হে লোকেরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো এই রসূলের, আর তোমাদের (মুসলিমদের) মধ্যকার সেইসব লোকদের যারা দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত। আর তোমরা যখনই কোনো বিষয়ে মতভেদ ও মতবিরোধ করবে, তা (ফায়সালার জন্যে) উপস্থাপন করো আল্লাহ ও রসূলের (কুরআন ও সুন্নাহর) নিকট, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। -আন নিসা ৪:৫৯
.
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। -আন নিসা ৪:৬০
.
পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে জোর চেষ্টা করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সৌহার্দ্যের সাথে বসবাস করবে। যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখি হয়েছে তার পথ অবলম্বন কর। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। -লুকমান ৩১:১৫
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ কোন এক অভিযানে একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং এক আনসারীকে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিলেন। তাদেরকে তার কথা শুনতে ও আনুগত্য করতে আদেশ করলেন। তারপর কোন ব্যাপারে তারা তাকে রাগিয়ে তুলল। সে তখন বললো, আমার জন্য কাঠ (কুড়িয়ে এনে) একত্রিত করো। তারা তা করলো। এরপর সে বললো, আগুন প্রজ্জ্বলিত কর। তখন তারা আগুন প্রজ্জ্বলিত করল তারপর সে বললো, রাসুলুল্লাহ ﷺ কি তোমাদেরকে আমার কথা শুনতে এবং আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি? তারা বললো, জী হ্যাঁ। তখন সে বললো, তাহলে তোমরা এবারও এ আগুনে ঢুকে পড়। তখন তারা পরস্পরে পরস্পরের দিকে তাকাতে শুরু করলো। তারপর তারা জবাব দিলো- আমরাতো এ আগুন থেকে বাঁচাবার জন্যই রাসুলুল্লাহ ﷺ এর শরণ নিয়েছি। তারা আগুনে ঝাপ দিলেন না। তার ক্রোধ প্রশমিত হলো এবং আগুন নিভিয়ে দেয়া হলো। তারপর যখন তারা ফিরে এলো এবং নাবী ﷺ এর নিকট প্রসঙ্গটি বর্ণনা করলো তখন তিনি বললেনঃ যদি তারা তখন আগুনে ঝাঁপ দিতো, তবে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাতেই অবস্থান করতো। আনুগত্য কেবল পূণ্য (শরী'আত সম্মত) কাজে। -মুসলিম ৪৬১৪, ৪৬১৩
.
তোমরা নিশ্চয়ই নেতৃত্বের লোভ পোষণ কর, অথচ কিয়ামতের দিন তা লজ্জার কারণ হবে। কত উত্তম দুগ্ধদায়িনী এবং কত মন্দ দুগ্ধ পানে বাধাদানকারিণী (এটা) (অর্থাৎ এর প্রথম দিক দুগ্ধদানের ন্যায় তৃপ্তিকর, আর পরিণাম দুধ ছাড়ানোর ন্যায় যন্ত্রণাদায়ক)। -বুখারী ৬৬৬৩
.
আবূ মূসা (রাঃ) বলেন যে, আমি ও আমার গোত্রের দু'ব্যাক্তি নাবী ﷺ এর নিকট গমন করলাম। সে দু'জনের একজন বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে (কোন বিষয়ে) আমীর নিযুক্ত করুন। অপরজনও অনুরূপ কথা বলল। তখন তিনি বললেনঃ যারা নেতৃত্ব চায় এবং এর লোভ পোষণ করে আমরা তাদেরকে এ পদে নিয়োগ করি না। -বুখারী ৬৬৬৪
.
তুমি নেতৃত্বের সাওয়াল করো না। কারণ চাওয়ার পর যদি তোমাকে তা দেওয়া হয়, তবে তার দায়িত্ব তোমার উপরই বর্তাবে। আর যদি সাওয়াল ছাড়া তা তোমাকে দেওয়া হয় তবে এ ব্যাপারে তোমাকে সাহায্য করা হবে। -বুখারী ৬৬৬১
.
নাবী ﷺ এর নিকট যখন এ সংবাদ পৌছলে যে, পারস্যের লোকেরা কিসরার কন্যাকে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছে তখন তিনি বললেনঃ সে জাতি কখনই সফলকাম হবে না যারা তাদের শাসনভার কোন রমনীর হাতে অর্পণ করে। -বুখারী ৬৬১৮, তিরমিজী ২২৬৫
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যখন তোমাদের সর্বোত্তম লোকরা হবে তোমাদের আমীর, ধনীরা হবে দানশীল, তোমাদের বিষয়াদি হবে পরামর্শ ভিত্তিক তখন যমীনের ভূ-পৃষ্ঠ তোমাদের জন্য উত্তম হবে তার ভূতল থেকে। আর যখন তোমাদের মন্দ লোকেরা হবে তোমাদের আমীর, ধনীরা হবে কৃপন আর বিষয়াদি হবে মেয়েদের হাতে ন্যাস্ত তখন যমীনের উদর হবে তোমাদের জন্য এর উপরিভাগ থেকে উত্তম। -তিরমিজী ২২৬৯
.
নাবী ﷺ যখন মু‘আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাযলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না। -বুখারী ২৪৪৮
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমরা কি জান মুফলিস (কপর্দক শূণ্য ব্যক্তি) কে? সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের মাঝে মুফলিস তো হল সে ব্যক্তি যার কোন দিরহাম (মুদ্রা) নেই, কোন সম্পদ নেই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ আমার উম্মতের মুফলিস হল সে ব্যক্তি যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সালাত, সাওম যাকাত বহু আমলসহ উপস্থিত হবে, এরই সঙ্গে ওকে সে গালি-গালাজ করেছে, তাকে সে অপবাদ দিয়েছে, অমুকের মাল আত্মসাত করেছে, তমুককে খুন করেছে, কাউকে মেরেছে ইত্যাদি ধরণের অপরাধসহও সে উপস্থিত হবে।
অনন্তর তার নেক আমল থেকে অমুককে তমুককে বদলা দেওয়া হতে থাকবে। তার যিম্মায় সে সব অপরাধ আছে সে সবের বদলা নেওয়া শেষ হওয়ার পূর্বেই যদি তার নেক আমল ফুরিয়ে যায় তবে ঐ সব মজলুম ব্যক্তিদের গুনাহসমূহ এনে তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। শেষে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। -তিরমিজী ২৪২১
.
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায় তাদের শাস্তি কেবল এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে বা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে বা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে বা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। দুনিয়ায় এটাই তাদের লাঞ্ছনা ও আখেরাতে তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে। -আল মায়িদাহ ৫:৩৩
.
আর পুরুষ চোর ও নারী চোর, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও; তাদের কৃতকর্মের ফল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। -আল মায়িদাহ ৫:৩৮
.
আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম, তাতে ছিল সঠিক পথের দিশা ও আলো। অনুগত নাবীগণ এর দ্বারা ইয়াহূদীদেরকে ফায়সালা দিত। দরবেশ ও আলিমরাও (তাই করত) কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল আর তারা ছিল এর সাক্ষী। কাজেই মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, আর আমার আয়াতকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করো না। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই কাফির। -আল-মায়েদা ৫:৪৪
আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম যে, জানের বদলে জান, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, আর দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমের বদলে অনুরূপ জখম। কেউ ক্ষমা করে দিলে তাতে তারই পাপ মোচন হবে। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই যালিম। -আল-মায়েদা ৫:৪৫
তাদের পশ্চাতে মারইয়াম পুত্র ‘ঈসাকে পাঠিয়েছিলাম তাদের সামনে তাওরাত কিতাবের যা কিছু ছিল তার সত্যতা প্রতিপাদনকারী হিসেবে। তাকে ইঞ্জিল দিয়েছিলাম, যাতে ছিল সত্য পথের দিশা ও আলো, এবং ইহা পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতকে সত্যায়নকারী এবং মুত্তাকীদের জন্য সঠিক পথের দিশা ও নাসীহাত। ইঞ্জিলের অনুসারীগণ যেন আল্লাহ তাতে যে বিধান দিয়েছেন তদনুযায়ী বিচার ফয়সালা করে। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই ফাসিক। -আল-মায়েদা ৫:৪৬-৪৭