ঈদুল আযহা ও কুরবানী

যে ব্যক্তির নিকট কুরবানীর পশু আছে সে যেন যিলহাজ্জ এর নতুন চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে। -সহীহ মুসলিম ৪৯৫৯ 
.
শপথ দশ রাত্রির। -আল ফাজর ৮৯:২
.
আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে। -আল বাকারা ২:২০৩
.
নবী ﷺ বলেছেনঃ যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল, অনান্য দিনের আমলের তুলনায় উত্তম। তারা জিজ্ঞাসা করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী ﷺ বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যাক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদ করে এবং কিছু্ই নিয়ে আসে না। -সহীহ বুখারী ৯১৮
.
এমন কোন দিন নেই যে দিনগুলোর (নফল) ইবাদাত আল্লাহ্ তা'আলার নিকট যিলহাজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদাত হতে বেশী প্রিয়। এই দশ দিনের প্রতিটি রোযা এক বছরের রোযার সমকক্ষ এবং এর প্রতিটি রাতের ইবাদাত কাদরের রাতের ইবাদাতের সমকক্ষ। -আত তিরমিজী ৭৫৮; ইবনে মাজাহ ১৭২৮ (যইফ)
.
আরাফাত দিবসের সাওম, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। -সহীহ মুসলিম ২৬১৮
.
উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হত। এমন কি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল থেকে বের করতাম এবং ঋতুমতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকতো এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলতো এবং তাদের দু’আর সাথে দু’আ করত-তারা আশা করত সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা। -সহীহ বুখারী ৯২০
.
দিনগুলোর মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল, নাহরের (কুরবানীর) দিন। এরপর এর পরবর্তী দিন (মেহেমানদারীর দিন)। -সূনান আবু দাউদ ১৭৬৫
.
অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। -আল কাওসার ১০৮:২
.
যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদের মাঠের কাছেও না আসে। -ইবনে মাজাহ ৩১২৩
.
নবী ﷺ বলেছেনঃ আমাদের এ দিনে আমরা সর্ব প্রথম যে কাজটি করবো তা হল সালাত আদায় করবো। এরপর ফিরে এসে আমরা কুরবানী করবো। যে ব্যাক্তি এভাবে তা আদায় করল সে আমাদের নীতি অনুসরণ করল। আর যে ব্যাক্তি আগেই যবাহ করল, তা এমন গোশতরুপে গন্য যা সে তার পরিবার পরিজনের জন্য আগাম ব্যবস্থা করল। এটা কিছুতেই কুরবানী বলে গন্য নয়। -সহীহ বুখারী ৫১৪৭
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ মাদীনায় দশ বছর থেকেছেন এবং বরাবর (প্রতি বছর) কুরবানী করেছেন। -আত তিরমিজী ১৫০৭
.
রসূলুল্লাহ ﷺ দু' শিংযুক্ত সাদা-কালো বর্ণের দুটি দুম্বা কুরবানী করেন। আমি-তাকে দুম্বা দুটি স্বহস্তে যাবাহ করতে দেখেছি। তিনি ও দু'টির ঘাড়ের পাশে নিজ পা দিয়ে চেপে রাখেন এবং বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলেন। -মুসলিম ৪৯৮২
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ কুরবানীর দিন আয়িশা (রাঃ) এর পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন। -মুসলিম ৩০৬১
.
নাবী ﷺ এর নিকট কিছু গরুর গোশত আসল। তখন তাকে বলা হল, এগুলো বারীরা (রাঃ) কে সাদাকা দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি বললেন, ইহা বারীরার জন্য সাদাকা, আর আমর জন্য হাদিয়া। -মুসলিম ২৩৫৭
.
আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। -আল আনআম ৬:১৬২
.
তোমরা তা হতে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদেরকে খেতে দাও। -সূরা আল-হজ্জ ২২:৩৬
.
নাবী ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিবসে এমতাবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর গোশত কিছু পরিমান অবশ্যই থাকে। এরপর যখন পরবর্তী বছর আসল, তখন সাহাবীগন বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি সে রূপ করবো যে রূপ গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি বললেনঃ তোমরা নিজেরা খাও অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ কেননা, গত বছর তো মানুষের মধ্যে ছিল অভাব অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম যে, তোমরা তাতে সাহায্য কর। -বুখারী ৫১৭১
.
সে ব্যক্তি পূর্ণ মু’মিন নয়, যে উদরপূর্তি করে খায় অথচ তার পাশেই তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। -মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৯৯১
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ হে আবূ যার! যখন তুমি (তরকারী) রান্না করবে তখন তাতে পানি বেশী দিবে যাতে ঝোলের পরিমাণ অধিক হয় এবং তোমরা তোমাদের প্রতিবেশীর প্রতি লক্ষ্য রেখো। -মুসলিম ৬৪৪৯
.
যদি আকিল, বালিগ, মুকীম ব্যক্তি ১০ই যিলহাজ্জ ফজর হতে ১২ই যিলহাজ্জ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (৫২.৫ ভরি =৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার সমমূল্য) সম্পদের মালিক হয়; তবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে খাওয়াতেন, এক-তৃতীয়াংশ গরীব প্রতিবেশীদেরকে খাওয়াতেন এবং একতৃতীয়াংশ প্রার্থনাকারীকে দান করতেন।

কুরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজেরা খাওয়া, এক ভাগ দরিদ্রদের সদাকা করা এবং এক ভাগ আত্মীয়, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের হাদিয়া করা উত্তম।
এক তৃতীয়াংশ সদকা করতে হবে এমনটি জরুরি নয়। যার সামর্থ্য আছে তিনি এর চেয়ে বেশিও সদকা করতে পারেন। আর যার ঘরে প্রয়োজন রয়েছে তিনি এর চেয়ে কমও সদকা করতে পারেন। মোটকথা, কুরবানীদাতা তার কুরবানীর গোশত কী পরিমাণ নিজে রাখবে, কী পরিমাণ অন্যকে খাওয়াবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কী পরিমাণ আগামীর জন্য সংরক্ষণ করবে এগুলো সম্পূর্ণ তার ইচ্ছার ব্যাপার। এই বিষয়টি শরীয়ত কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিয়েছে। এখানে অন্য কারো অনুপ্রবেশ অনুমোদিত নয়। শরীয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কুরবানীর বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে।
https://www.alkawsar.com/bn/article/3401

কুরবানীর জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়গুলো কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুরবানীদাতা কী পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর জন্য সংরক্ষণ করবে— এগুলো কুরবানীদাতার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার।
https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/4828

প্রত্যেক কুরবানীর একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে বিতরণের জন্য নিয়ে নেয়া। এরপর সেগুলোকে একত্র করে সমানভাবে ভাগ করে সমাজের প্রত্যেককে অর্থাৎ যারা কুরবানী করেছে আর যারা করেনি সবাইকে একেক অংশ দিয়ে দেওয়া। এটা গলদ তরিকা। যা অবশ্যই সংশোধনযোগ্য।https://www.alkawsar.com/bn/article/2430
.
تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَ مِنۡكَ
আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ হ’তে (সৎকর্মগুলো) কবুল করুন।

تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَ مِنۡكُمۡ
আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ হ’তে (সৎকর্মগুলো) কবুল করুন।