নাজাছাত

নাজাছাতে গলীজা (যে নাপাকীর হুকুম শক্ত)

মানুষের মল-মূত্র, রক্ত, বীর্য, মুখভর্তি বমি, পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে নির্গত যে কোন তরল বস্তু; মদ; 
শূকরের গোশত, পশম, হাড়সহ সবকিছু; 
হালাল পশুর পায়খানা, রক্ত; 
হারাম পশুর পায়খানা, পেশাব, রক্ত ও দুধ; 
হাঁস, মুরগী, পানকৌড়ি ও তিতিরের পায়খানা; 
পশুর ক্ষতস্থান থেকে নির্গত পুঁজ অথবা অন্য কোন তরল পদার্থ; 
নাপাক বস্তু থেকে নিঃসৃত নির্যাস; 
মৃত পশুর গোশ্ত, চর্বি ইত্যাদি এবং 
দাবাগাতহীন চামড়া।

তরল নাজাসাতে গালীযা শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা এক দিরহাম (গোলকৃতভাবে একটা কাঁচা টাকা বা হাতের তালুর নিচ স্থান পরিমাণের সমান) পর্যন্ত হলে মাফ। অর্থাৎ, পাক না করে নামায পড়া জায়েয। তবে বিনা ওজরে স্বেচ্ছায় এরূপ করা মাকরূহ।

নাজাছাতে গলীজার মধ্যে যেগুলো গাঢ় যেমন: পায়খানা ইত্যাদি তা এক সিকি (৪.৫ মাশা বা ৪.৮৬ গ্রাম) পরিমাণ পর্যন্ত কাপড় বা শরীরে লাগলে মাফ। অর্থাৎ, পাক না করে নামায পড়া জায়েয। তবে বিনা ওজরে স্বেচ্ছায় এরূপ করা মাকরূহ।

বর্ণিত পরিমাণের অতিরিক্ত হলে উভয় ক্ষেত্রেই তা ধৌত করা ব্যতিরেকে পাক হবে না এবং পাক না করে নামায পড়া জায়েয নয়।

.

নাজাছাতে খফীফা (যার হুকুম কিছুটা হালকা)

গরু, মহিষ, বকরী ইত্যাদি সকল হালাল পশুর পেশাব, ঘোড়ার পেশাব; 
কাক, চিল, শকুন ইত্যাদি সকল হারাম পাখির বিষ্ঠা; 
হালাল পাখির পায়খানা যদি দুর্গন্ধযুক্ত হয়।

নাজাছাতে খফীফা শরীর বা কাপড়ে লাগলে যে অঙ্গে লেগেছে তার এক-চতুর্থাংশের কম হলে মাফ, আর পূর্ণ এক-চতুর্থাংশ বা আরও বেশী হলে মাফ নয়। হাত, পা, জামার হাতা, কলি, কাপড়ের আঁচল, পায়জামার দুই মুহরীর প্রত্যেকটা ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ বলে গণ্য হবে।

.

হাঁস, মুরগি ও পানকৌড়ি ব্যতীত অন্যান্য হালাল পাখির বিষ্ঠা (যেমন কবুতর, চড়ুই, শালিক ইত্যাদির বিষ্ঠা) এবং বাদুর ও চামচিকার পেশাব-পায়খানা পাক। এমনিভাবে মশা, মাছি, ছারপোকা এবং মাছের রক্তও পাক।

.

নাজাহাত কম হোক বা বেশী হোক পানিতে পড়লে সেই পানি নাজাছাত বা নাপাক হয়ে যাবে নাজাহাতে গলীজা পড়লে পানিও নাজাছাতে গলীজা হয়ে যাবে এবং নাজাহাতে খফীফা পড়লে নাজাছাতে খফীফা হবে। তবে প্রবাহিত পানিতে বা ১০০ বর্গহাত কিংবা তার চেয়ে বড় কোন কুয়া হাউজ ইত্যাদিতে নাপাকী পড়লে তা নাপাক হবে না। তবে নাপাকী পড়ার কারণে তার রং স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে গেলে নাপাক হয়ে যাবে। যে পানি দ্বারা কোন নাপাক জিনিস ধৌত করা হয়, সে পানি নাপাক হয়ে যায়।

মৃতকে যে পানি দ্বারা গোসল দেয়া হয় সে পানিও নাপাক।

রাস্তা-ঘাটে বা বাজারে যে পানি বা কাদার ছিটা কাপড়ে কিংবা শরীরে লাগে তাতে স্পষ্টত কোন নাপাক জিনিস দেখা গেলে তা নাপাক আর স্পষ্টত কোন নাপাক জিনিস দেখা না গেলে নাপাক নয়।

পেশাবের অতি ক্ষুদ্র ফোটা যা চোখে দেখা যায় না তার কারণে শরীর কাপড় অপবিত্র হয় না।

গাভী, বকরী দহন করার সময় যদি দুই একটি লেদা বা সামান্য গোবর দুধের মধ্যে পড়ে এবং সাথে সাথে তা বের করে ফেলা হয় তাহলে তা মাফ। কিন্তু যদি লেদা বা গোবর দুধের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যায়, তাহলে সম্পূর্ণ দুধ নাপাক হয়ে যাবে, তা খাওয়া জায়েয হবে না।

উৎপন্ন ফসল মাড়াই করার সময় গরু অথবা অন্য কোন পশু তার উপর পেশাব করলে তা নাপাক হবে না। তবে মাড়াবার সময় ব্যতীত অন্য সময় পেশাব করলে নাপাক হয়ে যাবে।

কুকুর, শুকর, বানর এবং বাঘ, চিতাবাঘ প্রভৃতি হিংস্র প্রাণীর ঝুটা নাপাক।

বিড়ালের ঝুটা পাক, তবে মাকরূহ। কোন পানিতে বিড়াল মুখ দিয়ে থাকলে তা দ্বারা উযূ করবে না। অবশ্য যদি অন্য পানি না পাওয়া যায় তবে ঐ পানি দ্বারাই উযূ করবে। আর দুধ বা তরকারী ইত্যাদি খাদ্য খাবারের মধ্যে মুখ দিয়ে থাকলে যদি মালিক অবস্থাপন্ন হয় তাহলে তা খাবে না- খাওয়া মাকরূহ হবে। যদি গরীব হয় তবে তার জন্য তা খাওয়া মাকরূহ নয়। তবে বিড়াল যদি সদ্য ইঁদুর ধরে এসে তৎক্ষণাৎ কোন পানি বা খাদ্য খাবারে মুখ দেয় তবে তা নাপাক হয়ে যাবে। আর যদি কিছুক্ষণ দেরী করে নিজের মুখ চেটে চুষে পরিষ্কার করে তারপর মুখ দেয় তখন নাপাক হবে না- এখন পূর্বের মাসআলার ন্যায় মাকরূহ হবে।

যে সব প্রাণী ঘরে থাকে যেমন সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর, তেলাপোকা, টিকটিকি এবং মুরগি যে গুলো সর্বত্র ছাড়া থাকে- এদের ঝুটা মাকরূহ তানযীহী। ইঁদুর যদি রুটির কিছু অংশ খেয়ে থাকে সেদিক দিয়ে কিছুটা ছিড়ে ফেলে অবশিষ্ট অংশ খাবে।

হালাল পশু ও হালাল পাখীর ঝুটা পাক। ঘোড়ার ঝুটাও পাক। যে কোন রকম পোশা পাখী যদি মরা না খায় এবং তার ঠোটে কোন রকম নাপাকী থাকার সন্দেহ না থাকে তবে তাদের ঝুটাও পাক।

হালাল পশু ও হালাল জানোয়ারের ঝুটা পাক। তাদের ঘামও পাক। যাদের ঝুটা মাকরূহ তাদের ঘামও মাকরূহ।

মুসলমান অমুসলমান সব লোকের ঝুটা পাক, তবে কোন নাপাক বস্তু তার মুখে থাকা অবস্থায় পানি উচ্ছিষ্ট করলে ঐ পানি নাপাক হয়ে যাবে।