তোমরা নিজেদের হত্যা করনা।
-সূরা আন-নিসা ৪:২৯
.
যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠি চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০১৯
.
প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর আপতিত হয়েছিল। অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়োনা। আর যখন প্লেগ এমন স্থানে দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়োনা।
-সহীহ বুখারী ৩২২৭, সহীহ মুসলিম ৫৫৮০, ৫৫৮১, ৫৫৮২, ৫৫৮৩, ৫৫৮৭, ৫৫৮৫
.
প্লেগ একটি আযাব বিশেষ। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন তাদের উপর তা প্রেরন করেন। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর মুমিন বান্দাগনের উপর তা (আযাবের সুরতে) রহমত স্বরূপ করে দিয়েছেন। কোন ব্যাক্তি যখন প্লেগাক্রান্ত স্থানে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে। তবে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে।
-সহীহ বুখারী ৩২২৮
.
অসুস্থ উটপালের মালিক (অসুস্থ উটগুলিকে) সুস্থ উটপালের মালিকের (উটের) কাছে আনবে না।
-সহীহ মুসলিম ৫৫৯৭
.
কুষ্ঠ রোগীদের দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে থেকো না।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৫৪৩
.
কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি দূরে থাক তুমি বাঘ থেকে।
-সহীহ বুখারী ৫৩০২
.
উমার (রাঃ) শাম এর দিকে রওয়ানা হলেন। ‘সারগ’ পর্যন্ত পৌছলে 'আজনাদ' অধিবাসীদের (প্রতিনিধি ও অধিনায়ক) আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ) ও তাঁর সহকর্মীগণ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন। তখন তাঁরা খবর দিলেন যে, শামে মহামারী শুরু হয়ে গিয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন উমার (রাঃ) বললেন, প্রথম যুগের মুহাজিরদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলে তিনি তাঁদের পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁদের খবর দিলেন যে শামে মহামারী শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়লেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন, আপনি একটা বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, তাই আমরা আপনার ফিরে যাওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না। আর কেউ কেউ বললেন, আপনার সাথে রয়েছে প্রবীণ ব্যক্তি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ। তাই আমরা তাঁদেরকে এ মহামারীর মুখে এগিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না।
তিনি বললেন, আপনারা উঠুন। এরপর বললেন, আনসারীদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাঁদেরকে তাঁর কাছে ডেকে আনলে তিনি তাঁদের কাছেও পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা মুহাজিরদের পথ অনুসরণ করলেন এবং মুহাজিরগণের ন্যায় তাঁদের মধ্যেও মতপার্থক্য হল। তিনি বললেন, আপনারা উঠুন! এরপর তিনি বললেন, (মক্কা) বিজয়ের আগে হিজরতকারী কুরায়শের মুরব্বীদের যারা এখানে রয়েছেন, তাঁদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলাম। তাঁদের দুজেনও কিন্তু দ্বিমত পোষণ করলেন না। তাঁরা (সকলেই) বললেন, আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি যে, আপনি লোকদের নিয়ে ফিরে যান এবং তাঁদেরকে এ মহামারীর মুখে এগিয়ে দিবেন না।
তখন উমার (রাঃ) লোকদের মাঝে ঘোষণা দিলেন, আমি ফজর পর্যন্ত সওয়ারীর উপর থাকবো, তোমরাও (ফজর পর্যন্ত সওয়ারীর উপর) অবস্থান কর। তখন আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর তাকদীর থেকে পলায়ন করে? তখন উমার (রাঃ) বললেন, হে আবূ উবায়দা! তুমি ভিন্ন অন্য কেউ এ কথা বললে (রাবী বলেন) উমার (রাঃ) তাঁর বিরুদ্ধাচরণ অপছন্দ করতেন (তিনি বললেন) হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহরই তাকদীরের দিকে পলায়ন করছি। তোমার যদি একপাল উট থাকে আর তুমি একটি উপত্যকায় অবতীর্ণ হওয়ার পর দেখ যে, দুটি প্রান্তর রয়েছে, যার একটি সবুজ শ্যামল অপরটি শূন্য। সে ক্ষেত্রে তুমি যদি সবুজ শ্যামল প্রান্তরে (উট) চরাও, তাহলে আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে, আর যদি তৃণশূন্য প্রান্তরে চরাও, তাহলেও আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে।
এ সময় আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এলেন, তিনি (এতক্ষণ) তাঁর কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে (হাদীসের) ইলম রয়েছে। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা কোন এলাকায় এর সংবাদ শুনতে পাও, তখন তার উপরে (দুঃসাহস দেখিয়ে) এগিয়ে যেয়ো না। আর যখন কোন দেশে তোমাদের সেখানে থাকা অবস্থায় দেখা দেয়, তখন তা থেকে পলায়ন করে বেরিয়ে পড়ো না। তখন উমার (রাঃ) আল্লাহর হামদ করলেন। তারপর চলে গেলেন।
-সহীহ মুসলিম ৫৫৯১
-সূরা আন-নিসা ৪:২৯
.
যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠি চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০১৯
.
প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর আপতিত হয়েছিল। অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়োনা। আর যখন প্লেগ এমন স্থানে দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়োনা।
-সহীহ বুখারী ৩২২৭, সহীহ মুসলিম ৫৫৮০, ৫৫৮১, ৫৫৮২, ৫৫৮৩, ৫৫৮৭, ৫৫৮৫
.
প্লেগ একটি আযাব বিশেষ। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন তাদের উপর তা প্রেরন করেন। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর মুমিন বান্দাগনের উপর তা (আযাবের সুরতে) রহমত স্বরূপ করে দিয়েছেন। কোন ব্যাক্তি যখন প্লেগাক্রান্ত স্থানে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে। তবে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে।
-সহীহ বুখারী ৩২২৮
.
অসুস্থ উটপালের মালিক (অসুস্থ উটগুলিকে) সুস্থ উটপালের মালিকের (উটের) কাছে আনবে না।
-সহীহ মুসলিম ৫৫৯৭
.
কুষ্ঠ রোগীদের দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে থেকো না।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৫৪৩
.
কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি দূরে থাক তুমি বাঘ থেকে।
-সহীহ বুখারী ৫৩০২
.
উমার (রাঃ) শাম এর দিকে রওয়ানা হলেন। ‘সারগ’ পর্যন্ত পৌছলে 'আজনাদ' অধিবাসীদের (প্রতিনিধি ও অধিনায়ক) আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ) ও তাঁর সহকর্মীগণ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন। তখন তাঁরা খবর দিলেন যে, শামে মহামারী শুরু হয়ে গিয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন উমার (রাঃ) বললেন, প্রথম যুগের মুহাজিরদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলে তিনি তাঁদের পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁদের খবর দিলেন যে শামে মহামারী শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়লেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন, আপনি একটা বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, তাই আমরা আপনার ফিরে যাওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না। আর কেউ কেউ বললেন, আপনার সাথে রয়েছে প্রবীণ ব্যক্তি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ। তাই আমরা তাঁদেরকে এ মহামারীর মুখে এগিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না।
তিনি বললেন, আপনারা উঠুন। এরপর বললেন, আনসারীদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাঁদেরকে তাঁর কাছে ডেকে আনলে তিনি তাঁদের কাছেও পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা মুহাজিরদের পথ অনুসরণ করলেন এবং মুহাজিরগণের ন্যায় তাঁদের মধ্যেও মতপার্থক্য হল। তিনি বললেন, আপনারা উঠুন! এরপর তিনি বললেন, (মক্কা) বিজয়ের আগে হিজরতকারী কুরায়শের মুরব্বীদের যারা এখানে রয়েছেন, তাঁদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলাম। তাঁদের দুজেনও কিন্তু দ্বিমত পোষণ করলেন না। তাঁরা (সকলেই) বললেন, আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি যে, আপনি লোকদের নিয়ে ফিরে যান এবং তাঁদেরকে এ মহামারীর মুখে এগিয়ে দিবেন না।
তখন উমার (রাঃ) লোকদের মাঝে ঘোষণা দিলেন, আমি ফজর পর্যন্ত সওয়ারীর উপর থাকবো, তোমরাও (ফজর পর্যন্ত সওয়ারীর উপর) অবস্থান কর। তখন আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর তাকদীর থেকে পলায়ন করে? তখন উমার (রাঃ) বললেন, হে আবূ উবায়দা! তুমি ভিন্ন অন্য কেউ এ কথা বললে (রাবী বলেন) উমার (রাঃ) তাঁর বিরুদ্ধাচরণ অপছন্দ করতেন (তিনি বললেন) হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহরই তাকদীরের দিকে পলায়ন করছি। তোমার যদি একপাল উট থাকে আর তুমি একটি উপত্যকায় অবতীর্ণ হওয়ার পর দেখ যে, দুটি প্রান্তর রয়েছে, যার একটি সবুজ শ্যামল অপরটি শূন্য। সে ক্ষেত্রে তুমি যদি সবুজ শ্যামল প্রান্তরে (উট) চরাও, তাহলে আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে, আর যদি তৃণশূন্য প্রান্তরে চরাও, তাহলেও আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে।
এ সময় আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এলেন, তিনি (এতক্ষণ) তাঁর কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে (হাদীসের) ইলম রয়েছে। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা কোন এলাকায় এর সংবাদ শুনতে পাও, তখন তার উপরে (দুঃসাহস দেখিয়ে) এগিয়ে যেয়ো না। আর যখন কোন দেশে তোমাদের সেখানে থাকা অবস্থায় দেখা দেয়, তখন তা থেকে পলায়ন করে বেরিয়ে পড়ো না। তখন উমার (রাঃ) আল্লাহর হামদ করলেন। তারপর চলে গেলেন।
-সহীহ মুসলিম ৫৫৯১