আল্লা-হু আকবর (আল্লাহ সবার চেয়ে বড়)।
.
রাসূল ﷺ যখন রাতে সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীরের পর বলতেন:
(سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ)
{সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবা-রাকাসমুকা ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুকা।}
[হে আল্লাহ, পবিত্রতা এবং প্রশংসা আপনারই; বরকতময় আপনার নাম; অতি উচ্চ আপনার মর্যাদা, আর কোন ইলাহ নেই আপনি ছাড়া]।
এরপর বলতেন:
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا
পরে বলতেন:
(أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ)
[আমি পানাহ চাই আল্লাহর যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ অভিশপ্ত শয়তান ও তাঁর ওয়াসওয়াসা, দম্ভ ও যাদু টোনা থেকে।]
-সূনান তিরমিজী ২৪২
.
{আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম। বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম।}
[বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।]
.
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমি নাবী ﷺ এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সুরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আলে ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন।
তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতে (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ) {সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আযীম।} [আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি] বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) {সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ।} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন]। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষন ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবং (سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَ)ى {সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা।} [আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি] বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিল তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, জারীর (রহঃ) এর হাদীসে অতিরিক্ত রয়েছে যে, নাবী ﷺ বললেন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ) {সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ। রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু।} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শোনেন আমাদের প্রতিপালক! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা]। -মুসলিম ১৬৮৭
.
রিফা’আ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাঃ) বলেন, একবার আমরা নাবী ﷺ এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ){সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন!] বললেন, তখন পিছন থেকে এক সাহাবী (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ) {রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু। হামদান কাছীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহি।} [আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা।] বললেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের বেশী ফিরিশতা এর সাওয়াব কে আগে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন। -বুখারী ৭৬৩
.
নাবী ﷺ দু সাজদাহর মাঝখানে বসে বলতেন: {রব্বিগফির লী রব্বিগফির লী} [প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, প্রভু আমায় ক্ষমা করুন]। -ইবনে মাজাহ ৮৯৭
.
রাসূল ﷺ দুই সিজদার মাঝে বলতেনঃ
(اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي)
{রাব্বিগ- ফিরলী, ওয়ার’হামনী, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী}
[হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, আমর প্রতি দয়া করুন, আমাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন, আমকে সৎপথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে রিযক দান করুন।] -তিরমিজী ২৮৪
.
নাবী ﷺ দুই সিজদার মাঝে নিম্নের দু’আ পাঠ করতেন। {আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়া আফিনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী}।
-সূনান আবু দাউদ ৮৫০
.
আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ এর পিছনে সালাত পড়ার সময় (বৈঠকে) বলতাম, (السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ) [আল্লাহর উপর সালাম, অমুকের উপর সালাম] একদিন রাসূল ﷺ আমাদের বললেন, আল্লাহর নামই সালাম। তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে সে যেন বলেঃ
(التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ)
{আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্সালাওয়া-তু ওয়াত্তায়্যিবা-তু আস্সালা-মু ‘আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু। আস্সালা-মু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লা-হিস সা-লেহীন।}
[যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী, আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক। যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়, সে আসমানেই থাক অথবা জমীনে।]
পরে বলবে (أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ) {আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।} [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।] এরপর তা যা মন চায় দু'আ করবে। -মুসলিম ৭৮২
.
ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ) বলেন, এক বার কাবা ইবনু উজরা (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি তোমাকে একটি হাদিয়া দেব না? একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের কাছে এলেন! আমরা বললাম, (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আপনাকে কিভাবে সালাম দিতে হয় তাতো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর সালাত আমরা কি ভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ
(اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ)
{আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।}
[হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করো- যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো- যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।]
-মুসলিম ৭৯৩
.
আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দু’আ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দু’আটি বলবেঃ
(اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ)
{আল্লা-হুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরা। ওয়ালা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা। ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম।}
[হে আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অধিক যুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।] -বুখারী ৭৯৫
.
{আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।}
[আল্লাহর পক্ষ হ’তে আপনার উপর শান্তি ও অনুগ্রহ বর্ষিত হোক।]
.
জানাযার দোয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাযার সালাতে এ দু‘আ করতেন-
(للَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا، وَمَيِّتِنَا، وَصَغِيرِنَا، وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِسْلَامِ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ)
{আল্লা-হুম্মাগফির লি‘হায়্যিনা- ওয়া মায়্যিতিনা- ওয়া সগীরিনা- ওয়া কাবীরিনা- ওয়া যাকারিনা- ওয়া উনছা-না- ওয়া শা-হিদিনা- ওয়া গা-য়িবিনা-। আল্লা-হুম্মা মান আ‘হ্ইয়াইতাহু মিন্না- ফা’আ‘হয়িহি ‘আলাল-ঈমা-ন। ওয়ামান তাওয়াফ্ফাইতাহু মিন্না- ফাতাওয়াফফাহু ‘আলাল ইসলাম। আল্লা-হুম্মা লা- তা‘হরিমনা- আজরাহু ওয়ালা- তুদ্বিল্লানা- বা‘দাহু-}
[হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ-নারী এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখেন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দিবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সাওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।] -আবূ দাউদ ৩২০১
.
রাসূল ﷺ যখন রাতে সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীরের পর বলতেন:
(سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ)
{সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবা-রাকাসমুকা ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুকা।}
[হে আল্লাহ, পবিত্রতা এবং প্রশংসা আপনারই; বরকতময় আপনার নাম; অতি উচ্চ আপনার মর্যাদা, আর কোন ইলাহ নেই আপনি ছাড়া]।
এরপর বলতেন:
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا
পরে বলতেন:
(أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ)
[আমি পানাহ চাই আল্লাহর যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ অভিশপ্ত শয়তান ও তাঁর ওয়াসওয়াসা, দম্ভ ও যাদু টোনা থেকে।]
-সূনান তিরমিজী ২৪২
.
{আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম। বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম।}
[বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।]
.
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমি নাবী ﷺ এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সুরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আলে ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন।
তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতে (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ) {সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আযীম।} [আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি] বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) {সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ।} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন]। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষন ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবং (سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَ)ى {সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা।} [আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি] বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিল তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, জারীর (রহঃ) এর হাদীসে অতিরিক্ত রয়েছে যে, নাবী ﷺ বললেন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ) {সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ। রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু।} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শোনেন আমাদের প্রতিপালক! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা]। -মুসলিম ১৬৮৭
.
রিফা’আ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাঃ) বলেন, একবার আমরা নাবী ﷺ এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ){সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন!] বললেন, তখন পিছন থেকে এক সাহাবী (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ) {রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু। হামদান কাছীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহি।} [আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা।] বললেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের বেশী ফিরিশতা এর সাওয়াব কে আগে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন। -বুখারী ৭৬৩
.
নাবী ﷺ দু সাজদাহর মাঝখানে বসে বলতেন: {রব্বিগফির লী রব্বিগফির লী} [প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, প্রভু আমায় ক্ষমা করুন]। -ইবনে মাজাহ ৮৯৭
.
রাসূল ﷺ দুই সিজদার মাঝে বলতেনঃ
(اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي)
{রাব্বিগ- ফিরলী, ওয়ার’হামনী, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী}
[হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, আমর প্রতি দয়া করুন, আমাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন, আমকে সৎপথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে রিযক দান করুন।] -তিরমিজী ২৮৪
.
নাবী ﷺ দুই সিজদার মাঝে নিম্নের দু’আ পাঠ করতেন। {আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়া আফিনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী}।
-সূনান আবু দাউদ ৮৫০
.
আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ এর পিছনে সালাত পড়ার সময় (বৈঠকে) বলতাম, (السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ) [আল্লাহর উপর সালাম, অমুকের উপর সালাম] একদিন রাসূল ﷺ আমাদের বললেন, আল্লাহর নামই সালাম। তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে সে যেন বলেঃ
(التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ)
{আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্সালাওয়া-তু ওয়াত্তায়্যিবা-তু আস্সালা-মু ‘আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু। আস্সালা-মু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লা-হিস সা-লেহীন।}
[যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী, আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক। যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়, সে আসমানেই থাক অথবা জমীনে।]
পরে বলবে (أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ) {আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।} [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।] এরপর তা যা মন চায় দু'আ করবে। -মুসলিম ৭৮২
.
ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ) বলেন, এক বার কাবা ইবনু উজরা (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি তোমাকে একটি হাদিয়া দেব না? একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের কাছে এলেন! আমরা বললাম, (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আপনাকে কিভাবে সালাম দিতে হয় তাতো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর সালাত আমরা কি ভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ
(اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ)
{আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।}
[হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করো- যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো- যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।]
-মুসলিম ৭৯৩
.
আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দু’আ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দু’আটি বলবেঃ
(اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ)
{আল্লা-হুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরা। ওয়ালা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা। ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম।}
[হে আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অধিক যুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।] -বুখারী ৭৯৫
.
{আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।}
[আল্লাহর পক্ষ হ’তে আপনার উপর শান্তি ও অনুগ্রহ বর্ষিত হোক।]
.
জানাযার দোয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাযার সালাতে এ দু‘আ করতেন-
(للَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا، وَمَيِّتِنَا، وَصَغِيرِنَا، وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِسْلَامِ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ)
{আল্লা-হুম্মাগফির লি‘হায়্যিনা- ওয়া মায়্যিতিনা- ওয়া সগীরিনা- ওয়া কাবীরিনা- ওয়া যাকারিনা- ওয়া উনছা-না- ওয়া শা-হিদিনা- ওয়া গা-য়িবিনা-। আল্লা-হুম্মা মান আ‘হ্ইয়াইতাহু মিন্না- ফা’আ‘হয়িহি ‘আলাল-ঈমা-ন। ওয়ামান তাওয়াফ্ফাইতাহু মিন্না- ফাতাওয়াফফাহু ‘আলাল ইসলাম। আল্লা-হুম্মা লা- তা‘হরিমনা- আজরাহু ওয়ালা- তুদ্বিল্লানা- বা‘দাহু-}
[হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ-নারী এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখেন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দিবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সাওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।] -আবূ দাউদ ৩২০১