দুআ ও যিকর (নির্ধারিত সময়/ সংখ্যায়)

(السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ) একদা একব্যক্তি নবী ﷺ এর কাছে এসে বলেঃ {আসসালামু আলায়কুম}। নবী ﷺ তার সালামের জবাব দিলে সে ব্যক্তি বসে পড়ে। তখন নবী ﷺ বলেনঃ সে দশটি নেকী পেয়েছে। এরপর একব্যক্তি এসে বলেঃ {আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ}। তিনি তার সালামের জবাব দিলে সে ব্যক্তি বসে পড়ে। তখন নবী ﷺ বলেনঃ সে বিশটি নেকী পেয়েছে। এরপর {ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারকাতুহু}। নবী ﷺ তার সালামের জবাব দিলে সে বসে পড়ে। তখন তিনি বলেনঃ সে ত্রিশটি নেকী পেয়েছে। -আবু দাউদ ৫১০৫
...
বাড়ি থেকে বের হওয়া
(بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) {বিসমিল্লা-হি, তাওয়াক্কাল্তু ‘আলাল্লা-হি, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি} [আল্লাহ্‌র নামে, আমি আল্লাহ্‌র উপর নির্ভর করলাম। কোনো অবলম্বন নেই এবং কোনো শক্তি নেই আল্লাহ্‌র সাহায্য ছাড়া।]
যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবে, তখন তাকে বলা হয়, তুমি হেদায়াত প্রাপ্ত হয়েছো, রক্ষা পেয়েছো ও নিরাপত্তা লাভ করেছো। সুতরাং শয়তানরা তার থেকে দূর হয়ে যায় এবং অন্য এক শয়তান বলে, তুমি ঐ ব্যক্তিকে কি করতে পারবে যাকে পথ দেখানো হয়েছে, নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছে। -আবূ দাউদ ৫০৯৫, ৫০০৭, তিরমিজী ৩৪২৬
...
কোন স্থানে পৌছে
(أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ) {আ’ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি, মিন শাররি মা-খালাক্ব} [আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম দিয়ে তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির খারাবী হতে আশ্রয় চাই।]
যে লোক কোন ঘাটিতে নেমে এ দু’আ পড়ে, সে ঐ ঘাটি হতে অন্য ঘাটিতে রওনা না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোন কিছুই কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। -মুসলিম ২৭০৮, ২৭০৯, ৬৬৩১
...
বাজারে প্রবেশ করে
(لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكُ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَىٌّ لاَ يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) {লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহঈ ওয়াইয়ুমীতু ওয়াহুয়া হায়্যুন লা ইয়ামূতু বিয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।} [একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মারেন। আর তিনি চিরঞ্জীব, মারা যাবেন না। সকল প্রকার কল্যাণ তাঁর হাতে নিহিত। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।] কেউ যদি বাজারে প্রবেশ করে এই দু’আটি পাঠ করে তবে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য এক লক্ষ নেকী লিখবেন, এক লক্ষ গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তার এক লক্ষ দরজা বুলন্দ করে দিবেন।
-সূনান তিরমিজী ৩৪২৮
যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশকালে বলেঃ আল্লাহ তার আমলনামায় এক লক্ষ পুণ্য লিপিবদ্ধ করেন, তাঁর এক লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করেন। -ইবনে মাজাহ ২২৩৫
...
বিপদগ্রস্তকে দেখে:
 (الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً إِلاَّ عُوفِيَ مِنْ ذَلِكَ الْبَلاَءِ) {আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী ‘আ-ফানী মিম্মাবতালা-কা বিহী, ওয়া ফাদ্দালানী ‘আলা কাসীরিম মিম্মান খালাক্বা তাফদীলান} [সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আপনাকে যে পরীক্ষায় ফেলেছেন তা থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার সৃষ্টির অনেকের উপরে আমাকে অধিক সম্মানিত করেছেন।] কেউ যদি কাউকে বিপদগ্রস্ত দেখে এই দু’আটি পাঠ করে তবে সে যত দিন জীবিত থাকবে ততদিন পর্যন্ত যে কোন ধরনের বিপদ হোক না কেন- আল্লাহ তাকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত রাখবেন। -তিরমিজী ৩৪৩১, ইবনে মাজাহ ৩৮৯২
...
(أَعُوْذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ) {আউযুবিল্লাহি মিনাশশাইতানির রাজীম} [আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই বিতাড়িত শয়তান থেকে।] পড়লে ক্রোধ চলে যায়। -বুখারী ৫৬৮৫
...
ঋণ মুক্তি:
(اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ) {আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা ওয়া আ‘গনিনী বিফাদলিকা ‘আম্মান সিওয়াকা।} [হে আল্লাহ! হারাম থেকে মুক্ত রেখে তোমার প্রদত্ত হালাল বস্তুই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্যসব কিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দাও।] তোমার যিম্মায় যদি ছবীর পাহাড় (তায় কাবীলায় অবস্থিত আরবের একটি বড় পাহাড়) ঋণও থাকে, তবে এতে আল্লাহ তা’আলা তাও আদায় করে দিবেন। -তিরমিজী ৩৫৬৩
...
খাওয়া
.
খানার শুরুতে (بِسْمِ اللَّهِ) {বিসমিল্লাহ} [আল্লাহর নামে]। শুরুতে বলতে ভুলে গেলে (بسمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ) {বিস্‌মিল্লাহি ফী আওওয়ালিহী ওয়া আখিরিহী।} [এর শুরু ও শেষ আল্লাহ্‌র নামে।] -তিরমিজী ১৮৬৪
.
(الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقَنِيهِ، مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ) {আল‘হামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত‘আমানী হা-যা ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি ‘হাওলিম মিন্নী ওয়ালা- কুওয়াহ।} [সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমাকে এ আহার করালেন এবং এ রিযিক দিলেন যাতে ছিল না আমার পক্ষ থেকে কোনো উপায়, ছিল না কোনো শক্তি-সামর্থ্য।] কেউ যদি খাওয়ার পর এই দু’আ পাঠ করে তবে তার পূর্বের সব গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হবে। -তিরমিজী ৩৪৫৮
...
পায়খানা
.
জ্বীন ও মানুষের গোপন অঙ্গের মাঝখানের পর্দা হল পায়খানায় প্রবেশকালে তার (بِسْمِ اللَّهِ) {বিসমিল্লাহ} [আল্লাহর নামে] বলা। -ইবনে মাজাহ ২৯৭
.
নাবী ﷺ যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন, তখন তিনি বলতেনঃ (اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ) {আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল খুব্সি ওয়াল খাবা-ইসি।} [ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে যাবতীয় পূরুষ ও স্ত্রী জাতীয় শয়তানদের থেকে পানা চাচ্ছি।] -বুখারী ৫৮৮৩
.
(غُفْرَانَكَ) {গুফরা-নাকা} [আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি]। রাসূলুল্লাহ ﷺ পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলতেন। -ইবনে মাজাহ ৩০০
...
ঘুম
.
রাতে শয্যা গ্রহণের সময় তুমি ৩৩ বার (سُبْحَانَ اللّٰهِ) {সুবহা-নাল্লাহ} [আল্লাহ অতি-পবিত্র], ৩৩ বার (الْحَمْدُ لِلَّهِ) {আলহামদুলিল্লা-হ} [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য] এবং ৩৪ বার (وَاللّٰهُ أَكْبَرُ) {আল্লা-হু আকবার} [আল্লাহ অতি-মহান] পাঠ করবে। -মুসলিম ৬৬৭০
.
যখন শয্যাগ্রহণ করবে তখন {সুবহানাল্লাহ}, {আল্লাহু আকবার} এবং {আলহামদু লিল্লাহ} পাঠ করবে একশতবার। এ যবানে তো হল একশ কিন্তু মীযানের পাল্লায় হবে হাজার। -তিরমিজী ৩৪১০
.
{আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম।} -আল-বাকারাহ্ ২৫৫
যখন তুমি রাতে শয্যায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পড়বে। তখন আল্লাহ্র তরফ থেকে তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না। -বুখারী ২১৬২
.
{আ-মানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়া রুসুলিহ, লা নুফাররিক্বু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়া ক্বালু সামি‘না ওয়া আতা‘না গুফ্রা-নাকা রব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর। লা ইয়ুকাল্লিফুল্লাহু নাফ্সান ইল্লা উস‘আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাক্তাসাবাত রব্বানা লা তুআখিয্না ইন নাসীনা আও আখ্ত্বা’না। রব্বনা ওয়ালা তাহ্মিল ‘আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু ‘আলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা। রব্বনা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা-লা ত্বা-ক্বাতা লানা বিহী। ওয়া‘ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলা-না ফানসুরনা ‘আলাল ক্বাউমিল কাফিরীন।} -সূরা বাকারাহ্ আয়াত (২৮৫-২৮৬)
রাত্রে কুরআন তেলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত তেলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট। -বুখারী ৩৭১৮
.
{ক্বুল ইয়া আইয়ুহাল কা-ফিরূণ! লা আ‘বুদু মা তা‘বুদূন। ওয়া লা আনতুম ‘আ-বিদূনা মা আ‘বুদ। ওয়া লা আনা ‘আ-বিদুম মা ‘আবাদতুম। ওয়া লা আনতুম ‘আ-বিদূনা মা আ‘বুদ। লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন।} -সূরা কা-ফিরূণ ১০৯
শোবার সময় সূরা কাফিরুন তিলাওয়াত করবে। কেননা, এ সূরা শিরক থেকে মুক্তকারী। -আবু দাউদ ৪৯৭১
.
{ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।} -সূরা ইখলাস
রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়বে। সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। -মুসলিম ১৭৫৯
.
{ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ।} -সূরা ফালাক
{ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। মালিকিন্না-সি, ইলা-হিন্নাসি, মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-সি, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।} -সূরা নাস
প্রতি রাতে রাসূল ﷺ শয্যা গ্রহনকালে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে দু’হাত একত্রিত করে হাতে ফুঁক দিয়ে সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তাঁর দেহের সম্মুখভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার করে এরূপ করতেন। -বুখারী ৪৬৪৮

নাবী ﷺ যখন শয্যা-গ্রহণ করতেন তখন তিনি বলতেন: (اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَحْيَا وَبِاسْمِكَ أَمُوتُ) {আল্লাহুম্মা বিসমিকা আহয়্যা অ বিসমিকা আমুতু।} [হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই জীবিত আছি আর তোমার নামেই মৃত্যূবরণ করছি।] আর যখন তিনি নিদ্রা থেকে উঠতেন তখন বলতেন: (الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ) {আল-'হামদু লিল্লা-হিল লাযী আ'হইয়া-না- বা'দা মা- আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর।} [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবন দান করেছেন। আর তার দিকেই প্রত্যাবর্তন।] -মুসলিম ৬৬৩৯
.
(اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ‏) {আল্লা-হুম্মা, আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়াফাওআদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু যাহরী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়ারাহবাতান ইলাইকা, লা- মালজাআ ওয়ালা- মানজা- মিনকা ইল্লা- ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা, ওয়াবি নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।} [হে আল্লাহ! আমি আমার নিজকে তোমারই কাছে সমর্পণ করছি। আমার চেহারাকে তোমার দিকে ফিরাচ্ছি! আমার কর্ম তোমার কাছে সোপর্দ করছি। আমার নির্ভরশীলতা তোমারই প্রতি আশা ও ভয় উভয় অবস্থায়। তোমার কাছে ছাড়া আর কোথাও আশ্রয় ও মুক্তির জায়গা নেই। আমি ঈমান এনেছি তোমার কিতাবের প্রতি যা তুমি অবতীর্ণ করেছ এবং তোমার নাবীর প্রতি যাকে তুমি প্রেরণ করেছ।] যখন তুমি তোমার শয্যা গ্রহন করতে যাবে তখন এই বলবে, অনন্তর এ রাত্রিতে যদি তোমার মৃত্যু হয়, তা হলে ফিতরাতের ওপর তোমার মৃত্যু হবে। আর যদি (জীবিতাবস্থায়) তোমার ভোর হয়, তুমি কল্যাণের অধিকারী হবে। -বুখারী ৬৯৮০
.
তোমাদের কেও যদি ঘুমে ভয় পায় তবে যেন সে এই দু’আ পাঠ করে, তাহলে তার কোন অনিষ্ট হবে না: (أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ ‏.‏ فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ) {আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লাহিত্তা-ম্মাতি মিন্ গাদ্বাবিহি ওয়া ইক্বা-বিহি ওয়া শাররি ‘ইবা-দিহি ওয়ামিন হামাযা-তিশ্শায়া-ত্বীনি ওয়া আন ইয়াহ্দুরূন} [আল্লাহ তা’আলার পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের ওয়াসীলায় আমি পানাহ চাইছি তাঁর গযব, তার শাস্তি এবং তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে (আরো পানাহ চাই) শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও উপস্থিতি থেকে।]
বিপদের সময় দু’আ: {আ’উজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতে মিন গাযাবিহি ওয়া শাররি ইবাহিদি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াতিনে ওয়া আই- ইয়াহ দুরূনী।}
-তিরমিজী ৩৫২৮, আবু দাউদ ৩৮৫৩
.
(لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ) {লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়া‘হদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল ‘হামদ, ওয়া হুআ ‘আলা- কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদীর, ‘আল-‘হামদু লিল্লাহ’, ওয়া ‘সুব‘হা-নাল্লা-হ’, ওয়া লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়া ‘আল্লা-হু আকবার’, লা- ‘হাওলা ওয়া লা- ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।} [আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, এবং প্রশংসা তাঁরই। এবং তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাবান। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। কোনো অবলম্বন নেই, কোনো ক্ষমতা নেই আল্লাহর (সাহায্য) ছাড়া।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ রাতে যখন কারো ঘুম ভেঙে যায়, তখন সে জাগ্রত হয়ে যেন এ দু'আ পাঠ করেঃ আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, বাদশাহী তাঁরই, আর সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপর শক্তিমান। পবিত্র-মহান আল্লাহ্, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ্ মহান, সমস্ত শক্তিই আল্লাহ্র। এরপর বলবেঃ হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন। নবী ﷺ আরো বলেছেনঃ আর দু'আ করলে, তা কবূল হবে। এরপর যদি সে ব্যক্তি উঠে উযূ করে, তারপর সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত কবূল হবে। -আবু দাউদ ৪৯৭৬, ইবনে মাজাহ ৩৮৭৮
...
রোগ
.
নবী ﷺ তাঁর কোন কোন স্ত্রীকে সূরা নাস ও সূরা ফালাক পড়ে ডান হাত দিয়ে বুলিয়ে দিতেন এবং পড়তেনঃ
(اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا)
{আল্লা-হুম্মা রাব্বান না-স, আয্‌হিবিল বা-'স, ইশ্‌ফি, ওয়া আনতাশ শা-ফী, লা- শিফা-আ ইল্লা- শিফা-উকা, শিফা-আন লা- ইউগা-দিরু সাক্বামা}
[হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দাও, যা কোন রোগ অবশিষ্ট থাকে না।] -বুখারী ৫৭৪৩
.
(أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا) {আযহিবিল বাস রব্বান নাস, ওয়াশফে আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামান} [সঙ্কট দূর করে দিন, হে মানুষের-প্রতিপালক! আর শিফা ও নিরাময় করুন, আপনই নিরাময়কারী। আপনার শিফা ও নিরাময় ব্যতীত আর কোন (বাস্তব নির্ভরযোগ্য) শিফা নেই। এমন নিরাময় করুন যার পর কোন রোগ-ব্যাধি অবশিষ্ট না থাকে।] রাসুলুল্লাহ ﷺ কোন রোগীর কাছে গেলে তার জন্য এই দুআ করতেন। -মুসলিম ৫৫১৯, ৫৫২১, ৫৫২২, বুখারী ৫২৭৩, তিরমিজী ৩৫৬৫, আবু দাউদ ৩৮৪৩, ইবনে মাজাহ ৩৫২০, ৩৫৩০, মুসনাদে আহমেদ ৫৬৫
.
তোমার শরীরের যে অংশ বেদনাক্রান্ত হয়, তার উপরে তোমার হাত রেখে তিনবার (بِسْمِ اللَّهِ) {বিসমিল্লাহ} [আল্লাহর নামে।] বলবে এবং সাতবার বলবে: (أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ) {আ‘ঊযু বিল্লা-হি ওয়া ক্বুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহা-যিরু।} [আল্লাহ এবং তাঁর কুদরতের শরণাপন্ন হচ্ছি-যা আমি অনুভব করি এবং যা আশঙ্কা করি, তার অকল্যাণ থেকে। -মুসলিম ৫৫৪৯
.
(اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ) {আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনূনি, ওয়াল জুযা-মি, ওয়ামিন্ সাইয়্যিয়িল আসক্বা-ম} [ইয়া আল্লাহ! আমি শ্বেত (কুষ্ঠ) রোগ হতে, পাগ্লামী হতে, খুজ্লী-পাঁচড়া হতে এবং ঘৃণ্য রোগ হতে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।] রসূলুল্লাহ ﷺ এরূপ দু’আ করতেন। -আবু দাউদ ১৫৫৪, সূনান নাসাঈ ৫৪৯২, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ২৪৭০
.
রোগীর জন্য দোয়া
(أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ) {আসআলুল্লা-হাল ‘আযীম, রাব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম আন ইয়াশফিইয়াক} [আমি মহান আরশের রব (প্রভু) মহামহিম আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দুআ প্রার্থনা করছি, তিনি তোমাকে রোগ হতে সুস্থতা দান করুন]
কোন লোক যদি কোন রোগীকে দেখতে যায় যার মৃত্যুক্ষণ আসেনি, সে তাকে সাতবার এই দুআ করলে, তাকে রোগমুক্ত করা হবে। -আত তিরমিজী ২০৮৩
.
রোগশয্যায়
(لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللّٰهِ) {লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, আল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়ালা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ} [আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, যাবতীয় রাজত্ব তাঁরই, তার জন্যই সকল প্রশংসা, আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই।]
কেউ যখন বলে ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া আর আল্লাহ মহান। তখন তার রব আল্লাহ তা’আলা তার এ বক্তব্য সত্যায়ন করে বলেনঃ হ্যাঁ, আমি ছাড়া ইলাহ নাই আর আমি মহান। সে যখন বলেঃ ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া তিনি তো একক। আল্লাহ্ বলেনঃ আমি ছাড়া ইলাহ নেই আমি একক। যখন সে বলেঃ ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া তিনি তো একক। তার কোন শরীক নেই। আল্লাহ বলেনঃ আমি ছাড়া ইলাহ নেই আমি একক আমার শরীক নেই। যখন সে বলেঃ ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া। বাদশাহী তারই আর তারই সব তারীফ। আল্লাহ বলেনঃ আমি ছাড়া ইলাহ নেই। বাদশাহী আমারই। আমারই সব তারীফ। যখন সে বলেঃ ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া। আল্লাহ বলেনঃ ইলাহ নেই আমি ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আমি ছাড়া। নাবী ﷺ আরো বলতেনঃ কেউ যদি তার রোগশয্যায় এই কথাগুলো বলে এরপর সে মারা যায় তবে জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না। -তিরমিজী ৩৪৩০
...
বিপদে পতিত ব্যাক্তি
(إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا)
{ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জিউন। আল্ল-হুম্মা' জুৱনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খয়রাম মিনহা}
[আমরা আল্লাহরই জন্যে এবং তারই কাছে ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে আমার মুসীবাতে সাওয়াব দান কর এবং এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর।]
কোন মুসলিমের ওপর মুসীবাত আসলে যদি সে বলে, তবে মহান আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করে থাকেন। -মুসলিম ৯১৮, ১৯৯৯
...
লায়লাতুল ক্বাদর এ বলবে: (اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي){আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন কারীমুন তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নী।} [হে আল্লাহ! তুমি তো খুবই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাই তুমি ভালবাস। সুতরাং ক্ষমা করে দাও আমাকে।] -তিরমিজী ৩৫১৩