Pages

1.6.26

এসব হাদীস নয় ১

কিছু জরুরি বিষয়:

সহীহ হাদীসের উৎস

১. মৌলিক আকীদা-বিশ্বাস ঠিক করা এবং জরুরি আমলের ইলম অর্জন করার পর ইলমের ময়দানে একজন মুসলিমের সর্বপ্রথম কাজ হল কুরআন মাজীদের সহীহ-শুদ্ধ তেলাওয়াত শিক্ষা করা। এরপর নির্ভরযোগ্য কোন হক্কানি আলেমের তত্ত্বাবধানে সাধ্য মোতাবেক ধীরে ধীরে কোন নির্ভরযোগ্য তাফসীর ও তরজমার সহযোগিতায় কুরআন মাজীদের অর্থ ও ব্যাখ্যা বুঝার চেষ্টা করতে থাকা। সাথে সাথে নববী আদর্শ এবং তাঁর শিক্ষা ও হেদায়েতের জ্ঞানার্জনেও কিছু সময় ব্যয় করা জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, আকীদাবিষয়ক হাদীসের জন্য 'মিশকাতুল মাসাবীহ'-এর কিতাবুল ঈমান তথা ঈমান অধ্যায়ের হাদীস পড়া। আখলাক-চরিত্র ও আদব- শিষ্টাচারের জন্য ইমাম বুখারী (রহ.) রচিত 'আলআদাবুল মুফরাদ' এবং ইমাম নববী (রহ.) রচিত 'রিয়াযুস সালেহীন' অধ্যয়ন করা। নববী যিকির ও দুআসমূহের জন্য ইবনুল জাযারী (রহ.) লিখিত 'আলহিসনুল হাসীন' এবং আল্লামা নববী (রহ.) এর 'আলআযকার' বারবার অধ্যয়ন করা। ফযীলত- বিষয়ক হাদীসের জন্য 'আলমুনতাকা মিনাত তারগীব ওয়াত-তারহীব' এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শামায়েল ও সীরাতসম্বলিত হাদীসের জন্য 'শামায়েলে তিরমিযী', 'যাদুল মাআদ' ও 'উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম' সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইত্যাদি কিতাব পড়া। যুহৃদ ও মাওয়ায়েয, হেকমত ও প্রবাদ এবং অন্যান্য বিষয়ের হাদীস জানার জন্য 'সহীহুল জামিইস সগীর ওয়া-যিয়াদাতিহী'ও একটি বিশাল ভাণ্ডার। ফিক্‌বিষয়ক হাদীস জানার জন্য 'ফিকহুস সুনান ওয়াল-আসার' এবং 'আসারুস সুনান' ইত্যাদি কিতাব পড়া। (১)

-এসব হাদীস নয় ১: ৩৮-৩৯

.

জাল রেওয়ায়েত বর্ণনা করা কবীরা গোনাহ

২. জাল ও ভিত্তিহীন রেওয়ায়েতের বিষয়টি হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। প্রমাণ ছাড়া কোন কিছুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বলে দাবি করা ইসলামে জঘন্যতম কবীরা গোনাহ বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁর পক্ষ থেকে জাহান্নামের হুঁশিয়ারি পর্যন্ত এসেছে। হাদীস শরীফে আছে-

'যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা খুঁজে নেয়।' -সহীহ বুখারী ১/২১, হাদীস ১১০, সহীহ মুসলিম ১/৭, হাদীস ৩

অন্য হাদীসে আছে-

'আমার ওপর মিথ্যারোপ করা, অন্য কারও ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। যে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।' -সহীহ বুখারী ১/১৭২, হাদীস ১২৯১, সহীহ মুসলিম ১/৭, হাদীস ৪

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-

'যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।' -সহীহ বুখারী ১/২১, হাদীস ১০৯

জাল রেওয়ায়েতের ব্যাপারে এ বাহানাও যথেষ্ট নয় যে, হাদীস জাল করে থাকলে অন্যজন করেছে, আমরা তো শুধু বর্ণনা করছি। কেননা, শরীয়ত ও যুক্তি উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই মিথ্যা প্রচারকারীও মিথ্যাচারীর মতো গোনাহগার ও শাস্তির যোগ্য। হাদীস শরীফে এসেছে-

'যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বর্ণনা করবে, যা তার কাছে মিথ্যা বলে মনে হয়, তাহলে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন।' -সহীহ মুসলিম ১/৬

আরও ইরশাদ হয়েছে-

'কারও মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শুনে (কোন বাছ-বিচার ছাড়া) সবই বর্ণনা করে।' -সহীহ মুসলিম ১/৮, হাদীস ৫, সুনানে আবু দাউদ ২/৬৮১, হাদীস ৪৯৮২

বুঝা গেল, জাগতিক কোন ব্যাপারেও কোন সংবাদ শোনামাত্রই তা বর্ণনা করা ঠিক নয়, বরং সত্য-মিথ্যা যাচাই করা জরুরি। যাচাই-বাছাই ছাড়া যেকোন শোনা কথা প্রচারকারী মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। যখন জাগতিক ব্যাপারে এবং সাধারণ সংবাদ সম্পর্কে এমন কড়া নির্দেশ, তাহলে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের ব্যাপারে যাচাই-বাছাইয়ের বিধান কত তাকিদপূর্ণ হবে! আল্লাহর নবীর নামে কোন কিছু বর্ণনা করতে কত সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার, সামান্য চিন্তা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। অন্য হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

'তোমরা আমার নামে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ভয় কর। তোমরা যা নিশ্চিত জান (যে তা আমার হাদীস) শুধু তা-ই বর্ণনা কর। যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক আমার ব্যাপারে মিথ্যা বলবে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয় এবং যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামত মনগড়া তাফসীর করে, সেও যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।'-জামে তিরমিযী ২/১২৩, হাদীস ২৯৫১ (তাফসীর অধ্যায়ের শুরুভাগে)

-এসব হাদীস নয় ১: ৪০-৪১

.

[সহীহ হাদীস] "কাসীর ইবনে কায়েস (রহ.) বলেন, আমি দামেস্কের মসজিদে হযরত আবুদ দারদা (রা.) এর মজলিসে বসা ছিলাম। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল- হে আবুদ দারদা, আমি রাসূলের শহর (মদীনা) থেকে আপনার কাছে এসেছি; অন্য কোন প্রয়োজনে নয়, শুধু একটি হাদীসের জন্য। আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা বর্ণনা করেন বলে আমার কাছে খবর পৌঁছেছে।

হযরত আবুদ দারদা (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ইলমে দ্বীন শেখার জন্য কোন পথ অতিক্রম করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করবেন। ফেরেশতারা তালেবে ইলমের সন্তুষ্টির জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। একজন আলেমের জন্য আসমান ও দুনিয়াবাসী, এমনকি পানির মাছ পর্যন্ত মাগফেরাতের দুআ করতে থাকে। আলেমের মর্যাদা আবেদের ওপর তেমন, যেমন পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা অন্যান্য তারকার ওপর। আলেমগণ নবীগণের ওয়ারিস ও উত্তরাধিকারী। নবীগণ দেরহাম দিনারের মীরাস রেখে যাননি, বরং তাঁরা শুধু ইলমের মীরাস রেখে গেছেন। যে ব্যক্তি এই ইলম গ্রহণ করল, সে বিরাট অংশই গ্রহণ করল।" -সুনানে আবু দাউদ ৫১৩, হাদীস ৩৬৪১, জামে তিরমিযী ২/৯৭-৯৮, হাদীস ২৬৮২

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-

[সহীহ হাদীস] “যে ব্যক্তি শুধু কল্যাণের কথা শিখতে বা শেখাতে সকালে মসজিদে যাবে, সে একটি পরিপূর্ণ হজের সওয়াব পাবে।" -তবারানী কাবীর ৮/৯৪, হাদীস ৭৪৭৩, মুস্তাদরাকে হাকেম ১/৯১, হাদীস ৩১১

-এসব হাদীস নয় ১: ৮২-৮৩

.

অন্য হাদীসে আছে-

[সহীহ হাদীস] "হযরত আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সৎসঙ্গীর উপমা হল মেশকবহনকারীর মতো, মেশক যদি নাও পাও, সুঘ্রাণ অবশ্যই পাবে। অসৎসঙ্গীর উপমা হল হাপরধারীর মতো, তার স্ফুলিঙ্গ তোমার ক্ষতি না করলেও, তার ধোঁয়া অবশ্যই তোমাকে স্পর্শ করবে।” -সুনানে আবু দাউদ ২/৬৬৪ হাদীস ৪৮১৯

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-

[সহীহ হাদীস] “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট সঙ্গী সে, যার দর্শন তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার কথায় তোমাদের ইলম বৃদ্ধি পায় এবং যার আমল তথা কাজ-কর্ম তোমাদেরকে আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।” -মুসনাদে আব্দুন্নু হুমাইদ, মুসনাদে আবু ইয়ালা-ইতহাফুল খিয়ারা ৮/১৬৩

-এসব হাদীস নয় ১:৮৭

.

[সহীহ হাদীস] অর্থাৎ রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কেউ কোন আঘাত বা রোগ-বালাইয়ের অভিযোগ করলে তিনি শাহাদাত আঙ্গুলে থুথু দিয়ে মাটিতে রাখতেন। এরপর উক্ত স্থানে থুথু ও ধূলিমাখা আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলতেন-( بِاسْمِ اللَّهِ، تُرْبَةُ أَرْضِنَا، بِرِيقَةِ بَعْضِنَا، لِيُشْفَي به سَقِيمُنَا ، بِإِذْنِ رَبَّنَا )আল্লাহর নামে আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের জমির মাটি এবং আমাদের কারও থুথু দ্বারা আমাদের রোগী আরোগ্যলাভ করুক। -সহীহ মুসলিম ২/২২৩, হাদীস ২১৯৪, সহীহ বুখারী ২/৮৫৫, হাদীস ৫৭৪৫

-এসব হাদীস নয় ১:১২৮

.

নখ কাটার নিয়ম

[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫০] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান হাতের তর্জনী হতে নখ কাটা আরম্ভ করে বৃদ্ধাঙ্গুলে শেষ করতেন। বাম হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুল হতে আরম্ভ করে বৃদ্ধাঙ্গুলে শেষ করতেন।

নখকাটার ধারাবাহিকতা ও নিয়ম বর্ণনা করতে গিয়ে কেউ কেউ প্রমাণস্বরূপ হাদীস হিসেবে একে উল্লেখ করে থাকেন, অথচ এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস নয়। নখ কাটার নির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন কিছু প্রমাণিত নেই। ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ফাতহুল বারী-এর ১০/৩৫৭ পৃষ্ঠায় বলেন, 'নখ কাটার নিয়ম সম্পর্কে কোন হাদীস প্রমাণিত নয়।'

-এসব হাদীস নয় ১:১২৯

.

যার কোন পীর নেই তার পীর শয়তান

[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫১] যার কোন পীর নেই তার পীর শয়তান।

যে ব্যক্তি তার মুরুব্বি তথা দ্বীনদার উস্তাদ, নেক পিতা-মাতা অথবা কোন হক্কানি বুযুর্গের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে না, সে ব্যক্তি সাধারণত শয়তানের ফাঁদে পড়ে থাকে। এ জন্য হক্কানি উলামায়ে কেরামের শরণাপন্ন হওয়া এবং নেককারদের সোহবত অবলম্বন করার প্রতি শরীয়ত গুরুত্বারোপ করেছে। তবে উল্লিখিত কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস নয়, কোন হক্কানি বুযুর্গের অভিজ্ঞতালব্ধ উক্তিমাত্র।

খাজা নিযামুদ্দীন (রহ.)-এর মালফুযাত তথা বাণীসংকলন 'ফাওয়ায়েদুল ফুয়াদ'-এ আছে, "মাওলানা সিরাজুদ্দীন হাফেয বাদায়ূনী তাঁর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করেন- (যার কোন পীর নেই তার পীর শয়তান) এটা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস? হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.) বলেন, না, এটা মাশায়েখের বাণী।" -ফাওয়ায়েদুল ফুয়াদ-আসুন্নাতুল জালিয়‍্যা ফিল চিশতিয়াতিল আলিয়‍্যা ৫৯, খাইরুল ফাতাওয়া ১/৩৬১

অনেকে উপরোক্ত কথাটাকে হাদীস মনে করে নামমাত্র বাইআতকে (পীরের হাতে হাত দেওয়াকে) ফরযে আইন মনে করে থাকে, যা নিতান্তই ভুল। পক্ষান্তরে অনেকে হক্কানি উলামা মাশায়েখের সোহবত ও সংশ্রবের মোটেও প্রয়োজনবোধ করে না, যা আরও মারাত্মক ভুল।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/২৩৬-২৩৮, তাসাওউফ : তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ, মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ৭৩-৭৮

.

যে নিজেকে চিনল সে রবকে চিনল

[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫২] যে ব্যক্তি নিজেকে চিনতে পেরেছে, সে আপন প্রতিপালকের পরিচয় লাভ করেছে।

-এসব হাদীস নয় ১:১৩১

.

প্রতি ৪০ জনে একজন ওলী

[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫৩] সমবেত প্রতিটি জনসমষ্টিতেই আল্লাহর একজন ওলী থাকেন। তারাও জানে না সে কে, এমনকি সে নিজেও জানে না।

এ কথাটা নিম্নোক্ত শব্দে অধিক প্রসিদ্ধ-

[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫৪] প্রতি চল্লিশ জনে একজন আল্লাহর ওলী থাকেন।

মুহাদ্দিস ইবনে আবিল ইয্য (রহ.) এ সম্পর্কে বলেন- এটার কোন ভিত্তি নেই। আর কথাটাও বাতিল। কেননা কখনও গোটা জামাতই হয় বে-দ্বীন, ফাসেক।

মোল্লা আলী কারী (রহ.) ও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, 'এই বর্ণনাটা মিথ্যা, হাদীসগ্রন্থের কোথাও এর অস্তিত্ব নেই।' -মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ১১/৬০, শরহুল আকীদাতিত ত্বহাবিয়া ৩৪৭-৩৪৮, আলমাসনূ ১৬১, আলমাওযূআতুল কুবরা ১০৬, কাশফুল খাফা ২/১৯৪

-এসব হাদীস নয় ১:১৩২-১৩৩

.

সহীহ হাদীস] “মুজাহিদ (রহ.) হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ধরে বললেন, তুমি দুনিয়াতে মুসাফির কিংবা পথিকের মতো বসবাস করবে এবং নিজেকে কবরবাসীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করবে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, এরপর ইবনে উমর (রা.) আমাকে লক্ষ করে বললেন, সকাল হলে তুমি সন্ধ্যার আশা করো না। অর্থাৎ সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা করো না। তেমনি সন্ধ্যা হলে সকালের আশা করো না। অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে কাজে লাগাও এবং মৃত্যুর আগে জীবনকে কাজে লাগাও। কেননা, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি জান না আগামী কাল তোমার নাম কী হবে? (মৃত না জীবিত)।" -সহীহ বুখারী ২/৯৪৯, হাদীস ৬৪১৬, জামে তিরমিযী ২/৫৯, হাদীস -২৩৩৩, সহীহ ইবনে হিব্বান ২/৪৭১-৪৭২, হাদীস ৬৯৮

-এসব হাদাস নয় 1:১৩৪

.

ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫৮] আযানের দুআয় 'ওয়াদ্দারাজাতার রাফীআ' বৃদ্ধি

আযানের জবাব শেষে যেকোন দরূদ পাঠ করে শ্রোতারা যে দুআ পাঠ করে থাকে, সে দুআয় অনেকে 'ওয়াদ্দারাজাতার রাফীআ' অংশটুকু বৃদ্ধি করে থাকে। সাধারণত লোকেরা একে হাদীসে বর্ণিত দুআর অংশ মনে করে থাকে, অথচ তা হাদীসে বর্ণিত দুআর অংশ নয়।

হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) এ সম্পর্কে বলেন, 'এই হাদীসের (আযানের দুআ সম্বলিত) কোন সনদসূত্রেই 'ওয়াদ্দারাজাতার রাফীআ'এর উল্লেখ নেই।' -আত্তালখীসুল হাবীর ১/২১০

আল্লামা সাখাবী (রহ.) এ সম্পর্কে বলেন- 'এটা আমি কোন রেওয়ায়েতেই দেখিনি।' -আলমাকাসিদুল হাসানা ২৫৪

আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (রহ.) বলেন- 'ওয়াদ্দারাজাতার রাফীআ' বৃদ্ধি করা এবং 'ইয়া আরহামার রাহিমীন' দ্বারা শেষ করা-এ দু'টির কোন ভিত্তিই নেই।

উল্লেখ্য, ইবনুস সুন্নী (রহ.) সংকলিত 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ'এর হায়দারাবাদের সংস্করণে যদিও 'ওয়াদ্দারাজাতার রাফীআ' শব্দ দু'টির উল্লেখ আছে, কিন্তু এটা মূলত লিপিকর বা প্রকাশকের ভুল। পরবর্তী সময়ে এ কিতাবটির একাধিক তাহকীককৃত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলোয় এ শব্দ দু'টি নেই। তাছাড়া ইবনুস সুন্নী (রহ.) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম নাসায়ী (রহ.) এর মাধ্যমে। আর ইমাম নাসায়ী (রহ.) এর 'সুনান' ও 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ' উভয় গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সেখানেও শব্দ দু'টি নেই। -শরহুল মিনহাজ ২/১১৪, রদ্দুল মুহতার ১/৩৯৮, আসসিআয়া ২/৪০ স্কাতুল মাফাতীহ ২/১৬৩, কাশফুল খাফা ১/৪০২, মাআরেফুস সুনান রাহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআহ শরহে হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ ৪/৩৬৫

-এসব হাদীস নয় ১:১৩৫-১৩৬

.

[ভিত্তিহীন বর্ণনা- ৬০] নামায শেষে 'হায়্যিনা রাব্বানা বিস্সালাম ...

আমরা নামায শেষে হাদীসে বর্ণিত নিচের দুআটি পড়ে থাকি-

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ ، وَمِنْكَ السَّلَامُ ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ دُعَاءُ مِنَ الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ

কিন্তু অনেকেই এ দুআর সঙ্গে আরও কিছু বাক্য বৃদ্ধি করে থাকে। তারা 'ওয়া-মিনকাস সালাম'-এর পর-

وَإِلَيْكَ يَرْجِعُ السَّلَامُ ، فَحَيَّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ ، وَأَدْخِلْنَا دَارَكَ دَارَ السَّلَامِ لَا يُوْجَدُ فِي الدُّعَاءِ الْمَأْثُوْرِ بَعْدَ الْمَكْتُوْبَةِ

বাক্য বৃদ্ধি করে থাকে। এটা নামাযের পর বর্ণিত উক্ত দুআর অংশ হিসেবে পাওয়া যায় না। আল্লামা ইবনুল জাযারী (রহ.) এ সম্পর্কে বলেন- 'আর 'ওয়া-মিনকাস সালাম'-এর পর যে 'ইলাইকা ইয়ারজিউস সালাম ...' বৃদ্ধি করা হয়, এর কোন ভিত্তি নেই; বরং এগুলো কোন কিসসা- কাহিনীকারদের বানানো।' -মিরকাতুল মাফাতীহ ২/৩৫৮, আসসিআয়া ২/২৫৮

উক্ত দুআয় কেউ কেউ আবার 'ওয়া-তাবারাক্কা'এর পর 'ওয়া- তাআলাইতা'ও বৃদ্ধি করে থাকে। এটাও উক্ত দুআর অংশ হিসেবে পাওয়া যায় না। কাশফুল খাফা ১/১৮৬

উল্লেখ্য فَحَيْنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ এ বাক্যটি অন্য আরেকটি দোয়ার অংশ হিসেবে পাওয়া যায়। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণিত, বাইতুল্লাহ শরীফ দেখলে তিনি এ দুআ পড়তেন- اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ ، فَحَيْنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ-মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ১৫৯৯৮, ১৬০০১

মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস নং ১৬০০০ থেকে বুঝা যায় সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) এ দুআটি হযরত উমর (রা.) থেকে শিখেছেন।

-এসব হাদীস নয় ১:১৩৭

No comments: