যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সুদের মতই। অথচ আল্লাহ বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতএব, যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ আসার পর সে বিরত হল, যা গত হয়েছে তা তার জন্যই ইচ্ছাধীন। আর তার ব্যাপারটি আল্লাহর হাওলায়। আর যারা ফিরে গেল, তারা আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। -আল-বাকারা ২:২৭৫
আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদাকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ কোন অতি কুফরকারী পাপীকে ভালবাসেন না। -আল-বাকারা ২:২৭৬
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা মুমিন হও। -আল-বাকারা ২:২৭৮
কিন্তু যদি তোমরা তা না কর তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও, আর যদি তোমরা তাওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা যুলম করবে না এবং তোমাদের যুলম করা হবে না। -আল-বাকারা ২:২৭৯
আর যদি সে অসচ্ছল হয়, তাহলে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তার অবকাশ রয়েছে। আর সদাকা করে দেয়া তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। -আল-বাকারা ২:২৮০
হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরস্পর ঋণের লেন-দেন করবে, তখন তা লিখে রাখবে। আর তোমাদের মধ্যে একজন লেখক যেন ইনসাফের সাথে লিখে রাখে এবং কোন লেখক আল্লাহ তাকে যেরূপ শিক্ষা দিয়েছেন, তা লিখতে অস্বীকার করবে না। সুতরাং সে যেন লিখে রাখে এবং যার উপর পাওনা সে (ঋণ গ্রহীতা) যেন তা লিখিয়ে রাখে। আর সে যেন তার রব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে এবং পাওনা থেকে যেন সামান্যও কম না দেয়। অতঃপর যার উপর পাওনা রয়েছে সে (ঋণ গ্রহীতা) যদি নির্বোধ বা দুর্বল হয়, অথবা সে লেখার বিষয়বস্তু বলতে না পারে, তাহলে যেন তার অভিভাবক ন্যায়ের সাথে লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়। আর তোমরা তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী রাখ। অতঃপর যদি তারা উভয়ে পুরুষ না হয়, তাহলে একজন পুরুষ ও দু’জন নারী- যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ কর। যাতে তাদের (নারীদের) একজন ভুল করলে অপরজন স্মরণ করিয়ে দেয়। সাক্ষীরা যেন অস্বীকার না করে, যখন তাদেরকে ডাকা হয়। আর তা ছোট হোক কিংবা বড় তা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করতে তোমরা বিরক্ত হয়ো না। এটি আল্লাহর নিকট অধিক ইনসাফপূর্ণ এবং সাক্ষ্য দানের জন্য যথাযথ। আর তোমরা সন্দিহান না হওয়ার অধিক নিকটবর্তী। তবে যদি নগদ ব্যবসা হয় যা তোমরা হাতে হাতে লেনদেন কর, তাহলে তা না লিখলে তোমাদের কোন দোষ নেই। আর তোমরা সাক্ষী রাখ, যখন তোমরা বেচা-কেনা করবে এবং কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না। আর যদি তোমরা কর, তাহলে নিশ্চয় তা হবে তোমাদের সাথে অনাচার। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দেবেন। আর আল্লাহ সব বিষয়ে সম্যক জ্ঞানী। -আল-বাকারা ২:২৮২
আর যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও, তাহলে হস্তান্তরিত বন্ধক রাখবে। আর যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বস্ত মনে কর, তবে যাকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে যেন স্বীয় আমানত আদায় করে এবং নিজ রব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না এবং যে কেউ তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী। আর তোমরা যা আমল কর, আল্লাহ সে ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত। -আল-বাকারা ২:২৮৩
হে মুমিনগণ, তোমরা সুদ খাবে না বহুগুণ বৃদ্ধি করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও। -আলে ইমরান ৩:১৩০
আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত। -আর-রুম ৩০:৩৯
রাসুলুল্লাহ ﷺ লানত করেছেন, সুদ গ্রহীতার উপর, সুদদাতার উপর, এর লেখকের উপর ও উহার সাক্ষীদ্বয়ের উপর এবং বলেছেন এরা সকলেই সমান। -মুসলিম ৩৯৪৮
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ সুদের গুনাহর সত্তরটি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তর হলো আপন মাকে বিবাহ (যেনা) করা। -ইবনে মাজাহ ২২৭৪
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জেনে শুনে সুদের কেবলমাত্র একটি রোপ্যমুদ্রা খায়, তার গুনাহ ছত্রিশবার যিনার চেয়ে বেশি হয়। -মিশকাত ২৮২৫
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে দেহ হারাম খাদ্য দিয়ে প্রতিপালিত হয়েছে, সে দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -মিশকাত ২৭৮৭
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, হে লোক সকল! আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করে না।... নাবী ﷺ এক ব্যাক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে, দীর্ঘ সফর করে, যার এলোমেলো চুল ধুলায় ধুসরিত সে আকাশের দিকে দু'হাত তুলে বলে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোষাক-পরিচ্ছদ হারাম এবং তাঁর শরীর গঠিত হয়েছে হারামে। অতএব, তাঁর দু’আ কিভাবে কবুল করা হবে? -মুসলিম ২২১৮
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আজ রাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি যে, দু’ব্যাক্তি আমার নিকট এসে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যাক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানের লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায়, তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খন্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি নদীতে (রক্তের) দেখেছেন, সে হল সুদখোর। -বুখারী ১৯৫৫
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ মিরাজের রাতে আমাকে একদল লোকের নিকট নিয়ে আসা হলো। তাদের পেট ছিল ঘরের মত বিশাল, তার মধ্যে সাপ ভর্তি ছিলো, যা বাইরে থেকে দেখা যায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এরা কারা? তিনি বলেনঃ এরা সুদখোর। -ইবনে মাজাহ ২২৭৩
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, সবশেষে সুদের আয়াত নাযিল হয়। কিন্তু আমাদেরকে বিস্তারিত ব্যাখ্যাদানের আগেই রাসূলুল্লাহ ﷺ ইনতিকাল করেন। অতএব সূদ এবং (সূদের) সন্দেহ সৃষ্টিকারী জিনিস পরিহার করো। -ইবনে মাজাহ ২২৭৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবেনা যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল, হালাল থেকে নাকি হারাম থেকে। -বুখারী ১৯৫৩
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ অবশ্যই মানুষ এমন এক যুগের সম্মুখীন হবে যখন তাদের মধ্যে এমন একজনও পাওয়া যাবে না যে সূদখোর নয়। সে সূদ না খেলেও তার ধুলোবালি (মলিনতা) তাকে স্পর্শ করবে। -ইবনে মাজাহ ২২৭৮
আবূ বুরদা (রহঃ) বলেন, আমি মদিনায় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি (মর্যাদাপূর্ণ) ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাক) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার অত্যন্ত ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় নগণ্যবস্তুও হাদীয়া পেশ করে তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। -বুখারী ৩৫৪২
রাসুলুল্লাহ ﷺ খায়বরে আবস্থানকালে তাঁর নিকট গনীমতের একটা হার উপস্থিত করা হয়। উহাতে পূতি ও স্বর্ন লাগানো ছিলো। হারটি বিক্রি হচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ ﷺ হারের সাথে লাগানো স্বর্ণের ব্যাপারে আদেশ দান করেন। অতঃপর তা তুলে আলাদা করা হয়। এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদেরকে বললেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান ওযনে বিক্রি করতে হবে। -মুসলিম ৩৯৩০
'বারনী' জাতীয় খেজুর নিয়ে বিলাল (রাঃ) আগমন করলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কোথেকে এনেছ? বিলাল (রাঃ) বলল, আমাদের নিকট নিম্ন শ্রেনীর খেজুর ছিল আমি তা থেকে দু'সা' এক সা' এর বিনিময়ে বিক্রি করেছি, নাবী ﷺ কে খাওয়ানোর জন্য। রাসুলুল্লাহ ﷺ তখন বললেনঃ হায় আফসোস! এভো প্রত্যক্ষ সুদ, এরূপ করো না, বরং যখন তুমি খেজুর ক্রয় করতে চাও, তখন এটাকে বিক্রি কর, তারপর এর মূল্য দ্বারা খরিদ করো। -মুসলিম ৩৯৩৮
স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, বৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ও লবনের বিনিময়ে লবন সমান সমান ও নগদ নগদ হতে হবে। এরপর কেউ যদি তা প্রদান করে বা গ্রহণ করে তবে তা সুদে পরিণত হবে গ্রহণকারী ও প্রদানকারী এতে সমপর্যায়ভূক্ত হবে। -মুসলিম ৩৯১৯
কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন আবাস (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, তাহাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করিতেছে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে যে ব্যক্তি কতিপয় কাতানের পাগড়ী সলফে ক্রয় করিয়াছে। সে সেইগুলিকে কজা করার পূর্বে বিক্রয় করিতে ইচ্ছা করিল তবে ইহা জায়েব কি? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিলেন-ইহা চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি ক্রয় করার অনুরূপ। তিনি ইহাকে মাকরূহ বলিলেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত। আমাদের মতে ক্রেতা যেই মূল্যে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই মূল্যের অধিক মূল্যে যাহার নিকট হইতে ক্রয় করিয়াছে তাহারই নিকট উহা বিক্রি করিতে ইচ্ছা করিলে তবে এই বিক্রয় মাকরূহ হইবে। আর যদি যে ব্যক্তির নিকট হইতে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করে তবে ইহাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই, যে ব্যক্তি সলফে ক্রয় করিয়াছে দাস অথবা জানোয়ার কিংবা পণ্য দ্রব্য। ইহাদের প্রত্যেকটির সঠিক গুণ বর্ণনা করা হইয়াছে, এইসব বস্তুতে সলফ করা হইয়াছে মেয়াদ পর্যন্ত। অতঃপর (সেই) মেয়াদ উপস্থিত হইল, তবে যেই বস্তুতে সলফ করিয়াছে সেই বস্তু কব্জা করার পূর্বে, যেই মূল্যে সলফ করা হইয়াছে সেই মূল্যের অধিক মূল্যে সেই বস্তু যাহার নিকট হইতে (পূর্বে) ক্রয় করিয়াছিল তাহার নিকট ক্রেতা পুনরায় বিক্রয় করিবে না। কারণ যদি এইরূপ করা হয় তবে ইহা সুদ [যাহা হারাম]। ইহা যেন এইরূপ করা হইল; যেমন ক্রেতা বিক্রেতাকে দিরহাম বা দীনার দিল, বিক্রেতা উহা দ্বারা উপকৃতও হইল। তারপর যখন পণ্য ক্রেতার নিকট সোপর্দ করার সময় উপস্থিত হইয়াছে তখন ক্রেতা সেই পণ্য কব্জা করিল না। বরং সে উহাকে পণ্যের মালিকের নিকট যেই মূল্যে সলফ নির্ধারিত হইয়াছিল সেই মূল্যের অধিক মূল্যে বিক্রয় করিল। ফল এই দাঁড়াইল যে, যে বস্তুকে সলফে ক্রয় করিয়াছিল সেই বস্তু মালিকের নিকট ফেরত দিল এবং নিজের পক্ষ হইতে (আরও কিছু) অতিরিক্ত প্রদান করিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি পশু কিংবা পণ্যের ব্যাপারে যাহার গুণাগুণ বর্ণনা করা হইয়াছে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বর্ণ কিংবা চাঁদির সলম করিয়াছে। অতঃপর মেয়াদ উপস্থিত হইয়াছে, তবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কিংবা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরে ক্রেতার জন্য সেই সামগ্রীকে যেকোন পণ্যের বিনিময়ে বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। কিন্তু সেই পণ্য যেই পরিমাণই হউক না কেন উহা নগদ প্রদান করিবে; মূল্য বা বিনিময়ে প্রদানে বিলম্ব করিবে না। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য হইলে তবে উহাকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করা হালাল হইবে না। আর সেই সামগ্ৰী [পশু কিংবা অন্য কোন পণ্য]-কে যাহার নিকট হইতে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই লোক ব্যতীত অন্য কাহারো নিকট স্বর্ণ বা চাঁদির কিংবা অন্য কোন পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করা ক্রেতার জন্য জায়েয হইবে উহাকে (সেই মুহূর্তে) কব্জা করিবে। উহা কব্জা করিতে বিলম্ব করিবে না। কারণ বিলম্ব করিলে খারাপ হইবে এবং উহাতে মাকরূহ হইবে। ইহা হইবে যেন ধারকে ধারে বিক্রয় করা। ধারকে ধারে বিক্রয় করার অর্থ হইতেছে কোন ব্যক্তি তাহার ঋণ যাহা অন্য ব্যক্তির জিম্মায় রহিয়াছে তাহা বিক্রয় করিতেছে, যেই ঋণ সে অন্য লোকের নিকট প্রাপ্য সেই ঋণের বিনিময়ে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন বস্তুতে সলম করিয়াছে, নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আর সেই বস্তু খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য নহে। তবে ক্রেতা উহাকে যাহার নিকট ইচ্ছা মুদ্রা কিংবা পণ্যের বিনিময়ে উহাকে পূর্ণ কব্জা করার পূর্বে যাহার নিকট হইতে উক্ত বস্তু ক্রয় করিয়াছে সে ব্যতীত অন্য লোকের নিকট বিক্রয় করিতে পারবে। কিন্তু যে ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রয় করিয়াছে সে ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করা জায়েয হইবে না। তবে (জায়েয হইবে) এমন পণ্যের বিনিময়ে (বিক্রয় করা) যাহাকে (নগদ) কব্জা করিবে, উহা কব্জা করিতে বিলম্ব করিবে না, (অর্থাৎ) ধারে বিক্রয় করিবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি সেই (সলমকৃত) দ্রব্য ক্রেতার কব্জায় দেওয়ার সময় উপস্থিত হয় নাই, তবে উহাকে মালিক বিক্রেতা-এর নিকট ভিন্ন জাতের পণ্য যাহার পার্থক্য সুস্পষ্ট এইরূপ পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই, উহাকে সঙ্গে সঙ্গে কব্জা করিবে। ইহাতে বিলম্ব করিবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি দীনার কিংবা দিরহাম দ্বারা চারিটি গুণ ও পরিচয় বর্ণিত বস্ত্রের ব্যাপারে সলম্ করিয়াছে-নির্দিষ্ট মেয়াদে, যখন মেয়াদ-এর (শেষ) সময় উপস্থিত হইল তখন উহার মালিক ক্রেতা উহা তলব করিল, তাহার নিকট সেই বস্ত্র পাওয়া গেল না। বরং (তদস্থলে) পাওয়া গেল সেই জাতীয় বস্ত্র হইতে নিকৃষ্ট রকমের বস্ত্র। বস্ত্র আদায় করা যাহার জিম্মায় সে ক্রেতাকে বলিল, “আপনাকে চার বস্ত্রের পরিবর্তে আমার এই বস্ত্র হইতে আটটি বস্ত্র প্রদান করিব।” ইহাতে কোন দোষ নাই যদি তাহারা উভয়ে পরস্পর পৃথক হওয়ার পূর্বে সেই সব বস্ত্র কব্জা করে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি ইহাতে মেয়াদ প্রবেশ করে (অর্থাৎ নগদ আদান-প্রদান না করিয়া ধারে বিক্রয় হয়)। তবে উহা জায়েয হইবে না। আর যদি মেয়াদ (এর শেষ সময়) আসার পূর্বে এইরূপ (চার বস্ত্রের পরিবর্তে আটটি বস্ত্র গ্রহণ করা) হয়, তবে ইহাও জায়েয হইবে না। কিন্তু যদি যেই বস্ত্রে সলম করা হইয়াছে সেই জাতের বস্ত্র হইতে ভিন্ন জাতের বস্ত্র ক্রেতার নিকট বিক্রয় করা হয় তবে জায়েয হইবে। -মুয়াত্তা মালিক ১৩৫৫
.