![]() |
ইবরাহিম আলাইহিস সালাম
ইসমাইল আলাইহিস সালাম (ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মালাকাত আঈমানুহু বিবি হাজেরার সন্তান)
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ইসহাক আলাইহিস সালাম (ইবরাহিম আলাইহিস সালামের স্ত্রী সারাহর সন্তান)।
ইয়াকুব আলাইহিস সালাম (ইসরাইল)
ইউসুফ আলাইহিস সালাম
মুসা আলাইহিস সালাম
দাউদ আলাইহিস সালাম
সুলাইমান আলাইহিস সালাম
ঈসা আলাইহিস সালাম
-শিকড়ের সন্ধানে ২৬-২৭
আমরা নিজেদের মধ্যে, এত ছোট পরিসরেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারি না, আর আমাদের শাসনাধীনে অন্যর এলে তো আমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফেলব নিশ্চিত। একটা কথা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ-যাদের কাছে শেষ আসমানি কিতাব আছে, তাদের ক্ষমতা পাওয়ার শর্ত আর অন্যদের ব্যাপারটা এক নয়। কারণ, অমুসলিমরা যখন অনাচার করে তখন সেটা আল্লাহর দ্বীনকে কলুষিত করে না; কিন্তু মুসলিমরা যখন দুরাচার করে, তখন আল্লাহর দ্বীনের বদনাম হয়, যেটা আল্লাহ পছন্দ করেন না। যতদিন না মুসলিমদের আচার-ব্যবহার এমন হবে যে, শুধু তাদের দেখেই মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য অনুধাবন করবে, ততদিন ইসলামের বিজয় আসবে না, আসতে পারে না।
-শিকড়ের সন্ধানে ৫৬
-শিকড়ের সন্ধানে ৫৬
সামেরি বাছুর বানানোর জন্য অলংকারগুলো কোথায় পেয়েছিল? ফিরআউনের লোকেরা যে স্বর্ণ গচ্ছিত রেখেছিল সেগুলো সাথে রাখতে বনি ইসরাইল অস্বস্তিবোধ করছিল।
আমরা এই জায়গাটা নিয়ে আর একবার একটু চিন্তা করি। অন্যের সম্পদ নিজেদের কাছে রাখতে যাদের পাপবোধ হচ্ছিল, সেই তারাই শিরক করতে দ্বিধা করেনি। কী অদ্ভুত এই পাপবোধ, তাই না?
এটা থেকে আমরা শয়তানের একটা চক্রান্ত টের পাই। শয়তান সবসময় আমাদের পাপের ভয়াবহতাগুলোর ক্রমের ব্যাপারে বিভ্রান্ত করে। এই যে অগ্রাধিকার ঠিক করতে ভুল করা, এটা আমাদের খুব কমন একটা সমস্যা। আপনি দেখবেন, আমরা মুসলিমরাও অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারি না। ছোট ছোট পাপের ব্যাপারে খুব কড়াকড়ি করি, বড় অনেক গুনাহর ব্যাপারে কোনো খবর নেই!
-শিকড়ের সন্ধানে ৬৩
যখন মদিনায় চরম অর্থনৈতিক সংকট চলছিল) জুমআর খুতবা চলাকালে সেটা বাদ দিয়ে কেনাকাটা করতে চলে গিয়েছিলেন; কারণ, তখন বাইরে থেকে একটা বাণিজ্যিক কাফেলা এসে উপস্থিত হয়েছিল। এই সুরার শুরুটা হয়েছে ইহুদিদের তিরস্কার করে। সে জন্য অনেক তাফসিরকারক মন্তব্য করেছেন যে, একটা উম্মাহর উত্থান ও পতনের সাথে সেই জাতি তাদের জন্য নির্ধারিত ইবাদতের বিশেষ দিনটা কীভাবে পালন করছে সেটার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। এখন আসুন আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি, আমরা কি জুমআর দিনটাকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিচ্ছি?
এই ঘটনার এমন সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ ছাড়াও একটা সামগ্রিক প্রয়োগ আছে, যার চর্চা আমরা করতে পারি প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে। বনি ইসরাইল এখানে মূলত কী করেছিল? তারা আল্লাহকে ফাঁকি দিতে চেয়েছিল, তাই না?
এখন আমরা প্রশ্ন করতে পারি যে, আমরা কি নিজের মনমতো ফাতওয়া তালাশ করে আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করি না? অনেকবার এমন হয়েছে যে, পরিচিতদের সুসংগঠিত উপায়ে ইসলাম শিক্ষায় ব্যাপৃত হতে বলেছি। তারা বলেছেন, তারা বেশি জানতে চান না। কারণ, বেশি জানলে বেশি হিসাব দিতে হবে। আদতে কী হাস্যকর চিন্তা, তাই না? আল্লাহ কি জানেন না যে, আমরা ইচ্ছা করে দ্বীন শিক্ষা করিনি? আল্লাহ কি আমাদের নিয়ত, পরিস্থিতি এগুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত নন?
এ কারণে কোনো একজন স্কলারের লেখায় পড়েছিলাম যে, 'চলো তাকওয়া দিয়ে জীবন গড়ি, ফাতওয়া দিয়ে নয়'- কথাটা খুব গভীর কিন্তু!
-শিকড়ের সন্ধানে ৮২
তৎকালীন বনি ইসরাইলের মাঝে আরও একটা বৈশিষ্ট্য প্রকট আকারে দেখা দিয়েছিল, সেটা হলো, আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত জাতি হবার মতবাদটিকে নিজেদের একচ্ছত্র এবং জন্মগত অধিকার মনে করা। তারা তাদের অধীন ব্যক্তিদের অইহুদি (Gentile) হিসেবে অভিহিত করত এবং মনে করত যে তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়া বৈধ। এই একই ধারণা আজকের ইহুদিদের মাঝেও পূর্ণমাত্রায় বিরাজমান। বস্তুত, আজকে প্যালেস্টাইনে আমরা যে নির্বিচার গণহত্যা দেখি, তা আদতে তাদের এই মানসিকতারই ফসল। তারা মনে করে তারা যা-ই করুক না কেন, সেটার ঐশী বৈধতা রয়েছে এবং অন্য সব মানুষ, যারা ইহুদি নয় তাদের সাথে যা খুশি করার অধিকার রয়েছে।
আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে, ইহুদিরা বারবার বিভিন্ন স্থান থেকে বিতাড়িত হয়েছে, সেখানকার ক্ষমতাসীনদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়েছে। এই বিষয়টাকে আজকাল তারা খুব মর্মস্পর্শীরূপে উপস্থাপন করে এবং এটাকেই তাদের নিজস্ব বাসভূমি (ইসরাইল) প্রতিষ্ঠার পেছনে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে; কিন্তু আমাদের এই ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের কুরআনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ইহুদিরা তাদের ওপর নাজিলকৃত ঐশী কিতাব বিকৃত করেছে। এই বিকৃতির একটা উদাহরণ হচ্ছে: আল্লাহ ইহুদিদের নিজেদের মধ্যে সুদভিত্তিক লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। তারা সেটা পরিবর্তন করেছিল এইভাবে-তারা নিজেদের মধ্যে এই কাজ করতে পারবে না, তবে অইহুদিদের (Gentile) সাথে করতে পারবে। ওই যে নিজেদের বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ভাবা, সেখান থেকেই তারা ভাবত নিয়ম-কানুন তাদের জন্য একরকম, আর অন্য সবার জন্য আরেকরকম। তাদের গ্রন্থেই আমরা এর প্রমাণ পাই।
-শিকড়ের সন্ধানে ৯২-৯৩
জ্ঞান আর প্রজ্ঞা এক জিনিস নয়। প্রজ্ঞা হচ্ছে সঠিক সময়ে সঠিক জ্ঞানকে প্রয়োগ করার ক্ষমতা। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত-যা আল্লাহ সবাইকে দেন না।
[তিনি যাকে চান প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে প্রজ্ঞা দেয়া হয়, তাকে অনেক কল্যাণ দেয়া হয়। আর বিবেক সম্পন্নগণই উপদেশ গ্রহণ করে। -আল-বাকারা ২:২৬৯]
-শিকড়ের সন্ধানে ১১৯
যারা শয়তানের পূজা করে তাদের কাজকর্মের অন্যতম প্রধান কার্যালয় হচ্ছে ব্যাবিলিয়ন আর মিশরের পিরামিডের অবস্থানস্থল। সেখানে গিয়ে তারা বাৎসরিক নানা উৎসব উদযাপন করে থাকে, নানা ধরনের উৎসর্গ করে থাকে যাদের তারা বলে 'Ritual Murder'। ফলে তারা নিজেদের শক্তিশালী মনে করে। পশ্চিমা অনেক রক ব্যান্ডের সদস্যরা এগুলোর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
যাদের জাদুবিদ্যা শেখানো হয়েছিল, তাদের একটি অংশ কুফরি জেনেও এটা নিজেদের মাঝে প্রয়োগ করা শুরু করেই ক্ষান্ত হয়নি, এটাকে তাদের ধর্মের অংশ বানিয়ে ফেলেছিল। ইহুদিধর্মের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকা জ্ঞানের এই শাখা মূলত 'Qabbalah' নামে পরিচিত। আপনি যদি এই নাম লিখে সার্চ দেন গুগলে তাহলে দেখবেন, এটা একধরনের অতীন্দ্রিয় শাখা (Mystic Branch), যার মূল থিম হচ্ছে সংখ্যাতত্ত্ব যা দিয়ে নানা ধরনের জাদুবিদ্যা চর্চা করা হয়।
-শিকড়ের সন্ধানে ১৩১
ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ১২জন ছেলের নাম থেকে উদ্ভূত ১২টি গোত্রের মাঝে একটি ছিল জুডাহ। এই জুডাহর আরবি নাম হচ্ছে ইয়াহুদ, ইংরেজিতে যাকে বলে Jews! আসিরীয়রা যখন ইসরাইল রাজ্যটা ধ্বংস করে দিয়েছিল, তারপর থেকে দশটি গোত্রের নাম-নিশানাই আর পাওয়া যায় না। অবশিষ্ট ছিল কেবল জুডাহ রাজ্য যা ব্যাবিলনীয়দের আক্রমণের শিকার হয় ৫৮৭ খ্রিষ্টপূর্বে এবং অধিকাংশ বনি ইসরাইলের লোকদের ব্যাবিলনে নির্বাসিত করা হয় দাস হিসেবে। এই নির্বাসনের ঘটনার পর থেকেই মূলত বনি ইসরাইল ও তাদের শাসকরা নিজেদের 'ইহুদি' ভাবতে শুরু করে। পারসিয়ান রাজার শাসনামলে ব্যাবিলনে নির্বাসিত বনি ইসরাইলের একটা অংশ জেরুজালেমে ফিরে আসে ও উযাইর আলাইহিস সালামের নেতৃত্বে তাওরাতের আলোকে জীবনযাপন করে।
হিব্রু ভাষা অনুযায়ী ইসরাইল শব্দের অর্থ আরবিতে আব্দুল্লাহ শব্দের মতো, যার অর্থ আল্লাহর দাস। ইতঃপূর্বে 'বনি ইসরাইল' এই শব্দ চয়নের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় পরিচয় ফুটে উঠত; কিন্তু যখন থেকে তারা নিজেদের ইহুদি হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করল, তখন থেকে তা ছিল একটা জাতিগত বা গোত্রীয় পরিচয়। এই পরিবর্তন শুধু নামে ছিল না, এটা ছিল ইহুদিদের মন-মানসিকতা, জীবন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি ও আচার ব্যবহারে পরিবর্তন। বনি ইসরাইলীয় হিসেবে আল্লাহ ওদের যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তারা সেটার প্রতিও উদাসীনতা দেখানো শুরু করল।
-শিকড়ের সন্ধানে ১৪৭-১৪৮
