যিকর

যে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। -মুসলিম ৭৩৫
.
দুটি কালেমা জিহ্বার উপর (উচ্চারণে) খুবই হালকা, মীযানের (পাল্লায়) অত্যান্ত ভারী, রাহমান (পরম দয়ালু আল্লাহ) এর কাছে খুবই প্রিয়। তা হলো: (سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ) {সুব্হানাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী, সুব্হানাল্লা-হিল ‘আযীম।} [আমি আল্লাহ তা'আলার জন্য সপ্রশংসা পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি]। -মুসলিম ৬৬০১
.
কেউ যদি (سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وَبِحَمْدِهِ) {সুব্হানাল্লা-হিল ‘আযীম ওয়াবিহামদিহী।} [মহান আল্লাহর প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।]
পাঠ করে তবে তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর চারা লাগান হয়। -তিরমিজী ৩৪৬৪
.
এক ব্যক্তি নাবী ﷺ এর নিকট এসে বলেন- আমি কুরআন মুখস্হ করে রাখতে পারি না। অতএব আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা কুরআনের পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। তখন নাবী ﷺ বলেনঃ তুমি বলবেঃ (سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ) {সুবহা-নাল্লাহি, ওয়ালহামদু লিল্লাহি, ওয়া লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার, ওয়া লা- হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লাহ} [আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই।]। তখন ঐ ব্যক্তি বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা তো আল্লাহর জন্য- আমার জন্য কি? জবাবে নাবী ﷺ বলেনঃ তুমি বল- (اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي) {আল্লাহুম্মা ইরহামনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া আফিনী ওয়াহদিনী} [হে আল্লাহ আমাকে দয়া করুন; আমাকে রিযিক দান করুন, আমাকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন এবং আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন] । অতঃপর রাবী বলেনঃ ঐ ব্যক্তি ঐগুলি হাতের অংগুলিতে গণনা করেন। তখন নাবী ﷺ বলেনঃ এই ব্যক্তি উত্তম বস্তু দ্বারা তার হাত পরিপূর্ণ করেছে। -আবু দাউদ ৮৩২
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আমাকে একটি কালাম শিক্ষা দিন, যা আমি পাঠ করব। তিনি বললেন, তুমি বলবে- (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ) {লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, আল্লা-হু আকবার কাবীরান, ওয়ালহামদুলিল্লা-হি কাসীরান, সুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল আ-লামীন, লা হাউলা ওয়ালা কূওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হিল ‘আযীযিল হাকীম।} [আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, আল্লাহ মহান, সর্বাপেক্ষা মহান, আল্লাহরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং আমি আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত ভাল কাজ করার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য কারো নেই, তিনি পরাক্রমশালী জ্ঞানবান।] সে বলল, এই সব তো আমার প্রতিপালকের জন্য। আমার জন্য কি? তিনি বললেন, বল,
(للَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي) {আল্লা-হুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুক্বনী} [হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে হিদায়াত নসীব করুন এবং আমাকে রিযক দান করুন।] মূসা (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি (عَافِنِي) {আফিনী} [আমাকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন] ও বলেছেন। তবে আমার তা সঠিক মনে নেই। -মুসলিম ৬৬০৩
.
(لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ) {লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ} [আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: দু’আটি বেশী করে পাঠ করবে, এ হল জান্নাতের সঞ্চয়-ভান্ডার।
মাকহুল (রহঃ) বলেন: দু’আটি যে ব্যক্তি পাঠ করবে, তার জন্য সত্তরটি অনিষ্টের দ্বার রুদ্ধ করে দেওয়া হবে। সর্বনিম্ন দরওয়াজাটি হল দারিদ্র। -তিরমিজী ৩৬০১
.
যে ব্যক্তি (رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا) {রাদীতু বিল্লা-হি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলা-মি দীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।} [আল্লাহকে রব (প্রতিপালক) রূপে, ইসলামকে দ্বীনরূপে এবং মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ ﷺ কে নাবীরূপে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট], তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল। -মুসলিম ৪৭২৬
.
তোমরা 'ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম' বলাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর। -তিরমিজী ৩৫২৫