বন্ধুত্ব ও শত্রুতা

নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। -আল-হুজুরাত ৪৯:১০

মু’মিন পুরুষ আর মু’মিন নারী পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। -আত-তওবাহ ৯:৭১
.
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। -আত তাওবাহ্ ৯:১১৯
.
হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। -আল মায়িদাহ ৫:৫১
.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে। -আবূ দাউদ ৪৮৩৩
.
মু‘মিন ছাড়া কারো সঙ্গী হয়ো না আর মুত্তাকী ব্যক্তি ছাড়া তোমার খানা যেন কেউ না খায়।
-সূনান তিরমিজী ২৩৯৮
.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মিস্ক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের ন্যায়। আতর বিক্রেতাদের থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসবে না। হয় তুমি আতর খরিদ করবে, না হয় তার সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের হাপর হয় তোমার ঘর অথবা তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে। -বুখারী ২১০১
.
আর যখন তুমি তাদেরকে দেখ, যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে উপহাসমূলক সমালোচনায় রত আছে, তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, যতক্ষণ না তারা অন্য কথাবার্তায় লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণের পর যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসো না। -আল-আন’আম ৬:৬৮
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মুসলিমের জন্য তার অপর ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তিন দিনের বেশি থাকা হালাল নয়। অতঃপর সে ব্যক্তি তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবস্থায় মারা গেলো, সে জাহান্নামে প্রবেশ করলো। -আবূ দাউদ ৪৯১৪
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিন ব্যাক্তির সালাত তাদের মাথার এক বিঘত উপরেও উঠে নাঃ যে ব্যাক্তি জনগণের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ইমামতি করে, যে নারী তার স্বামীর অসন্তুষ্টিসহ রাত যাপন করে এবং পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী দু ভাই। -ইবনে মাজাহ ৯৭১ (যঈফ)
.
.
.
যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। -আবূ দাউদ ৪০৩১
.
হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি যদি কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসলে কিন্তু তারা যে ধরণের আমল করে সে অনুরূপ আমল করতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ যার! তুমি যাদেরকে ভালোবাসলো তাদের দলভুক্ত হবে। -আবূ দাউদ ৫১২৬
.
আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের আগের লোকের নীতি-আদৰ্শ পুরোপুরিভাবে অনুকরণ করবে, এক বিঘত এক বিঘতের সঙ্গে ও হাত হাতের সঙ্গে, এমনকি তারা যদি গোসাপের গর্তে ঢুকে থাকে তবুও তোমরা তাদের অনুকরণ করবে। আমরা আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা কি ইয়াহুদী ও নাসারা? তিনি বলেন, তবে আর কারা? -মুসলিম ৬৬৭৪
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ বানী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উন্মাতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বানী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উন্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে দল কোনটি? তিনি বললেনঃ আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত। -তিরমিজী ২৬৪১

সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজ হতে নিষেধ

তোমরাই সর্বোত্তম উম্মাত, মানব জাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে, তোমরা সৎ কাজে আদেশ করবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করবে।
-সূরা আলে-ইমরান ৩:১১০
.
মু’মিন পুরুষ আর মু’মিন নারী পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, সালাত ক্বায়িম করে, যাকাত দেয়, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে। তাদের প্রতিই আল্লাহ করুণা প্রদর্শন করবেন। আল্লাহ তো প্রবল পরাক্রান্ত, মহা প্রজ্ঞাবান।
-সূরা আত-তাওবা ৯:৭১
.
আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং (সৎ) (কাজের) আদেশ করবে ও অসৎ কার্য হতে নিষেধ করবে। সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।
-সূরা আল-হজ্জ ২২:৪১
.
তুমি বিনয় ও ক্ষমা পরায়ণতার নীতি গ্রহণ কর, এবং লোকদেরকে (সৎ) (কাজের) নির্দেশ দাও, আর মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।
-সূরা আল-আ'রাফ ৭:১৯৯
.
হে বৎস! তুমি সালাত কায়িম কর, (সৎ) (কাজের) নির্দেশ দাও আর মন্দ কাজ হতে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় এটা দৃঢ় সংকল্পের কাজ।
-সূরা লুকমান ৩১:১৭
.
তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল হোক, যারা কল্যাণের দিকে আহবান করে, (সৎ) (কাজের) আদেশ করে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করে আর এরাই সফলকাম।
-সূরা আলে-ইমরান ৩:১০৪
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার ভাইকে সাহায্য কর। সে জালিম হোক অথবা মজলুম হোক। এক ব্যাক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মজলুম হলে তাকে সাহায্য করব, তা তো বোধ্যগম্য ব্যাপার। কিন্তু জালিম হলে তাকে সাহায্য করব, তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ তাকে অত্যাচার থেকে বিরত রাখবে। আর এটাই হচ্ছে তার সাহায্য।
-সহীহ বুখারী ৬৪৮২
.
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করা এবং তা লংঘনকারী ব্যাক্তির উপমা হল সেই যাত্রীদল, যারা কুর’আর মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। ফলে কারো স্থান হল এর নীচতলায় আর কারও হল উপরতলায়। যারা নীচতলায় ছিল তারা পানি নিয়ে উপর তলা লোকদের কাছ দিয়ে আসত। এতে তারা বিরক্তি প্রকাশ করল। তখন এক লোক কুড়াল নিয়ে নৌযানের নীচের অংশে ফুটো করতে লেগে গেল। এ দেখে উপর তলার লোকজন তাকে এসে জিজ্ঞাসা করল তোমার হয়েছে কি? সে বলল, আমাদের কারণে তোমরা কষ্ট পেয়েছ। অথচ আমারও পানি প্রয়োজন আছে। এ মুহুর্তে তারা যদি এর দু’হাত চেপে ধরে তাহলে তাকে যেমন রক্ষা করা হল তেমনি নিজেদেরও রক্ষা হল। আর যদি তাকে ছেড়ে দেয় তবে তাকে ধ্বংস করা হল এবং নিজেদেরও ধ্বংস করা হল।
-সহীহ বুখারী ২৫০৭
.
তোমাদের কেউ যদি অন্যায় কাজ দেখে, তাহলে সে যেন হাত দ্বারা এর সংশোধন করে দেয়। যদি এর ক্ষমতা না থাকে, তাহলে মুখের দ্বারা, যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তর দ্বারা (উক্ত কাজকে ঘূণা করবে), আর এটাই ঈমানের নিম্নতম স্তর।
-সহীহ মুসলিম ৮৩
.
যদি কোন ব্যক্তি, কোন কাওমের মধ্যে গুনাহে লিপ্ত হয় এবং তারা সে ব্যক্তিকে সে গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করে না; আল্লাহ্‌ তাদের মৃত্যুর পূর্বে তাদের উপর আযাব প্রেরণ করেন।
-সূনান আবু দাউদ ৪২৮৮
.
কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে পাপাচার হতে থাকে এবং তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতা থাকা সত্বেও তাদের পাপাচারীদের বাধা দেয় না, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর ব্যাপকভাবে শাস্তি পাঠান।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০০৯; সূনান আবু দাউদ ৪২৮৭
.
যাঁর হাতে আমার প্রাণ সে সত্তার কসম, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ করতে থাক। নতুবা অচিরেই আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর তাঁর আযাব নিপতিত করবেন। তখন তোমরা তাঁর নিকট দুআ করবে কিন্তু তিনি তোমাদের দুআ কবুল করবেন না।
-সূনান তিরমিজী ২১৭২
.
তোমরা সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ নিষেধ করতে থাকো। শেষে এমন এক যুগ আসবে যখন তুমি লোকেদেরকে কৃপণতার আনুগত্য করতে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে, পার্থিব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে নিজের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অহংকার করতে দেখবে। আর তুমি এমনসব গর্হিত কাজ হতে দেখবে যা প্রতিহত করার সামর্থ্য তোমার থাকবে না। এরূপ পরিস্থিতিতে তুমি নিজেকে হেফাজত করো এবং সর্বসাধারণের চিন্তা ছেড়ে দাও। তোমাদের পরে আসবে কঠিন ধৈর্যের পরীক্ষার যুগ। তখন ধৈর্যধারণ করাটা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতের মুঠোয় রাখার মত কঠিন হবে সে যুগে কেউ নেক আমল করলে তার সমকক্ষ পঞ্চাশ ব্যক্তির সওয়াব তাকে দান করা হবে।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০১৪; সূনান তিরমিজী ৩০৫৮, সূনান আবু দাউদ ৪২৯০

আনুগত্য, নেতৃত্ব, বিচার

হে লোকেরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো এই রসূলের, আর তোমাদের (মুসলিমদের) মধ্যকার সেইসব লোকদের যারা দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত। আর তোমরা যখনই কোনো বিষয়ে মতভেদ ও মতবিরোধ করবে, তা (ফায়সালার জন্যে) উপস্থাপন করো আল্লাহ ও রসূলের (কুরআন ও সুন্নাহর) নিকট, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। -আন নিসা ৪:৫৯
.
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। -আন নিসা ৪:৬০
.
পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে জোর চেষ্টা করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সৌহার্দ্যের সাথে বসবাস করবে। যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখি হয়েছে তার পথ অবলম্বন কর। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। -লুকমান ৩১:১৫
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ কোন এক অভিযানে একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং এক আনসারীকে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিলেন। তাদেরকে তার কথা শুনতে ও আনুগত্য করতে আদেশ করলেন। তারপর কোন ব্যাপারে তারা তাকে রাগিয়ে তুলল। সে তখন বললো, আমার জন্য কাঠ (কুড়িয়ে এনে) একত্রিত করো। তারা তা করলো। এরপর সে বললো, আগুন প্রজ্জ্বলিত কর। তখন তারা আগুন প্রজ্জ্বলিত করল তারপর সে বললো, রাসুলুল্লাহ ﷺ কি তোমাদেরকে আমার কথা শুনতে এবং আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি? তারা বললো, জী হ্যাঁ। তখন সে বললো, তাহলে তোমরা এবারও এ আগুনে ঢুকে পড়। তখন তারা পরস্পরে পরস্পরের দিকে তাকাতে শুরু করলো। তারপর তারা জবাব দিলো- আমরাতো এ আগুন থেকে বাঁচাবার জন্যই রাসুলুল্লাহ ﷺ এর শরণ নিয়েছি। তারা আগুনে ঝাপ দিলেন না। তার ক্রোধ প্রশমিত হলো এবং আগুন নিভিয়ে দেয়া হলো। তারপর যখন তারা ফিরে এলো এবং নাবী ﷺ এর নিকট প্রসঙ্গটি বর্ণনা করলো তখন তিনি বললেনঃ যদি তারা তখন আগুনে ঝাঁপ দিতো, তবে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাতেই অবস্থান করতো। আনুগত্য কেবল পূণ্য (শরী'আত সম্মত) কাজে। -মুসলিম ৪৬১৪, ৪৬১৩
.
তোমরা নিশ্চয়ই নেতৃত্বের লোভ পোষণ কর, অথচ কিয়ামতের দিন তা লজ্জার কারণ হবে। কত উত্তম দুগ্ধদায়িনী এবং কত মন্দ দুগ্ধ পানে বাধাদানকারিণী (এটা) (অর্থাৎ এর প্রথম দিক দুগ্ধদানের ন্যায় তৃপ্তিকর, আর পরিণাম দুধ ছাড়ানোর ন্যায় যন্ত্রণাদায়ক)। -বুখারী ৬৬৬৩
.
আবূ মূসা (রাঃ) বলেন যে, আমি ও আমার গোত্রের দু'ব্যাক্তি নাবী ﷺ এর নিকট গমন করলাম। সে দু'জনের একজন বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে (কোন বিষয়ে) আমীর নিযুক্ত করুন। অপরজনও অনুরূপ কথা বলল। তখন তিনি বললেনঃ যারা নেতৃত্ব চায় এবং এর লোভ পোষণ করে আমরা তাদেরকে এ পদে নিয়োগ করি না। -বুখারী ৬৬৬৪
.
তুমি নেতৃত্বের সাওয়াল করো না। কারণ চাওয়ার পর যদি তোমাকে তা দেওয়া হয়, তবে তার দায়িত্ব তোমার উপরই বর্তাবে। আর যদি সাওয়াল ছাড়া তা তোমাকে দেওয়া হয় তবে এ ব্যাপারে তোমাকে সাহায্য করা হবে। -বুখারী ৬৬৬১
.
নাবী ﷺ এর নিকট যখন এ সংবাদ পৌছলে যে, পারস্যের লোকেরা কিসরার কন্যাকে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছে তখন তিনি বললেনঃ সে জাতি কখনই সফলকাম হবে না যারা তাদের শাসনভার কোন রমনীর হাতে অর্পণ করে। -বুখারী ৬৬১৮, তিরমিজী ২২৬৫
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যখন তোমাদের সর্বোত্তম লোকরা হবে তোমাদের আমীর, ধনীরা হবে দানশীল, তোমাদের বিষয়াদি হবে পরামর্শ ভিত্তিক তখন যমীনের ভূ-পৃষ্ঠ তোমাদের জন্য উত্তম হবে তার ভূতল থেকে। আর যখন তোমাদের মন্দ লোকেরা হবে তোমাদের আমীর, ধনীরা হবে কৃপন আর বিষয়াদি হবে মেয়েদের হাতে ন্যাস্ত তখন যমীনের উদর হবে তোমাদের জন্য এর উপরিভাগ থেকে উত্তম। -তিরমিজী ২২৬৯
.
নাবী ﷺ যখন মু‘আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাযলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না। -বুখারী ২৪৪৮
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমরা কি জান মুফলিস (কপর্দক শূণ্য ব্যক্তি) কে? সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের মাঝে মুফলিস তো হল সে ব্যক্তি যার কোন দিরহাম (মুদ্রা) নেই, কোন সম্পদ নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ আমার উম্মতের মুফলিস হল সে ব্যক্তি যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সালাত, সাওম যাকাত বহু আমলসহ উপস্থিত হবে, এরই সঙ্গে ওকে সে গালি-গালাজ করেছে, তাকে সে অপবাদ দিয়েছে, অমুকের মাল আত্মসাত করেছে, তমুককে খুন করেছে, কাউকে মেরেছে ইত্যাদি ধরণের অপরাধসহও সে উপস্থিত হবে। অনন্তর তার নেক আমল থেকে অমুককে তমুককে বদলা দেওয়া হতে থাকবে। তার যিম্মায় সে সব অপরাধ আছে সে সবের বদলা নেওয়া শেষ হওয়ার পূর্বেই যদি তার নেক আমল ফুরিয়ে যায় তবে ঐ সব মজলুম ব্যক্তিদের গুনাহসমূহ এনে তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। শেষে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। -তিরমিজী ২৪২১
.
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায় তাদের শাস্তি কেবল এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে বা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে বা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে বা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। দুনিয়ায় এটাই তাদের লাঞ্ছনা ও আখেরাতে তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে। -আল মায়িদাহ ৫:৩৩
.
আর পুরুষ চোর ও নারী চোর, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও; তাদের কৃতকর্মের ফল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। -আল মায়িদাহ ৫:৩৮
.
আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম, তাতে ছিল সঠিক পথের দিশা ও আলো। অনুগত নাবীগণ এর দ্বারা ইয়াহূদীদেরকে ফায়সালা দিত। দরবেশ ও আলিমরাও (তাই করত) কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল আর তারা ছিল এর সাক্ষী। কাজেই মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, আর আমার আয়াতকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করো না। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই কাফির। -আল-মায়েদা ৫:৪৪
আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম যে, জানের বদলে জান, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, আর দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমের বদলে অনুরূপ জখম। কেউ ক্ষমা করে দিলে তাতে তারই পাপ মোচন হবে। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই যালিম। -আল-মায়েদা ৫:৪৫
তাদের পশ্চাতে মারইয়াম পুত্র ‘ঈসাকে পাঠিয়েছিলাম তাদের সামনে তাওরাত কিতাবের যা কিছু ছিল তার সত্যতা প্রতিপাদনকারী হিসেবে। তাকে ইঞ্জিল দিয়েছিলাম, যাতে ছিল সত্য পথের দিশা ও আলো, এবং ইহা পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতকে সত্যায়নকারী এবং মুত্তাকীদের জন্য সঠিক পথের দিশা ও নাসীহাত। ইঞ্জিলের অনুসারীগণ যেন আল্লাহ তাতে যে বিধান দিয়েছেন তদনুযায়ী বিচার ফয়সালা করে। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই ফাসিক। -আল-মায়েদা ৫:৪৬-৪৭

তাগুত

দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। -আল-বাকারা ২:২৫৬
যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। -আল-বাকারা ২:২৫৭
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত ও তাগূতের প্রতি ঈমান আনে এবং কাফিরদেরকে বলে, এরা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথপ্রাপ্ত। -আন-নিসা ৪:৫১
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা দাবী করে যে, নিশ্চয় তারা ঈমান এনেছে তার উপর, যা নাযিল করা হয়েছে তোমার প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমার পূর্বে। তারা তাগূতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায় অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে। আর শয়তান চায় তাদেরকে ঘোর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত করতে। -আন-নিসা ৪:৬০
যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায়, আর যারা কুফরী করেছে তারা লড়াই করে তাগূতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল। -আন-নিসা ৪:৭৬
বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট পরিণতির বিচারে এর চেয়ে মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? যাকে আল্লাহ লা’নত দিয়েছেন এবং যার উপর তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন? আর যাদের মধ্য থেকে বাঁদর ও শূকর বানিয়েছেন এবং তারা তাগূতের উপাসনা করেছে। তারাই অবস্থানে মন্দ এবং সোজা পথ থেকে সর্বাধিক বিচ্যুত’। -আল-মায়েদা ৫:৬০
আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং পরিহার কর তাগূতকে। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ কাউকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর অতঃপর দেখ, অস্বীকারকারীদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে। -আন-নাহাল ১৬:৩৬
আর তাদের মধ্যে যে-ই বলবে, ‘তিনি ছাড়া আমি ইলাহ’, তাকেই আমি প্রতিদান হিসেবে জাহান্নাম দেব; এভাবেই আমি যালিমদের আযাব দিয়ে থাকি। -আল-আম্বিয়া ২১:২৯
হে বনী আদম, আমি কি তোমাদেরকে এ মর্মে নির্দেশ দেইনি যে, ‘তোমরা শয়তানের উপাসনা করো না। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’? -ইয়াসীন ৩৬:৬০
আর যারা তাগূতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও। -আয-যুমার ৩৯:১৭

আল্লাহর রাস্তা

যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ’ দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। -আল-বাকারা ২:২৬১

কেউ যদি আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যায় করে তাঁর জন্য সাতশত গুন সাওয়াব লিখা হবে। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৩১

এক ব্যক্তিলাগামযুক্ত একটি উটনী নিয়ে এসে বললো, এটা আল্লাহর রাহে (দান করলাম)। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তুমি সাতশ উটনী লাভ করবে যার প্রত্যেকটি লাগামসহ হবে। -মুসলিম ৩৪ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন ৪৭৪৫

একদা নাবী ﷺ লিহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ প্রতি দু'ব্যক্তির মধ্যে একজন অবশ্যই (যুদ্ধে) বেরিয়ে যাওয়া উচিত। তারপর তিনি বাড়ীতে অবস্থানকারীদেরকে বললেনঃ তোমাদের মধ্যকার যে কেউ যুদ্ধে গমনকারীর পরিবার পরিজন ও তার সহায়-সম্পদের দেখাশুনা করবে সেও যুদ্ধে গমনকারীর অর্ধেক সাওয়াব লাভ করবে। -মুসলিম ৩৪ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন ৪৭৫৪

আল্লাহর রাহে একটি দিবস ও একটি রাতের সীমান্ত প্রহরা একমাস সিয়াম পালন এবং ইবাদতে রাত জাগার চাইতেও উত্তম। আর যদি এ অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে, তাতে তার এ আমলের সাওয়াব জারী থাকবে। এবং তার (শহীদসুলভ) রিযক অব্যাহত রাখা হবে এবং সে ব্যক্তি ফিতনাসমূহ থেকে নিরাপদে থাকবে। -মুসলিম ৩৪ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন ৪৭৮৫

আল্লাহর পথে সামান্য সময় অবস্থান করা ঘরে বসে সত্তর বছর সালাত আদায় করার চাইতেও উত্তম। তোমরা কি তা ভালবাস না যে, আল্লাহর তোমাদের মাগফিরাত করে দিবেন এবং জান্নাতে দাখেল করবেন? আল্লাহর পথে লড়াই করে যাও। উটনীর দু’বার দুধ পানানোর মধ্যবর্তী কালে বাটে একবার টান দিতে সময় পরিমাণও যদি কেউ আল্লাহর পথে লড়াই করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৫৬

অন্য কোন স্থানে এক হাজার দিন অতিবাহিত করা অপেক্ষা আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত পাহারা প্রদান উত্তম। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৭৩

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত প্রহরা দেয়া দুনিয়া ও এর উপর যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চাবুক পরিমান জায়গা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম। আল্লাহর পথে বান্দার একটি সকাল বা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ -বুখারী ৫৬ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ২৮৯২

রাসূলল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদলো সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না দুধ স্তনে পুনঃ প্রবেশ করবে। আর আল্লাহর পথের ধুলা এবং জাহান্নামের আগুন কখনো একত্রিত হবে না। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৩৯

যে ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও সিয়াম পালন করে, আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে (অর্থাৎ তাঁকে) দোযখের আগুন থেকে সত্তর বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেন। -বুখারী ৪৮ জিহাদ ২৬৪৩

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন সিয়াম পালন করবে আল্লাহ তা‘আলা সেই ব্যক্তি ও জাহান্নামের মাঝে একটি খন্দক সৃষ্টি করে দিবেন। যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের দূরত্বের পরিমাণ। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৩০
.
ইয়াযীদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) বলেন, আমি জুমু‘আর জন্য পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। এমন সময় আবায়া ইবনু রিফাআ ইবনু রাফি‘ (রহঃ)-ও আমার সঙ্গে মিলিত হলেন। তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর, কারণ তোমার এ পদচারণা হচ্ছে আল্লাহর পথেই। আমি আবূ আবাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তির পদদ্বয় আল্লাহর পথে ধূলিময় হলো তার পদদ্বয় জাহান্নামের জন্য হারাম করা হল। -তিরমিজী ২৫ জিহাদের ফযীলত ১৬৩৮
.
বিধবা ও মিসকীন এর জন্য (খাদ্য যোগাতে) সচেষ্ট ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের ন্যায় অথবা রাত জেগে ইবাদতকারী ও দিনভর সিয়াম পালনকারীর মত। -বুখারী ৪৯৬২
.
কোন দীনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ, কোন দীনার তুমি ব্যয় করেছ ক্রীতদাসকে মুক্ত করার জন্য, কোন দীনার তুমি সাদাকা করেছ মিসকীনের জন্য এবং কোন দীনার তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ। সাওয়াবের দিক সর্বোত্তম হল যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করেছ। -মুসলিম ২১৮৩
.
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন্ আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, এরপর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্ (আল্লাহর পথে জিহাদ)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, এগুলো তো রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেনই, যদি আমি আরও বেশী জানতে চাইতাম, তাহলে তিনি আরও বলতেন। -বুখারী ৫০২
.
আর ইয়াহুদী ও নাসারারা আপনার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ করেন। বলুন নিশ্চয় আল্লাহ্‌র হেদায়াতই প্রকৃত হেদায়াত। আর যদি আপনি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান আসার পরও, তবে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে আপনার কোন অভিভাবক থাকবে না এবং থাকবে না কোন সাহায্যকারীও। -আল বাকারা ২:১২০

যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, আর শেষ দিনের প্রতিও না, আর আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করেছেন তাকে হারাম গণ্য করে না, আর সত্য দ্বীনকে নিজেদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে না তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর যে পর্যন্ত না তারা বশ্যতা সহকারে স্বেচ্ছায় জিযিয়া দেয়। -আত তাওবাহ ৯:২৯

তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত। -বুখারী ২৬২৩ মুসলিম ৪৩৯২

ঘোড়ার ললাটে মঙ্গল কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। -মুসলিম ৪৬৯২, বুখারী ২৬৫২

তোমরা ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের নিকট তাদের মত কিছু আসেনি, যারা তোমাদের পূর্বে বিগত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তার সাথি মুমিনগণ বলছিল, ‘কখন আল্লাহর সাহায্য (আসবে)’? জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। -আল-বাকারা ২:২১৪

তোমরা কি ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখন পর্যন্তও পরখ করেননি তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে আর কারা ধৈর্যশীল। -আলে ইমরান ৩:১৪২

মানুষের উপর এমন একটি যুগের আগমন ঘটবে যখন তার পক্ষে ধর্মের উপর ধৈর্য ধারণ করে থাকাটা জ্বলন্ত অঙ্গার মুষ্টিবদ্ধ করে রাখা ব্যক্তির মতো কঠিন হবে। -তিরমিজী ২২৬০

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ কি এরূপ হবে? তিনি বললেনঃ না, বরং সে সময় তোমরা সংখ্যায় অধিক হবে। কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের পক্ষ থেকে আতঙ্ক দূর করে দিবেন, তিনি তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহন ভরে দিবেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আল-ওয়াহন’ কি? তিনি বললেনঃ দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা। -আবু দাউদ ৩২ যুদ্ধ-বিগ্রহ ৪২৪৭, ৪২৯৭

যদি তোমরা ঈনা বিক্রি কর, ষাড়ের লেজ ধরে থাক এবং কৃষিকাজে লিপ্ত থাকার কারণে জিহাদ পরিত্যাগ কর, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান প্রবল করে দেবেন যে, যতক্ষণ না তোমরা দীনের উপর পূর্ণরুপে প্রত্যাবর্তন করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তোমাদের থেকে ঐ অপমান দূর করবেন না। -আবু দাউদ ৩৪২৬

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়, আর যে ব্যাক্তি আমাদের ধোকা দিবে সেও আমাদের দলভূক্ত নয়। -মুসলিম ১৮৫
.
.
.
হযরত কা'ব ইবনে উজরা রা. বলেন, এক ব্যক্তি নবী ﷺ এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করল। তার চলার ভঙ্গি থেকে সাহাবায়ে কেরামের মনে হল সে খুব কর্মঠ ও উদ্যমী। তাঁরা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি সে আল্লাহর রাস্তায় এভাবে চলত! তখন নবী ﷺ বললেন- তার এই পথ চলা যদি হয় শিশু-সন্তানদের জন্য উপার্জনের খাতিরে তাহলে সে আল্লাহর রাস্তায় আছে। যদি হয় বৃদ্ধ পিতা-মাতার জন্য উপার্জনের খাতিরে তাহলেও সে আল্লাহর রাস্তায় আছে, যদি হয় অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষিতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তাহলেও সে আল্লাহর রাস্তায় আছে। আর যদি হয় মানুষকে দেখানোর জন্য ও গর্ব-অহংকারের জন্য তাহলে সে আছে শয়তানের রাস্তায়। -আলমুজামুল কাবীর তবারানী ১৯/২৮২

শহীদ

নবী ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের এমন একটি দল না থাকত, যারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে পছন্দ করে না এবং যাদের সকলকে সাওয়ারী দিতে পারব না বলে আশংকা করতাম, তা হলে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করছে, আমি সেই ক্ষুদ্র দলটির সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতাম না। সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি পছন্দ করি আমাকে যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, এরপর শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়। তারপর জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়।
-বুখারী ২৬০৪
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর কোন বান্দা এমতাবস্থায় মারা যায় যে, আল্লাহর কাছে তার সাওয়াব রয়েছে তাকে দুনিয়াতে এর সব কিছু দিলেও দুনিয়াতে ফিরে আসতে আগ্রহী হবে না। একমাত্র শহীদ ব্যাতীত। সে শাহাদাতের ফযিলত দেখার কারণে আবার দুনিয়াতে ফিরে এসে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার প্রতি আগ্রহী হবে। আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল অথবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম। তোমাদের কারোর ধনুক কিংবা চাবুক রাখার মত জান্নাতের জায়গাটুকু দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম। জান্নাতি কোন মহিলা যদি দুনিয়াবাসীদের প্রতি উঁকি দেয় তাহলে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তীর সবকিছু আলোকিত এবং সুরভিত হয়ে যাবে। আর তার মাথার উড়না দুনিয়া ও তার সব কিছু থেকে উত্তম।
-বুখারী ২৬০৩
.
আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, তাঁদের (শহীদদের) রূহগুলি সবুজ পাখির ভিতর থাকে। সে পাখি জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়ায় এবং তারা আরশের সঙ্গে লটকানো ঝাড়ে থাকে। তোমার রব একবার তাদের সম্মুখে আবির্ভূত হবেন। বলবেন, আরো কোন জিনিস তোমরা চাও কি? তা হলে আমি তা তোমাদের জন্য বাড়িয়ে দিব।
তারা বলবেঃ হে আমাদের রব! আর কি অতিরিক্ত চাইব? আমরা জান্নাতে অবস্থান করছি। যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়াই। তারপর আবার তিনি আবির্ভূত হয়ে বলবেন, তোমরা আরো কিছু অতিরিক্ত চাও কি? তোমাদের জন্য তা বাড়িয়ে দিব।
এরা যখন দেখবে যে, তাদের কিছু না দিয়ে ছাড়া হচ্ছে না, তখন তারা বলবেঃ আপনি আমাদের শরীরে আমাদের রূহ ফিরিয়ে দিন, যাতে আমরা দুনিয়ায় ফিরে যাই এবং আবার আপনার পথে শহীদ হই।
আমাদের নবী ﷺ কে আমাদের সালাম পৌঁছে দিবেন এবং তাঁকে এই সংবাদ দিবেন যে, আমরা সন্তুষ্ট এবং আমাদের উপর (আমাদের রব) সন্তুষ্ট।
-তিরমিজী ৩০১১
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর কাছে শহীদদের জন্য রয়েছে ছয়টি বৈশিষ্ট: রক্ত ক্ষরণের প্রথম মূহূর্তেই তাকে মাফ করা হবে। জান্নাতে তার নির্ধারিত স্থান প্রদর্শন করা হবে। কবর আযাব থেকে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সবচেয়ে মহাভীতির দিনে তাকে নিরাপদে রাখা হবে, তাঁর মাথায় সম্মানের তাজ পরানে হবে, এর একটি ইয়াকুত পাথর দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম হবে; বাহাত্তর জন আয়াত লোচন হুরের সঙ্গে তার বিবাহ হবে, তার সত্তর জন নিকট আত্মীয় সম্পর্কে তার সুপারিশ কবুল করা হবে।
-তিরমিজী ১৬৬৯
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।
-বুখারী ২৬২৩
.
আল্লাহ রাহে নিহত ব্যক্তি শহীদ।

আল্লাহ্‌র রাস্তায় শহীদ হওয়া ছাড়াও আরো শাহাদাত আছে যথা:
আল্লাহর রাহে স্বাভাবিক মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
নিজের দ্বীন রক্ষার্থে নিহত ব্যক্তি শহীদ।
নিজের প্রাণ রক্ষার্থে নিহত ব্যক্তি শহীদ।
নিজের সম্পদ রক্ষার্থে নিহত ব্যক্তি শহীদ।
নিজের পরিবারের সদস্যদের রক্ষার্থে নিহত ব্যক্তি শহীদ।
প্রসবকালে মৃত নারী শহীদ।
চাপা পড়ে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
ক্ষয়রোগে (pleurisy) মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
পেটের রোগে (ডায়রিয়া, কলেরা) মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
প্লেগে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।
মহামারীতে মৃত্যু বরণকারী শহীদ।

-বুখারী ২৬৩৪, মুসলিম ৪৭৮৮, আবু দাউদ ৩০৯৭, তিরমিজী ১৪২৫

আসলিম তাসলাম

নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হল ইসলাম। -আলে-ইমরান ৩:১৯
আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে কক্ষনো তার সেই দ্বীন কবূল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। -আলে-ইমরান ৩:৮৫
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেউ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে অমান্য করলো সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট। -আল-আহযাব ৩৩:৩৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ কোন বান্দা/ ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার নিকট তার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ও অন্যান্য লোকদের চাইতে অধিকতর প্রিয় না হবে। -মুসলিম ৭২
আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই কাফির (যালিম, ফাসিক)। -আল-মায়েদা ৫: ৪৪-৪৭
নাবী ﷺ এর নিকট যখন এ সংবাদ পৌছলে যে, পারস্যের লোকেরা কিসরার কন্যাকে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছে তখন তিনি বললেনঃ সে জাতি কখনই সফলকাম হবে না যারা তাদের শাসনভার কোন রমনীর হাতে অর্পণ করে। -বুখারী ৬৬১৮


আবূ মূসা (রাঃ) বলেন যে, আমি ও আমার গোত্রের দু'ব্যাক্তি নাবী ﷺ এর নিকট গমন করলাম। সে দু'জনের একজন বলল, ইয়া রাল্লাহ! আমাকে (কোন বিষয়ে) আমীর নিযুক্ত করুন। অপরজনও অনুরূপ কথা বলল। তখন তিনি বললেনঃ যারা নেতৃত্ব চায় এবং এর লোভ পোষণ করে আমরা তাদেরকে এ পদে নিয়োগ করি না। -বুখারী ৬৬৬৪

যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। -বুখারী ১২৮০

খ্রিস্টধর্ম

Quran

আর আমি নিশ্চয় মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে একের পর এক রাসূল প্রেরণ করেছি এবং মারইয়াম পুত্র ঈসাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ। আর তাকে শক্তিশালী করেছি ‘পবিত্র আত্মা’র মাধ্যমে। তবে কি তোমাদের নিকট যখনই কোন রাসূল এমন কিছু নিয়ে এসেছে, যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখন তোমরা অহঙ্কার করেছ, অতঃপর (নবীদের) একদলকে তোমরা মিথ্যাবাদী বলেছ আর একদলকে হত্যা করেছ। -আল-বাকারা ২:৮৭


তোমরা বল, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা নাযিল করা হয়েছে আমাদের উপর ও যা নাযিল করা হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের সন্তানদের উপর আর যা প্রদান করা হয়েছে মূসা ও ঈসাকে এবং যা প্রদান করা হয়েছে তাদের রবের পক্ষ হতে নবীগণকে। আমরা তাদের কারো মধ্যে তারতম্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত’। -আল-বাকারা ২:১৩৬


ঐ রাসূলগণ, আমি তাদের কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি, তাদের মধ্যে কারো সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কারো কারো মর্যাদা উঁচু করেছেন। আর আমি ঈসা ইবনে মারয়ামকে দিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এবং আমি তাকে শক্তিশালী করেছি রূহুল কুদুস এর মাধ্যমে। আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তাদের পরবর্তীরা লড়াই করত না, তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ আসার পর। কিন্তু তারা মতবিরোধ করেছে। ফলে তাদের মধ্যে কেউ ঈমান এনেছে, আর তাদের কেউ কুফরী করেছে। আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তাহলে তারা লড়াই করত না। কিন্তু আল্লাহ যা চান, তা করেন। -আল-বাকারা ২:২৫৩


যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, ‘হে আমার রব, আমার গর্ভে যা আছে, নিশ্চয় আমি তা খালেসভাবে আপনার জন্য মানত করলাম। অতএব, আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ’। -আলে ইমরান ৩:৩৫

অতঃপর সে যখন তা প্রসব করল, বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি তা প্রসব করেছি কন্যারূপে’। আর আল্লাহই ভাল জানেন সে যা প্রসব করেছে তা সম্পর্কে। ‘আর পুত্র সন্তান কন্যা সন্তানের মত নয় এবং নিশ্চয় আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম। আর নিশ্চয় আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় দিচ্ছি’। -আলে ইমরান ৩:৩৬

অতঃপর তার রব তাকে উত্তমভাবে কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমভাবে গড়ে তুললেন। আর তাকে যাকারিয়্যার দায়িত্বে দিলেন। যখনই যাকারিয়্যা তার কাছে তার কক্ষে প্রবেশ করত, তখনই তার নিকট খাদ্যসামগ্রী পেত। সে বলত, ‘হে মারইয়াম, কোথা থেকে তোমার জন্য এটি’? সে বলত, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে চান বিনা হিসাবে রিযিক দান করেন’। -আলে ইমরান ৩:৩৭

সেখানে যাকারিয়্যা তার রবের কাছে প্রার্থনা করেছিল, সে বলল, ‘হে আমর রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী’। -আলে ইমরান ৩:৩৮

অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডেকে বলল, সে যখন কক্ষে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণীর সত্যায়নকারী, নেতা ও নারী সম্ভোগমুক্ত এবং নেককারদের মধ্য থেকে একজন নবী’। -আলে ইমরান ৩:৩৯

সে বলল, ‘হে আমার রব, কীভাবে আমার পুত্র হবে? অথচ আমার তো বার্ধক্য এসে গিয়েছে, আর আমার স্ত্রী বন্ধা’। তিনি বললেন, ‘এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন’। -আলে ইমরান ৩:৪০

সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে দেন একটি নিদর্শন’। তিনি বললেন, ‘তোমার নিদর্শন হল, তুমি তিন দিন পর্যন্ত মানুষের সাথে ইশারা ছাড়া কথা বলবে না। আর তোমার রবকে অধিক স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যা তার তাসবীহ পাঠ কর’। -আলে ইমরান ৩:৪১

আর স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বলল, ‘হে মারইয়াম, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন ও পবিত্র করেছেন এবং নির্বাচিত করেছেন তোমাকে বিশ্বজগতের নারীদের উপর’ । -আলে ইমরান ৩:৪২

‘হে মারইয়াম, তোমার রবের জন্য অনুগত হও। আর সিজদা কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর’। -আলে ইমরান ৩:৪৩

এটি গায়েবের সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমার প্রতি ওহী পাঠাচ্ছি। আর তুমি তাদের নিকট ছিলে না, যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল, তাদের মধ্যে কে মারইয়ামের দায়িত্ব নেবে? আর তুমি তাদের নিকট ছিলে না, যখন তারা বিতর্ক করছিল । -আলে ইমরান ৩:৪৪

স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বলল, ‘হে মারইয়াম, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, যে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত’। -আলে ইমরান ৩:৪৫

আর সে মানুষের সাথে কথা বলবে দোলনায় ও পরিণত বয়সে এবং সে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। -আলে ইমরান ৩:৪৬

মারইয়াম বলল, ‘হে আমার রব, কিভাবে আমার সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি’! আল্লাহ বললেন, ‘এভাবেই’ আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে শুধু বলেন, ‘হও’। ফলে তা হয়ে যায়। -আলে ইমরান ৩:৪৭

‘আর তিনি তাকে কিতাব, হিকমাত, তাওরাত ও ইনজীল শিক্ষা দেবেন’। -আলে ইমরান ৩:৪৮

আর বনী ইসরাঈলদের রাসূল বানাবেন (সে বলবে) ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি যে, অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য কাদামাটি দিয়ে পাখির আকৃতি বানাব, অতঃপর আমি তাতে ফুঁক দেব। ফলে আল্লাহর হুকুমে সেটি পাখি হয়ে যাবে। আর আমি আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রুগীকে সুস্থ করব এবং মৃতকে জীবিত করব। আর তোমরা যা আহার কর এবং তোমাদের ঘরে যা জমা করে রাখ তা আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। নিশ্চয় এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মুমিন হও’। -আলে ইমরান ৩:৪৯

‘আর আমার সামনে পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতের যা রয়েছে তার সত্যায়নকারীরূপে এবং তোমাদের উপর যা হারাম করা হয়েছিল তার কিছু তোমাদের জন্য হালাল করতে এবং আমি তোমাদের নিকট এসেছি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে। অতএব, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’। -আলে ইমরান ৩:৫০

‘নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব ও তোমাদের রব। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। এটি সরল পথ’। -আলে ইমরান ৩:৫১

অতঃপর যখন ঈসা তাদের পক্ষ হতে কুফরী উপলব্ধি করল, তখন বলল, ‘কে আল্লাহর জন্য আমার সাহায্যকারী হবে’? হাওয়ারীগণ বলল, ‘আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। আর তুমি সাক্ষী থাক যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম’। -আলে ইমরান ৩:৫২

হে আমাদের রব, আপনি যা নাযিল করেছেন তার প্রতি আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। অতএব, আমাদেরকে সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করুন’। -আলে ইমরান ৩:৫৩

আর তারা কুটকৌশল করেছে এবং আল্লাহ কৌশল করেছেন। আর আল্লাহ উত্তম কৌশলকারী। -আলে ইমরান ৩:৫৪

স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বললেন, ‘হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমাকে পরিগ্রহণ করব, তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব এবং কাফিরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব। আর যারা তোমার আনুগত্য করেছে তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপরে প্রাধান্য দেব। অতঃপর আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন আমি তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেব, যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ করতে’ । -আলে ইমরান ৩:৫৫

অতঃপর যারা কুফরী করেছে, আমি তাদেরকে কঠিন আযাব দেব দুনিয়া ও আখিরাতে, আর তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। -আলে ইমরান ৩:৫৬

আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তিনি তাদেরকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দেবেন। আর আল্লাহ যালিমদেরকে ভালবাসেন না। -আলে ইমরান ৩:৫৭

এটি আমি তোমার উপর তিলাওয়াত করছি, আয়াতসমূহ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ থেকে। -আলে ইমরান ৩:৫৮

নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মত, তিনি তাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে বললেন, ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেল। -আলে ইমরান ৩:৫৯

সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে, সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। -আলে ইমরান ৩:৬০

অতঃপর তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর যে তোমার সাথে এ বিষয়ে ঝগড়া করে, তবে তুমি তাকে বল, ‘এস আমরা ডেকে নেই আমাদের সন্তানদেরকে ও তোমাদের সন্তানদেরকে। আর আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে এবং আমাদের নিজদেরকে ও তোমাদের নিজদেরকে, তারপর আমরা বিনীত প্রার্থনা করি, ‘মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লা’নত করি’। -আলে ইমরান ৩:৬১

নিশ্চয় এটি সত্য বিবরণ। আর আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই এবং নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই হলেন পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাপূর্ণ। -আলে ইমরান ৩:৬২

তবুও যদি তারা উপেক্ষা করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সম্পর্কে অবগত। -আলে ইমরান ৩:৬৩


বল, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে আমাদের উপর, আর যা নাযিল হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের সন্তানদের উপর। আর যা দেয়া হয়েছে মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীকে তাদের রবের পক্ষ থেকে, আমরা তাদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না এবং আমরা তারই প্রতি আত্মসমর্পণকারী’। -আলে ইমরান ৩:৮৪


আর তাদের কুফরীর কারণে এবং মারইয়ামের বিরুদ্ধে মারাত্মক অপবাদ দেয়ার কারণে। -আন-নিসা ৪:১৫৬

এবং তাদের এ কথার কারণে যে, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম পুত্র ঈসা মাসীহকে হত্যা করেছি’। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি। বরং তাদেরকে ধাঁধায় ফেলা হয়েছিল। আর নিশ্চয় যারা তাতে মতবিরোধ করেছিল, অবশ্যই তারা তার ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে ছিল। ধারণার অনুসরণ ছাড়া এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আর এটা নিশ্চিত যে, তারা তাকে হত্যা করেনি। -আন-নিসা ৪:১৫৭

বরং আল্লাহ তাঁর কাছে তাকে তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। -আন-নিসা ৪:১৫৮


নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ওহী পাঠিয়েছি, যেমন ওহী পাঠিয়েছি নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের নিকট এবং আমি ওহী পাঠিয়েছি ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া’কূব, তার বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ূব, ইউনুস, হারূন ও সুলায়মানের নিকট এবং দাঊদকে প্রদান করেছি যাবূর। -আন-নিসা ৪:১৬৩


হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। মারইয়ামের পুত্র মাসীহ ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কালিমা, যা তিনি প্রেরণ করেছিলেন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন এবং বলো না, ‘তিন’। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহই কেবল এক ইলাহ, তিনি পবিত্র মহান এ থেকে যে, তাঁর কোন সন্তান হবে। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যা রয়েছে যমীনে, তা আল্লাহরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। -আন-নিসা ৪:১৭১

মাসীহ কখনো আল্লাহর বান্দা হতে (নিজকে) হেয় মনে করে না এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও না, আর যারা তাঁর ইবাদাতকে হেয় জ্ঞান করে এবং অহঙ্কার করে, তবে অচিরেই আল্লাহ তাদের সবাইকে তাঁর নিকট সমবেত করবেন। -আন-নিসা ৪:১৭২


অবশ্যই তারা কুফরী করেছে যারা বলে ‘নিশ্চয় মারইয়াম পুত্র মাসীহই আল্লাহ’। বল, যদি আল্লাহ ধ্বংস করতে চান মারইয়াম পুত্র মাসীহকে ও তার মাকে এবং যমীনে যারা আছে তাদের সকলকে ‘তাহলে কে আল্লাহর বিপক্ষে কোন কিছুর ক্ষমতা রাখে? আর আসমানসমূহ, যমীন ও তাদের মধ্যবর্তী যা রয়েছে, তার রাজত্ব আল্লাহর জন্যই। তিনি যা ইচ্ছা তা সৃষ্টি করেন এবং আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। -আল-মায়েদা ৫:১৭


আর আমি তাদের পেছনে মারইয়াম পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছিলাম তার সম্মুখে বিদ্যমান তাওরাতের সত্যায়নকারীরূপে এবং তাকে দিয়েছিলাম ইনজীল, এতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো এবং (তা ছিল) তার সম্মুখে অবশিষ্ট তাওরাতের সত্যায়নকারী, হিদায়াত ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশস্বরূপ। -আল-মায়েদা ৫:৪৬

আর ইনজীলের অনুসারীগণ তাতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার মাধ্যমে যেন ফয়সালা করে আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার মাধ্যমে যারা ফয়সালা করে না, তারাই ফাসিক। -আল-মায়েদা ৫:৪৭


অবশ্যই তারা কুফরী করেছে, যারা বলেছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন মারইয়াম পুত্র মাসীহ’। আর মাসীহ বলেছে, ‘হে বনী ইসরাঈল, তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদাত কর’। নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। -আল-মায়েদা ৫:৭২

অবশ্যই তারা কুফরী করেছে, যারা বলে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তিন জনের তৃতীয়জন’। যদিও এক ইলাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আর যদি তারা যা বলছে, তা থেকে বিরত না হয়, তবে অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব স্পর্শ করবে। -আল-মায়েদা ৫:৭৩

সুতরাং তারা কি আল্লাহর নিকট তাওবা করবে না এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাইবে না? আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -আল-মায়েদা ৫:৭৪

মারইয়াম পুত্র মাসীহ কেবল একজন রাসূল। তার পূর্বে অনেক রাসূল বিগত হয়েছে এবং তার মা ছিল অতি সত্যবাদী। তারা উভয়ে খাবার খেত। দেখ, কীভাবে আমি তাদের জন্য আয়াতসমূহ বর্ণনা করছি। অতঃপর দেখ, কীভাবে তাদেরকে সত্যবিমুখ করা হচ্ছে। -আল-মায়েদা ৫:৭৫


বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদেরকে দাঊদ ও মারইয়াম পুত্র ঈসার মুখে লা’নত করা হয়েছে। তা এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত। -আল-মায়েদা ৫:৭৮


যখন আল্লাহ বলবেন, ‘হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা, তোমার উপর ও তোমার মাতার উপর আমার নি’আমত স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে শক্তিশালী করেছিলাম পবিত্র আত্মা দিয়ে, তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে দোলনায় ও পরিণত বয়সে। আর যখন আমি তোমাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম কিতাব, হিকমাত, তাওরাত ও ইনজীল; আর যখন আমার আদেশে কাদামাটি থেকে পাখির আকৃতির মত গঠন করতে এবং তাতে ফুঁক দিতে, ফলে আমার আদেশে তা পাখি হয়ে যেত। আর তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করতে এবং যখন আমার আদেশে তুমি মৃতকে জীবিত বের করতে। আর যখন তুমি স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে তখন আমি বনী ইসরাঈলকে তোমার থেকে ফিরিয়ে রেখেছিলাম। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা বলেছিল, এতো স্পষ্ট জাদু। -আল-মায়েদা ৫:১১০

আর যখন আমি হাওয়ারী গণকে এ আদেশ দিয়েছিলাম যে, ‘আমার প্রতি তোমরা ঈমান আন ও আমার রাসূলের প্রতি’। তারা বলেছিল, ‘আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অবশ্যই মুসলিম’। -আল-মায়েদা ৫:১১১

যখন হাওয়ারীগণ বলেছিল, ‘হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা, তোমার রব কি পারে আমাদের উপর আসমান থেকে খাবারপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করতে?’ সে বলেছিল, ‘আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হও’। -আল-মায়েদা ৫:১১২

তারা বলল, ‘আমরা তা থেকে খেতে চাই। আর আমাদের হৃদয় প্রশান্ত হবে এবং আমরা জানব যে, তুমি আমাদেরকে সত্যই বলেছ, আর আমরা এ ব্যাপারে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ -আল-মায়েদা ৫:১১৩

মারইয়ামের পুত্র ঈসা বলল, ‘হে আল্লাহ, হে আমাদের রব, আসমান থেকে আমাদের প্রতি খাবারপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করুন; এটা আমাদের জন্য ঈদ হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য। আর আপনার পক্ষ থেকে এক নিদর্শন হবে। আর আমাদেরকে রিযিক দান করুন, আপনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা’। -আল-মায়েদা ৫:১১৪

আল্লাহ বললেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি তা নাযিল করব; কিন্তু এরপর তোমাদের মধ্যে যে কুফরী করবে তাকে নিশ্চয় আমি এমন আযাব দেব, যে আযাব সৃষ্টিকুলের কাউকে দেব না।’ -আল-মায়েদা ৫:১১৫

আর আল্লাহ যখন বলবেন, ‘হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা, তুমি কি মানুষদেরকে বলেছিলে যে, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমাকে ও আমার মাতাকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর?’ সে বলবে, ‘আপনি পবিত্র মহান, যার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার জন্য সম্ভব নয়। যদি আমি তা বলতাম তাহলে অবশ্যই আপনি তা জানতেন। আমার অন্তরে যা আছে তা আপনি জানেন, আর আপনার অন্তরে যা আছে তা আমি জানি না; নিশ্চয় আপনি গায়েবী বিষয়সমূহে সর্বজ্ঞাত’। -আল-মায়েদা ৫:১১৬

‘আমি তাদেরকে কেবল তাই বলেছি, যা আপনি আমাকে আদেশ করেছেন যে, তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদাত কর। আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি তাদের উপর সাক্ষী ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন তখন আপনি ছিলেন তাদের পর্যবেক্ষণকারী। আর আপনি সব কিছুর উপর সাক্ষী। -আল-মায়েদা ৫:১১৭

যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর তাদেরকে যদি ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ -আল-মায়েদা ৫:১১৮


আর যাকারিয়্যা, ইয়াহইয়া, ঈসা ও ইলয়াসকে। প্রত্যেকেই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। -আল-আন’আম ৬:৮৫


আর ইয়াহূদীরা বলে, উযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে, মাসীহ আল্লাহর পুত্র। এটা তাদের মুখের কথা, তারা সেসব লোকের কথার অনুরূপ বলছে যারা ইতঃপূর্বে কুফরী করেছে। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন, কোথায় ফেরানো হচ্ছে এদেরকে? -আত-তাওবা ৯:৩০

তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামপুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছে, তিনি ছাড়া কোন (হক) ইলাহ নেই। তারা যে শরীক করে তিনি তা থেকে পবিত্র। -আত-তাওবা ৯:৩১


আর স্মরণ কর এই কিতাবে মারইয়ামকে যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের কোন এক স্থানে চলে গেল। -মারইয়াম ১৯:১৬

আর সে তাদের নিকট থেকে (নিজকে) আড়াল করল। তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল) কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সামনে পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল। -মারইয়াম ১৯:১৭

মারইয়াম বলল, ‘আমি তোমার থেকে পরম করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি, যদি তুমি মুত্তাকী হও’। -মারইয়াম ১৯:১৮

সে বলল, ‘আমি তো কেবল তোমার রবের বার্তাবাহক, তোমাকে একজন পবিত্র পুত্রসন্তান দান করার জন্য এসেছি’। -মারইয়াম ১৯:১৯

মারইয়াম বলল, ‘কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আর আমি তো ব্যভিচারিণীও নই’। -মারইয়াম ১৯:২০

সে বলল, ‘এভাবেই। তোমার রব বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ। আর যেন আমি তাকে করে দেই মানুষের জন্য নিদর্শন এবং আমার পক্ষ থেকে রহমত। আর এটি একটি সিদ্ধান্তকৃত বিষয়’। -মারইয়াম ১৯:২১

তারপর সে তাকে গর্ভে ধারণ করল এবং তা নিয়ে দূরবর্তী একটি স্থানে চলে গেল। -মারইয়াম ১৯:২২

অতঃপর প্রসব-বেদনা তাকে খেজুর গাছের কান্ডের কাছে নিয়ে এলো। সে বলল, ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হতাম’! -মারইয়াম ১৯:২৩

তখন তার নিচ থেকে সে তাকে ডেকে বলল যে, ‘তুমি চিন্তা করো না। তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন’। -মারইয়াম ১৯:২৪

‘আর তুমি খেজুর গাছের কান্ড ধরে তোমার দিকে নাড়া দাও, তাহলে তা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে’। -মারইয়াম ১৯:২৫

‘অতঃপর তুমি খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোন লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোন মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলব না’। -মারইয়াম ১৯:২৬

তারপর সে তাকে কোলে নিয়ে নিজ কওমের নিকট আসল। তারা বলল, ‘হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভূত বিষয় নিয়ে এসেছ’! -মারইয়াম ১৯:২৭

‘হে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিল না। আর তোমার মা-ও ছিল না ব্যভিচারিণী’। -মারইয়াম ১৯:২৮

তখন সে শিশুটির দিকে ইশারা করল। তারা বলল, ‘যে কোলের শিশু আমরা কিভাবে তার সাথে কথা বলব’? -মারইয়াম ১৯:২৯

শিশুটি বলল, ‘আমি তো আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন’। -মারইয়াম ১৯:৩০

‘আর যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যতদিন আমি জীবিত থাকি তিনি আমাকে সালাত ও যাকাত আদায় করতে আদেশ করেছেন’। -মারইয়াম ১৯:৩১

‘আর আমাকে মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে অহঙ্কারী, অবাধ্য করেননি’। -মারইয়াম ১৯:৩২

‘আর আমার উপর শান্তি, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন আমি মারা যাব আর যেদিন আমাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে’। -মারইয়াম ১৯:৩৩

এই হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ঈসা। এটাই সঠিক বক্তব্য, যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করছে। -মারইয়াম ১৯:৩৪

সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। তিনি পবিত্র-মহান। তিনি যখন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন তদুদ্দেশ্যে শুধু বলেন, ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়। -মারইয়াম ১৯:৩৫

আর নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। এটাই সরল পথ। -মারইয়াম ১৯:৩৬

এরপর তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ করল। কাজেই মহাদিবস প্রত্যক্ষকালে কাফিরদের ধ্বংস অনিবার্য। -মারইয়াম ১৯:৩৭

যেদিন তারা আমার কাছে আসবে সেদিন তারা কতই না স্পষ্টভাবে শুনতে পাবে এবং দেখতে পাবে! কিন্তু যালিমরা আজ স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে। -মারইয়াম ১৯:৩৮

আর তাদেরকে সতর্ক করে দাও পরিতাপ দিবস সম্পর্কে যখন সব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, অথচ তারা রয়েছে উদাসীনতায় বিভোর এবং তারা ঈমান আনছে না। -মারইয়াম ১৯:৩৯

নিশ্চয় আমি যমীন ও এর উপরে যা রয়েছে তার চূড়ান্ত মালিক হব এবং আমারই নিকট তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। -মারইয়াম ১৯:৪০


আর স্মরণ কর সে নারীর কথা, যে নিজ সতীত্ব রক্ষা করেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার ‘রূহ’ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য করেছিলাম এক নিদর্শন । -আল-আম্বিয়া ২১:৯১


আর আমি মারইয়াম-পুত্র ও তার মাকে নিদর্শন বানালাম এবং তাদেরকে আবাসযোগ্য ও ঝর্নাবিশিষ্ট এক উঁচু ভূমিতে আশ্রয় দিলাম। -আল-মুমিনুন ২৩:৫০


যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন। -আস-সাজদাহ ৩২:৭


তিনি তোমাদের জন্য দীন বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন; যে বিষয়ে তিনি নূহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর আমি তোমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছি এবং ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম তা হল, তোমরা দীন কায়েম করবে এবং এতে বিচ্ছিন্ন হবে না। তুমি মুশরিকদেরকে যেদিকে আহবান করছ তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়; আল্লাহ যাকে চান তার দিকে নিয়ে আসেন। আর যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি হিদায়াত দান করেন। -আশ-শূরা ৪২:১৩


আর যখনই মারইয়াম পুত্রকে দৃষ্টান্তস্বরূপ পেশ করা হয়, তখন তোমার কওম শোরগোল শুরু করে দেয়। -আয-যুখরুফ ৪৩:৫৭

আর তারা বলে, ‘আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ নাকি ঈসা’? তারা কেবল কূটতর্কের খাতিরেই তাকে তোমার সামনে পেশ করে। বরং এরাই এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়। -আয-যুখরুফ ৪৩:৫৮

সে কেবল আমার এক বান্দা। আমি তার উপর অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে দৃষ্টান্ত বানিয়েছিলাম। -আয-যুখরুফ ৪৩:৫৯


আর যখন ঈসা সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসল, তখন সে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে হিকমত নিয়ে এসেছি এবং এসেছি তোমরা যে কতক বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত তা স্পষ্ট করে দিতে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর’। -আয-যুখরুফ ৪৩:৬৩

‘নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই আমার রব ও তোমাদের রব। অতএব তাঁর ইবাদাত কর; এটিই সরল পথ’। -আয-যুখরুফ ৪৩:৬৪

অতঃপর তাদের মধ্যকার কতগুলি দল মতভেদ করেছিল। সুতরাং যালিমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের দুর্ভোগ! -আয-যুখরুফ ৪৩:৬৫


তারপর তাদের পিছনে আমি আমার রাসূলদেরকে অনুগামী করেছিলাম এবং মারইয়াম পুত্র ঈসাকেও অনুগামী করেছিলাম। আর তাকে ইনজীল কিতাব দিয়েছিলাম এবং যারা তার অনুসরণ করেছিল তাদের অন্তরসমূহে করুণা ও দয়ামায়া দিয়েছিলাম। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারাই বৈরাগ্যবাদের প্রবর্তন করেছিল। এটা আমি তাদের ওপর লিপিবদ্ধ করে দেইনি। তারপর তাও তারা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করেনি। আর তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমি তাদের প্রতিদান দিয়েছিলাম এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফাসিক। -আল-হাদীদ ৫৭:২৭


আর যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা বলেছিল, ‘হে বনী ইসরাঈল, নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল। আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমদ’। অতঃপর সে যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বলল, ‘এটাতো স্পষ্ট জাদু’। -আস-সফ ৬১:৬


হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও। যেমন মারইয়াম পুত্র ঈসা হাওয়ারীদেরকে বলেছিল, আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে? হাওয়ারীগণ বলল, আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী। তারপর বনী-ঈসরাইলের মধ্য থেকে একদল ঈমান আনল এবং অপর এক দল প্রত্যাখ্যান করল। অতঃপর যারা ঈমান আনল আমি তাদেরকে তাদের শত্রুবাহিনীর ওপর শক্তিশালী করলাম। ফলে তারা বিজয়ী হল। -আস-সফ ৬১:১৪


(আল্লাহ আরো উদাহরণ পেশ করেন) ইমরান কন্যা মারয়াম-এর, যে নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম। আর সে তার রবের বাণীসমূহ ও তাঁর কিতাবসমূহের সত্যতা স্বীকার করেছিল এবং সে ছিল অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত। -আত-তাহরীম ৬৬:১২

.

মদিনার সনদ

পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে

এটা হচ্ছে নবী মুহাম্মদ (সা)-এর পক্ষ থেকে লিপি। কুরায়শ ও ইয়াসরিবের মুমিন ও মুসলমানদের মধ্যে এবং যারা তাদের অধীনে, তাদের সাথে শামিল হবে বা তাদের সাথে জিহাদে মিলেমিশে কাজ করবে।

১. অন্যদের মুকাবিলায় তারা এক উম্মত বলে গণ্য হবে।

২. কুরায়শের মুহাজিরগণ পূর্ব প্রথানুযায়ী রক্তপণ আদায় করবে এবং তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করে তাদের মুক্ত করবে। যাতে করে বিশ্বাসীদের মধ্যকার পারস্পারিক আচরণ ন্যায়ানুগ এবং ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

৩. এবং বনু আওফের লোকেরা (আনসারগণ) পূর্ব প্রথানুযায়ী তাদের রক্তপণ পরিশোধ করবে এবং প্রত্যেক পক্ষ তাদের মুক্তিপণ বন্দীপন পরিশোধ করে মুক্ত করবে যাতে বিশ্বাসীদের মধ্যকার পরস্পারিক আচরণ ন্যায়ানুগ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

৪. আর বনু সাঈদা তাদের পূর্ব প্রথানুযায়ী তাদের রক্তপণ পরিশোধ করবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করবে- যাতে বিশ্বাসীদের মধ্যকার পারস্পরিক আচরণ ন্যায়ানুগ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

৫. বনু হারিস তাদের পূর্ব প্রথানুযায়ী রক্তপণ পরিশোধ করবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করবে যাতে করে বিশ্বাসীদের মধ্যকার পারস্পারিক আচরণ ন্যায়ানুগ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

৬. বনু জুশাম তাদের পূর্ব প্রথানুযায়ী তাদের রক্তপণ পরিশোধ করবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের নিজেদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করবে- যাতে করে বিশ্বাসীদের মধ্যকার পারস্পারিক আচরণ ন্যায়ানুগ এবং ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

৭. বনু নাজ্জার তাদের পূর্ব প্রথানুযায়ী তাদের রক্তপণ পরিশোধ করবে এবং তাদের প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের নিজেদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করবে যাতে করেবিশ্বাসীদের মধ্যকার পারস্পারিক আচরণ ন্যায়ানুগ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

৮. বনু আমর ইবন আওফ তাদের পূর্ব প্রথানুযায়ী তাদের রক্তপণ পরিশোধ করবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করবে- যাতে করে বিশ্বাসীদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ন্যায়ানুগ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

৯. বনু নাবীত তাদের প্রথানুযায়ী তাদের রক্তপণ পরিশোধ করবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করবে যাতে বিশ্বাসীদের মধ্যকার পারস্পরিক আচরণ ন্যায়ানুগ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

১০. বন আওস তাদের পূর্ব প্রথানুযায়ী তাদের রক্তপণসমূহ পরিশোধ করবে এবং তাদের প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করবে- যাতে করে বিশ্বাসীদের মধ্যকার পারস্পরিক আচরণ ন্যায়ানুগ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

১১. আর বিশ্বাসীদেরকে নিঃস্ব অভাবগ্রস্তরূপে ছেড়ে দেয়া হবে না। যাতে করে তারা ন্যায়ানুগভাবে মুক্তিপণ ও রক্তপণ পরিশোধ করতে পারে।

১২. কোন মুমিন ব্যক্তি অন্য মু'মিন ভাইয়ের অনুমতি না নিয়ে অন্য কারো সাথে চুক্তিবদ্ধ হবে না।

১৩. আল্লাহভীরু মু'মিনরা ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকবে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অন্যায় করবে বা গুরুতর অবিচার, পাপ, সীমালংঘন বা মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে তৎপর হবে, তাদের সকলের সমবেত হস্ত তার বিরুদ্ধে উত্থিত হবে- যদিও সে তাদের কারো আপন পুত্রও হয়।

১৪. কোন মু'মিন ব্যক্তি কোন কাফিরের জন্যে কোন মু'মিন ব্যক্তিকে হত্যা করবে না বা কোন মু'মিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন কাফিরকে সাহায্য করবে না।

১৫. নিঃসন্দেহে আল্লাহর যিম্মা বা অভয় অভিন্ন। তাদের যে কোন সাধারণ ব্যক্তি কাউকে অভয় দিয়ে সকলকে সে চুক্তির মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বে আবদ্ধ করতে পারবে। আর মু'মিনগণ অন্যান্য লোকের মুকাবিলায় পরস্পর ভাই ভাই।

১৬. আর ইয়াহূদীদের মধ্যে যারা আমাদের আনুগত্য করবে, তারাও সাহায্য ও সমতার হকদার বলে গণ্য হবে, তাদের প্রতি যুলুমও হবে না আর তাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করাও চলবে না।

১৭. আর মুসলমানদের সন্ধিও অভিন্ন সন্ধি। আল্লাহর রাহে যুদ্ধে কোন মু'মিন ব্যক্তি অপর কোন মুমিন ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে শত্রুর সাথে সন্ধি করবে নাযাবৎ না এ সন্ধি সকলের জন্যে সমান ও ন্যায়ানুগ হবে।

১৮. এবং আমাদের পক্ষের শক্তিরূপে যারা আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করবে, তাদের একে অপরের পিছনে থাকবে।

১৯. আর ঈমানদারগণ আল্লাহর রাহে মৃত তাদের একের রক্তের বদলা অপরে নেবে।

২০. আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মু'মিন মুত্তাকীগণ সব চাইতে সহজ-সরল ও সঠিক পথে রয়েছে।

২১. আর কোন মুশরিক বা পৌত্তলিক ব্যক্তি কোন কুরায়শের সম্পদ বা প্রাণের আশ্রয়দাতা হবে না এবং কোন মুমিন ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে বাধা দিতে পারবে না।

২২. আর যে ব্যক্তি কোন মু'মিন ব্যক্তিকে হত্যা করবে আর সাক্ষ্য-প্রমাণে তা প্রমাণিতও হয়ে যাবে, তার উপর থেকে কিসাস গ্রহণ করা হবে হত্যার বদলে তাকে হত্যা করা হবে। হ্যা, যদি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী রক্তপণ নিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে রাযী হয়, আর সমস্ত মুমিনের তাতে সায় থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। এ ছাড়া তার আর কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই (অর্থাৎ এটা অবশ্য করণীয়)।

২৩. আর যে মু'মিন ব্যক্তি এই লিপির বক্তব্য স্বীকার করে নিয়েছে। আর সে আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে, তার জন্যে কোন নতুন ফিতনা সৃষ্টিকারীকে সাহায্য করা বা তাকে আশ্রয় দান বৈধ হবে না। যে ব্যক্তি তাকে সাহায্য করবে বা আশ্রয় দেবে, তার প্রতি আল্লাহর লা'নত ও গযব হবে কিয়ামতের দিনে এবং তার থেকে কোন ফিদয়া (মুক্তিপণ) বা বদলা গ্রহণ করা হবে না।

২৪. আর যখন তোমাদের মধ্যে কোন বিরোধ উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা ও মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট তা উত্থাপন করতে হবে।

২৫. আর ইয়াহুদীরা যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমগণের সঙ্গে মিলেমিশে যুদ্ধ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা যুদ্ধের ব্যয়ও নির্বাহ করবে।

২৬. বন্ আওফের ইয়াহুদীরা মু'মিনদের সাথে একই উম্মতরূপে গণ্য হবে। ইয়াহুদীদের জন্যে তাদের ধর্ম, মুসলমানদের জন্যে তাদের ধর্ম, তাদের গােলামদের এবং তাদের নিজেদের ব্যাপারে একথা প্রযােজ্য হবে। তবে যে ব্যক্তি যুলুম বা অপরাধ করবে, সে তার নিজকে ও নিজ গৃহবাসীদেরকে ছাড়া অন্য কাউকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

২৭. এবং বনু নাজ্জারের ইয়াহুদীরাও বনূ আওফের ইয়াহুদীদের মত অধিকার পাবে।

২৮. বনু হারিসের ইয়াহুদীরাও বনু আওফের ইয়াহূদীদের মত অধিকার লাভ করবে।

২৯. বনু সাঈদার ইয়াহূদীরাও বনূ আওফের ইয়াহুদীদের সমান অধিকার পাবে।

৩০. বনু জুশামের ইয়াহুদীদের জন্যেও বনু আওফের ইয়াহূদীদের মত অধিকার থাকবে।

৩১. এবংবনূআওসের ইয়াহূদীদের জন্যেও বনু আওফের ইয়াহূদীদের মত অধিকার থাকবে।

৩২. বনূ সালাবার ইয়াহুদীদের জন্যে বনু আওফের ইয়াহুদীদের মত অধিকার থাকবে। তবে যে যুলুম বা অপরাধ করবে সে তার নিজকে ও নিজ পরিবারকে ধ্বংস করবে।

৩৩. আর নি:সন্দেহে জাফনা গোত্রও সালাবার শাখা-গোত্র, সুতরাং তারাও তাদের অর্থাৎ সা'লাবাদের মত অধিকার ভোগ করবে।

৩৪. আর বনু শুতায়বার লোকজনের জন্যেও বনু আওফের ইয়াহূদীদের মত অধিকার থাকবেবিশ্বস্ততায়, বিশ্বাস ভঙ্গে নয়।

৩৫. আর সা'লাবাদের মাওয়ালীরাও তাদেরই মত অধিকার লাভ করবে।

৩৬. এবংইয়াহুদী শাখাগোত্রগুলোও তাদের মূল গোত্রের লোকদের সমান অধিকার লাভ করবে।

৩৭. তাদের মধ্যকার কেউই মুহাম্মদ (সা)-এর অনুমতি ব্যতিরেকে যুদ্ধার্থে বহির্গত হবে না।

৩৮. এবং যখমের প্রতিশোধ গ্রহণের পথে কোন বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করা হবে না। যে ব্যক্তি রক্তপাত করবে, সে নিজে ও নিজ পরিজনদের জন্য ধ্বংস ডেকে আনবে। অবশ্য, যে অত্যাচারিত হয়েছে এবং (সে হিসাবে) আল্লাহর আনুকূল্য পাবে (তার কথা স্বতন্ত্র)।

৩৯. ইয়াহূদীদের উপর তাদের নিজেদের ব্যয়ভার বর্তাবে এবং মুসলিমগণের উপর তাদের নিজেদের ব্যয়ভার বর্তাবে।

৪০. যে কেউ এই চুক্তিনামা গ্রহণকারী কোন পক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, তার বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য করবে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মঙ্গল কামনার সম্পর্ক থাকবে। একপক্ষ অপরপক্ষকে সুপরামর্শ দেবে। বিশ্বস্ততা রক্ষা করবে, বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না।

৪১. আর কোন পক্ষ তার মিত্র পক্ষের অপকর্মের জন্যে দায়ী হবে না আর অত্যাচারিতই সাহায্যের হকদার বলে গণ্য হবে।

৪২. আর ইয়াহুদীরা যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাসীদের সাথী ও সহযোদ্ধারূপে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারাও যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহ করবে।

৪৩. আর ইয়াসবির উপত্যকা এই চুক্তিনামার সকল পক্ষের কাছে পবিত্র ভূমি বলে গণ্য হবে।

৪৪. আর কোন পক্ষের আশ্রিত ব্যক্তি আশ্রয়দাতার সমান মর্যাদা ও অধিকার লাভ করবেযে কোন ক্ষতিসাধন করবে না এবং অপরাধ করবে না।

৪৫. আর কোন মহিলাকে তার পরিবারের লোকজনের অনুমতি ব্যতিরেকে আশ্রয় দেয়া যাবে না।

৪৬. এই চুক্তিনামা গ্রহণকারী পক্ষসমূহের মধ্যে যদি এমন কোন নতুন সমস্যার বা বিরোধের উদ্ভব হয়-যা থেকে দাঙ্গা বেধে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়, তাহলে তা আল্লাহ তা'আলা এবং আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট মীমাংসার্থে উত্থাপিত করতে হবে। এ চুক্তিনামায় যা কিছু রয়েছে এর প্রতি সর্বাধিক নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা আল্লাহর কাছে পসন্দনীয়।

৪৭. কোন কুরায়শকে বা তাদের সাহায্যকারীকে আশ্রয় দেওয়া চলবে না।

৪৮. আর চুক্তির সকল পক্ষ ইয়াসবির আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য করবে।

৪৯. যখন তাদেরকে সন্ধির জন্য আহবান জানানো হবে, তখন তারা সন্ধিবদ্ধ হবে। অনুরূপ যখন তারা সন্ধির জন্যে আহবান জানাবে তখন মুমিনদেরকেও সন্ধির আহবানে সাড়া দিতে হবে। তবে, যদি কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তবে তার ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য হবে না।

৫০. প্রত্যেককে তার নিজের দিকের প্রতিরোধের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

৫১. আর আওসের ইয়াহূদীরাতারা নিজেরা হোক বা তাদের মাওয়ালী হোক, এইচুক্তিতে শরীক পক্ষসমূহের সমান অধিকার লাভ করবেএই চুক্তির পক্ষসমূহের সাথে - সুসম্পর্কের ভিত্তিতে।

৫২. আর এ চুক্তিনামা কোন অত্যাচারী বা অপরাধীর সহায়ক বিবেচিত হবে না। যে ব্যক্তি যুদ্ধে বের হবে এবং যে ব্যক্তি মদীনায় বসা থাকবে, উভয়েই নিরাপত্তার হকদার বিবেচিত হবে; অত্যাচারী এবং অপরাধী এর ব্যতিক্রম বলে গণ্য হবে।

৫৩. আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সা) ঐ ব্যক্তির পক্ষে রয়েছে, যে চুক্তিপালনে নিষ্ঠাবান ও আল্লাহকে ভয় করে।

- আবূ মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইব্ন হিশাম মুআফিরী (র.) [সীরাতুন নবী (সা) ২:১৭৫-১৮১]

ইসলাম

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসাবে মনোনীত করলাম। -আল-মায়েদা ৫:৩
.
নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হল ইসলাম। -আলে-ইমরান ৩:১৯
.
আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে কক্ষনো তার সেই দ্বীন কবূল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। -আলে-ইমরান ৩:৮৫
.
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে অংশী স্থাপন (শিরক) করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য পাপসমূহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করল, সে এক মহা অপবাদ আরোপ করল। -আন নিসা ৪:৪৮
.
হে মু’মিনগণ! ইসলামের মধ্যে পূর্ণভাবে প্রবেশ কর এবং শায়ত্বনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। -আল বাকারা ২:২০৮
.
হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যেমনভাবে করা উচিৎ এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যু বরণ করনা। -আলে-ইমরান ৩:১০২
.
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেউ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে অমান্য করলো সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট। -আল-আহযাব ৩৩:৩৬
.
যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তাতে চিরবাসী হবে এবং এটা বিরাট সাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের নাফরমানী করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন, সে তাতে চিরবাসী হবে এবং সে অবমাননাকর শাস্তি ভোগ করবে। -আন-নিসা ৪:১৩-১৪
.
আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। উপদেশ গ্রহণের কেউ আছে কি? -আল-কামার ৫৪:৪০
.
উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, মক্কার মুশরিকরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সবচেয়ে কঠিন আচরণ কী করেছিল? তিনি বললেন, আমি ‘উক্বাহ ইবনু আবূ মুআইতকে দেখেছি; সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। সে নিজের চাদর দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গলায় জড়িয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। আবূ বাকর (রাঃ) এসে ‘উকবাহ্কে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, ‘‘তোমরা কি এমন লোককে মেরে ফেলতে চাও, যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহ্ই আমার রব। যিনি তাঁর দাবীর স্বপক্ষে তোমাদের রবের কাছ হতে স্পষ্ট প্রমাণ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন?’’ -বুখারী ৩৬৭৮
.
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজেস করলেন, উহুদের দিনের চেয়ে কঠিন কোন দিন কি আপনার উপর এসেছিল? তিনি বললেন, আমি তোমার ক্বওম হতে যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, তা তো হয়েছি। তাদের হতে অধিক কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, আকাবার দিন যখন আমি নিজেকে ইবনু ‘আবদে ইয়ালীল ইবনে ‘আবদে কলালের নিকট পেশ করেছিলাম। আমি যা চেয়েছিলাম, সে তার জবাব দেয়নি। তখন আমি এমনভাবে বিষণ্ণ চেহারা নিয়ে ফিরে এলাম যে, কারনুস সাআলিবে পৌঁছা পর্যন্ত আমার চিন্তা দূর হয়নি। তখন আমি মাথা উপরে উঠালাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম এক টুকরো মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি সে দিকে তাকালাম। তার মধ্যে ছিলেন জিব্রাঈল (আঃ)। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আপনার ক্বওম আপনাকে যা বলেছে এবং তারা উত্তরে যা বলেছে তা সবই আল্লাহ শুনেছেন। তিনি আপনার নিকট পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন। এদের সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছে আপনি তাঁকে হুকুম দিতে পারেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। অতঃপর বললেন, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এসব ব্যাপার আপনার ইচ্ছাধীন। আপনি যদি চান, তাহলে আমি তাদের উপর আখশাবাইনকে চাপিয়ে দিব। উত্তরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং আশা করি মহান আল্লাহ তাদের বংশ থেকে এমন সন্তান জন্ম দেবেন যারা এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে আর তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। -বুখারী ৩২৩১