শহীদ

নবী ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের এমন একটি দল না থাকত, যারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে পছন্দ করে না এবং যাদের সকলকে সাওয়ারী দিতে পারব না বলে আশংকা করতাম, তা হলে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করছে, আমি সেই ক্ষুদ্র দলটির সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতাম না। সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি পছন্দ করি আমাকে যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, এরপর শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়। তারপর জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়।
-বুখারী ২৬০৪
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর কোন বান্দা এমতাবস্থায় মারা যায় যে, আল্লাহর কাছে তার সাওয়াব রয়েছে তাকে দুনিয়াতে এর সব কিছু দিলেও দুনিয়াতে ফিরে আসতে আগ্রহী হবে না। একমাত্র শহীদ ব্যাতীত। সে শাহাদাতের ফযিলত দেখার কারণে আবার দুনিয়াতে ফিরে এসে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার প্রতি আগ্রহী হবে। আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল অথবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম। তোমাদের কারোর ধনুক কিংবা চাবুক রাখার মত জান্নাতের জায়গাটুকু দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম। জান্নাতি কোন মহিলা যদি দুনিয়াবাসীদের প্রতি উঁকি দেয় তাহলে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তীর সবকিছু আলোকিত এবং সুরভিত হয়ে যাবে। আর তার মাথার উড়না দুনিয়া ও তার সব কিছু থেকে উত্তম।
-বুখারী ২৬০৩
.
আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, তাঁদের (শহীদদের) রূহগুলি সবুজ পাখির ভিতর থাকে। সে পাখি জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়ায় এবং তারা আরশের সঙ্গে লটকানো ঝাড়ে থাকে। তোমার রব একবার তাদের সম্মুখে আবির্ভূত হবেন। বলবেন, আরো কোন জিনিস তোমরা চাও কি? তা হলে আমি তা তোমাদের জন্য বাড়িয়ে দিব।
তারা বলবেঃ হে আমাদের রব! আর কি অতিরিক্ত চাইব? আমরা জান্নাতে অবস্থান করছি। যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়াই। তারপর আবার তিনি আবির্ভূত হয়ে বলবেন, তোমরা আরো কিছু অতিরিক্ত চাও কি? তোমাদের জন্য তা বাড়িয়ে দিব।
এরা যখন দেখবে যে, তাদের কিছু না দিয়ে ছাড়া হচ্ছে না, তখন তারা বলবেঃ আপনি আমাদের শরীরে আমাদের রূহ ফিরিয়ে দিন, যাতে আমরা দুনিয়ায় ফিরে যাই এবং আবার আপনার পথে শহীদ হই।
আমাদের নবী ﷺ কে আমাদের সালাম পৌঁছে দিবেন এবং তাঁকে এই সংবাদ দিবেন যে, আমরা সন্তুষ্ট এবং আমাদের উপর (আমাদের রব) সন্তুষ্ট।
-তিরমিজী ৩০১১
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর কাছে শহীদদের জন্য রয়েছে ছয়টি বৈশিষ্ট: রক্ত ক্ষরণের প্রথম মূহূর্তেই তাকে মাফ করা হবে। জান্নাতে তার নির্ধারিত স্থান প্রদর্শন করা হবে। কবর আযাব থেকে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সবচেয়ে মহাভীতির দিনে তাকে নিরাপদে রাখা হবে, তাঁর মাথায় সম্মানের তাজ পরানে হবে, এর একটি ইয়াকুত পাথর দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম হবে; বাহাত্তর জন আয়াত লোচন হুরের সঙ্গে তার বিবাহ হবে, তার সত্তর জন নিকট আত্মীয় সম্পর্কে তার সুপারিশ কবুল করা হবে।
-তিরমিজী ১৬৬৯
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।
-বুখারী ২৬২৩
.
আল্লাহ রাহে নিহত ব্যক্তি শহীদ।

আল্লাহ্‌র রাস্তায় শহীদ হওয়া ছাড়াও আরো শাহাদাত আছে যথা:
আল্লাহর রাহে স্বাভাবিক মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
নিজের দ্বীন রক্ষার্থে নিহত ব্যক্তি শহীদ।
নিজের প্রাণ রক্ষার্থে নিহত ব্যক্তি শহীদ।
নিজের সম্পদ রক্ষার্থে নিহত ব্যক্তি শহীদ।
নিজের পরিবারের সদস্যদের রক্ষার্থে নিহত ব্যক্তি শহীদ।
প্রসবকালে মৃত নারী শহীদ।
চাপা পড়ে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
ক্ষয়রোগে (pleurisy) মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
পেটের রোগে (ডায়রিয়া, কলেরা) মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
প্লেগে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
মহামারীতে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।

-বুখারী ২৬৩৪, মুসলিম ৪৭৮৮, আবু দাউদ ৩০৯৭, তিরমিজী ১৪২৫