হজ ওমরা

মদীনা
মসজিদে নববীতে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ ও দরূদ পড়ুন। নবীর রাওযা জিয়ারতের সময় সালাম দিতে হবে। (আস সালামু আলাইকা আয়হান নাবিয়া ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু)।
.
মক্কা
মসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ ও দরূদ পড়ুন। কা'বা শরীফ প্রথমে নজরে আসলেই তিনবার পড়ুন (আল্লাহু আকবার, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ)। এরপর দাঁড়িয়ে বুক পর্যন্ত হাত তুলে আপনার আবেগ থেকে যে দুআ আসে আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনা করুন। এটি দুআ কবূল হওয়ার একটি বিশেষ মুহূর্ত।
.
উমরার কাজ ৪ টি
১. মীকাত থেকে শুধু উমরার ইহরাম করুন (ফরয)। নিয়ত করুন। (হে আল্লাহ, আমি উমরা করতে চাই, তুমি আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং কবুল কর।) তালবিয়া পড়ুন। (লাব বাইকা আল্লা-হুম্মা লাববাইক; লাব বাইকা লা- শারীকা লাকা লাব বাইক; ইন নাল হামদা; ওয়ান নিয় মাতা; লাকা ওয়াল মুলক; লা- শারীকা লাকা)। দুরূদ শরীফ পড়ুন।
২. বায়তুল্লায় প্রবেশ করে উমরার তওয়াফ করুন (ফরয)। দুই রাকাত নামায পড়ুন। জমজমের পানি পান করুন।
৩. সাফা-মারওয়ার মাঝে উমরার সাঈ করুন (ওয়াজিব)। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে উঠে দরুদ পড়ুন ও দোয়া করুন।
৪. মাথা মুণ্ডান।(ওয়াজিব)
.
ওমরার পর
৮ যিলহজ পর্যন্ত হজের অপেক্ষায় থাকুন। বেশি বেশি নফল তাওয়াফ ও অন্যান্য নফল ইবাদতে মশগুল থাকুন। যিলহজের চাঁদ উঠার আগেই নখ কাটুন, বগল ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করুন।
.
৮ যিলহজ
১. গোসল-উযূ করে ভালভাবে শরীরের ময়লা দূর করুন। চুল আঁচড়িয়ে নিন। মক্কার হোটেল থেকে এহরামের পোশাক পরিধান করুন। মসজিদে হারাম থেকে হজের নিয়তে ইহরাম করুন (ফরয)। দুই রাকাত সালাত আদায় করুন। 'লাব্বাইকা হাজ্জান' বলে হজের নিয়ত করুন। (হে আল্লাহ, আমি হজ্জ করতে চাই, তুমি আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং আমার থেকে তা কবুল কর।) তালবিয়া পাঠ করুন।
২. ইশরাকের পর মিনায় রওনা করুন। সেখানে যোহর, আসর, মাগরীব, ইশা ও পরবর্তী দিনের ফজরের নামায ওয়াক্তমত আদায় করুন এবং পুরো সময় মিনায় অবস্থান করুন। ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত সব ফরজ সালাত শেষে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করতে হবে।
.
৯ যিলহজ (আরাফার দিবস)
১. ৯ যিলহজ সূর্যোদয়ের পর তালবিয়া ও তাকবির বলতে বলতে আরাফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করুন। সেখানে মসজিদে নামিরার জামাতে শরীক হতে পারলে যোহরের ওয়াক্তে যোহর ও আসর উভয় নামায এক আযান ও দুই ইকামতে একত্রে আদায় করুন। জামাতে অংশগ্রহণ সম্ভব না হলে যোহরের ওয়াক্তে যোহর ও আসরের ওয়াক্তে আসর পড়ুন। নামায শেষ করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুআ ও যিকিরে মশগুল থাকুন। আরাফায় উকূফ করা (ফরয)। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা (ওয়াজিব)। আরাফার দিনের সর্বোত্তম দোয়া হলো: (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু, লা-শারীকা লাহূ, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া, 'আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর)।
২. বাথরুমের প্রয়োজন সেরে সূর্যাস্তের পর ধীরে-সুস্থে শান্তভাবে মুযদালিফা অভিমুখে রওয়ানা করুন।
৩. মুযদালিফায় পৌঁছে ইশার ওয়াক্তে এক আযান ও ইকামতে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করুন।
৪. রাতে মুযদালিফা থেকে ৪৯টি কংকর সংগ্রহ করা যেতে পারে। মুযদালিফায় কঙ্কর সহজে পাওয়া যায়।
৫. ইশার নামায পড়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন। মুযদালিফায় রাত্রিযাপন করুন।(ওয়াজিব)
.
১০ যিলহজ (ঈদের দিন)
১. সুবহে সাদিক হবার পর বিলম্ব না করে ফজরের নামায আদায় করুন। তালবিয়া ও তাকবীর বলুন। চারদিক আলোকিত হওয়া পর্যন্ত যিকির ও দুআতে মশগুল থাকুন।
২. সূর্যোদয়ের আগে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করুন। কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করুন।
৩. সূর্যোদয়ের পর জোহরের আগে শুধু বড় জামারায় বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন (ওয়াজিব)। ভিড় বেশি হয় ১ম তলায়।
৪. হজের শোকর আদায় সরূপ কুরবানী করুন। (ওয়াজিব)
৫. কুরবানী সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত হলে মাথা কামাবেন। নারীরা পুরো মাথার চুলের কমপক্ষে আঙ্গুলের এক কর পরিমাণ কাটবেন (ওয়াজিব)। এখন স্ত্রী সহবাস ছাড়া ইহরামের অন্যসব নিষিদ্ধ বিষয় বৈধ।
৬. তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করা (ফরয)। ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত করা যেতে পারে। পরদিন ১১ তারিখে ভিড় কম থাকে। তাওয়াফে যিয়ারতের পর স্ত্রী সহবাসও বৈধ হয়ে যাবে।
৭. ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। জমজমের পানি পান করুন।
৮. সাফা-মারওয়ার মাঝে হজের সাঈ করুন।(ফরজ)
৯. মিনায় ফিরে গিয়ে দিবাগত রাত মিনায় যাপন করুন।
.
১১ যিলহজ
১. ১০ তারিখে তাওয়াফ-সাঈ না করে থাকলে আজ হারামে গিয়ে তা সম্পন্ন করুন।
২. যোহরের ওয়াক্ত হবার পর তিন জামরার প্রত্যেকটিতে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করুন (ওয়াজিব)। ছোট জামরা থেকে শুরু করে বড় জামরায় শেষ করুন। শুধু ছোট ও মধ্য জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর দাঁড়িয়ে দুআ করুন।
৩. দিবাগত রাত মিনায় যাপন করুন।
.
১২ যিলহজ
১. যোহরের ওয়াক্ত হবার পর তিন জামরার প্রত্যেকটিতে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করা (ওয়াজিব)। ছোট জামরা থেকে শুরু করে বড় জামরায় শেষ করুন। শুধু ছোট ও মধ্য জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর দাঁড়িয়ে দুআ করুন।
২. ১২ তারিখে সূর্যাস্তের আগেই কংকর নিক্ষেপের কাজ শেষ করে ফেললে ভালো। যদি ভিড় বা অন্য কোনো ওজরের কারণে সূর্যাস্তের আগে কংকর নিক্ষেপ করা সম্ভব না হয় তবে আগত দিনের সুবহে সাদিকের আগে কংকর নিক্ষেপ করে মিনা ত্যাগ করতে পারবেন।
.
বিদায়ী তাওয়াফ
মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ী তাওয়াফ করা (ওয়াজিব)। জমজমের পানি পান করুন। এই তাওয়াফের পর সাঈ করতে হবে না। বিদায়ী তাওয়াফের পরও নফল তাওয়াফ করা যায়।