খেলা

রাসূলূল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, উটের দৌড়, ঘোড়ার দৌড় অথবা তীর পরিচালনার প্রতিযোগিতা ছাড়া অন্য কোন প্রতিযোগিতা বৈধ নয়।
-আবু দাউদ ২৫৬৬; তিরমিজী ১৭০৬, ইবনে মাজাহ ২৮৭৮, মিশকাত ৩৮৭৪
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি শতরঞ্চ বা দাবা/পাশা খেলে, সে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের নাফরমানী করে।
-আবু দাউদ ৪৮৫৪; ইবনে মাজাহ ৩৭৬২; আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮১, ১২৮৪
.
নবী করীম ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শতরঞ্চ বা দাবা/পাশা খেলে, সে যেন তার হাতকে শূকরের গোশত ও রক্তের মধ্যে প্রবেশ করায়।
-আবু দাউদ ৪৮৫৫, ইবনে মাজাহ ৩৭৬৩, আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৩, মুসলিম ৫৬৯৯
.
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, বাজি ধরে দুটি গুটি দ্বারা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণকারী শূকরের গোশত ভক্ষণকারীর সমতুল্য এবং বাজিবিহীন খেলায় অংশগ্রহণকারী শূকরের রক্তে হাত ডুবানো ব্যক্তিতুল্য।
-আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৯
.
আয়েশা (রাঃ) জানতে পারলেন যে, তার বাড়িতে বসবাসকারী এক পরিবারের নিকট দাবা/পাশা খেলার সরঞ্জাম আছে। তিনি লোক মারফত বলে পাঠান, তোমরা যদি তা বের করে ফেলে না দাও তবে আমি অবশ্যই আমার বাড়ি থেকে তোমাদের উচ্ছেদ করবো। তিনি তাদের এই আচরণ কঠোরভাবে অপছন্দ করেন।
-আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৬
.
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) তার পরিবারের কাউকে দাবা/ পাশা খেলায় লিপ্ত দেখতে পেলে তাকে প্রহার করতেন এবং দাবা/ পাশার সরঞ্জাম ভেঙ্গে ফেলতেন।
-আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৫
.
ইবনুয যুবাইর (রাঃ) ভাষণ দেন। তিনি বলেন, হে মক্কাবাসীগণ! আমি জানতে পারলাম যে, কুরাইশ বংশের কতক লোক দাবা/ পাশা খেলায় লিপ্ত আছে। এটা ছিল অত্যন্ত কঠোর ব্যাপার। আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।" (আল-মায়েদা ৫:৯০)। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, কোন দাবা/ পাশা খেলোয়াড়কে গ্রেপ্তার করে আনা হলে আমি অবশ্যই তার প্রতিটি পশমে ও চামড়ায় কঠোর শাস্তি দিবো এবং যে তাকে গ্রেপ্তার করে আনবে আমি তাকে তার মালপত্র দিয়ে দিবো।
-আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৮৭
.
হাদীস শরীফে শরীরচর্চা মূলক খেলাধুলার উৎসাহ দেয়া হয়েছে। ‘নারদ’ অর্থাৎ সাতগুটি, লুডু, তাস ইত্যাদি ভাগ্যনির্ভর খেলাধুলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
-হাদীসের নামে জালিয়াতি
.
শতরঞ্জ বলিতে শুধু ছক্কা খেলাকেই বোঝায় না, বরং আমাদের দেশে প্রচলিত দাবা খেলা, তাস খেলা, বাঘ-গুটি খেলা ইত্যাদি সমস্তই ইহার অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ), ইমাম মালিক (রহঃ) ও আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) এই জাতীয় খেলাকে সম্পূর্ণরূপে হারাম বলিয়াছেন। ইমাম শাফিয়ী (রহঃ) বলেন যে, যদি এই খেলার কারণে আল্লাহর কোন ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় কিংবা ইহা অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহা হইলে ইহা হারাম, অন্যথায় মকরূহ তানযীহ।
.