩৩

নারী হল গোপন যোগ্য। সে যখন বাইরে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। -তিরমিজী ১১৭৪
.
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। -আল আহ্‌যাব ৩৩:৫৯
.
যখন এ আয়াত নাযিল হয়  (৩৩:৫৯) তখন আনসার মহিলারা কালো কাপড়ে শরীর আবৃত করে এমনভাবে বের হত যে, মনে হত তাদের মাথার উপর কাক বসে আছে। -আবু দাউদ ৪০৫৭
.
ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইপো, বোনপো, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। -আন-নূর ২৪:৩১
.
আল্লাহ্ তা‘আলা প্রাথমিক যুগের মুহাজির মহিলাদের উপর রহম করুন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত (২৪:৩১) নাযিল করলেন, তখন তারা নিজ চাদর ছিঁড়ে ওড়না হিসাবে ব্যবহার করল। -বুখারী ৪৩৯৮
.
আর বৃদ্ধা নারীরা, যারা বিয়ের প্রত্যাশা করে না, তাদের জন্য কোন দোষ নেই, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের কিছু পোশাক খুলে রাখে এবং এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। -আন-নূর ২৪:৬০
.
হে আদাম সন্তান! আমি তোমাদেরকে পোষাক-পরিচ্ছদ দিয়েছি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং শোভা বর্ধনের জন্য। আর তাকওয়ার পোশাক হচ্ছে সর্বোত্তম পোশাক। -আল-আ'রাফ ৭:২৬
.
একদা আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এলে রাসূলুল্লাহ ﷺ তার থেকে নিজের মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেনঃ হে আসমা! মেয়েরা যখন সাবালিকা হয় তখন এই দু’টো অঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ প্রকাশ করা তার জন্য সংগত নয়, এ বলে তিনি তাঁর চেহারা ও দু’ হাতের কব্জির দিকে ইশারা করেন। -আবূ দাউদ ৪১০৪
.
হাফসা বিনতে আবদুর রহমান (রাঃ) একটি মিহিন ওড়না পরিয়া উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গেলে আয়েশা (রাঃ) উহাকে ছিড়িয়া ফেলিলেন এবং মোটা কাপড়ের ওড়না তাহাকে পরাইয়া দিলেন। -মুয়াত্তা মালিক ১৬৯২
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দুই প্রকার মানুষ জাহান্নামী হবে। আমি তাদেরকে দেখিনি। দ্বিতীয় প্রকার ঐ সমস্ত মহিলা, যারা বস্ত্র পরিহিতা কিন্তু উলঙ্গ, আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের উঁচু কুঁজোর ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ এতো-এতো দূরত্বে থেকে পাওয়া যাবে। -মুসলিম ৬৯৩০
.
হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে, যেরূপ তোমাদের মাতা-পিতাকে (বিভ্রান্ত করে) জান্নাত হতে বহিস্কার করেছিল এবং তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য বিবস্ত্র করেছিল। -আল-আ'রাফ ৭:২৭
.
হে আদাম সন্তান! প্রত্যেক সলাতের সময় তোমরা সাজসজ্জা গ্রহণ কর। -আল-আ'রাফ ৭:৩১
.
নাবী ﷺ ঐ সব নারীকে লা'নত করেছেন যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে। -বুখারী ৫৪৬৫
.

রাসুলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রীগণ মাথার চুল কেটে তা ওয়াফরার ন্যায় (ঘাড়ের নিম্নভাগ পর্যন্ত) রাখতেন। -মুসলিম ৬২১

.
মেয়েদের উত্তম প্রসাধনী হল যে বস্তুর রং প্রকাশ পায় কিন্তু তার গন্ধ প্রকাশ পায় না। -তিরমিজী ২৭৮৮
.
কোন মহিলা যদি আতর লাগিয়ে কোন মজলিসের পাশ দিয়ে যায় তবে সে হল এমন। অর্থাৎ ব্যভিচারিণী। -তিরমিজী ২৭৮৬
.
ইহরাম অবস্থায় মুহরিম মহিলাগন মুখে নেকাব এবং হাতে হাত মোজা লাগাবে না। -বুখারী ১৭১৯
.
আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় নবী ﷺ এর সাথে ছিলাম। কোন কাফেলা আমাদের নিকটবর্তী হলে আমরা নিজেদের মাথার সামনে দিয়ে (মুখমন্ডলে) কাপড় ঝুলিয়ে দিতাম। তারা আমাদের অতিক্রম করে যাওয়ার পর আবার তা মুখমন্ডল থেকে তুলে ফেলতাম। -ইবনে মাজাহ ২৯৩৫; আবূ দাউদ ১৮৩৩
.
(রোমের যুদ্ধের পর উম্মে খাল্লাদ নাম্মী নামক এক রমণী ওড়না দিয় মুখ ঢাকা অবস্থায় নবী করীম ﷺ এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তার নিহত পুত্রের খবর জিজ্ঞাসা করেন। এমতাবস্থায় জনৈক সাহাবী তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি তোমার নিহত পুত্রের খবর জানতে চাচ্ছ অথচ মুখে ওড়না জঢ়িয়ে আছো। সে উত্তর করল, আমি আমার পুত্র হারিয়েছি, কিন্তু লজ্জা তো কখনও হারায়নি। তখন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেনঃ তোমার পুত্র দু‘জন শহীদের মর্যাদা পাবে। সে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তা কী কারণে সম্ভব হলো? তিনি বললেনঃ কারণ, সে আহলে কিতাবের হাতে শহীদ হয়েছে। -আবু দাউদ ২৪৮০
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তাঁর কাপড় গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না। উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা তখন বললেন, মেয়েরা তাঁদের আচলকে কি করবে? তিনি বললেন, এক বিঘৎ নিচে নামিয়ে দিবে। উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, তা হলে তো তাদের পা অনাবৃত হয়ে যেতে পারে? তিনি বললেন, তা হলে এক হাত নিচে ঝুলিয়ে দিবে। এর বেশী করবে না। -তিরমিজী ১৭৩৭
.
কোন মহিলা অপর মহিলার লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না; কোন মহিলা অপর মহিলার সাথে একই কাপড়ের নীচে (বস্ত্রহীন অবস্থায়) ঘুমাবে না। -মুসলিম ৬৫৫
.
কোন নারী যেন অন্য কোন নারীর সঙ্গে সাক্ষাত করে তার বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে (স্বামী) তাকে (ঐ নারীকে) দেখতে পাচ্ছে। -বুখারী ৪৮৬০
.
রাসূল ﷺ বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। জনৈক আনসার জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দেবরদের ব্যাপারে কি নির্দেশ? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যুতুল্য। -বুখারী ৪৮৫২
.
কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সঙ্গে নিভৃতে একত্রিত না হয় অন্যথায় শয়তান অবশ্যই তৃতীয় জন হিসাবে হাযির থাকে। -তিরমিজী ২১৬৮
.
স্বামী অনুপস্থিত স্ত্রীর কাছে তোমরা প্রবেশ করোনা। কেননা, শয়তান তোমাদের রক্ত স্রোতে চলমান রয়েছে। -তিরমিজী ১১৭৩
.
কোন মহিলা যেন সাথে মাহরাম ব্যক্তি ছাড়া একাকী তিন দিনের (দূরত্বে) সফর না করে। -মুসলিম ৩১৪৯
.
নাবী ﷺ ইরশাদ করেনঃ মেয়েরা মাহরাম (যার সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ) ব্যতীত অন্য কারো সাথে সফর করবে না। মাহরাম কাছে নেই এমতাস্থায় কোন পুরুষ কোন মহিলার নিকট গমন করতে পারবে না। এ সময় এক ব্যাক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদ করার জন্য যেতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হাজ্জ করতে যেতে চাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তুমি তাঁর সাথেই যাও। -বুখারী ১৭৪০
.
হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারো ঘরে তার অধিবাসীদের সম্প্রীতিসম্পন্ন অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না করে প্রবেশ করো না। -আন নূর ২৪:২৭
.
যদি তোমরা ঘরে কাউকেও না পাও তাহলে সেখানে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়। যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও’, তবে তোমরা ফিরে যাবে। -আন নূর ২৪:২৮
.
যে ঘরে কেউ বাস করে না তাতে তোমাদের কোন ভোগ করা বা উপকৃত হওয়ার অধিকার থাকলে সেখানে তোমাদের প্রবেশে কোন পাপ নেই। -আন নূর ২৪:২৯
.
হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের সালাতের আগে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোষাক খুলে রাখ তখন এবং ‘ইশার সালাতের পর; এ তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময়। এ তিন সময় ছাড়া (অন্য সময় বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে) তোমাদের এবং তাদের কোন দোষ নেই। তোমাদের এককে অন্যের কাছে তো যেতেই হয়। -আন নূর ২৪:৫৮
.
আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বড়রা। -আন নূর ২৪:৫৯
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সলাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সলাত আদায় না করলে) এজন্য তাদেরকে মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দিবে। -আবূ দাউদ ৪৯৫
.
আয়িশা (রাঃ) বলেন, ঈমানদার মহিলারা যখন হিজরত করে নাবী ﷺ এর কাছে আসত, তখন তিনি আল্লাহর নির্দেশ "হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কাছে মু’মিন মহিলারা হিজরত করে আসলে তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করে দেখ। (আল-মুমতাহিনা ৬০:১০)" অনুসারে তাদেরকে যাচাই করতেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ ঈমানদার মহিলাদের মধ্যে যারা (আয়াতে উল্লেখিত) শর্তাবলী মেনে নিত, তারা পরীক্ষায় কৃতকার্য হত। তাই যখনই তারা এ ব্যাপারে মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রকাশ করত তখনই রাসূল ﷺ তাদেরকে বলতেন যাও, আমি তোমাদের বায়’আর গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! কথার মাধ্যমে বায়’আত গ্রহণ ছাড়া রাসূল ﷺ এর হাত কখনো কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি। আল্লাহর শপথ। তিনি শুধুমাত্র সেইসব বিষয়েই বায়’আত গ্রহণ করতেন, যে সব বিষয়ে বায়’আত গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ্ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। বায়’আত গ্রহণ শেষে তিনি বলতেনঃ আমি কথায় তোমাদের বায়’আত গ্রহণ করলাম। -বুখারী ৪৯০৮
.
আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরের ইচ্ছা করতেন তখন তিনি তাঁর স্ত্রীগণের (নামের জন্য) কোরা ব্যবহার করতেন। এতে যার নাম আসত তাকেই তিনি সাথে করে সফরে বের হতেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এমনি এক যুদ্ধে (মুরায়সীর যুদ্ধ) তিনি আমাদের মাঝে কোরা ব্যবহার করেন এবং এতে আমার নাম বেরিয়ে আসে। তাই আমিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে বের হলাম। এ ঘটনাটি পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পর সংঘটিত হয়েছিল। তখন আমাকে হাওদা সহ সাওয়ারীতে উঠানো ও নামানো হত। এমনি করে আমরা চলতে থাকলাম। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ যুদ্ধ থেকে অবসর হলেন, তখন তিনি (বাড়ির দিকে) ফিরলেন।
ফেরার পথে আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলে তিনি একদিন রাতের বেলা রওয়ানা হওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। রওয়ানা হওয়ার ঘোষনা দেওয়ার পর আমি উঠলাম এবং (প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য) পায়ে হেঁটে সেনাছাউনি অতিক্রম করে (একটু সামনে) গেলাম। এরপর প্রয়োজন সেরে আমি আমার সাওয়ারীর কাছে ফিরে এসে বুকে হাত দিয়ে দেখলাম যে, (ইয়ামানের অন্তর্গত) ফিফার শহরের পুতি দ্বারা তৈরি করা আমার গলার হারটি ছিঁড়ে কোথাও পড়ে গিয়েছে। হার তালাশ করতে করতে আমার আসতে বিলম্ব হয়ে যায়। আয়িশা (রাঃ) বলেন, যে সমস্ত লোক উটের পিঠে আমাকে উঠিয়ে দিতেন তারা এসে আমার হাওদা উঠিয়ে তা আমার উটের পিঠে তুলে দিতেন যার উপর আমি আরোহণ করতাম। তারা মনে করেছিলেন যে, আমি এর মধ্যেই আছি, কারণ খাদ্যাভাবে মহিলাগণ তখন খুবই হালকা পাতলা হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের দেহ গোশতবহুল ছিল না। তাঁরা খুবই স্বল্প পরিমাণে খাবার খেতে পেত। তাই তারা যখন হাওদা উঠিয়ে উপরে রাখেন তখন তা হালকা হওয়ায় বিষয়টিকে কোনো প্রকার অস্বাভাবিক মনে করেননি। অধিকন্তু আমি ছিলাম একজন অল্প বয়স্কা কিশোরী।
এরপর তারা উট হাঁকিয়ে নিয়ে চলে যায়। সৈন্যদল রওয়ানা হওয়ার পর আমি আমার হারটি খুঁজে পাই এবং নিজস্ব স্থানে ফিরে এসে দেখি তাঁদের (সৈন্যদের) কোনো আহবায়ক এবং কোনো উত্তরদাতা ওখানে নেই। (নিরুপায় হয়ে) তখন আমি পূর্বে যেখানে ছিলাম সেখানে বসে রইলাম। ভাবছিলাম, তাঁরা আমাকে দেখতে না পেলে অবশ্যই আমার কাছে ফিরে আসবে। ঐ স্থানে বসে থাকা অবস্থায় ঘুম চেপে আসলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। বানূ সুলামী গোত্রের যাকওয়ান শাখার সাফওয়ান ইবনু মুয়াত্তাল (রাঃ) [যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফেলে যাওয়া আসবাবপত্র কুড়িয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।] সৈন্যদল চলে যাওয়ার পর সেখানে ছিলেন। তিনি প্রত্যূষে আমার অবস্থানস্থলের কাছে পৌঁছে একজন ঘুমন্ত মানুষ দেখে আমার দিকে তাকানোর পর আমাকে চিনে ফেললেন। তিনি আমাকে দেখেছিলেন পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে।
তিনি আমাকে চিনতে পেরে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়লে আমি তা শুনতে পেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং চাঁদর টেনে আমার চেহারা ঢেকে ফেললাম। আল্লাহর কসম! আমি আর কথা বলিনি এবং তাঁর থেকে ইন্নালিল্লাহ পাঠ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাইনি। এরপর তিনি সওয়ারী থেকে অবতরন করলেন এবং সওয়ারীকে বসিয়ে তার সামনের পা নিচু করে দিলে আমি গিয়ে তাতে আরোহণ করলাম। পরে তিনি আমাকে সহ সওয়ারীকে টেনে আগে আগে চলতে লাগলেন, পরিশেষে ঠিক দ্বিপ্রহরে প্রচন্ড গরমের সময় আমরা গিয়ে সেনাদলের সাথে মিলিত হলাম। সে সময় তাঁরা একটি জায়গায় অবতরণ করছিলেন।
-সহীহ বুখারী ৩৮৩৫ (তাওহীদ ৪১৪১)
.
.
.
বালেগ হওয়ার বয়সসীমা ও আলামত শরীয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে। কোনো মেয়ের মধ্যে বালেগ হওয়ার নির্দিষ্ট আলামত পাওয়া গেলে বা নির্দিষ্ট বয়সসীমায় পৌঁছলেই তাকে বালেগ গণ্য করা হবে এবং তখন থেকেই শরীয়তের হুকুম-আহকাম তার উপর প্রযোজ্য হবে। মেয়েদের বালেগ হওয়ার আলামত হল: ক) স্বপ্নদোষ হওয়া। খ) হায়েয আসা। গ) গর্ভধারণ করা। বালেগ হওয়ার উপরোক্ত নির্দিষ্ট আলামত যদি কোনো মেয়ের মধ্যে পাওয়া না যায় সেক্ষেত্রে বয়স যখন হিজরী বর্ষ হিসাবে পনেরো বছর পূর্ণ হবে তখন বালেগ গণ্য করা হবে এবং পনেরো বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো আলামত পাওয়া না গেলেও সে বালেগ বলেই বিবেচিত হবে।
কোনো মেয়ের সাথে শরয়ী পর্দা করার হুকুম প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই যখন কোনো মেয়ের নারী-পুরুষ সম্পর্কের বিষয়ে বোঝার বয়স হয়ে যায় তখন থেকেই তার সাথে পর্দা করতে হবে। আর মেয়েদের পর্দার বয়স শুরু হয় তার শরীরে মেয়েলী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ হওয়ার সময় থেকেই। যখন তাকে দেখলে কোনো পুরুষ আকর্ষণ অনুভব করে। https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1474
.
https://www.youtube.com/playlist?list=PLaKQB2-U8y4j7BHJ8EJYBMrx8yZd77_Qx

https://www.youtube.com/playlist?list=PLaKQB2-U8y4hChWxsLxugG79hf4rFF23t

https://rokib3101.blogspot.com/2021/11/hijab.html

পুরুষের পর্দা ও দেহ-সজ্জা

মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। -আন-নূর ২৪:৩০

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোন পুরুষ অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না; কোন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে এক কাপড়ের নীচে (উলঙ্গ অবস্থায়) ঘুমাবে না। -মুসলিম ৬৫৫

তোমাদের কেউ তার ক্রীতদাসীকে কৃতদাসের সাথে অথবা মজদুরের সাথে বিয়ে দিলে, সে তার (দাসীর) গুপ্ত অঙ্গ নাভির নীচে থেকে হাঁটুর উপর পর্যন্ত দেখবে না। -সুনান আবূ দাউদ ৪১১৪

নাবী ﷺ এর কাছে হঠাৎ দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি যেন আমার চোখ ফিরিয়ে নিই। -মুসলিম ৫৪৫৯

নাবী ﷺ বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবেঃ দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। -বুখারী ৫৮৯২

নবী ﷺ এর মাথার চুল (কখনও কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো। -বুখারী ৫৯০৩, ৫৪৮২

রাসূলুল্লাহ ﷺ কাযা (মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করে কিছু অংশে চুল রাখতে) থেকে নিষেধ করেছেন। -বুখারী ৫৯২১

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তাঁর কাপড় গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না। -তিরমিজী ১৭৩৭

নাবী ﷺ বলেছেনঃ ইযারের যে পরিমান টাখনুর নীচে যাবে, সে পরিমান জাহান্নামে যাবে। -বুখারী ৫৩৭১

রাসুলুল্লাহ ﷺ সোনার আংটি, রেশম মিশ্রিত কাপড়, কুসুম রংয়ের কাপড় এবং গাঢ় লাল রংয়ের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। -সুনান আন-নাসায়ী ১১২১

রাসুলুল্লাহ ﷺ 'উসফুর' ঘাস দ্বারা রঞ্জিত (কুসুম ও হলুদ রঙের) দুটি কাপড় দেখে বললেন, এগুলো কাফিরদের পোশাক। সুতরাং তুমি এগুলি পরিধান করবে না। -মুসলিম ৫২৬০

নাবী ﷺ ঐ সব পুরুষকে লা'নত করেছেন, যারা নারীর বেশ ধারণ করে। -বুখারী ৫৪৬৫

রাসূল ﷺ বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। জনৈক আনসার জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দেবরদের ব্যাপারে কি নির্দেশ? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যুতুল্য। -বুখারী ৪৮৫২

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ এক কাপড় পরে এমনভাবে যেন সালাত আদায় না করে যে, তার উভয় কাঁধে এর কোন অংশ নেই। -বুখারী ৩৫৯

হে আদাম সন্তান! আমি তোমাদেরকে পোষাক-পরিচ্ছদ দিয়েছি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং শোভা বর্ধনের জন্য। আর তাকওয়ার পোশাক হচ্ছে সর্বোত্তম পোশাক। ওটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।  -আল-আ'রাফ ৭:২৬

হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে, যেরূপ তোমাদের মাতা-পিতাকে (বিভ্রান্ত করে) জান্নাত হতে বহিস্কার করেছিল এবং তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য বিবস্ত্র করেছিল। সে (শয়তান) নিজে এবং তার দল তোমাদেরকে দেখতে পায়, অথচ তোমরা তাদেরকে দেখতে পাওনা। নিঃসন্দেহে আমি অবিশ্বাসীদের জন্য শয়তানকে বন্ধু ও অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি। -আল-আ'রাফ ৭:২৭

হে আদাম সন্তান! প্রত্যেক সলাতের সময় তোমরা সাজসজ্জা গ্রহণ কর, আর খাও, পান কর কিন্তু অপচয় করো না, অবশ্যই তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না। -আল-আ'রাফ ৭:৩১

কোন নারী যেন অন্য কোন নারীর সঙ্গে সাক্ষাত করে তার বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে (স্বামী) তাকে (ঐ নারীকে) দেখতে পাচ্ছে। -বুখারী ৪৮৬০

এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী ধরনের কাপড় পরতে আদেশ করেনঃ নাবী ﷺ বললেনঃ জামা, পায়জামা, পাগড়ী ও টুপি পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে তা হলে সে যেন মোজা পরিধান করে তাঁর গিরার নিচের অংশটুকু কেটে নেয়। তোমরা জাফরান এবং ওয়ারস লাগানো কোন কাপড় পরিধান করবে না। -বুখারী ১৭১৯
 
কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সঙ্গে নিভৃতে একত্রিত না হয় অন্যথায় শয়তান অবশ্যই তৃতীয় জন হিসাবে হাযির থাকে। -তিরমিজী ২১৬৮

নাবী ﷺ বলেছেন, স্বামী অনুপস্থিত স্ত্রীর কাছে তোমরা প্রবেশ করোনা। কেননা, শয়তান তোমাদের রক্ত স্রোতে চলমান রয়েছে। -তিরমিজী ১১৭৩

নাবী ﷺ এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) বলেন, ঈমানদার মহিলারা যখন হিজরত করে নাবী ﷺ এর কাছে আসত, তখন তিনি আল্লাহর নির্দেশ "হে ঈমানদারগণ! কোন ঈমানদার মহিলা হিজরত করে তোমাদের কাছে আসলে তোমরা তাদেরকে যাচাই কর" অনুসারে তাদেরকে যাচাই করতেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ ঈমানদার মহিলাদের মধ্যে যারা (আয়াতে উল্লেখিত) শর্তাবলী মেনে নিত, তারা পরীক্ষায় কৃতকার্য হত। তাই যখনই তারা এ ব্যাপারে মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রকাশ করত তখনই রাসূল ﷺ তাদেরকে বলতেন যাও, আমি তোমাদের বায়’আর গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! কথার মাধ্যমে বায়’আত গ্রহণ ছাড়া রাসূল ﷺ এর হাত কখনো কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি। আল্লাহর শপথ। তিনি শুধুমাত্র সেইসব বিষয়েই বায়’আত গ্রহণ করতেন, যে সব বিষয়ে বায়’আত গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ্ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। বায়’আত গ্রহণ শেষে তিনি বলতেনঃ আমি কথায় তোমাদের বায়’আত গ্রহণ করলাম। -বুখারী ৪৯০৮

নাবী ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কাওমের ঘরে তাদের অনুমিত ব্যতিরেকে উকি-ঝুঁকি মারে, তা হলে তার চোখ ফুড়ে দেওয়া তাদের জন্য বৈধ হয়। -মুসলিম ৫৪৫৭

হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাবার- দাবার তৈরীর জন্য অপেক্ষা না করে খাওয়ার জন্য নবীর ঘরে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্ৰবেশ করো তারপর খাওয়া শেষে তোমরা চলে যেও; তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না। তোমরা তার পত্নীদের কাছ থেকে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। -আল আহ্‌যাব ৩৩:৫৩

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারো ঘরে তার অধিবাসীদের সম্প্রীতিসম্পন্ন অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না করে প্রবেশ করো না। -আন নূর ২৪:২৭
যদি তোমরা ঘরে কাউকেও না পাও তাহলে সেখানে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়। যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও’, তবে তোমরা ফিরে যাবে। -আন নূর ২৪:২৮
যে ঘরে কেউ বাস করে না তাতে তোমাদের কোন ভোগ করা বা উপকৃত হওয়ার অধিকার থাকলে সেখানে তোমাদের প্রবেশে কোন পাপ নেই। -আন নূর ২৪:২৯
হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের সালাতের আগে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোষাক খুলে রাখ তখন এবং ‘ইশার সালাতের পর; এ তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময়। এ তিন সময় ছাড়া (অন্য সময় বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে) তোমাদের এবং তাদের কোন দোষ নেই। তোমাদের এককে অন্যের কাছে তো যেতেই হয়। -আন নূর ২৪:৫৮
আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বড়রা। -আন নূর ২৪:৫৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সলাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সলাত আদায় না করলে) এজন্য তাদেরকে মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দিবে। -আবূ দাউদ ৪৯৫
.
.
.
বালেগ হওয়ার বয়সসীমা ও আলামত শরীয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে। কোনো ছেলের মধ্যে বালেগ হওয়ার নির্দিষ্ট আলামত পাওয়া গেলে বা নির্দিষ্ট বয়সসীমায় পৌঁছলেই তাকে বালেগ গণ্য করা হবে এবং তখন থেকেই শরীয়তের হুকুম-আহকাম তার উপর প্রযোজ্য হবে। ছেলেদের বালেগ হওয়ার আলামত হল: ক) স্বপ্নদোষ হওয়া। খ) বীর্যপাত হওয়া। বালেগ হওয়ার উপরোক্ত নির্দিষ্ট আলামত যদি কোনো ছেলের মধ্যে পাওয়া না যায় সেক্ষেত্রে বয়স যখন হিজরী বর্ষ হিসাবে পনেরো বছর পূর্ণ হবে তখন বালেগ গণ্য করা হবে এবং পনেরো বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো আলামত পাওয়া না গেলেও সে বালেগ বলেই বিবেচিত হবে।
কোনো ছেলের সাথে শরয়ী পর্দা করার হুকুম প্রাপ্ত  বয়স্ক হওয়ার সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই যখন কোনো ছেলের নারী-পুরুষ সম্পর্কের বিষয়ে বোঝার বয়স হয়ে যায় তখন থেকেই তার সাথে পর্দা করতে হবে।
https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1474
.
https://www.youtube.com/playlist?list=PLaKQB2-U8y4hkTCrISE4HuOd66wZ5kFwh

https://www.youtube.com/playlist?list=PLaKQB2-U8y4hChWxsLxugG79hf4rFF23t

সতর

সতর বলতে বুঝানো হয় শরীরের গোপনাংশ, শরীরের যে অংশ আবৃত করা মুসলিম নারী পুরুষের জন্য ফরয বা অত্যাবশ্যকীয়। ইসলামের নিদের্শনা অনুসারে মুসলিম নরনারীর জন্য শরীরের বিশেষ কিছু অংশ সদা সর্বদা অন্য মানুষের দৃষ্টি থেকে আবৃত করে রাখা ফরয। এছাড়া আরো কিছু অংশ আবৃত করা উত্তম। পুরুষ ও নারীদের জন্য এবিষয়ে পৃথক বিধান রয়েছে।

পুরুষদের জন্য সদাসর্বদা নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত শরীর অন্য মানুষের দৃষ্টি থেকে আবৃত করে রাখা ফরয। এই অংশটুকু স্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে দেখানো হারাম। সালাতের মধ্যে এই অংশটুকু আবৃত করে রাখা ফরয। কেউ দেখুক বা না দেখুক শরীরের এই অংশের মধ্যে কোন স্থান অনাবৃত হলে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। তবে কাপড় না থাকলে উলঙ্গ হয়েই সালাত আদায় করতে হবে। এছাড়া কাধ ও শরীরের উপরিভাগ আবৃত করা সুন্নাত।

মহিলাদের পোষাকের মূলত ৪টি স্তর রয়েছে।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন পোষাকের বাধ্যবাধকতা নেই।
মুসলিম মহিলার সামনে মুসলিম মহিলার সতর, পুরুষরে সামনে পুরুষের সতরের অনুরূপ। অর্থাৎ, নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত।
মাহরাম আত্মীয়দের সামনে সতর সিনা থেকে হাটু পর্যন্ত।
বাকী সকল পুরুষের দৃষ্টি থেকে মুসলিম মহিলা মাথার চুলসহ মাথা ও পুরো শরীর আবৃত করে রাখবেন। এগুলি তাদের সামনে অনাবৃত করা হারাম ও কঠিন গোনাহের কারণ। সালাতের মধ্যেও এই অংশটুকু আবৃত করতে হবে। শুধুমাত্র মুখমণ্ডল ও কব্জি পর্যন্ত দুই হাত বাদে পুরো শরীর আবৃত করতে হবে।
সালাতের মধ্যে যদি কোন মহিলার কান, চুল, মাথা, গলা, কাঁধ, পেট, পায়ের নলা ইত্যাদি অনাবৃত হয়ে যায় তাহলে সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। ঢিলেঢালা পুরো হাতা সেলোয়ার-কামিজ বা ম্যাক্সি মুসলিম মহিলার জন্য উত্তম ও আদর্শ পোশাক। সর্বাবস্থায় সাধারণ পোশাকের উপর অতিরিক্ত বড় চাদর দিয়ে ভালভাবে নিজেকে আবৃত করে সালাত আদায় করতে হবে।

https://www.ifatwa.info/1493

Women's travelling

যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে- তার জন্য সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এক দিনের দূরত্বের পথ সফর করা হালাল নয়। -মুসলিম ৩১৩৭
.
নাবী ﷺ ইরশাদ করেনঃ মেয়েরা মাহরাম ব্যতীত অন্য কারো সাথে সফর করবে না। মাহরাম কাছে নেই এমতাস্থায় কোন পুরুষ কোন মহিলার নিকট গমন করতে পারবে না। এ সময় এক ব্যাক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদ করার জন্য যেতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হাজ্জ করতে যেতে চাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তুমি তাঁর সাথেই যাও। -বুখারী ১৭৪০
.
"The majority of scholars are of the view that the distance at which a traveler may join prayers and not fast is forty-eight miles. Ibn Qudaamah said in al-Mughni: 
The view of Abu ‘Abd-Allaah [i.e., Imam Ahmad] is that it is not permissible to shorten the prayers for a distance of less than sixteen farsakhs, and a farsakh is three miles, so the distance is forty-eight miles. This was the estimation of Ibn ‘Abbaas. He said: From ‘Usfaan to Makkah, or from al-Taa’if to Makkah, or from Jeddah to Makkah. 
Based on this, the distance at which it is permissible to shorten prayers is the distance of two days’ travel aiming directly for that dsetination. This is the view of Ibn ‘Abbaas and Ibn ‘Umar, and the view of Maalik, al-Layth and al-Shaafa’i. 
The equivalent in kilometers is approximately 80 km. 
Shaykh Ibn Baaz said in Majmoo’ al-Fataawa (12/267), explaining what is meant by traveling: 
The view of the majority of scholars is that this is equivalent to approximately eighty kilometers for one who travels by car, plane or ship. This distance is what is called traveling according to the custom of the Muslims. So if a person travels by camel, car, plane or ship, for this distance or more, he is regarded as a traveler. 
The Standing Committee was asked (8/90) about the distance at which a traveler may shorten his prayers, and can a taxi-driver who covers more than three hundred kilometers shorten his prayer? 
They replied: 
The distance at which a traveler may shorten his prayers is approximately 80 km, according to the view of the majority of scholars. It is permissible for a taxi driver or anyone else to shorten his prayers, if he is going to cover the distance mentioned at the beginning of the question, or more. 
Some scholars are of the view that traveling is not to be defined by a specific distance, rather it should be defined according to custom: whatever people customarily regard as traveling is the traveling to which the shar’i rulings apply, such as joining and shortening prayers, and not fasting. 
Shaykh al-Islam said in al-Fataawa (24/106): The evidence supports those who regard shortening prayers and not fasting as being applicable to all types of travel and do not single out one kind of traveling to the exclusion of another. This view is the correct one. 
Shaykh Ibn ‘Uthayemeen was asked in Fataawa Arkaan al-Islam (p. 381) about the distance at which a traveler may shorten his prayers and whether it is permissible to join prayers without shortening them. 
He replied: 
The distance at which a traveler may shorten his prayers was defined by some of the scholars as being approximately eighty-three kilometers, and some defined it as being what is customarily regarded as traveling, even if the distance is not 80 km, and that what the people say is not traveling should not be regarded as such, even if it is as far as one hundred kilometers. 
The latter view is the view favoured by Shaykh al-Islam Ibn Taymiyah (may Allaah have mercy on him), because Allaah did not state a specific distance for it to be permissible to shorten prayers, and neither did the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him). 
Anas ibn Maalik (may Allaah be pleased with him) said: If the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) set out for a journey of three miles or three farsakhs, he would pray two rak’ahs. Narrated by Muslim, 691. 
The view of Shaykh al-Islam Ibn Taymiyah is closer to what is correct. 
There is nothing wrong, if there is a conflict between customary views, in going by the opinion which suggests that travel should be defined in terms of distance, because this was the view of some of the imams and scholars and mujtahids. So there is nothing wrong with that in sha Allah. But so long as custom gives a clear definition, then referring to what is customary is the right thing to do."
https://islamqa.info/en/38079
.
.
.
"The saheeh Sunnah indicates that it is not permissible for a woman to travel except with a mahram. This travelling is not defined by a specific distance, as is the case with shortening the prayers or breaking the fast, rather everything that is called travelling, whether it is long or short, is not permitted for a woman unless she has a mahram with her. 
Al-Bukhaari (1729) and Muslim (2391) narrated that Ibn ‘Abbaas (may Allaah be pleased with him) said: The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “No woman should travel except with a mahram.” 
The fuqaha’ are unanimously agreed that it is haraam for a woman to travel without a mahram, except in a few exceptional cases, such as travelling for the obligatory Hajj, for which some of them have permitted a women to travel with trustworthy companions. Al-Haafiz Ibn Hajar (may Allaah have mercy on him) said: al-Baghawi said: They did not differ concerning the fact that a woman may not travel for anything but the obligatory Hajj except with a husband or mahram, except a kaafir woman who becomes Muslim in daar al-harb or a female captive who escapes. Others added: or a woman who becomes separated from her group and is found by a trustworthy man, in which case it is permissible for him to accompany her until he brings her back to her group. End quote from Fath al-Baari (4/76). 
Al-Nawawi (may Allaah have mercy on him) said in Sharh Saheeh Muslim, explaining that travel in this case is not defined by a specific distance: 
Everything that is called travelling, it is forbidden for a woman to do without her husband or a mahram, whether it is three days, two days or one day, or anything else, because of the hadeeth of Ibn ‘Abbaas, according to which the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “No woman should travel without a mahram.” This includes everything that is called travel. And Allaah knows best.
End quote. 
And it says in Fataawa al-Lajnah al-Daa’imah (17/339): It is haraam for a woman to travel without a mahram in all cases, whether the journey is long or short. End quote. 
Based on this, if going from your city to this place is regarded as travelling according to the people’s customs, then it is not permissible for you to go there without a mahram. If it is not regarded as travelling according to custom then there is nothing wrong with you going there without a mahram. 
The fact that the route is filled with cities, schools and farms does not alter this ruling. 
Secondly: 
With regard to shortening the prayer or breaking the fast when travelling, and wiping over the khuffayn for three days and nights, the majority (of scholars) are of the view that travel in this case is defined by a certain distance, which is approximately 80 kilometers, and that distance starts from where the built-up area of the city ends. See: Tuhfat al-Muhtaaj (2/370) and al-Mawsoo’ah al-Fiqhiyyah (27/270). Some scholars do not define it by a particular distance, rather they refer the matter to local customs.
https://islamqa.info/en/101520
.
.
.
The saheeh Sunnah indicates that it is not permissible for a woman to travel without a mahram. This includes both long and short journeys, according to the majority of scholars. Everything that is called travelling is forbidden to a woman unless she has a mahram with her. 
Al-Bukhaari (1729) and Muslim (2391) narrated that Ibn ‘Abbaas (may Allaah be pleased with him) said: The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “No woman should travel except with a mahram, and no man should enter upon her unless there is a mahram present.” A man said: O Messenger of Allaah, I want to go out with such and such an army, and my wife wants to go for Hajj. He said: “Do Hajj with her.” 
Al-Nawawi (may Allaah have mercy on him) said, explaining that travel here does not refer to a particular distance: 
What is meant is that everything that is called travel is forbidden to a woman without a husband or mahram, whether it is three days or two days or one day or twelve miles or anything else, because of the report of Ibn ‘Abbaas (may Allaah be pleased with him), “No woman should travel except with a mahram.” This includes everything that is called travelling. [Sharh Muslim (9/103)] 
In Fataawa al-Lajnah al-Daa’imah (17/339) it says: It is haraam for a woman to travel without a mahram in all cases, whether the distance is short or long.
What counts here is what is customary among people. If people regard it as travelling, then it is travelling, and it is not permissible for a woman to set out on such a journey except with a mahram.
https://islamqa.info/en/110929
.
.
.
The Prophet (صلی اللہ علیہ وسلم) said: "Any it is now allowed for a woman who has belief in Allah and His messenger that she travels to a destination of more than 78 kms alone. Yes, she can travel this distance or more with a mehram (immediate relatives like father, son, husband, nephew). Some traditions refer to a distance of only three miles while some absolutely prohibit from traveling. All these traditions differ as per the worsening conditions of different ages and times. As much the fitna (mischief, evil) will prevail as much the cautiousness will be required.
https://darulifta-deoband.com/home/en/Womens-Issues/3729
.
.
.
There is evidence that it is not permissible for a woman to travel except with a Mahram (i.e. a husband or a person whom one is permanently prohibited from marrying due to suckling, marital, or blood relations); for more benefit in this regard, please refer to Fatwa 85945. In that Fatwa, we mentioned some exceptions which the scholars  stated for cases of necessity.
However, it is not correct to use the narrations mentioned in the question to prove that it is permissible for a woman to travel without a Mahram for the following reasons:
The Hadeeth states the possibility of a woman travelling from Iraq to the Ka'bah while fearing no one but Allaah. Therefore, reporting this possibility does not mean that it is permissible to do so.
The travel of 'Aa'ishah and other mothers of the believers  to Hajj does not necessarily mean that there was no Mahram with each of them, so this does not contradict the authentic narrations [about the prohibition of a woman travelling without a Mahram]. There might well have been a Mahram with them. Indeed it is confirmed that when the Prophet  , prohibited a woman from travelling without a Mahram, he  ordered one companion who informed him that his wife left for Hajj, to catch up with her  and perform Hajj with her, despite the fact that the Companion  was determined to go for Jihaad (to fight in the cause of Allaah)." https://islamweb.org/en/fatwa/102095/narrations-about-womans-travel-without-a-mahram
.
.
.
Initially it is forbidden for the Muslim woman to travel without being accompanied by her husband or a Mahram. But the Fuqaha (scholars of Islamic jurisprudence) excepted from this prohibition, the cases of necessity like the emigrating woman or the one who is a prisoner. They allowed women in such critical situations to travel without a Mahram or husband. Some Fuqaha even allow the travel of the woman, if she is accompanied by a trustworthy group of people if the trip is obligatory. From the above, we conclude that if the trip of this woman is for dire necessity like fleeing from temptations and the like, then it is lawful for her to travel with this group of people provided she adheres to the Shariah rules like wearing Hijab and not mixing with men in a way that could lead to temptations, …etc. https://islamweb.org/en/fatwa/85945/traveling-without-a-mahram-in-a-group
.
.
.
The Prophet Muhammad said,
“A woman may not travel except for when accompanied by a mahram.”
Imam Nawawi said, ‘The point in fixing [a limit of time or distance to consider what is or is not a journey] is not what is understood literally from the expression. In fact, everything that is termed ‘safar[a journey]’ is impermissible for a woman, except for when she has a mahram.’” (Fath al-Bari 4/75)
Imam Nawawi stated,
“It is permissible to go on an obligatory pilgrimage with a husband, mahram, or trustworthy woman; and it is not permissible except for with one of them, even if the way is safe. And there is a weak view that it is permissible when the way is safe…”
Imam Nawawi’s discussion continues,
“…regarding a non-obligatory pilgrimage, a journey for visitation or trade, and every non-obligatory journey, it is not permissible according to the relied-upon view, except for with a husband or mahram. And it is said [as a lesser opinion] that it is permissible with women or a dependable woman, similar to an obligatory pilgrimage.” (Sharh al-Muhadhdhab 8/342-43)
“Karabisi related [as a qawl qadim – an opinion from the ‘Iraqi School which was later retracted] that Imam Shafi’i said, ‘when the way is safe, the journey is permissible without other women.’ Abu al-Tayyib, Sahib al-Murshid, Ruyani, and Baghawi made it their independent opinion [ikhtiyar]. They relied on ‘Adi b. Hatim’s narration, [that the Prophet Muhammad said to him], ‘if you live long enough, a woman shall travel from Hirah until she makes tawaf of the Ka’bah while not in fear.’ And, ‘Adi said, ‘I saw that.’…Thus, the previous narration is taken to mean when she has no fear for herself, in general.”
Hence, the idea of a woman traveling unaccompanied for Hajj is related from some authorities. It is related as Imam Shafi’i’s qawl qadim. Imam Bayhaqi related the qawl qadim; as did Imam Nawawi. (al-Sunan al-Kubra 5/226; Rawdat al-Talibin 2/284) Again, the view pertains to Hajj.
Regarding a non-obligatory journey, Ibn al-Rif’ah’s discussion continues,
”On a journey of obedience, like visiting parents, a supererogatory pilgrimage, or a permissible act like business, the madhhab is upon what Bandaniji stated following Abu Hamid that a mahram is stipulated. Even so, some of the As-hab related it to an obligatory journey. Qaffal made it his independent opinion [ikhtiyar]. And, [Ruyani] stated in al-Bahr, ‘It is the most sound and most analogous according to me; however, it is disliked [makruh].’” (Kifayat al-Nabih 7/49-51)
This wording is also mentioned in Bahr al-Madhhab vol. 5, pg. 31, without mention of it being disliked.
The previously mentioned texts of Kifayat al-Nabih and Bahr al-Madhhab mention the independent views [ikhtiyar] of Ruyani and Qaffal that pertain to her traveling on a non-obligatory journey, with the consideration that she be accompanied by other women. In Rawdah, this is clarified by Imam Nawawi. (2/284) Imam Nawawi deems their position as lesser, and affirms that in the relied-upon opinion [al-asahh] she needs a mahram/husband.
Therefore, Ruyani’s and Qaffal’s ikhtiyar match the muqabil al-asahh, as it comes in Rawdah. In Sharh al-Muhadhdhab, the relied-upon view (requiring a mahram/husband) is mentioned as “madhhab sahih mansus.” (8/342) And thereafter with the sighat al-tamrid “qila,” the lesser view (being accompanied by a dependable woman or women) is related.
https://islamqa.org/?p=30212