সালাত নফল

রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন। -বনী-ইসরাঈল ১৭:৭৯
.
তারা রাত অতিবাহিত করে তাদের রব-এর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে থেকে; -আল ফুরকান ২৫:৬৪
.
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত, -আয-যারিয়াত ৫১:১৭-১৮
.
নিশ্চয় রাতের বেলার উঠা প্রবৃত্তি দলনে প্রবলতর এবং বাকস্ফুরণে অধিক উপযোগী। -আল মুয্‌যাম্মিল ৭৩:৬
.
ফরয সলাতের পর সর্বোত্তম সলাত হচ্ছে রাতের সলাত। -মুসলিম ২৬৪৫
.
মানুষ ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় কর। -তিরমিজী ২৪৮৫
.
প্রতি রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন আর তিনি বলতে থাকেন, আমিই বাদশাহ। কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আছে এমন যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দিয়ে দেব; কে আছে এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। ফজর উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত এ ভাবেই চলতে থাকে। -মুসলিম ১৬৪৬
.
তোমাদের রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) প্রতিষ্ঠা করা উচিত। কেননা, এ হল তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অবলম্বিত রীতি। রাতের সালাত আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়; মন্দ কাজের কাফফারা এবং শারীরিক রোগের প্রতিরোধক। -তিরমিজী ৩৫৪৯
.
যে ব্যক্তি (ঘুমাতে) তার বিছানায় এসে রাতে উঠে সালাত পড়ার নিয়ত করলো, কিন্তু ঘুমের আধিক্যের কারণে তার ভোরে ঘুম ভাংলো, তাকে তার নিয়াত অনুযায়ী সওয়াব দেয়া হবে। তার এ ঘুম তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার জন্য দান-খয়রাত হিসাবে গণ্য। -ইবনে মাজাহ ১৩৪৪
.
একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের সালাতের পদ্ধতি কী? তিনি বললেনঃ দু’ দু’ রাক‘আত করে। আর ফজর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলে এক রাক‘আত মিলিয়ে বিতর করে নিবে। -বুখারী ১১৩৭
.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) বাদে সাত বা নয় কিংবা এগার রাক‘আত। -বুখারী ১১৩৯
.
আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রমাযানে আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, রমাযান মাসে ও রমাযানে ব্যতীত অন্য সময়ে (রাতে) তিনি এগার রাক‘আত হতে বৃদ্ধি করতেন না। তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! আমার দু’চোখ ঘুমায় বটে কিন্তু আমার কালব নিদ্রাভিভূত হয় না। -বুখারী ২০১৩
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ রাতে এগার রাকআত সালাত আদায় করতেন, এর মধ্যে এক রাকআত বিতর হিসেবে আদায় করতেন। এ সালাত শেষ করে তিনি ডান পার্শ্বে শুইতেন। অবশেষে মুয়াযযিন তার কাছে এলে তিনি সংক্ষিপ্ত দু রাকআত ফজরের সুন্নাত সালাত আদায় করতেন। -মুসলিম ১৫৯০
.
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) তাঁর খালা উম্মুল মু‘মিনীন মাইমূনাহ (রাযি.)-এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং আল্লাহর রাসূল ﷺ ও তাঁর পরিবার সেটির দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নাবী ﷺ রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। অতঃপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা হতে ঘুমের রেশ দূর করলেন। পরে তিনি সূরাহ্ আলু-ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল ﷺ একটি ঝুলন্ত মশ্কের নিকট গেলেন এবং উত্তমরূপে উযূ করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর মতই করলাম এবং তাঁর পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাকা’আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু’ রাক‘আত। অতঃপর বিতর আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুআয্যিন তাঁর নিকট এলো। তখন তিনি দাঁড়িযে দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। -বুখারী ৯৯২
.
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমি নাবী ﷺ এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সুরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আলে ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন। তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতেسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ (আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন,سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন)। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষন ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবংسُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى (আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিল তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, জারীর (রহঃ) এর হাদীসে অতিরিক্ত রয়েছে যে, নাবী ﷺ বললেন,سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ (যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শোনেন আমাদের প্রতিপালক! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা)। -মুসলিম ১৬৮৭
...

যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে বসে আল্লাহর যিকর করবে এবং এরপর দু’রাকআত সালাত আদায় করবে, তার জন্য একটি হজ্জ ও উমরা পালনের সওয়াব হবে।  আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ রাসূল ﷺ বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তির জন্য হজ্জ ও উমরার পরিপূর্ণ সওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সওয়াব হবে।- তিরমিজী ৫৮৬

.
নাবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ভোরে উঠে, তখন তার প্রতিটি জোড়ার উপর একটি সাদাকা রয়েছে। প্রতি সূবহানাল্লাহ সাদাকা, প্রতি আলহামদুলিল্লাহ সাদাকা, প্রতি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সাদাকা, প্রতি আল্লাহু আকবার সাদাকা, আমর বিল মা'রুফ (সৎকাজের আদেশ) সাদাকা, নাহী আনিল মুনকার (অসৎকাজের নিষেধ) সাদাকা। অবশ্য চাশতের সময় দু রাকআত সালাত আদায় করা এ সবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। -মুসলিম ১৫৪৪
.
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; নাবী ﷺ আমাদের যাবতীয় কাজের জন্য ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে তিনি কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (আর বলতেন) যখন তোমাদের কারো কোন বিশেষ কাজ করার ইচ্ছা হয়, তখন সে যেন দু'রাকআত সালাত পড়ে এরূপ দু'আ করে।
(আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা, ওয়া আসতাক্বদিরুকা বিক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকাল ‘আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু, ওয়ালা- আক্বদিরু, ওয়া তা‘অ্লামু ওয়ালা- আ‘অ্লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লা-মুল গ্বুইঊব। আল্লা-হুম্মা, ইন কুনতা তা‘অ্লামু আন্না হা-যাল আমরা (উদ্দিষ্ট বিষয়ের নাম বলবে) খাইরুল লী ফী দীনী ওয়ামা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাক্বদুরহু লী, ওয়া ইয়াসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহি। আল্লা-হুম্মা, ওয়া ইন কুনতা তা‘অ্লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী ওয়ামা‘আ-শী ওয়া ‘আ-কিবাতি আমরী ফাস্বরিফহূ ‘আন্নী, ওয়াস্বরিফনী ‘আনহু ওয়াক্ব দুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না, সুম্মা আরদ্বিনী বিহী।)
(অর্থঃ) ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের দ্বারা আমার উদ্দিষ্ট কাজের মঙ্গলামঙ্গল জানতে চাই এবং আপনার ক্ষমতা বলে আমি কাজে সক্ষম হতে চাই। আর আমি আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। কারণ, আপনি ক্ষমতাবান আর আমার কোন ক্ষমতা নেই এবং আপনি জানেন আর আমি জানিনা। আপনই গায়িব সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। ইয়া আল্লাহ! যদি আপনার জ্ঞানে এ কাজটিকে আমার দ্বীনের ব্যাপারে, আমার জীবন ধারণে ও শেষ পরিণতিতে; রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেনঃ আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে মঙ্গলজনক বলে জানেন তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন। আর যদি আমার এ কাজটি আমার দ্বীনের ব্যাপারে, জীবন ধারণে ও শেষ পরিণতিতে রাবী বলেন কিংবা তিনি বলেছেন দুনিয়ায় আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে, আপনি আমার জন্য অমঙ্গলজনক মনে করেন, তবে আপনি তা আমার থেকে ফিরিয়ে নিন। আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর যেখানেই হোক, আমার জন্য মঙ্গলজনক কাজ নির্ধারিত করে দিন। তারপর আমাকে আমার নির্ধারিত কাজের প্রতি তৃপ্ত রাখুন। রাবী বলেন, সে যেন এসময় তার প্রয়োজনের বিষয়ই উল্লেখ করে। -বুখারী ৫৯৪০
.
রাসূল ﷺ একদিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেনঃ হে আমার পিতৃব্য! আপনাকে কি আত্মীয়তার হক আদায় হিসাবে একটি জিনিস দিব, আপনাকে কি একটি বস্তু দান করব, আপনাকে কি উপকৃত করব? আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাসূল ﷺ বললেনঃ হে পিতৃব্য! এমন ভাবে চার রাকআত সালাত আদায় করবেন যে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করে রুকূর পূর্বে পনরবার পাঠ করবেন। এরপর রুকূ করে তাতে পাঠ করবেন দশবার, পরে রুকূ থেকে মাথা তুলে পাঠ করবেন দশবার, পরে সিজদা করে পাঠ করবেন দশবার, পরে সিজদা থেকে মাথা তুলে পাঠ করবেন দশবার, পরে আবার সিজদা করে পাঠ করবেন দশবার, সিজদা থেকে মাথা তুলে কিয়ামের পূর্বে পাঠ করবেন দশবার। এইভাবে প্রতি রাকা’আত হবে পঁচাত্তরবার, আর চার রাকআতে হবে মোট তিনশতবার। আপনার পাপরাশি স্তুপ দিয়ে সাজান বালুকারাশির টিলার মত যদি হয়, তবূও এতে আল্লাহ্ তা’আলা তা মাফ করে দিবেন। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বললেনঃ হে্ আল্লাহর রাসূল! এমন কে আছে যে প্রতিদিন তা পাঠ করতে সক্ষম হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি প্রতিদিন আপনি তা না পারেন তবে প্রতি সাপ্তাহে একবার করবেন। প্রতি সপ্তাহে একবার করে না পারলে প্রতি মাসে একবার। রাসূল ﷺ এইভাবে বলতে বলতে শেষে বললেনঃ অন্তত বছরে একবার তা পাঠ করবেন। -তিরমিজী ৪৮২