শবে বরাত

লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বান বা মধ্য শা'বানের রজনীর তাৎপর্য বিবেচনায় আলিমরা একে শবে বারাআহ বা মুক্তির রজনী বলে নামকরন করেছেন। আমাদের কাছে এটি শবে বরাত নামে পরিচিত। এ রাতে নির্দিষ্ট কিছু পাপে লিপ্ত না এমন অসংখ্য মুসলিমকে আল্লাহ ক্ষমা করেন। বিভিন্ন বর্ণনায় কিছু অপরাধীর নাম পাওয়া যায় যারা এই ক্ষমার রাতেও ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে না। তারা হলো:

বিশুদ্ধ বর্ণনায়:
১. শিরকে জড়িত,
২. হিংসা-বিদ্বেষ বা পরশ্রীকাতরতায় জড়িত;

দুর্বল বর্ণনায়:
৩. ব্যাভিচারিনী,
৪. আত্মহত্যাকারী;

মারাত্মক দুর্বল বর্ণনায়:
৫. পিতামাতার অবাধ্য সন্তান,
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী,
৭. মদ্যপায়ী বা নেশাগ্রস্ত,
৮. টাখনু আবৃতকারে কাপড় পরিধানকারী (পুরুষ),
৯. প্রাণীর ছবি অংকনকারী,
১০. যে ব্যক্তি একের কথা অপরের কাছে লাগায়।

প্রত্যেক মুমিনের উচিৎ এই সকল অপরাধ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
.
শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস:

আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৯০
.
আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমি নাবী ﷺ কে (বিছানায়) না পেয়ে তাঁর খোঁজে বের হলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি বাকির কবরস্থানে, তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুলে আছেন। তিনি বলেন: হে আয়িশাহ! তুমি কি আশঙ্কা করেছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তা নয়, বরং আমি ভাবলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৮৯; সূনান তিরমিজী ৭৩৭
হাদিসটিকে আলবানী (রহ.) যঈফ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
.
যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত পড়ো এবং এর দিনে সওম রাখো। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেনঃ কে আছো আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দান করবো। কে আছো রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছো এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহবান করেন)। -ইবনে মাজাহ ১৩৮৮
হাদিসটিকে আলবানী (রহ.) যঈফ জিদ্দান অথবা মাওযু এবং আব্দুল মালেক (হাফি.) জয়ীফ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
.
আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ একাধারে সাওম পালন করে যেতেন এমনকি আমরা বলতাম তিনি সাওম পালন করেছেন (আর কখনও ভংগ করবেন না)। আবার কখনও তিনি সাওম ছেড়ে দিতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি সাওম ছেড়ে দিয়েছেন (আর কখনো সাওম পালন করবেন না)। আমি তাঁকে শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে এত অধিক (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি। তিনি যেন গোটা শাবান মাসই সাওম পালন করতেন। তিনি সামান্য (কয়টি দিন) ব্যতীত গোটা শাবান মাস সাওম পালন করতেন। -মুসলিম ২৫৯৩
.
প্রতি মাসে তিন দিন এবং গোটা রমযান মাস সাওম পালন করাই হল সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য। -মুসলিম ২৬১৮
.
মানুষের আমল (সপ্তাহে দু’বার) সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর দরবারে) উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই এর সাথে তার দুশমনি রয়েছে। তখন বলা হবে, এ দু’জনকে বর্জন করো অথবা অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা মীমাংসার প্রতি প্রত্যাবর্তন করে। -মুসলিম ৬৪৪১
.
মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। -বুখারী ১১৪৫
.
হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই। -আল-আদাবুল মুফরাদ ৭২১
.
হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অগ্রবর্তী হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং মু’মিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। -সূরা আল-হাশর ৫৯:১০
.

বিস্তারিত পড়তে পারেন খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) এর কুরআন সুন্নাহর আলোকে শবে বরাত ফযিলত ও আমল বই থেকে।

বিস্তারিত আলোচনা শুনতে পারেন ইউটিউবে

লাইলাতুল কদর

নিশ্চয়ই আমি এ (গ্রন্থ)-টি নাযিল করেছি এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে। তুমি কি জানো সেই (মহিমান্বিত) রাতটি কি? মর্যাদাপূর্ণ এ রাতটি হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম; এ রাতে (ফেরেশতা ও তাদের সর্দার) 'রূহ' তাদের মালিকের সব ধরনের আদেশ নিয়ে (যমীনে) অবতরণ করে। (সে আদেশ বার্তাটি হচ্ছে চিরন্তন) প্রশান্তি, তা ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত (অব্যাহত) থাকে। -আল-ক্বাদর ৯৭: ১-৫
.
হা-মীম। সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ। আমি ইহা একটি মুবারাক রাতে অবতীর্ণ করেছি , অবশ্যই আমি হচ্ছি (জাহান্নাম থেকে) সতর্ককারী! এ রাতে প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফয়সালা (স্থিরীকৃত) হয়। (তা স্থিরীকৃত হয়) আমারই আদেশক্রমে, (কাজ সম্পাদনের জন্যে) আমি নিসন্দেহে (আমার) দূত পাঠিয়ে থাকি। (এটা সম্পন্ন হয়) তোমার মালিকের একান্ত অনুগ্রহে; অবশ্যই তিনি (সবকিছু) শোনেন, (সবকিছু) জানেন। তিনি আসমানসমূহ, যমীন এবং এদের উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে তার সব কিছুর মালিক। যদি তোমরা ঈমানদার হও (তাহলে তোমরা অযথা বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না। -আদ-দুখান ৪৪: ১-৭
.
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। -বুখারী ২০১৪
.
আল্লাহর রাসূল ﷺ রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন এবং বলতেনঃ তোমরা রমাযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর। -বুখারী ২০২০
.
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেনঃ তোমরা রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর। -বুখারী ২০১৭
.
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ রমাযান মাসের মাঝের দশকে ই‘তিকাফ করেন। বিশ তারিখ অতীত হওয়ার সন্ধ্যায় এবং একুশ তারিখের শুরুতে তিনি এবং তাঁর সংগে যাঁরা ই‘তিকাফ করেছিলেন সকলেই নিজ নিজ বাড়িতে প্রস্থান করেন এবং তিনি যে মাসে ই‘তিকাফ করেন ঐ মাসের যে রাতে ফিরে যান সে রাতে লোকদের সামনে ভাষণ দেন। আর তাতে মাশাআল্লাহ, তাদেরকে বহু নির্দেশ দান করেন, অতঃপর বলেন যে, আমি এই দশকে ই‘তিকাফ করেছিলাম। এরপর আমি সিদ্ধান্ত করেছি যে, শেষ দশকে ই‘তিকাফ করব। যে আমার সংগে ই‘তিকাফ করেছিল সে যেন তার ই‘তিকাফস্থলে থেকে যায়। আমাকে সে রাত দেখানো হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। শেষ দশকে ঐ রাতের তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা তালাশ কর। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, ঐ রাতে আমি কাদা-পানিতে সিজদা করছি। ঐ রাতে আকাশে প্রচুর মেঘের সঞ্চার হয় এবং বৃষ্টি হয়। মসজিদে আল্লাহর রাসূল ﷺ এর সালাতের স্থানেও বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। এটা ছিল একুশ তারিখের রাত। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষে ফিরে বসেন তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই যে, তাঁর মুখমন্ডল কাদা-পানি মাখা। -বুখারী ২০১৮
.
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমাকে কদরের রাত দেখানো হয়েছিল। অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে ঐ রাতের ভোর সম্পর্কে স্বপ্নে আরও দেখানো হয়েছে যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সাজদাহ করছি। রাবী বলেন, অতএব ২৩ তম রাতে বৃষ্টি হল এবং রসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের সাথে (ফজরের) সলাত আদায় করে যখন ফিরলেন, তখন আমরা তার কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেলাম। -মুসলিম ২৬৬৫
.
নাবী ﷺ এর কতিপয় সহাবীকে স্বপ্নের মাধ্যমে রমাযানের শেষের সাত রাত্রে লাইলাতুল ক্বদর দেখানো হয়। (এ শুনে) আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেনঃ আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের অনুরূপ দেখানো হয়েছে। (তোমাদের দেখা ও আমার দেখা) শেষ সাত দিনের ক্ষেত্রে মিলে গেছে। অতএব যে ব্যক্তি এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে সন্ধান করে। -বুখারী ২০১৫
.
উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) বলেন, একদা নাবী ﷺ আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের (নির্দিষ্ট তারিখ) অবহিত করার জন্য বের হয়েছিলেন। তখন দু’জন মুসলমান ঝগড়া করছিল। তা দেখে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কদরের সংবাদ দিবার জন্য বের হয়েছিলাম, তখন অমুক অমুক ঝগড়া করছিল, ফলে তার (নির্দিষ্ট তারিখের) পরিচয় হারিয়ে যায়। সম্ভবতঃ এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তোমরা নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে তা তালাশ কর। -বুখারী ২০২৩
.
যির ইবনু হুবায়শ (রাযিঃ) বলেন, আমি উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, যে ব্যক্তি গোটা বছর রাত জাগরণ করে- সে কদরের রাতের সন্ধান পাবে। তিনি (উবাই) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন, এর দ্বারা তিনি এ কথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, লোকেরা যেন কেবল একটি রাতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, তা রমযান মাসে শেষের দশ দিনের মধ্যে এবং ২৭তম রজনী। অতঃপর তিনি দৃঢ় শপথ করে বললেন, তা ২৭তম রজনী। আমি (যির) বললাম, হে আবূল মুনযির! আপনি কিসের ভিত্তিতে তা বলছেন? তিনি বললেন, বিভিন্ন আলামাত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে- যে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে অবহিত করেছেন। যেমন, সেদিন সূর্য উদয় হবে কিন্তু তাতে (তীব্র) আলোকরশ্মি থাকবে না। -মুসলিম ২৬৬৭
.
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেনঃ তা শেষ দশকে, তা অতিবাহিত নবম রাতে অথবা অবশিষ্ট সপ্তম রাতে অর্থাৎ লাইলাতুল কদর। -বুখারী ২০২২
.
রমাযানের শেষ দশক শুরু হবার সাথে সাথে রসূলুল্লাহ ﷺ সারা রাত জেগে থাকতেন ও নিজ পরিবারের সদস্যদের ঘুম থেকে জাগাতেন এবং তিনি নিজেও ইবাদাতের জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন। -মুসলিম ২৬৭৭
.
আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন যে, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন রাতটি লায়লাতুল ক্বাদর, এ কথা যদি আমি জানতে পারি তবে সে রাতে কি দু-আ করব? তিনি বললেন, বলবে:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
হে আল্লাহ! তুমি তো খুবই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাই তুমি ভালবাস। সুতরাং ক্ষমা করে দাও আমাকে। -তিরমিজী ৩৫১৩

চাঁদ

তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম আরম্ভ করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে শাবানের গননা ত্রিশ পুরা করবে।
.
একদা সাহাবীগণ রমাযানের চাঁদ দেখা নিয়ে সন্দিহান হলে তারা তারাবীহ না পড়া ও সওম না রাখার ইচ্ছা করেন। এমন সময় হাররাহ এলাকা থেকে এক বেদুঈন এসে সাক্ষ্য দিলো যে, সে চাঁদ দেখেছে। তাকে নবী ﷺ এর নিকট উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এবং আমি আল্লাহর রাসূল? সে বললো, হ্যাঁ, এবং সে সাক্ষ্য দিলো যে, সে চাঁদ দেখেছে। অতঃপর তিনি বিলাল (রাযি.)-কে নির্দেশ দিলেনঃ লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও যে, তারা যেন কিয়াম করে এবং সওম রাখে।
-সুনান আবূ দাউদ ২৩৪১
.
রমাযানের শেষদিন সম্পর্কে লোকদের মধ্যে মত পার্থক্য দেখা দিলো, এমতাবস্থায় দু‘জন বেদুঈন এসে নবী ﷺ এর কাছে আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দিলেন যে, তারা উভয়ে গতকাল সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে সওম ভঙ্গ করার নির্দেশ দিলেন।
তিনি ﷺ তাদেরকে সকালে তাদের ঈদগাহে গমনের নির্দেশ দিয়েছেন।
-সুনান আবূ দাউদ ২৩৩৯
.
যেদিন তোমরা সবাই রোযা পালন কর সে দিন হল রোযা। যেদিন তোমরা সবাই রোযা ভঙ্গ কর সে দিন হল ঈদুল ফিতর। আর যেদিন তোমরা সবাই কুরবানী কর সে দিন হল ঈদুল আযহা।
.
কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হারিসের কন্যা উম্মুল ফাযল তাকে সিরিয়ায় মুআবিয়াহ (রাযিঃ) এর নিকট পাঠালেন। কুরায়ব বলেন, অতঃপর আমি সিরিয়া পৌছে তার প্রয়োজনীয় কাজ সমাপন করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকতেই রমযান এসে গেল। আমি জুমুআর রাতে রমযানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর মাসের শেষদিকে আমি মাদীনায় ফিরে এলাম। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কখন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমি তো জুমুআর রাতেই চাঁদ দেখেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজেই কি তা দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারা সিয়াম পালন করেছে। এমনকি মু'আবিয়াহ্ (রাযিঃ)-ও সিয়াম পালন করছেন। তিনি বলেন, আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি, আমরা পূর্ণ ত্রিশটি রোযা রাখব অথবা এর আগে যদি চাঁদ দেখতে পাই তাহলে তখন ইফত্বার করব। আমি বললাম, আপনি কি মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) এর চাঁদ দেখা ও সিয়াম পালন করাকে (রমাযান মাস শুরু হওয়ার জন্য) যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেনঃ না, রসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের এভাবেই (চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা ও ইফতার করার জন্য) নির্দেশ দিয়েছেন।
.
আবূল বাখতারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা উমরাহ করার জন্য বের হলাম। যখন আমরা (মাক্কাহ ও ত্বায়িফের মাঝামাঝি অবস্থিত) “বাত্বনে নাখলাহ" নামক স্থানে অবতরণ করলাম সকলে মিলে চাঁদ দেখতে লাগলাম। লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, এ তো তিনদিনের চাঁদ, আবার কেউ বলল দু'দিনের। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আমরা ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমরা চাঁদ দেখেছি। কিন্তু লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে, এতো দু'দিনের চাঁদ আবার কেউ কেউ বলেছে এতো তিন দিনের চাঁদ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন রাতে চাঁদ দেখেছে? আমরা বললাম, অমুক দিন, অমুক রাতে। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ ﷺ যেদিন রাতে চাঁদ দেখতেন ঐ দিনেরই তারিখ ধরতেন। সুতরাং চাঁদ সে রাতেই উঠেছে যে রাতে তোমরা দেখেছো।
.
যে ব্যক্তি সন্দেহজনক দিনে সওম রেখেছে, সে আবুল কাসিম ﷺ এর নাফরমানী করেছে।
.