জ্ঞান অর্জন

পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন- সৃষ্টি করিয়াছেন মানুষকে ‘আলাক’ হইতে। পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহিমান্নিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়াছেন- শিক্ষা দিয়াছেন মানুষকে, যাহা সে জানিত না। বস্তুত মানুষ তো সীমালংঘন করিয়াই থাকে, কারণ সে নিজকে অভাবমুক্ত মনে করে। তোমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত।
-আল কুরআন: আল আলাক ৯৬:১-৮
.
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা নিজেরা কুরআন শিখে এবং অন্যকেও শিক্ষা দেয়।
-সহীহ বুখারী ৪৬৫৮
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একজন আবদের উপর একজন আলিমের ফযীলত। তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম ব্যক্তির তুলনায় আমার ফযীলতের ন্যায়।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা নিজে এবং তাঁর ফিরিশতাগণ, আসমান ও যমীনের সব অধিবাসী এমনকি গর্তের পিপীলিকা ও (পানির) মাছ পর্যন্ত মানুষকে কল্যাণপ্রসূ শিক্ষকের (আলিমের) জন্য অবশ্যই দু’আ করে থাকেন।
-সূনান তিরমিজী ২৬৮৫

কথার আদব

 যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী। -আল বাকারা ২:৮৩

তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী। -আল ইমরান ৩:১৭

এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদিও সে আত্নীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। -আল আনআম ৬:১৫২

তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। -বনী-ইসরাঈল ১৭:২৩

এবং তোমার পালনকর্তার করুণার প্রত্যাশায় অপেক্ষামান থাকাকালে যদি কোন সময় তাদেরকে বিমুখ করতে হয়, তখন তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বল। -বনী-ইসরাঈল ১৭:২৮

আমার বান্দাদেরকে বলে দিন, তারা যেন যা উত্তম এমন কথাই বলে। শয়তান তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধায়। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। -বনী-ইসরাঈল ১৭:৫৩

অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে। -ত্বোয়াহ ২০:৪৪

যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত। -আল মুমিনূন ২৩:৩

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। -আল আহ্‌যাব ৩৩:৭০

খেলা

রাসূলূল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, উটের দৌড়, ঘোড়ার দৌড় অথবা তীর পরিচালনার প্রতিযোগিতা ছাড়া অন্য কোন প্রতিযোগিতা বৈধ নয়।
-আবু দাউদ ২৫৬৬; তিরমিজী ১৭০৬, ইবনে মাজাহ ২৮৭৮, মিশকাত ৩৮৭৪
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি শতরঞ্চ বা দাবা/পাশা খেলে, সে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের নাফরমানী করে।
-আবু দাউদ ৪৮৫৪; ইবনে মাজাহ ৩৭৬২; আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮১, ১২৮৪
.
নবী করীম ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শতরঞ্চ বা দাবা/পাশা খেলে, সে যেন তার হাতকে শূকরের গোশত ও রক্তের মধ্যে প্রবেশ করায়।
-আবু দাউদ ৪৮৫৫, ইবনে মাজাহ ৩৭৬৩, আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৩, মুসলিম ৫৬৯৯
.
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, বাজি ধরে দুটি গুটি দ্বারা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণকারী শূকরের গোশত ভক্ষণকারীর সমতুল্য এবং বাজিবিহীন খেলায় অংশগ্রহণকারী শূকরের রক্তে হাত ডুবানো ব্যক্তিতুল্য।
-আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৯
.
আয়েশা (রাঃ) জানতে পারলেন যে, তার বাড়িতে বসবাসকারী এক পরিবারের নিকট দাবা/পাশা খেলার সরঞ্জাম আছে। তিনি লোক মারফত বলে পাঠান, তোমরা যদি তা বের করে ফেলে না দাও তবে আমি অবশ্যই আমার বাড়ি থেকে তোমাদের উচ্ছেদ করবো। তিনি তাদের এই আচরণ কঠোরভাবে অপছন্দ করেন।
-আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৬
.
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) তার পরিবারের কাউকে দাবা/ পাশা খেলায় লিপ্ত দেখতে পেলে তাকে প্রহার করতেন এবং দাবা/ পাশার সরঞ্জাম ভেঙ্গে ফেলতেন।
-আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৫
.
ইবনুয যুবাইর (রাঃ) ভাষণ দেন। তিনি বলেন, হে মক্কাবাসীগণ! আমি জানতে পারলাম যে, কুরাইশ বংশের কতক লোক দাবা/ পাশা খেলায় লিপ্ত আছে। এটা ছিল অত্যন্ত কঠোর ব্যাপার। আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।" (আল-মায়েদা ৫:৯০)। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, কোন দাবা/ পাশা খেলোয়াড়কে গ্রেপ্তার করে আনা হলে আমি অবশ্যই তার প্রতিটি পশমে ও চামড়ায় কঠোর শাস্তি দিবো এবং যে তাকে গ্রেপ্তার করে আনবে আমি তাকে তার মালপত্র দিয়ে দিবো।
-আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৭
.
হাদীস শরীফে শরীরচর্চা মূলক খেলাধুলার উৎসাহ দেয়া হয়েছে। ‘নারদ’ অর্থাৎ সাতগুটি, লুডু, তাস ইত্যাদি ভাগ্যনির্ভর খেলাধুলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
-হাদীসের নামে জালিয়াতি
.
শতরঞ্জ বলিতে শুধু ছক্কা খেলাকেই বোঝায় না, বরং আমাদের দেশে প্রচলিত দাবা খেলা, তাস খেলা, বাঘ-গুটি খেলা ইত্যাদি সমস্তই ইহার অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ), ইমাম মালিক (রহঃ) ও আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) এই জাতীয় খেলাকে সম্পূর্ণরূপে হারাম বলিয়াছেন। ইমাম শাফিয়ী (রহঃ) বলেন যে, যদি এই খেলার কারণে আল্লাহর কোন ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় কিংবা ইহা অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহা হইলে ইহা হারাম, অন্যথায় মকরূহ তানযীহ।
.

গান-বাদ্য, ভাস্কর্য

তোমরা গায়িকা নারীদের ক্রয়-বিক্রয় করো না, তাদেরকে গান-বাজনা শিক্ষা দিও না, এদের ব্যবসায়ে কোন মঙ্গল নেই, এদের বিনিময় মূল্য হারাম। এদের বিষয়ে এই আয়াত নাযিল হয়: [কতক মানুষ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশে অজ্ঞতাবশতঃ অবান্তর কথাবার্তা ক্রয় করে আর আল্লাহর পথকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। ওদের জন্যই আছে অবমাননাকর শাস্তি। (লুকমান ৩১:৬)] -সূনান তিরমিজী ১২৮২, ৩১৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ ২১৬৮

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উপর হারাম করেছেন অথবা হারাম করা হয়েছে মদ, জুয়া এবং যাবতীয় বাদ্যযন্ত্র। -সুনান আবূ দাউদ ৩৬৯৬

আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। -সহীহ বুখারী ৫৫৯০
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ ভূমিধস, চেহারা বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণস্বরূপ আযাব এ উম্মাতের মাঝে ঘনিয়ে আসবে। জনৈক মুসলিম ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! কখন এসব আযাব সংঘটিত হবে? তিনি বললেনঃ যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র বিস্তৃতি লাভ করবে এবং মদ্যপানের সয়লাব শুরু হবে। -সূনান আত তিরমিজী ২২১২; সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০২০
.
আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমার কাছে এমন একটি মেয়ে আসে, যার পায়ের মল ছিল, যা শব্দ করছিল। তখন আইশা (রাঃ) বলেনঃ তার পায়ের মল না কেটে ফেলে তাকে আমার কাছে আনবে না। তিনি আরো বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ঘরে ঘন্টা থাকে, সেখানে ফেরেশ্‌তা (রহমতের) প্রবেশ করে না। -সূনান আবু দাউদ ৪১৮৪
.
একদা ইবনু উমার (রাঃ) বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনতে পেয়ে উভয় কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়ে আমাকে বললেন, হে নাফি‘! তুমি কি কিছু শুনতে পাচ্ছো? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি কান থেকে হাত তুলে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি এ ধরণের শব্দ শুনে এরূপ করেছিলেন। -সুনান আবূ দাউদ ৪৯২৪
.
.
.

তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অনর্থক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছ? আর তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরদিন থাকবে? আর যখন তোমরা (দুর্বল শ্রেণীর লোকদের উপর) আঘাত হান, তখন আঘাত হান নিষ্ঠুর মালিকের মত। কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর। ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন সেই সমূদয় জ্ঞান যা তোমরা জান। যিনি তোমাদেরকে দান করেছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্তুতি। আর উদ্যানরাজি ও ঝর্ণাসমূহ। ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর এক মহাদিবসের আযাবের ভয় করছি’।
-আশ-শুআ'রা ২৬:১২৮-১৩৫

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ছবির নির্মাতাদের কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে এবং তাদের বলা হবে তোমরা যা বানিয়েছিলে তা জীবিত কর। তিনি আরো বললেনঃ যে ঘরে (প্রানীর) ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করে না। -বুখারী ৫৫৩৬

কোন (প্রাণীর) প্রতিকৃতি বা ছবি দেখলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবে এবং কোন উঁচু কবর দেখলে তা ভেঙ্গে দিবে।
-সহীহ মুসলিম ২১৩৩

Musical instruments & Alcoholic drinks

Messenger of Allah (ﷺ) said: Allah has forbidden me, or he said: He has forbidden me wine, game of chance and kubah (drums).
sunnah.com/abudawud:3696
.
The Prophet (ﷺ) saying, "From among my followers there will be some people who will consider illegal sexual intercourse, the wearing of silk, the drinking of alcoholic drinks and the use of musical instruments, as lawful. And there will be some people who will stay near the side of a mountain and in the evening their shepherd will come to them with their sheep and ask them for something, but they will say to him, 'Return to us tomorrow.' Allah will destroy them during the night and will let the mountain fall on them, and He will transform the rest of them into monkeys and pigs and they will remain so till the Day of Resurrection."
sunnah.com/bukhari:5590
.
The Messenger of Allah (ﷺ) said: "In this Ummah there shall be collapsing of the earth, transformation and Qadhf." "When singing slave-girls, music, and drinking intoxicants spread."
sunnah.com/tirmidhi:2212
.
The Messenger of Allah (ﷺ) said: “People among my nation will drink wine, calling it by another name, and musical instruments will be played for them and singing girls (will sing for them). Allah will cause the earth to swallow them up, and will turn them into monkeys and pigs.”
sunnah.com/ibnmajah:4020
.
Bunanah, female client of 'Abd al-Rahman b. Hayyan al-Ansari told that when she was with 'Aishah a girl wearing little tinkling bells was brought in to her. She ordered that they were not to bring her in where she was unless they cut off her little bells. She said: I heard the Messenger of Allah (ﷺ) say: The angels do not enter a house in which there is a bell.
sunnah.com/abudawud:4231
.
Nafi' said: Ibn Umar heard a pipe, put his fingers in his ears and went away from the road. He said to me: Are you hearing anything? I said: No. He said: He then took his fingers out of his ears and said: I was with the Prophet (ﷺ), and he heard like this and he did like this.
sunnah.com/abudawud:4924

.

The Messenger of Allah (ﷺ) said: "Do not sell the (slave) female singers, not purchase them, nor teach them (to sing). And there is no good in trading in them, and their prices are unlawful. It was about the likes of this that this Ayah was revealed: And among mankind is he who purchases idle talk to divert from the way of Allah."
sunnah.com/tirmidhi:1282
.
The Messenger of Allah (ﷺ) said: "Do not sell the female singers, nor purchase them, nor teach them (to sing). And there is no good in trade in them, and their prices are unlawful. It was about the likes of this that this Ayah was revealed: 'And among mankind is he who purchases idle talk to divert from the way of Allah (31: 6)."
sunnah.com/tirmidhi:3195
.
The Messenger of Allah (ﷺ), forbade selling or buying singing girls, and their wages, and consuming their price.
sunnah.com/ibnmajah:2168

ভালো কাজের প্রতিফল কয়েকগুণ

বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইসলাম উত্তম হয়, আল্লাহ্ তা‘আলা তার পূর্বের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। অতঃপর শুরু হয় প্রতিফল; একটি পুণ্যের বিনিময়ে দশ হতে সাতশ গুণ পর্যন্ত; আর একটি পাপ কাজের বিনিময়ে ঠিক ততটুকু মন্দ প্রতিফল। অবশ্য আল্লাহ্ যদি ক্ষমা করে দেন তবে তা অন্য ব্যাপার।
-সহীহ বুখারী ৪১
.
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, আমার বান্দা যখন কোন ভাল কাজের নিয়্যাত করে অথচ এখনো তা করেনি, তখন আমি তার জন্য একটি সাওয়াব লিখি; আর যদি তা কাজে পরিণত করে তবে দশ থেকে সাতশ' গুণ পর্যন্ত সাওয়াব লিখি। পক্ষান্তরে যদি মন্দ কাজের নিয়্যাত করে অথচ এখনো তা কাজে পরিণত করেনি তবে এর জন্য কিছুই লিখি না। আর তা কাজে পরিণত করলে একটি মাত্র পাপ লিখি।
-সহীহ মুসলিম ২৩৩

কৃতকর্মের ফল

তোমাদেরকে ভয় ও ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি (এসবের) কোনকিছুর দ্বারা নিশ্চয়ই পরীক্ষা করব, ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর। -আল-বাকারা ২:১৫৫
.
তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তাতো তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন। -আশ-শূরা ৪২:৩০
.
মানুষের কৃতকর্মের কারণে সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে। -আর-রুম ৩০:৪১
.
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। -আন-নূর ২৪:৩১
.
আর তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, তারা প্রতি বছর একবার অথবা দু’বার কোন না কোন বিপদে পতিত হয়? তবুও তারা তাওবাহ করেনা, আর না তারা উপদেশ গ্রহণ করে। -আত-তাওবা ৯:১২৬
.
আমি যখন কোন জনবসতিকে ধ্বংস করতে চাই তখন তাদের সচ্ছল ব্যক্তিদেরকে আদেশ করি (আমার আদেশ মেনে চলার জন্য)। কিন্তু তারা অবাধ্যতা করতে থাকে। তখন সে জনবসতির প্রতি আমার ‘আযাবের ফায়সালা সাব্যস্ত হয়ে যায়। তখন আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করে দেই। -আল-ইসরা ১৭:১৬
.
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলেনঃ হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে।তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠি চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না। যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাশীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন। -ইবনে মাজাহ ৪০১৯