শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ। -বুখারী ২৭২১
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। -আন নিসা ৪:৪
পিতা মূসাকে বললেন, আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি ৮ বছর আমার চাকুরী করবে, যদি তুমি ১০ বছর পূর্ণ কর, তা তোমার ইচ্ছা। -আল কাসাস ২৮:২৭
রসূলুল্লাহ ﷺ এর বিবাহে মাহরের পরিমাণ ছিল ১২ উকিয়্যাহ্ ও ১ নাশ (৫০০ দিরহাম)। -মুসলিম ৩৩৮০
উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন তাঁকে বিবাহ করেন, তখন তিনি ছিলেন হাবশায়। নাজ্জাশী তাকে বিবাহ দেন এবং তাঁর মাহর আদায় করেন। ৪০০০ দিরহাম এবং তার নিজের পক্ষ হতে বিবাহ উপঢৌকন আদায় করেন। আর তাকে ঐ সকল দিয়ে শুরাহবীল ইবন হাসানা (রাঃ)-এর সাথে পাঠিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তার নিকট কিছুই পাঠাননি। আর তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের মাহর ছিল চারশত দিরহাম। -নাসাঈ ৩৩৫৩
নাবী ﷺ সাফিয়্যাহ (রাঃ)-কে আযাদ করে বিয়ে করেন এবং এই আযাদ করাকেই তাঁর মাহর নির্দিষ্ট করেন এবং তার ‘হায়স’(এক প্রকার সুস্বাদু হালুয়া) দ্বারা ওয়ালীমাহ’র ব্যবস্থা করেন। -বুখারী ৫১৬৯
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মধ্যে ছিলেন, তখনকার মাহর ছিল ১০ আওকিয়া (৪০০ দিরহাম)। -নাসাঈ ৩৩৫১
আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ) তিনি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর নিকট হাযির হলেন। তখন তাঁর শরীরে ও কাপড়ে হলুদ রংয়ের চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কী? তিনি বললেন, আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, তাঁকে কী পরিমাণ মাহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আঁটির ওজন পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি অথবা একটি আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর। -বুখারী ৩৭৮১
আবু তালহা (রাঃ) উম্মে সুলায়মকে বিবাহের পয়গাম দিলে সে বললোঃ হে আবু তালহা! আল্লাহর কসম! তোমার মত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু তুমি একজন কাফির, আর আমি একজন মুসলিম মহিলা। তোমাকে বিবাহ করা আমার জন্য বৈধ নয়। যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ করা, তাহলে তা-ই আমার মাহর হবে। আমি তোমার কাছে এর অতিরিক্ত কিছুই চাই না। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তা-ই তার মাহর ধার্য হলো। -নাসাঈ ৩৩৪৪
ফাযারা গোত্রের এক মহিলা একজোড়া জুতার বদলে বিয়ে করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তুমি একজোড়া জুতার বদলে তোমার জিন্দেগী ও সম্পদ সপে দিতে রাজী হয়ে গেলে? সে বলল, হ্যাঁ। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এই বিয়ে অনুমোদন করলেন। -আত তিরমিজী ১১১৩ (যঈফ)
এক মহিলা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এসে বললঃ আমি নিজেকে হিবা করে দেয়ার জন্যে এসেছি। এ কথা বলে সে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। তিনি তাকালেন ও মাথা নীচু করে রাখলেন। মহিলাটির দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘ হলে এক ব্যক্তি বললঃ আপনার যদি প্রয়োজন না থাকে, তবে একে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে মাহর দেয়ার মত কিছু আছে কি? সে বললঃ না। তিনি বললেনঃ খুঁজে দেখ। সে চলে গেল। কিছু সময় পর ফিরে এসে বললঃ আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পেলাম না। তিনি বললেনঃ আবার যাও এবং খোঁজ করো, একটি লোহার আংটি হলেও (আন)। সে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললঃ কসম আল্লাহর! কিছুই পেলাম না, একটি লোহার আংটিও না। তার পরনে ছিল একটি মাত্র লুঙ্গি, তার উপর চাদর ছিল না। সে আরয করলঃ আমি এ লুঙ্গিটি তাকে দান করে দেব। নাবী ﷺ বললেনঃ তোমার লুঙ্গি যদি সে পরে তবে তোমার পরনে কিছুই থাকে না। আর যদি তুমি পর, তবে তার গায়ে এর কিছুই থাকে না। এরপর লোকটি একটু দূরে সরে গিয়ে বসে পড়ল। এরপর নাবী ﷺ দেখলেন যে, সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি তাকে ডাকার জন্যে হুকুম দিলেন। তাকে ডেকে আনা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু মুখস্থ আছে? সে বললঃ অমুক অমুক সূরা। সে সূরাগুলোকে গণনা করে শুনাল। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে কুরআনের যা কিছু মুখস্থ আছে, তার পরিবর্তে মেয়ে লোকটিকে তোমার অধীনে দিয়ে দিলাম। -বুখারী ৫৮৭১
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে বিবাহ সহজে সম্পন্ন হয় তাই উত্তম বিবাহ। একদা নবী ﷺ এক ব্যক্তিকে বললেনঃ আমি তোমার সাথে অমুক মহিলার বিয়ে দিতে চাই, তুমি কি এতে খুশি আছো? সে বললো, হ্যাঁ। এরপর তিনি উক্ত মহিলাকে বললেনঃ আমি তোমাকে অমুক পুরুষের সাথে বিয়ে দিলে তুমি কি রাজি হবে? সে বললো, হ্যাঁ। সুতরাং তারা একে অপরকে বিয়ে করলো। তারপর লোকটি তার সাথে সঙ্গম করলো, কিন্তু তার জন্য কোনো মোহরানা নির্ধারণ করেনি এবং তাকে নগদ কিছু প্রদান করেনি। লোকটি হুদায়বিয়াতে উপস্থিত ছিলো। হুদায়বিয়ায় উপস্থিত সকলকে খায়বারের এক এক অংশ দেয়া হয়েছিল। অতঃপর লোকটি মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে সে বললো, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার সাথে অমুক মহিলার বিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ আমি তার জন্য কোনো মোহর নির্ধারণ করিনি এবং তাকে নগদ কিছুই দেইনি। সুতরাং আমি আপনাদের সাক্ষী করছি যে, আমার খায়বারের অংশটুকু আমি তাকে মোহরানা বাবদ প্রদান করলাম। অতঃপর মহিলাটি (স্ত্রী) তা গ্রহণ করে এবং তা এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করে দেয়। -আবূ দাউদ ২১১৭
নাবী ﷺ আশশিগার নিষিদ্ধ করেছেন। ‘আশ্-শিগার’ হলোঃ কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে অন্য এক ব্যক্তির পুত্রের সঙ্গে বিবাহ দিবে এবং তার কন্যা নিজের পুত্রের জন্য আনবে এবং দু কন্যাই মাহর পাবে না। -বুখারী ৫১১২
আলী (রাঃ) বলেছেন, মোহর (সাধারণত) ১০ দিরহামের কমে হয় না। -বুলুগুল মারাম ১০৩৪
উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ হুশিয়ার! তোমরা নারীর মাহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, কেননা যদি তা দুনিয়ায় উত্তম কার্য হতো, তাহলে তোমাদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তার অধিক উপযুক্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাঁর কোন স্ত্রীকে বা তার কন্যাদের কারও ১২ আওকিয়ার (৪৮০ দিরহাম) অধিক মাহর দেননি। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অধিক মাহর দান করে, শেষ পর্যন্ত ঐ স্ত্রীলোকের প্রতি ঐ ব্যক্তির অন্তরে শক্রিতার সৃষ্টি হয়। এমন কি সে বলে, তোমার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি। -নাসাঈ ৩৩৫২; আদ-দারেমী ২২৩৯, আবূ দাউদ ২১০৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ কোনো নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তার সে বিয়ে বাতিল। তিনি একথাটি তিনবার বলেছেন। আর সে যদি তার সাথে সহবাস করে, তাহলে এজন্য তাকে মোহর দিবে। যদি উভয় পক্ষের (অভিভাবকদের) মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, তাহলে শাসক হবেন তার অভিভাবক। কারণ যাদের অভিভাবক নাই তার অভিভাবক শাসক। -আবূ দাউদ ২০৮৩
যে ওয়ালীমায় কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে দাওয়াত করা হয় না সেই ওয়ালীমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে অবাধ্যতা করে। -বুখারী ৫১৭৭
নাবী ﷺ যখন কোন বিয়ে করেন, তখন ওয়ালীমা করেন, কিন্তু যাইনাব (রাঃ)-এর বিয়ের সময় যে পরিমাণ ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেছিলেন, তা অন্য কারো বেলায় করেননি। সেই ওয়ালীমা ছিল একটি ছাগল দিয়ে। -বুখারী ৫১৬৮
নাবী ﷺ তাঁর কোন এক স্ত্রীর বিয়েতে ২ মুদ যব দ্বারা ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেন। -বুখারী ৫১৭২