দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার
একজন বন্দির মাথায় সব সময় কয়েকটি শব্দ ঘুরপাক খায়-মুক্তি, রায়, বিচারক, অপবাদ, প্রমাণ, নির্দোষ, শাস্তি, মেয়াদ ইত্যাদি।
ওঠাবসায়, শয়নে-স্বপনে, পানাহার ও সালাতের মধ্যেও এই শব্দগুলো নিয়ে সে চিন্তা করতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো পত্রিকা যদি সে হাতে নেয়, তা হলে মুক্তি ও বন্দি-বিষয়ক সংবাদের প্রতি তার গুরুত্ব থাকে অনেক বেশি। যে বিষয়গুলো তার মুক্তির রায় ও শাস্তি থেকে বাঁচার সাথে সম্পর্কিত ওই সংবাদগুলোর ব্যাপারে তার আগ্রহ থাকে সবচেয়ে বেশি। সড়ক দুর্ঘটনা বা অস্ত্রের মূল্য-সংক্রান্ত সংবাদ সম্পর্কে তার কোনো বাড়তি আগ্রহ থাকে না। এসব অনর্থক সংবাদ মনে হয় তার কাছে।
আমাদের অবস্থাও এমন। আমরা আমাদের স্বদেশ জান্নাত থেকে দুনিয়ায় বন্দি হয়ে এসেছি। আমাদের অপরাধ নিজেদের গুনাহ। ফলে আমরা শাস্তির উপযুক্ত। আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য আমাদের শক্তিশালী প্রমাণ হলো, আমরা তাওহীদে বিশ্বাসী। যদি এর মধ্যে ত্রুটি থাকে তা হলে শাস্তির মেয়াদের কোন সীমা থাকবে না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় খাঁটি তাওবার মাধ্যমে। আর যিনি মুক্তির রায় দেবেন তিনি নির্ভুল বিচারক মহান আল্লাহ তাআলা। সুতরাং আমরা নির্ভুল বিচারক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করব এবং এমন আমলের প্রতি আগ্রহী হবো, যা আমাদেরকে দুনিয়ার কারাগার থেকে মুক্ত করে সুবিশাল আখিরাতের দিকে নিয়ে যাবে। দুনিয়ার নগণ্য বস্তু ও এর আমোদ-প্রমোদে আমরা লিপ্ত হব না। তা হলে নিঃসন্দেহে আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি এবং তাঁর প্রতিদান ও সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা আমাদের মাথায় চেপে বসবে। তা থেকে আমরা কখনও উদাসীন হব না।
একজন বন্দির মাথায় সব সময় কয়েকটি শব্দ ঘুরপাক খায়-মুক্তি, রায়, বিচারক, অপবাদ, প্রমাণ, নির্দোষ, শাস্তি, মেয়াদ ইত্যাদি।
ওঠাবসায়, শয়নে-স্বপনে, পানাহার ও সালাতের মধ্যেও এই শব্দগুলো নিয়ে সে চিন্তা করতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো পত্রিকা যদি সে হাতে নেয়, তা হলে মুক্তি ও বন্দি-বিষয়ক সংবাদের প্রতি তার গুরুত্ব থাকে অনেক বেশি। যে বিষয়গুলো তার মুক্তির রায় ও শাস্তি থেকে বাঁচার সাথে সম্পর্কিত ওই সংবাদগুলোর ব্যাপারে তার আগ্রহ থাকে সবচেয়ে বেশি। সড়ক দুর্ঘটনা বা অস্ত্রের মূল্য-সংক্রান্ত সংবাদ সম্পর্কে তার কোনো বাড়তি আগ্রহ থাকে না। এসব অনর্থক সংবাদ মনে হয় তার কাছে।
আমাদের অবস্থাও এমন। আমরা আমাদের স্বদেশ জান্নাত থেকে দুনিয়ায় বন্দি হয়ে এসেছি। আমাদের অপরাধ নিজেদের গুনাহ। ফলে আমরা শাস্তির উপযুক্ত। আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য আমাদের শক্তিশালী প্রমাণ হলো, আমরা তাওহীদে বিশ্বাসী। যদি এর মধ্যে ত্রুটি থাকে তা হলে শাস্তির মেয়াদের কোন সীমা থাকবে না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় খাঁটি তাওবার মাধ্যমে। আর যিনি মুক্তির রায় দেবেন তিনি নির্ভুল বিচারক মহান আল্লাহ তাআলা। সুতরাং আমরা নির্ভুল বিচারক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করব এবং এমন আমলের প্রতি আগ্রহী হবো, যা আমাদেরকে দুনিয়ার কারাগার থেকে মুক্ত করে সুবিশাল আখিরাতের দিকে নিয়ে যাবে। দুনিয়ার নগণ্য বস্তু ও এর আমোদ-প্রমোদে আমরা লিপ্ত হব না। তা হলে নিঃসন্দেহে আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি এবং তাঁর প্রতিদান ও সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা আমাদের মাথায় চেপে বসবে। তা থেকে আমরা কখনও উদাসীন হব না।
[১৪৫-১৪৬]
.
মুমিনের কোনোকিছুই বৃথা যায় না
মানুষ একের-পর-এক মুসিবতে লিপ্ত হয়। ফলে তাদের মনে হয়, সবকিছু নষ্ট হয়ে গেল। সময়, সম্পদ, পরিশ্রম, মন-মেজাজ ও স্বাস্থ্য সবই নষ্ট হলো। কিন্তু একজন মুমিন মনে করে আল্লাহর কাছে কিছুই নষ্ট হয় না। সবকিছুই লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি সবর কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইহসানকারীদের প্রতিদান নষ্ট করেন না। -হূদ ১১:১১৫
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। -বুখারী ৫৬৪২
সুতরাং হে বিপদগ্রস্ত ভাই ও বোনেরা, নিরাশ হবেন না। ধৈর্য ধরুন। কারণ ধন-সম্পদ, সময় ও স্বাস্থ্য সবকিছুর জন্য সর্বোত্তম ওষুধ ধৈর্য। এগুলো হাতছাড়া হলে চিন্তিত হবেন না। বরং যেদিন কোনো দিরহাম-দীনার থাকবে না; থাকবে কেবল ভালো ও মন্দ আমল, সেদিন এগুলো আপনার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
[২:১৪৬]