Showing posts with label জিহাদ. Show all posts
Showing posts with label জিহাদ. Show all posts

আল্লাহর রাস্তা

যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ’ দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। -আল-বাকারা ২:২৬১

কেউ যদি আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যায় করে তাঁর জন্য সাতশত গুন সাওয়াব লিখা হবে। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৩১

এক ব্যক্তিলাগামযুক্ত একটি উটনী নিয়ে এসে বললো, এটা আল্লাহর রাহে (দান করলাম)। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তুমি সাতশ উটনী লাভ করবে যার প্রত্যেকটি লাগামসহ হবে। -মুসলিম ৩৪ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন ৪৭৪৫

একদা নাবী ﷺ লিহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ প্রতি দু'ব্যক্তির মধ্যে একজন অবশ্যই (যুদ্ধে) বেরিয়ে যাওয়া উচিত। তারপর তিনি বাড়ীতে অবস্থানকারীদেরকে বললেনঃ তোমাদের মধ্যকার যে কেউ যুদ্ধে গমনকারীর পরিবার পরিজন ও তার সহায়-সম্পদের দেখাশুনা করবে সেও যুদ্ধে গমনকারীর অর্ধেক সাওয়াব লাভ করবে। -মুসলিম ৩৪ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন ৪৭৫৪

আল্লাহর রাহে একটি দিবস ও একটি রাতের সীমান্ত প্রহরা একমাস সিয়াম পালন এবং ইবাদতে রাত জাগার চাইতেও উত্তম। আর যদি এ অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে, তাতে তার এ আমলের সাওয়াব জারী থাকবে। এবং তার (শহীদসুলভ) রিযক অব্যাহত রাখা হবে এবং সে ব্যক্তি ফিতনাসমূহ থেকে নিরাপদে থাকবে। -মুসলিম ৩৪ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন ৪৭৮৫

আল্লাহর পথে সামান্য সময় অবস্থান করা ঘরে বসে সত্তর বছর সালাত আদায় করার চাইতেও উত্তম। তোমরা কি তা ভালবাস না যে, আল্লাহর তোমাদের মাগফিরাত করে দিবেন এবং জান্নাতে দাখেল করবেন? আল্লাহর পথে লড়াই করে যাও। উটনীর দু’বার দুধ পানানোর মধ্যবর্তী কালে বাটে একবার টান দিতে সময় পরিমাণও যদি কেউ আল্লাহর পথে লড়াই করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৫৬

অন্য কোন স্থানে এক হাজার দিন অতিবাহিত করা অপেক্ষা আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত পাহারা প্রদান উত্তম। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৭৩

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত প্রহরা দেয়া দুনিয়া ও এর উপর যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চাবুক পরিমান জায়গা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম। আল্লাহর পথে বান্দার একটি সকাল বা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ -বুখারী ৫৬ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ২৮৯২

রাসূলল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদলো সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না দুধ স্তনে পুনঃ প্রবেশ করবে। আর আল্লাহর পথের ধুলা এবং জাহান্নামের আগুন কখনো একত্রিত হবে না। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৩৯

যে ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও সিয়াম পালন করে, আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে (অর্থাৎ তাঁকে) দোযখের আগুন থেকে সত্তর বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেন। -বুখারী ৪৮ জিহাদ ২৬৪৩

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন সিয়াম পালন করবে আল্লাহ তা‘আলা সেই ব্যক্তি ও জাহান্নামের মাঝে একটি খন্দক সৃষ্টি করে দিবেন। যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের দূরত্বের পরিমাণ। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৩০
.
ইয়াযীদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) বলেন, আমি জুমু‘আর জন্য পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। এমন সময় আবায়া ইবনু রিফাআ ইবনু রাফি‘ (রহঃ)-ও আমার সঙ্গে মিলিত হলেন। তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর, কারণ তোমার এ পদচারণা হচ্ছে আল্লাহর পথেই। আমি আবূ আবাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তির পদদ্বয় আল্লাহর পথে ধূলিময় হলো তার পদদ্বয় জাহান্নামের জন্য হারাম করা হল। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৩৮
.
বিধবা ও মিসকীন এর জন্য (খাদ্য যোগাতে) সচেষ্ট ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের ন্যায় অথবা রাত জেগে ইবাদতকারী ও দিনভর সিয়াম পালনকারীর মত। -বুখারী ৪৯৬২
.
কোন দীনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ, কোন দীনার তুমি ব্যয় করেছ ক্রীতদাসকে মুক্ত করার জন্য, কোন দীনার তুমি সাদাকা করেছ মিসকীনের জন্য এবং কোন দীনার তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ। সাওয়াবের দিক সর্বোত্তম হল যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করেছ। -মুসলিম ২১৮৩
.
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন্ আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, এরপর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্ (আল্লাহর পথে জিহাদ)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, এগুলো তো রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেনই, যদি আমি আরও বেশী জানতে চাইতাম, তাহলে তিনি আরও বলতেন। -বুখারী ৫০২
.
আর ইয়াহুদী ও নাসারারা আপনার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ করেন। বলুন নিশ্চয় আল্লাহ্‌র হেদায়াতই প্রকৃত হেদায়াত। আর যদি আপনি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান আসার পরও, তবে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে আপনার কোন অভিভাবক থাকবে না এবং থাকবে না কোন সাহায্যকারীও। -আল বাকারা ২:১২০

যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, আর শেষ দিনের প্রতিও না, আর আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করেছেন তাকে হারাম গণ্য করে না, আর সত্য দ্বীনকে নিজেদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে না তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর যে পর্যন্ত না তারা বশ্যতা সহকারে স্বেচ্ছায় জিযিয়া দেয়। -আত তাওবাহ ৯:২৯

তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত। -বুখারী ২৬২৩ মুসলিম ৪৩৯২

ঘোড়ার ললাটে মঙ্গল কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। -মুসলিম ৪৬৯২, বুখারী ২৬৫২

তোমরা ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের নিকট তাদের মত কিছু আসেনি, যারা তোমাদের পূর্বে বিগত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তার সাথি মুমিনগণ বলছিল, ‘কখন আল্লাহর সাহায্য (আসবে)’? জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। -আল-বাকারা ২:২১৪

তোমরা কি ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখন পর্যন্তও পরখ করেননি তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে আর কারা ধৈর্যশীল। -আলে ইমরান ৩:১৪২

মানুষের উপর এমন একটি যুগের আগমন ঘটবে যখন তার পক্ষে ধর্মের উপর ধৈর্য ধারণ করে থাকাটা জ্বলন্ত অঙ্গার মুষ্টিবদ্ধ করে রাখা ব্যক্তির মতো কঠিন হবে। -তিরমিজী ২২৬০

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ কি এরূপ হবে? তিনি বললেনঃ না, বরং সে সময় তোমরা সংখ্যায় অধিক হবে। কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের পক্ষ থেকে আতঙ্ক দূর করে দিবেন, তিনি তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহন ভরে দিবেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আল-ওয়াহন’ কি? তিনি বললেনঃ দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা। -আবু দাউদ ৩২ যুদ্ধ-বিগ্রহ ৪২৪৭, ৪২৯৭

যদি তোমরা ঈনা বিক্রি কর, ষাড়ের লেজ ধরে থাক এবং কৃষিকাজে লিপ্ত থাকার কারণে জিহাদ পরিত্যাগ কর, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান প্রবল করে দেবেন যে, যতক্ষণ না তোমরা দীনের উপর পূর্ণরুপে প্রত্যাবর্তন করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তোমাদের থেকে ঐ অপমান দূর করবেন না। -আবু দাউদ ৩৪২৬

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়, আর যে ব্যাক্তি আমাদের ধোকা দিবে সেও আমাদের দলভূক্ত নয়। -মুসলিম ১৮৫
.
.
.
হযরত কা'ব ইবনে উজরা রা. বলেন, এক ব্যক্তি নবী ﷺ এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করল। তার চলার ভঙ্গি থেকে সাহাবায়ে কেরামের মনে হল সে খুব কর্মঠ ও উদ্যমী। তাঁরা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি সে আল্লাহর রাস্তায় এভাবে চলত! তখন নবী ﷺ বললেন- তার এই পথ চলা যদি হয় শিশু-সন্তানদের জন্য উপার্জনের খাতিরে তাহলে সে আল্লাহর রাস্তায় আছে। যদি হয় বৃদ্ধ পিতা-মাতার জন্য উপার্জনের খাতিরে তাহলেও সে আল্লাহর রাস্তায় আছে, যদি হয় অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষিতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তাহলেও সে আল্লাহর রাস্তায় আছে। আর যদি হয় মানুষকে দেখানোর জন্য ও গর্ব-অহংকারের জন্য তাহলে সে আছে শয়তানের রাস্তায়। -আলমুজামুল কাবীর তবারানী ১৯/২৮২