সালাত ওয়াজিব

একবার রাসূল ﷺ আমাদের কাছে বের হয়ে এসে ইরশাদ করলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের জন্য একটি সালাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রক্ত বর্ণের বহু উট থেকেও তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। এই সালাতটি হল বিতর। এশার সালাত ও সুবহে সা’দিক উভয়ের মধ্যবর্তী সময়টিকে আল্লাহ্ তা’আলা এর জন্য তোমাদের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। -তিরমিজী ৪৫২

.
হে আহলে কুরআন! তোমরা বিতরের সালাত পড়ো। নিশ্চয় আল্লাহ বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন। -ইবনে মাজাহ ১১৬৯
.
আয়িশাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতরের সালাতে কি (সূরা) পড়তেন? তিনি বলেন, তিনি প্রথম রাকাতে সূরাহ আলা, দ্বিতীয় রাকআতে সূরাহ কাফিরূন, তৃতীয় রাকআতে সূরাহ ইখলাস ও মুআব্বিযাতাইন (সূরাহ ফালাক ও নাস) পড়তেন।
-ইবনে মাজাহ ১১৭৩
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বিতরের সালাতে “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” দ্বিতীয় রাকআতে “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং শেষ রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করতেন। আর শুধুমাত্র শেষ রাকআতেই সালাম ফিরাতেন।
-সূনান নাসাঈ ১৭০৪
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বিতরের সালাত তিন রাকআত আদায় করতেন। প্রথম রাকআত “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” দ্বিতীয় রাকআতে “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” তৃতীয় রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করতেন এবং রুকুতে যাওয়ার পুর্বে দোয়ায়ে কুনূত পড়তেন। যখন সালাত শেষ করতে যেতেন তখন তিনি শেষ পর্যন্ত তিনবারسُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পড়তেন।
-সূনান নাসাঈ ১৭০২
.
এক রাতে দুইবার বিতর নেই। -তিরমিজী ৪৭০

তোমরা তোমাদের রাতের শেষ সালাত বিতরকে বানিও। -মুসলিম ১৬২৮

যার আশংকা থাকে যে, শেষ রাতে সে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাতেই বিতর আদায় করে নেয়। আর যে ব্যাক্তি শেষ রাতে উঠতে পারবে বলে আশা রাখে সে যেন রাতের শেষ ভাগে বিতর আদায় করে। কেননা শেষ রাতের সালাতে রহমতের ফিরিশতার উপস্থিতির কাল এবং তাই উত্তম। -মুসলিম ১৬৩৯

কেউ যদি বিতর আদায় না করে শুয়ে পড়ে বা তা আদায় করতে ভূলে যায়, তবে যখনই স্মরণ হবে বা সে নিদ্রা থেকে উঠবে, তখনই তা আদায় করে নিবে। -তিরমিজী ৪৬৫
.
(اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ)
{আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা-রিক লী ফীমা আ‘তাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউকদা ‘আলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইয্যু মান ‘আ-দাইতা তাবা-রাকতা রববানা ওয়া তা‘আলাইতা।}
[হে আল্লাহ! যাদের আপনি হিদায়াত করে তাদের সাথে আমাকেও হিদায়াত করুন, যাদের আপনি অকল্যাণ থেকে দূরে রেখেছেন তাদের সাথে আমাকেও অকল্যাণ থেকে দূরে রাখুন, যাদের আপনি আপনার অভিভাবকত্বে রেখেছেন তাদের সাথে আমাকেও আপনার অভিভাবকত্বে রাখুন। আপনি যা দিয়েছেন তাতে আপনি বরকত দিন। আপনি আমার তাকদিরে যা রেখেছেন এর অসুবিধা থেকে আমাকে রক্ষা করুন, আপনই তো ফয়সালা দেন, আপনার বিপরীত তো ফয়সালা দিতে পারে না কেউ। আপনি যার বন্ধু তাকে তো লাঞ্ছিত করতে পারবে না কেউ। হে আমার রব! আপনি তো বরকতময় এবং সুমহান।]
একদা হাসান ইবন আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লাম আমাকে কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন, যা আমি বিতিরের নামাযে পাঠ করি। রাবী ইবন জাওয়াসের বর্ণনায় আছে “বিতিরের দুআ কুনূতে পড়ে থাকি। -সূনান আবু দাউদ ১৪২৫