Pages

2.6.13

হাদিয়া দাওয়াত

শরীয়তের দৃষ্টিতে হাদিয়া বলা হয়, কোনো বিনিময় ছাড়া কাউকে কিছুর মালিক বানিয়ে দেওয়া। -বারো মাসের করণীয় বর্জনীয় ২৩৩
.
উসমান রা.-কে একব্যক্তি খতনা অনুষ্ঠানে দাওয়াত করে। তিনি অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা রাসুলের যুগে খতনা অনুষ্ঠানে যেতাম না এবং দাওয়াতও করা হতো না। -মুসনাদু আহমাদ ১৭৯০৮
-বারো মাসের করণীয় বর্জনীয় ১১৬
.
হাদিয়া বলা হয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আন্তরিক প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ যা অন্যকে দেয়া হয়।
যেসব ক্ষেত্রে কিছু দেয়ার জন্য আল্লাহ বা তাঁর রসূলের (সাঃ) তরফ থেকে নির্দেশ বা উৎসাহ রয়েছে এবং সওয়াবের নিয়তে দেওয়া হয়, সেগুলোকে সদকা বলা হয়। ফরয যাকাতও সদকার অন্তর্ভুক্ত।
-দান-সদকা ৮৩:২০৮
.
মৃতব্যক্তির রুহের মাগফেরাতের নিয়তে কোন খানার ব্যবস্থা করা হলে সেটা একান্তভাবেই গরীবের হক হয়ে যায়। যারা সদকা-ফেতরা খাওয়ার যোগ্য তাঁরাই কেবলমাত্র সেই খানা খেতে পারেন। ধনীদের পক্ষে এ খানা খাওয়া জায়েয হবে না।
যদি এই খানা মৃতব্যক্তির রুহের মাগফেরাত নিয়তে না হয়ে নিতান্তই দেশাচার পালনের নিয়তে হয় তবে অবশ্য অন্য কথা।
কিন্তু তার মধ্যে প্রশ্ন থেকে যায় যে, মৃত ব্যক্তিকে উসিলা করে এরূপ একটি খানা কেন তৈরী করা হলো? কারো মৃত্যুর ঘটনাটা কি আনন্দের – যে এজন্য আত্মীয়-স্বজন, পাড়া পড়শী নিয়ে ভোজ উৎসব করতে হবে?
মৃত ব্যক্তির জন্য ইসালে সওয়াব এবং রুহের মাগফেরাত কামনার সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে মিসকীনকে খানা খাওয়ানো, এতীম-অসহায়দের পুনর্বাসনে অর্থদান এবং দ্বীনি এলেমের প্রচার-প্রসারে সহায়তা করা।
-দান-সদকা ৮৬:২২০

মুহিউদ্দীন খান; রোযা, যাকাত ও অন্যান্য প্রসঙ্গ; মদীনা পাবলিকেশান্স
mashikmadina.files.wordpress.com/2014/10/5-daan-sadka.pdf

No comments: