Sunday, April 21, 2019

মধ্য শাবানের রাত

আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৯০
.
মানুষের আমলনামা সপ্তাহে দু'বার সোমবার ও বৃহস্পতিবার পেশ করা হয়। এরপর প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই এর সাথে তার শক্রতা আছে। তখন বলা হবে, এই দুজনকে রেখে দাও অথবা অবকাশ দাও যতক্ষন না তারা আপোষের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। -সহীহ মুসলিম ৬৩১৪
.
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (বিছানায়) না পেয়ে তাঁর খোঁজে বের হলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি বাকির কবরস্থানে, তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুলে আছেন। তিনি বলেন: হে আয়িশাহ! তুমি কি আশঙ্কা করেছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তা নয়, বরং আমি ভাবলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৮৯ (যঈফ)
.
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত পড়ো এবং এর দিনে সওম রাখো। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেনঃ কে আছো আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দান করবো। কে আছো রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছো এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহবান করেন)। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৮৮ (জাল)
.
মহামহিম আল্লাহ্ তা’আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমন, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। -সহীহ বুখারী ১০৭৯

Thursday, April 4, 2019

আযান, ইকামাত, দোআ

আযান উচ্চারণ: “আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ; হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্; হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ; আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ।” অনুবাদ: “আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।”-সূনান আবু দাউদ ৪৯৯ ... ফজরের আযান উচ্চারণ: “আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ; হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্; হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ; আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম, আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম; আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ।” অনুবাদ: “আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; সলাত ঘুম থেকে উত্তম; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।” -সূনান আবু দাউদ ৫০০ ... ইকামাত উচ্চারণ: “আল্লাহু আকরার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকরার, আল্লাহু আকবার; আশহাদুআল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদুআল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্; ক্বাদ ক্বামাতিস স্বলাহ্‌; ক্বাদ ক্বামাতিস স্বলাহ্‌; আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।” অনুবাদ: “আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; সলাতে দাঁড়ানোর সময় নিকটবর্তী হয়েছে; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।” সূনান আবু দাউদ ৪৯৯
...
আযানের উত্তর
উচ্চারণ: “আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার;
আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ;
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ;
লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ;
লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ;
আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার;   লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ।”
অনুবাদ: “আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। -সহীহ মুসলিম ৭৩৬
...
রাসুল কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মু'আযযীনকে আযান দিতে শুনবে, তখন সে যা বলে তাই বলবে। তারপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ করবে। কারণ যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে। ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোন এক বান্দাকে দেয়া হবে। আমি আশা করি যে, আমিই হব সেই বান্দা। যে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে, তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে। -সহীহ মুসলিম ৭৩৫
...
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আযান শুনে দু’আ করেঃ
উচ্চারণ: “আল্লা-হুম্মা রব্বা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তা-ম্মাতি ওয়াস্ সলা-তিল ক্ব-য়িমাতি আ-তি মুহাম্মাদা-নিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ্, ওয়াব্‘আসহু মাক্বা-মাম্ মাহমূদা-নিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ্।”
অনুবাদ: “হে আল্লাহ-এ পরিপূর্ণ আহবান ও সালাত-এর প্রতিষ্ঠিত মালিক, মুহাম্মাদ কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকেমে মাহমূদে পৌছিয়ে দিন যার অঙ্গিকার আপনি করেছেন।”
কিয়ামতের দিন সে আমার শাফা’আত লাভের অধিকারী হবে। -সহীহ বুখারী ৫৮৭
...
যে ব্যাক্তি মু-আযযিনের আযান শুনে নিম্নের দুঁআটি পাঠ করে তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়ঃ
উচ্চারণ: “আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়ারসূলুহূ, রযীতু বিল্লা-হি রববাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলান ওয়াবিল ইসলা-মি দীনা।”
অনুবাদ: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি সন্তুষ্ট আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ কে রাসুল হিসেবে পেয়ে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে।” -সহীহ মুসলিম ৭৩৭

Tuesday, March 26, 2019

Friday, February 22, 2019

বই

১-৪২ এবং তার পরবর্তী ১-৩ নং বই গুলো এক সাথে ডাউনলোড করতে পারেন এই লিংকে।
আলাদা আলাদা ভাবে ডাউনলোড করতে বইয়ের নামে (একাধিক খন্ডের ক্ষেত্রে খন্ডের নম্বরে) ক্লিক করুন।

  1. নূরানী হাফেজী কোরআন শরীফ
  2. কোরআনের পূর্ণাঙ্গ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ
  3. রিয়াযুস স্বা-লিহীন    
  4. আল-আদাবুল মুফরাদ
  5. সীরাতে ইবনে হিশাম    
  6. আর রাহীকুল মাখতূম
  7. জাদুল মাআ’দ ১ম ও ২য় খণ্ড
  8. দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম
  9. ইসলাহী নেসাব
  10. সহজ তা'লীমুন নিসা (মাতৃজাতির জীবন বিধান)
  11. ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ
  12. আল-ফিকহুল আকবার
  13. ইসলামী আকীদা
  14. আহলি সুন্নাতনওয়াল জামায়া'তের আক্বীদাহ বা বিশ্বাস
  15. এহ্ইয়াউস সুনান
  16. হাদীসের নামে জালিয়াতি
  17. রাহে বেলায়াত রাসুলুল্লাহর (সঃ) যিকর-ওযীফা ১-৫ ০৬
  18. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা
  19. নামাজ পড়ার পদ্ধতি
  20. হজ্বের সফরনামা বাইতুল্লাহর মুসাফির
  21. বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন
  22. নবীদের কাহিনী ০১ ০২
  23. আমরা সেই সে জাতি ০১ ২০ ৩০
  24. ইতিহাসের মৃত্যুঞ্জয়ী মহাবীর শহীদ টিপু সুলতান
  25. দেওবন্দ আন্দোলন - ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান
  26. মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশ (সংস্কৃতির রূপান্তর)
  27. বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস
  28. ইতিহাসের ইতিহাস
  29. মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো?
  30. মাওলানা তারিক জামিলের নূরানী বয়ান
  31. বিশুদ্ধ দরূদ ও অজীফাহ
  32. হিসনুল মুসলিম
  33. ছিলাহুল মু'মিন (মুমিনের হাতিয়ার বা অস্ত্র)
  34. কবুল করুন আপনার আমানত
  35. আল-বেরুনীর ভারততত্ত্ব
  36. সত্যকথন
  37. তাফসীরে সূরা তাওবা
  38. এসো আরবী শিখি ১ ২ ৩
  39. বোগদাদী কায়দা
  40. ক্বারীউল ক্বোরআন
  41. আত্মশুদ্ধি
  42. বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মুসলিম মনীষী

অডিও

আস-সালামু আলাইকুম। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
শিরোনামে ক্লিক করে প্রতিটি সিরিজের সবগুলো পর্ব এক সাথে ডাউনলোড করতে পারেন।
পর্বগুলো আলাদা আলাদা ভাবে ডাউনলোড করতে প্রতিটি পর্বে (একাধিক খন্ডের ক্ষেত্রে খন্ডের নম্বরে) ক্লিক করুন।

কুরআন তিলাওয়াত

কুরআন তিলাওয়াত (বাংলা অনুবাদ সহ)

তাহাজ্জুদঃ মু'মিনের অন্তরের প্রশান্তি ০১ ০২

ধূলিমলিন উপহার: রামাদান

পরকালের পথে যাত্রা
মৃত্যু ও কবরের জীবন ০১ ০২ ০৩
ক্বিয়ামতের ছোটো আলামত ০৪ ০৫ ০৬ ০৭
ক্বিয়ামতের বড়ো আলামত ০৮ ০৯ ১০
পুনরুত্থান ও বিচার দিবস ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬
জান্নাত-জাহান্নাম ১৭ ১৮ ১৯ ২০ ২১ ২২

পথিকৃৎদের পদচিহ্ন: নবীদের জীবন
আদম আ. ০১ ০২
নূহ আ. ০৩
হূদ আ. ০৪
সালেহ আ. ০৫
ইবরাহীম, ইসমাঈল এবং ইসহাক্ব আ. ০৬ ০৭ ০৮
লূত আ. ০৯
শুআঈব আ. ১০
ইউসুফ এবং ইয়াকুব আ. ১১ ১২ ১৩ ১৪
আইয়ুব আ. ১৫
ইউনুস আ. ১৬
ইউশা বিন নূন আ. ২৭
দাউদ আ. ২৮
সুলাইমান আ. ২৯ ৩০
আলে ইমরান -- ইয়াহইয়া, যাকারিয়্যা, মারইয়াম এবং ঈসা আ. ৩১ ৩২ ৩৩

সীরাহ অডিও
১৮ বয়কট
৩০ মুসলিম বাহিনী গঠন
৩১ মদীনার দিনগুলি
৩২ জিহাদের সূচনাঃ গাযওয়া এবং সারিয়া
৩৩ ময়দানের পথে... (বদরের প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুুতি)
৩৪ ময়দানে মুখোমুখি
৩৫ বদরের ময়দানে
৩৬ বদরের যুদ্ধের কিছু টুকরো ঘটনা
৩৭ বদরের শিক্ষা ও প্রভাব
৩৮ মদীনায় নতুন শত্রু
৩৯ বনু কায়নুকার অবরোধ
৪০ উহুদের ময়দানে
৪১ বিপর্যয়
৪২ উহুদের শহীদেরা
৪৩ উহুদের শিক্ষা
৪৪ উহুদ পরবর্তী সংকট
৪৫ বনু নাযীরের অবরোধ
৪৬ ইফকের ঘটনা
৪৭ অবরুদ্ধ মদীনা
৪৮ পরাজিত হলো জোটবাহিনী
৪৯ বনু কুরায়যার পিরণতি
৫০ যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সাথে বিয়ে

তাওহীদ সিরিজঃ বাংলা
২১ সবর

ঈমান সবার আগে

রেইনড্রপস

Wednesday, February 20, 2019

সালাত

তাকবীরে তাহরীমা: উচ্চারণ: “আল্লা-হু আকবর” অনুবাদ: “আল্লাহ সবার চেয়ে বড়।” . ছানা: উচ্চারণ: “সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবা-রাকাসমুকা ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুকা।” অনুবাদ: “হে আল্লাহ, পবিত্রতা এবং প্রশংসা আপনারই; বরকতময় আপনার নাম; অতি উচ্চ আপনার মর্যাদা, আর কোন ইলাহ নেই আপনি ছাড়া।” -সূনান তিরমিজী ২৪২ ... রুকূর দো‘আ: উচ্চারণ: “সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আযীম।” অনুবাদ: “আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।” -সহীহ মুসলিম ১৬৮৭ . ক্বওমা’র দো‘আ: উচ্চারণ: “সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ। রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু।” অনুবাদ: “যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন ! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা।” -সহীহ মুসলিম ১৬৮৭ . সিজদার দো‘আ: উচ্চারণ: “সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা।” অনুবাদ: “আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।” -সহীহ মুসলিম ১৬৮৭ . দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দো‘আ: উচ্চারণ: “রাব্বিগ-ফির লী রাব্বিগ-ফির লী।” অনুবাদ: “প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন।” -সুনানে ইবনে মাজাহ ৮৯৭ ... তাশাহ্হুদ: উচ্চারণ: “আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্সালাওয়া-তু ওয়াত্তায়্যিবা-তু আস্সালা-মু ‘আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু। আস্সালা-মু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লা-হিস সা-লেহীন। আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।” অনুবাদ: “যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী, আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক। যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়, সে আসমানেই থাক অথবা জমীনে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।” -সহীহ মুসলিম ৭৮২ ... দরূদ: উচ্চারণ: “আল্লা-হুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিউওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিউওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বা-রাকতা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।” অনুবাদ: “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করো- যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো- যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।” -সহীহ মুসলিম ৭৯৩ ... দো‘আয়ে মাছূরাহ: উচ্চারণ: “আল্লা-হুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরা। ওয়ালা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা। ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম।” অনুবাদ: “ইয়া আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অধিক যুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।” -সহীহ বুখারী ৭৯৫ ... সালাম: উচ্চারণ: “আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।” অনুবাদ: “আল্লাহর পক্ষ হ’তে আপনার উপর শান্তি ও অনুগ্রহ বর্ষিত হোক।” … উচ্চারণ: “আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম। বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম।” অনুবাদ: “বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।” ... উচ্চারণ: “আলহাম্দু লিল্লা-হি রবিবল ‘আ-লামীন। আর রহমা-নির রহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দ্বীন। ইইয়া-কা না‘বুদু ওয়া ইইয়া-কা নাস্তা‘ঈন। ইহ্দিনাছ ছিরা-ত্বাল মুস্তাক্বীম। ছিরা-ত্বাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম। গায়রিল মাগদূবি ‘আলাইহিম ওয়া লায্ দোয়া-ল্লীন।” আমীন! অনুবাদ: “যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।” -সূরা ফাতিহা ... উচ্চারণ: “ক্বুল ইয়া আইয়ুহাল কা-ফিরূণ! লা আ‘বুদু মা তা‘বুদূন। ওয়া লা আনতুম ‘আ-বিদূনা মা আ‘বুদ। ওয়া লা আনা ‘আ-বিদুম মা ‘আবাদতুম। ওয়া লা আনতুম ‘আ-বিদূনা মা আ‘বুদ। লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন।” অনুবাদ: “বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।” -সূরা কা-ফিরূণ ... উচ্চারণ: “ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লা-হুছ ছামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইয়ুলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূ কুফুওয়ান আহাদ।” অনুবাদ: “বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।” -সূরা ইখলাছ ... উচ্চারণ: “ক্বুল আ‘ঊযু বি রবিবল ফালাক্ব। মিন শার্রি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শার্রি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শার্রিন নাফ্ফা-ছা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শার্রি হা-সিদিন ইযা হাসাদ।” অনুবাদ: “বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।” -সূরা ফালাক্ব ... উচ্চারণ: “ক্বুল আ‘ঊযু বি রবিবন্না-স। মালিকিন্না-স। ইলা-হিন্না-স। মিন শার্রিল ওয়াস্ওয়া-সিল খান্না-স। আল্লাযী ইয়ুওয়াস্ভিসু ফী ছুদূরিন্না-স। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।” অনুবাদ: “বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।” -সূরা নাস ... রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সালাতের ইকামাত দেওয়া হলে, তার জন্য দৌড়ে আসবে না, বরং ধীরে সুস্থে আসবে। তারপর যা পাবে, আদায় করবে আর যা ছুটে যায়, তা পূর্ণ করে নিবে। কেননা, তোমাদের কেউ যখন সালাতের উদ্দেশ্যে চলে তখন সে সালাতেই গণ্য। -সহীহ মুসলিম ১২৩৭ ... খাবার সামনে আসার পর কোনও সালাত নেই এবং পেশাব পায়খানার বেগ থাকা অবস্থায়ও কোন সালাত নেই। -সহীহ মুসলিম ১১২৮ ... রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি সময়ে সালাত আদায় এবং মৃত ব্যাক্তিকে কবরস্থ করা হতে আমাদেরকে নিষেধ করতেন, সূর্য যখন আলোকজ্জ্বল হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে পরিষ্কারভাবে উপরে না উঠা পর্যন্ত। যখন সূর্য ঠিক মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হলে, যাবৎ না সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হয়। -সহীহ মুসলিম ১৮০২ ... নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন জিবরীল (আ) বায়তুল্লাহর কাছে দুইদিন আমার ইমামমত করেছেন। এর প্রথম দিন তিনি যুহরের সালাত আদায় করেছেন যখন একটি বস্তুর ছায়া জুতার ফিতার মত সামান্য লম্বা হয় আসরের সালাত আদায় করেছেন যখন একটি বস্তুর ছাড়া তাঁর সমান হয়; মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য ডুবে যায় এবং রোযাদার ইফতাঁর করে ইশার সালাত আদায় করেছেন যখন শাফাক বা সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর শেষ লালিমার পরবর্তী শভ্রতা মিলিয়ে যায়। ফজরের সালাত আদায় করেছেন যখন উজ্জল হয়ে সুবহে সা’দিকের উন্মোষ ঘটে এবং রোযাদারদের জন্য খাদ্য গ্রহণ হারাম হয়ে যায়। তিনি দ্বিতীয় দিন যুহর আদায় করেছেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তাঁর সমান হয়; অর্থাৎ গতদিনের আসরের সালাত আদায় করার সময়ে; আসরের সালাত আদায় করোছেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তাঁর দ্বিগুণ হয়; মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন প্রথম দিনের সময়েই; ইশার সালাত আদায় করেছেন যখন রাত্রির তিন ভাগের এক ভাগ অতিক্রান্ত হল; এরপর ফজর আদায় করেছেন যখন ভালভাবে পৃথিবী ফর্সা হয়ে গেল। তাঁরপর জিবরীল (আ) আমার দিকে ফিরলেন বললেনঃ হে মুহাম্মাদ এ হল আপনার পূর্ববর্তী নাবীগনের সালাতের ওয়াক্ত। এ দুয়ের মাঝের ওয়াক্তই হল সালাতের ওয়াক্ত। -সূনান তিরমিজী ১৪৯ ... রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক প্রশ্নকারী এসে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তিনি তখন তার কোনও উত্তর দিলেন না। তারপর ফজর আদায় করলেন যখন ফজরের ওয়াক্ত (মাত্র) প্রতিভাত হল। আর লোকেরা (অন্ধকারের জন্য) একে অন্যকে চিনতে পারছিল না। তারপর তাকে (বিলালকে) আদেশ করলেন। অতঃপর তিনি যুহররের ইকামাত দিলেন সূর্য হেলামাত্র। তখন কেউ কেউ বলাবলি করছিল যে, এখন দুপুর হয়েছে মাত্র। অথচ তিনি তাদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত ছিলেন। তারপর তাঁকে (বিলালকে) আদেশ করলেন। তিনি আসরের ইকামাত দিলেন সূর্য তখনও উপরেই ছিল। তারপর তাকে (বিলালকে) আদেশ করলেন। তিনি মাগরিব আদায় করলেন সূর্য অস্ত যাওয়ামাত্র। তারপর তাকে (বিলালকে) আদেশ করলেন। তিনি এশার ইকামাত দিলেন শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পর। এর পরের দিন ফজরের সালাত বিলম্বিত করলেন এমন কি সালাত শেষ করার পর কেউ কেউ বলাবলি করছিল যে, সূর্য উঠে গেছে কিংবা প্রায় উঠে উঠে। তারপর যুহর দেরী করে আদায় করলেন গত দিনের আসরের ওয়াক্তের কাছাকাছি সময়ে। তারপর আসর এতখানি দেরী করে আদায় করলেন যাতে সালাতশেষে লোকেরা বলছিল যে, সূর্য লাল হয়ে গিয়েছে। তারপর মাগরিবে এতখানি দেরী করলেন যে, শাফাক গায়েব হওয়ার কাছাকাছি সময় এসে গেল। তারপর এশা রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করলেন। তারপর ভোর হলে প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেন, ওয়াক্ত এই সীমার মধ্যবতী। -সহীহ মুসলিম ১২৬৯ ... মক্কার পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার বিশ্রাম গ্রহণের জন্য) রাত্রিতে অবতরণ করিলেন এবং বিলালকে নামাযের জন্য জাগাইয়া দেওয়ার দায়িত্বে নিযুক্ত করিলেন। তারপর বিলাল ঘুমাইলেন এবং অন্য সকলেও ঘুমাইলেন। এমন কি তাহারা জাগিলেন সূর্য ওঠার পর। হতচকিত অবস্থায় দলের লোকজন জাগ্রত হইলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে সওয়ার হওয়ার এবং সেই উপত্যকা হইতে বাহিরে চলিয়া যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর তিনি বলিলেনঃ এই উপত্যকায় অবশ্যই শয়তান রহিয়াছে। তারপর তাহারা সওয়ার হইলেন এবং সেই উপত্যক হইতে বাহির হইয়া গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে অবতরণ এবং ওযু করার নির্দেশ দিলেন। আর বিলালকে নামাযের জন্য আযান অথবা ইকামত বলার হুকুম করিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনকে নামায পড়াইলেন। তারপর তাঁহাদের দিকে মুখ ফিরাইলেন এবং তাঁহাদের ঘাবড়ানোর অবস্থা অনুধাবন করিলেন। তখন তিনি বলিলেনঃ হে লোকসমাজ! আল্লাহ আমাদের আত্মাসমূহকে কাবু করিয়াছিলেন, আর তিনি যদি ইচ্ছা করিতেন এই সময় ব্যতীত ভিন্ন সময়ে আত্মাসমূহকে আমাদের নিকট ফেরত দিতে পারিতেন। যদি তোমাদের কেউ নামায হইতে ঘুমাইয়া পড় অথবা উহাকে ভুলিয়া যাও, অতঃপর হঠাৎ নামাযের কথা স্মরণ হয়, তবে সেই নামাযকে উহার নির্ধারিত সময়ে যেইরূপে পড়িতে সেইভাবে পড়িবে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ)-এর দিকে দৃষ্টি করিলেন। তারপর বলিলেনঃ বিলাল যখন দাঁড়াইয়া নামায পড়িতেছিল তখন তাহার কাছে শয়তান আসিল এবং তাহাকে ঠেস দেওয়াইয়া বসাইল এবং শিশুকে যেভাবে (থাপি দিয়া) শান্ত করা হয় ও ঘুম পাড়ানো হয় সেইভাবে তাহার সঙ্গে বারবার করিতে থাকিল। এমন কি (শেষ পর্যন্ত) বিলাল ঘুমাইয়া পড়িল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে আহবান করিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ)-কে যেরূপ বলিয়াছিলেন বিলালও অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করিলেন। ইহা শুনিয়া আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল। -মুয়াত্তা মালিক ২৬ (সহীহ মুসলিম ১৪৩৩) ... আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা সঠিকভাবে আদায় করবে এবং অলসতাহেতু তার কিছুই পরিত্যাগ করবে না, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবার জন্য অংগীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (সঠিকভাবে) আদায় করবে না, তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট কোন অংগীকার নাই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং ইচ্ছা করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। -সূনান আবু দাউদ ১৪২০ . একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে এসে ইরশাদ করলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের জন্য একটি সালাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রক্ত বর্ণের বহু উট থেকেও তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। এই সালাত টি হ’ল বিতর। এশার সালাত ও সুবহে সা’দিক উভয়ের মধ্যবর্তী সময়টিকে আল্লাহ্ তা’আলা এর জন্য তোমাদের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। -সূনান তিরমিজী ৪৫২ . নিশ্চয় বিতর বাধ্যতামূলক সালাত নয় এবং তোমাদের ফরয সালাতের সম-পর্যায়ভুক্তও নয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাত আদায় করেছেন, অতঃপর বলেছেনঃ হে আহলে কুরআন! তোমরা বিতরের সালাত পড়ো। নিশ্চয় আল্লাহ বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১১৬৯ . বিতরের সালাত ওয়াজিব। অতএব, যার ইচ্ছা হয় সে সাত রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে, আর যে ইচ্ছা করে সে পাঁচ রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে। আর যে ইচ্ছা করে সে তিন রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে আর যে ইচ্ছা করে সে এক রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে। -সূনান নাসাঈ ১৭১৩ . রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম রাকআতে- "সাব্বিহ্ ইসমা রব্বিকাল আলা", দ্বিতীয় রাকআতে- "কুল ইয়া আয়ুওহাল কাফিরূন" এবং তৃতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস ও মুআওয়াযাতায়ন পাঠ করতেন। -সূনান তিরমিজী ৪৬৩ . যার আশংকা থাকে যে, শেষ রাতে সে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাতেই বিতর আদায় করে নেয়। আর যে ব্যাক্তি শেষ রাতে উঠতে পারবে বলে আশা রাখে সে যেন রাতের শেষ ভাগে বিতর আদায় করে। কেননা শেষ রাতের সালাতে রহমতের ফিরিশতার উপস্থিতির কাল এবং তাই উত্তম। -সহীহ মুসলিম ১৬৩৯ . নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের রাতের শেষ সালাত বিতরকে বানিও। -সহীহ মুসলিম ১৬২৮ . এক রাতে দুইবার বিতর নেই। -সূনান তিরমিজী ৪৭০ . কেউ যদি বিতর আদায় না করে শুয়ে পড়ে বা তা আদায় করতে ভূলে যায়, তবে যখনই স্মরণ হবে বা সে নিদ্রা থেকে উঠবে, তখনই তা আদায় করে নিবে। -সূনান তিরমিজী ৪৬৫ ... যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিয়মিত বার রাক’আত সুন্নাত আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর বানিয়ে দিবেনঃ যোহরের পূর্বে চার রাকআত, এরপর দু’রাকআত, মাগরিবের পর দু’রাকআত এশার পর দু’রাকআত, ফজরের পূর্বে দু’রাকআত। -সূনান তিরমিজী ৪১৪ ... তোমাদের রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) প্রতিষ্ঠা করা উচিত। কেননা, এ হল তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অবলম্বিত রীতি। রাতের সালাত আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়; মন্দ কাজের কাফফারা (এবং শারীরিক রোগের প্রতিরোধক)। -সূনান তিরমিজী ৩৫৪৯ . রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতি রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন আর তিনি বলতে থাকেন, আমিই বাদশাহ। কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আছে এমন যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দিয়ে দেব; কে আছে এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। ফজর উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত এ ভাবেই চলতে থাকে। -সহীহ মুসলিম ১৬৪৬ ... যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে বসে আল্লাহর যিকর করবে এবং এরপর দু’রাকআত সালাত আদায় করবে, তার জন্য একটি হজ্জ ও উমরা পালনের সওয়াব হবে। ঐ ব্যক্তির জন্য হজ্জ ও উমরার পরিপূর্ণ সওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সওয়াব হবে। -সূনান তিরমিজী ৫৮৬ ... তোমাদের কেউ যখন ভোরে উঠে, তখন তার প্রতিটি জোড়ার উপর একটি সাদাকা রয়েছে। প্রতি সূবহানাল্লাহ সাদাকা, প্রতি আলহামদুলিল্লাহ সাদাকা, প্রতি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সাদাকা, প্রতি আল্লাহু আকবার সাদাকা, আমর বিল মা'রুফ (সৎকাজের আদেশ) সাদাকা, নাহী আনিল মুনকার (অসৎকাজের নিষেধ) সাদাকা। অবশ্য চাশতের সময় দু রাকআত সালাত আদায় করা এ সবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। -সহীহ মুসলিম ১৫৪৪

মধ্য শাবানের রাত

আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৯০ . মানুষের আমলন...