পুরুষের পর্দা ও দেহ-সজ্জা

মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। -আন-নূর ২৪:৩০

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোন পুরুষ অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না; কোন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে এক কাপড়ের নীচে (উলঙ্গ অবস্থায়) ঘুমাবে না। -মুসলিম ৬৫৫

তোমাদের কেউ তার ক্রীতদাসীকে কৃতদাসের সাথে অথবা মজদুরের সাথে বিয়ে দিলে, সে তার (দাসীর) গুপ্ত অঙ্গ নাভির নীচে থেকে হাঁটুর উপর পর্যন্ত দেখবে না। -সুনান আবূ দাউদ ৪১১৪

নাবী ﷺ এর কাছে হঠাৎ দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি যেন আমার চোখ ফিরিয়ে নিই। -মুসলিম ৫৪৫৯

নাবী ﷺ বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবেঃ দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। -বুখারী ৫৮৯২

নবী ﷺ এর মাথার চুল (কখনও কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো। -বুখারী ৫৯০৩, ৫৪৮২

রাসূলুল্লাহ ﷺ কাযা (মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করে কিছু অংশে চুল রাখতে) থেকে নিষেধ করেছেন। -বুখারী ৫৯২১

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তাঁর কাপড় গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না। -তিরমিজী ১৭৩৭

নাবী ﷺ বলেছেনঃ ইযারের যে পরিমান টাখনুর নীচে যাবে, সে পরিমান জাহান্নামে যাবে। -বুখারী ৫৩৭১

রাসুলুল্লাহ ﷺ সোনার আংটি, রেশম মিশ্রিত কাপড়, কুসুম রংয়ের কাপড় এবং গাঢ় লাল রংয়ের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। -সুনান আন-নাসায়ী ১১২১

রাসুলুল্লাহ ﷺ 'উসফুর' ঘাস দ্বারা রঞ্জিত (কুসুম ও হলুদ রঙের) দুটি কাপড় দেখে বললেন, এগুলো কাফিরদের পোশাক। সুতরাং তুমি এগুলি পরিধান করবে না। -মুসলিম ৫২৬০

নাবী ﷺ ঐ সব পুরুষকে লা'নত করেছেন, যারা নারীর বেশ ধারণ করে। -বুখারী ৫৪৬৫

রাসূল ﷺ বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। জনৈক আনসার জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দেবরদের ব্যাপারে কি নির্দেশ? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যুতুল্য। -বুখারী ৪৮৫২

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ এক কাপড় পরে এমনভাবে যেন সালাত আদায় না করে যে, তার উভয় কাঁধে এর কোন অংশ নেই। -বুখারী ৩৫৯

হে আদাম সন্তান! আমি তোমাদেরকে পোষাক-পরিচ্ছদ দিয়েছি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং শোভা বর্ধনের জন্য। আর তাকওয়ার পোশাক হচ্ছে সর্বোত্তম পোশাক। ওটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।  -আল-আ'রাফ ৭:২৬

হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে, যেরূপ তোমাদের মাতা-পিতাকে (বিভ্রান্ত করে) জান্নাত হতে বহিস্কার করেছিল এবং তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য বিবস্ত্র করেছিল। সে (শয়তান) নিজে এবং তার দল তোমাদেরকে দেখতে পায়, অথচ তোমরা তাদেরকে দেখতে পাওনা। নিঃসন্দেহে আমি অবিশ্বাসীদের জন্য শয়তানকে বন্ধু ও অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি। -আল-আ'রাফ ৭:২৭

হে আদাম সন্তান! প্রত্যেক সলাতের সময় তোমরা সাজসজ্জা গ্রহণ কর, আর খাও, পান কর কিন্তু অপচয় করো না, অবশ্যই তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না। -আল-আ'রাফ ৭:৩১

কোন নারী যেন অন্য কোন নারীর সঙ্গে সাক্ষাত করে তার বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে (স্বামী) তাকে (ঐ নারীকে) দেখতে পাচ্ছে। -বুখারী ৪৮৬০

এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী ধরনের কাপড় পরতে আদেশ করেনঃ নাবী ﷺ বললেনঃ জামা, পায়জামা, পাগড়ী ও টুপি পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে তা হলে সে যেন মোজা পরিধান করে তাঁর গিরার নিচের অংশটুকু কেটে নেয়। তোমরা জাফরান এবং ওয়ারস লাগানো কোন কাপড় পরিধান করবে না। -বুখারী ১৭১৯
 
কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সঙ্গে নিভৃতে একত্রিত না হয় অন্যথায় শয়তান অবশ্যই তৃতীয় জন হিসাবে হাযির থাকে। -তিরমিজী ২১৬৮

নাবী ﷺ বলেছেন, স্বামী অনুপস্থিত স্ত্রীর কাছে তোমরা প্রবেশ করোনা। কেননা, শয়তান তোমাদের রক্ত স্রোতে চলমান রয়েছে। -তিরমিজী ১১৭৩

নাবী ﷺ এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) বলেন, ঈমানদার মহিলারা যখন হিজরত করে নাবী ﷺ এর কাছে আসত, তখন তিনি আল্লাহর নির্দেশ "হে ঈমানদারগণ! কোন ঈমানদার মহিলা হিজরত করে তোমাদের কাছে আসলে তোমরা তাদেরকে যাচাই কর" অনুসারে তাদেরকে যাচাই করতেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ ঈমানদার মহিলাদের মধ্যে যারা (আয়াতে উল্লেখিত) শর্তাবলী মেনে নিত, তারা পরীক্ষায় কৃতকার্য হত। তাই যখনই তারা এ ব্যাপারে মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রকাশ করত তখনই রাসূল ﷺ তাদেরকে বলতেন যাও, আমি তোমাদের বায়’আর গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! কথার মাধ্যমে বায়’আত গ্রহণ ছাড়া রাসূল ﷺ এর হাত কখনো কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি। আল্লাহর শপথ। তিনি শুধুমাত্র সেইসব বিষয়েই বায়’আত গ্রহণ করতেন, যে সব বিষয়ে বায়’আত গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ্ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। বায়’আত গ্রহণ শেষে তিনি বলতেনঃ আমি কথায় তোমাদের বায়’আত গ্রহণ করলাম। -বুখারী ৪৯০৮

নাবী ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কাওমের ঘরে তাদের অনুমিত ব্যতিরেকে উকি-ঝুঁকি মারে, তা হলে তার চোখ ফুড়ে দেওয়া তাদের জন্য বৈধ হয়। -মুসলিম ৫৪৫৭

হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাবার- দাবার তৈরীর জন্য অপেক্ষা না করে খাওয়ার জন্য নবীর ঘরে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্ৰবেশ করো তারপর খাওয়া শেষে তোমরা চলে যেও; তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না। তোমরা তার পত্নীদের কাছ থেকে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। -আল আহ্‌যাব ৩৩:৫৩

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারো ঘরে তার অধিবাসীদের সম্প্রীতিসম্পন্ন অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না করে প্রবেশ করো না। -আন নূর ২৪:২৭
যদি তোমরা ঘরে কাউকেও না পাও তাহলে সেখানে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়। যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও’, তবে তোমরা ফিরে যাবে। -আন নূর ২৪:২৮
যে ঘরে কেউ বাস করে না তাতে তোমাদের কোন ভোগ করা বা উপকৃত হওয়ার অধিকার থাকলে সেখানে তোমাদের প্রবেশে কোন পাপ নেই। -আন নূর ২৪:২৯
হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের সালাতের আগে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোষাক খুলে রাখ তখন এবং ‘ইশার সালাতের পর; এ তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময়। এ তিন সময় ছাড়া (অন্য সময় বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে) তোমাদের এবং তাদের কোন দোষ নেই। তোমাদের এককে অন্যের কাছে তো যেতেই হয়। -আন নূর ২৪:৫৮
আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বড়রা। -আন নূর ২৪:৫৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সলাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সলাত আদায় না করলে) এজন্য তাদেরকে মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দিবে। -আবূ দাউদ ৪৯৫
.
.
.
বালেগ হওয়ার বয়সসীমা ও আলামত শরীয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে। কোনো ছেলের মধ্যে বালেগ হওয়ার নির্দিষ্ট আলামত পাওয়া গেলে বা নির্দিষ্ট বয়সসীমায় পৌঁছলেই তাকে বালেগ গণ্য করা হবে এবং তখন থেকেই শরীয়তের হুকুম-আহকাম তার উপর প্রযোজ্য হবে। ছেলেদের বালেগ হওয়ার আলামত হল: ক) স্বপ্নদোষ হওয়া। খ) বীর্যপাত হওয়া। বালেগ হওয়ার উপরোক্ত নির্দিষ্ট আলামত যদি কোনো ছেলের মধ্যে পাওয়া না যায় সেক্ষেত্রে বয়স যখন হিজরী বর্ষ হিসাবে পনেরো বছর পূর্ণ হবে তখন বালেগ গণ্য করা হবে এবং পনেরো বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো আলামত পাওয়া না গেলেও সে বালেগ বলেই বিবেচিত হবে।
কোনো ছেলের সাথে শরয়ী পর্দা করার হুকুম প্রাপ্ত  বয়স্ক হওয়ার সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই যখন কোনো ছেলের নারী-পুরুষ সম্পর্কের বিষয়ে বোঝার বয়স হয়ে যায় তখন থেকেই তার সাথে পর্দা করতে হবে।
https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1474
.
https://www.youtube.com/playlist?list=PLaKQB2-U8y4hkTCrISE4HuOd66wZ5kFwh

https://www.youtube.com/playlist?list=PLaKQB2-U8y4hChWxsLxugG79hf4rFF23t