ঈদুল আযহা ও কুরবানী

যে ব্যক্তির নিকট কুরবানীর পশু আছে সে যেন যিলহাজ্জ এর নতুন চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে। -সহীহ মুসলিম ৪৯৫৯ 
.
শপথ দশ রাত্রির। -আল ফাজর ৮৯:২
.
আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে। -আল বাকারা ২:২০৩
.
নবী ﷺ বলেছেনঃ যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল, অনান্য দিনের আমলের তুলনায় উত্তম। তারা জিজ্ঞাসা করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী ﷺ বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যাক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদ করে এবং কিছু্ই নিয়ে আসে না। -সহীহ বুখারী ৯১৮
.
এমন কোন দিন নেই যে দিনগুলোর (নফল) ইবাদাত আল্লাহ্ তা'আলার নিকট যিলহাজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদাত হতে বেশী প্রিয়। এই দশ দিনের প্রতিটি রোযা এক বছরের রোযার সমকক্ষ এবং এর প্রতিটি রাতের ইবাদাত কাদরের রাতের ইবাদাতের সমকক্ষ। -আত তিরমিজী ৭৫৮; ইবনে মাজাহ ১৭২৮ (যইফ)
.
আরাফাত দিবসের সাওম, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। -সহীহ মুসলিম ২৬১৮
.
উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হত। এমন কি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল থেকে বের করতাম এবং ঋতুমতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকতো এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলতো এবং তাদের দু’আর সাথে দু’আ করত-তারা আশা করত সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা। -সহীহ বুখারী ৯২০
.
দিনগুলোর মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল, নাহরের (কুরবানীর) দিন। এরপর এর পরবর্তী দিন (মেহেমানদারীর দিন)। -সূনান আবু দাউদ ১৭৬৫
.
অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। -আল কাওসার ১০৮:২
.
যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদের মাঠের কাছেও না আসে। -ইবনে মাজাহ ৩১২৩
.
নবী ﷺ বলেছেনঃ আমাদের এ দিনে আমরা সর্ব প্রথম যে কাজটি করবো তা হল সালাত আদায় করবো। এরপর ফিরে এসে আমরা কুরবানী করবো। যে ব্যাক্তি এভাবে তা আদায় করল সে আমাদের নীতি অনুসরণ করল। আর যে ব্যাক্তি আগেই যবাহ করল, তা এমন গোশতরুপে গন্য যা সে তার পরিবার পরিজনের জন্য আগাম ব্যবস্থা করল। এটা কিছুতেই কুরবানী বলে গন্য নয়। -সহীহ বুখারী ৫১৪৭
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ মাদীনায় দশ বছর থেকেছেন এবং বরাবর (প্রতি বছর) কুরবানী করেছেন। -আত তিরমিজী ১৫০৭
.
রসূলুল্লাহ ﷺ দু' শিংযুক্ত সাদা-কালো বর্ণের দুটি দুম্বা কুরবানী করেন। আমি-তাকে দুম্বা দুটি স্বহস্তে যাবাহ করতে দেখেছি। তিনি ও দু'টির ঘাড়ের পাশে নিজ পা দিয়ে চেপে রাখেন এবং বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলেন। -মুসলিম ৪৯৮২
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ কুরবানীর দিন আয়িশা (রাঃ) এর পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন। -মুসলিম ৩০৬১
.
নাবী ﷺ এর নিকট কিছু গরুর গোশত আসল। তখন তাকে বলা হল, এগুলো বারীরা (রাঃ) কে সাদাকা দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি বললেন, ইহা বারীরার জন্য সাদাকা, আর আমর জন্য হাদিয়া। -মুসলিম ২৩৫৭
.
আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। -আল আনআম ৬:১৬২
.
তোমরা তা হতে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদেরকে খেতে দাও। -সূরা আল-হজ্জ ২২:৩৬
.
নাবী ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিবসে এমতাবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর গোশত কিছু পরিমান অবশ্যই থাকে। এরপর যখন পরবর্তী বছর আসল, তখন সাহাবীগন বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি সে রূপ করবো যে রূপ গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি বললেনঃ তোমরা নিজেরা খাও অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ কেননা, গত বছর তো মানুষের মধ্যে ছিল অভাব অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম যে, তোমরা তাতে সাহায্য কর। -বুখারী ৫১৭১
.
সে ব্যক্তি পূর্ণ মু’মিন নয়, যে উদরপূর্তি করে খায় অথচ তার পাশেই তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। -মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৯৯১
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ হে আবূ যার! যখন তুমি (তরকারী) রান্না করবে তখন তাতে পানি বেশী দিবে যাতে ঝোলের পরিমাণ অধিক হয় এবং তোমরা তোমাদের প্রতিবেশীর প্রতি লক্ষ্য রেখো। -মুসলিম ৬৪৪৯
.
যদি আকিল, বালিগ, মুকীম ব্যক্তি ১০ই যিলহাজ্জ ফজর হতে ১২ই যিলহাজ্জ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (৫২.৫ ভরি =৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার সমমূল্য) সম্পদের মালিক হয়; তবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে খাওয়াতেন, এক-তৃতীয়াংশ গরীব প্রতিবেশীদেরকে খাওয়াতেন এবং একতৃতীয়াংশ প্রার্থনাকারীকে দান করতেন।

কুরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজেরা খাওয়া, এক ভাগ দরিদ্রদের সদাকা করা এবং এক ভাগ আত্মীয়, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের হাদিয়া করা উত্তম।
এক তৃতীয়াংশ সদকা করতে হবে এমনটি জরুরি নয়। যার সামর্থ্য আছে তিনি এর চেয়ে বেশিও সদকা করতে পারেন। আর যার ঘরে প্রয়োজন রয়েছে তিনি এর চেয়ে কমও সদকা করতে পারেন। মোটকথা, কুরবানীদাতা তার কুরবানীর গোশত কী পরিমাণ নিজে রাখবে, কী পরিমাণ অন্যকে খাওয়াবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কী পরিমাণ আগামীর জন্য সংরক্ষণ করবে এগুলো সম্পূর্ণ তার ইচ্ছার ব্যাপার। এই বিষয়টি শরীয়ত কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিয়েছে। এখানে অন্য কারো অনুপ্রবেশ অনুমোদিত নয়। শরীয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কুরবানীর বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে।
https://www.alkawsar.com/bn/article/3401

কুরবানীর জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়গুলো কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুরবানীদাতা কী পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর জন্য সংরক্ষণ করবে— এগুলো কুরবানীদাতার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার।
https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/4828

প্রত্যেক কুরবানীর একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে বিতরণের জন্য নিয়ে নেয়া। এরপর সেগুলোকে একত্র করে সমানভাবে ভাগ করে সমাজের প্রত্যেককে অর্থাৎ যারা কুরবানী করেছে আর যারা করেনি সবাইকে একেক অংশ দিয়ে দেওয়া। এটা গলদ তরিকা। যা অবশ্যই সংশোধনযোগ্য।https://www.alkawsar.com/bn/article/2430
.
تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَ مِنۡكَ
আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ হ’তে (সৎকর্মগুলো) কবুল করুন।

تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَ مِنۡكُمۡ
আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ হ’তে (সৎকর্মগুলো) কবুল করুন।

ঈদুল ফিতর ও সাদাকাতুল ফিতর

আল্লাহর রাসূল ﷺ ‘ঈদুল ফিত্রের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। তিনি তা বিজোড় সংখ্যায় খেতেন। -বুখারী ৯৫৩

নাবী ﷺ বিলাল (রাযি.)-কে সঙ্গে নিয়ে ‘ঈদুল ফিত্রের দিন বের হয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি। -বুখারী ৯৮৯

নাবী ﷺ ‘ঈদের দিন (বাড়ী ফেরার পথে) ভিন্ন পথে আসতেন। -বুখারী ৯৮৬

উম্মু আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ঈদের দিন) আমাদেরকে বের হবার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তাই আমরা ঋতুমতী, যুবতী এবং তাঁবুতে অবস্থানকারিণী নারীদেরকে নিয়ে বের হতাম। অতঃপর ঋতুমতী মহিলাগণ মুসলমানদের জামা‘আত এবং তাদের দু‘আয় অংশগ্রহণ করতেন। তবে ‘ঈদমাঠে পৃথকভাবে অবস্থান করতেন। -বুখারী ৯৮১

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন আমাদের মধ্যে ছিলেন, তখন আমরা ছোট ও বড় স্বাধীন ও ক্রীতদাস প্রত্যেকের পক্ষ হতে সাদাকাতুল ফিতর বাবদ এক সা' পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা' পনির অথবা এক সা' যব অথবা এক সা' খেজুর অথবা এক সা' কিশমিশ প্রদান করতাম। এভাবেই আমরা তা আদায় করতে থাকি। পরে মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) হাজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে যখন আমাদের নিকট আসলেন তখন তিনি মিম্বরে আরোহণ করে উপস্থিত লোকদের সাথে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বললেন, আমার মতে সিরিয়ার দু’মুদ গম এক সা' খেজুরের সামান। লোকেরা তা গ্রহণ করে নিলেন। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমি তো যত দিন জীবিত থাকব ঐভাবেই সাদাকাতুল ফিতর আদায় করব, যেভাবে আমি (পূর্বে) আদায় করতাম। -মুসলিম ২১৫৬
.
জনপ্রতি ফিতরা:
এক সা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) যব/ খেজুর/ কিসমিস/ পনির বা গম/ আটা অথবা সমমূল্য।
.
ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিক হওয়ার পর মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (৫২.৫ ভরি =595g =৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার সমমূল্য) সম্পদের মালিক প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের উপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। -দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম ৩১৪
.
নিজের এবং নিজের নাবালিগ সন্তানের পক্ষ হতে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। বালিগ সন্তানদের ফিতরা পিতার উপর ওয়াজিব নয়। কোন নাবালিগ মেয়েকেও যদি বিবাহ দিয়ে দেওয়া হয় আর সে তার স্বামীর খিদমত করার যোগ্য হয় তাহলে তার ফিতরা পিতার উপর ওয়াজিব হবে না। -ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া ২:৫৮
.
تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَ مِنۡكَ
আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ হ’তে (সৎকর্মগুলো) কবুল করুন।

تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَ مِنۡكُمۡ
আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ হ’তে (সৎকর্মগুলো) কবুল করুন।
.

সুদ

যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সুদের মতই। অথচ আল্লাহ বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতএব, যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ আসার পর সে বিরত হল, যা গত হয়েছে তা তার জন্যই ইচ্ছাধীন। আর তার ব্যাপারটি আল্লাহর হাওলায়। আর যারা ফিরে গেল, তারা আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। -আল-বাকারা ২:২৭৫
আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদাকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ কোন অতি কুফরকারী পাপীকে ভালবাসেন না। -আল-বাকারা ২:২৭৬

হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা মুমিন হও। -আল-বাকারা ২:২৭৮
কিন্তু যদি তোমরা তা না কর তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও, আর যদি তোমরা তাওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা যুলম করবে না এবং তোমাদের যুলম করা হবে না। -আল-বাকারা ২:২৭৯
আর যদি সে অসচ্ছল হয়, তাহলে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তার অবকাশ রয়েছে। আর সদাকা করে দেয়া তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। -আল-বাকারা ২:২৮০

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরস্পর ঋণের লেন-দেন করবে, তখন তা লিখে রাখবে। আর তোমাদের মধ্যে একজন লেখক যেন ইনসাফের সাথে লিখে রাখে এবং কোন লেখক আল্লাহ তাকে যেরূপ শিক্ষা দিয়েছেন, তা লিখতে অস্বীকার করবে না। সুতরাং সে যেন লিখে রাখে এবং যার উপর পাওনা সে (ঋণ গ্রহীতা) যেন তা লিখিয়ে রাখে। আর সে যেন তার রব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে এবং পাওনা থেকে যেন সামান্যও কম না দেয়। অতঃপর যার উপর পাওনা রয়েছে সে (ঋণ গ্রহীতা) যদি নির্বোধ বা দুর্বল হয়, অথবা সে লেখার বিষয়বস্তু বলতে না পারে, তাহলে যেন তার অভিভাবক ন্যায়ের সাথে লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়। আর তোমরা তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী রাখ। অতঃপর যদি তারা উভয়ে পুরুষ না হয়, তাহলে একজন পুরুষ ও দু’জন নারী- যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ কর। যাতে তাদের (নারীদের) একজন ভুল করলে অপরজন স্মরণ করিয়ে দেয়। সাক্ষীরা যেন অস্বীকার না করে, যখন তাদেরকে ডাকা হয়। আর তা ছোট হোক কিংবা বড় তা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করতে তোমরা বিরক্ত হয়ো না। এটি আল্লাহর নিকট অধিক ইনসাফপূর্ণ এবং সাক্ষ্য দানের জন্য যথাযথ। আর তোমরা সন্দিহান না হওয়ার অধিক নিকটবর্তী। তবে যদি নগদ ব্যবসা হয় যা তোমরা হাতে হাতে লেনদেন কর, তাহলে তা না লিখলে তোমাদের কোন দোষ নেই। আর তোমরা সাক্ষী রাখ, যখন তোমরা বেচা-কেনা করবে এবং কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না। আর যদি তোমরা কর, তাহলে নিশ্চয় তা হবে তোমাদের সাথে অনাচার। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দেবেন। আর আল্লাহ সব বিষয়ে সম্যক জ্ঞানী। -আল-বাকারা ২:২৮২
আর যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও, তাহলে হস্তান্তরিত বন্ধক রাখবে। আর যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বস্ত মনে কর, তবে যাকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে যেন স্বীয় আমানত আদায় করে এবং নিজ রব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না এবং যে কেউ তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী। আর তোমরা যা আমল কর, আল্লাহ সে ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত। -আল-বাকারা ২:২৮৩

হে মুমিনগণ, তোমরা সুদ খাবে না বহুগুণ বৃদ্ধি করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও। -আলে ইমরান ৩:১৩০

আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত। -আর-রুম ৩০:৩৯

রাসুলুল্লাহ ﷺ লানত করেছেন, সুদ গ্রহীতার উপর, সুদদাতার উপর, এর লেখকের উপর ও উহার সাক্ষীদ্বয়ের উপর এবং বলেছেন এরা সকলেই সমান। -মুসলিম ৩৯৪৮

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ সুদের গুনাহর সত্তরটি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তর হলো আপন মাকে বিবাহ (যেনা) করা। -ইবনে মাজাহ ২২৭৪

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জেনে শুনে সুদের কেবলমাত্র একটি রোপ্যমুদ্রা খায়, তার গুনাহ ছত্রিশবার যিনার চেয়ে বেশি হয়। -মিশকাত ২৮২৫

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে দেহ হারাম খাদ্য দিয়ে প্রতিপালিত হয়েছে, সে দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -মিশকাত ২৭৮৭

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, হে লোক সকল! আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করে না।... নাবী ﷺ এক ব্যাক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে, দীর্ঘ সফর করে, যার এলোমেলো চুল ধুলায় ধুসরিত সে আকাশের দিকে দু'হাত তুলে বলে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোষাক-পরিচ্ছদ হারাম এবং তাঁর শরীর গঠিত হয়েছে হারামে। অতএব, তাঁর দু’আ কিভাবে কবুল করা হবে? -মুসলিম ২২১৮

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আজ রাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি যে, দু’ব্যাক্তি আমার নিকট এসে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যাক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানের লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায়, তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খন্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি নদীতে (রক্তের) দেখেছেন, সে হল সুদখোর। -বুখারী ১৯৫৫

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ মিরাজের রাতে আমাকে একদল লোকের নিকট নিয়ে আসা হলো। তাদের পেট ছিল ঘরের মত বিশাল, তার মধ্যে সাপ ভর্তি ছিলো, যা বাইরে থেকে দেখা যায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এরা কারা? তিনি বলেনঃ এরা সুদখোর। -ইবনে মাজাহ ২২৭৩

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, সবশেষে সুদের আয়াত নাযিল হয়। কিন্তু আমাদেরকে বিস্তারিত ব্যাখ্যাদানের আগেই রাসূলুল্লাহ ﷺ ইনতিকাল করেন। অতএব সূদ এবং (সূদের) সন্দেহ সৃষ্টিকারী জিনিস পরিহার করো। -ইবনে মাজাহ ২২৭৬

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবেনা যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল, হালাল থেকে নাকি হারাম থেকে। -বুখারী ১৯৫৩

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ অবশ্যই মানুষ এমন এক যুগের সম্মুখীন হবে যখন তাদের মধ্যে এমন একজনও পাওয়া যাবে না যে সূদখোর নয়। সে সূদ না খেলেও তার ধুলোবালি (মলিনতা) তাকে স্পর্শ করবে। -ইবনে মাজাহ ২২৭৮

আবূ বুরদা (রহঃ) বলেন, আমি মদিনায় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি (মর্যাদাপূর্ণ) ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাক) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার অত্যন্ত ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় নগণ্যবস্তুও হাদীয়া পেশ করে তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। -বুখারী ৩৫৪২

রাসুলুল্লাহ ﷺ খায়বরে আবস্থানকালে তাঁর নিকট গনীমতের একটা হার উপস্থিত করা হয়। উহাতে পূতি ও স্বর্ন লাগানো ছিলো। হারটি বিক্রি হচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ ﷺ হারের সাথে লাগানো স্বর্ণের ব্যাপারে আদেশ দান করেন। অতঃপর তা তুলে আলাদা করা হয়। এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদেরকে বললেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান ওযনে বিক্রি করতে হবে। -মুসলিম ৩৯৩০

'বারনী' জাতীয় খেজুর নিয়ে বিলাল (রাঃ) আগমন করলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কোথেকে এনেছ? বিলাল (রাঃ) বলল, আমাদের নিকট নিম্ন শ্রেনীর খেজুর ছিল আমি তা থেকে দু'সা' এক সা' এর বিনিময়ে বিক্রি করেছি, নাবী ﷺ কে খাওয়ানোর জন্য। রাসুলুল্লাহ ﷺ তখন বললেনঃ হায় আফসোস! এভো প্রত্যক্ষ সুদ, এরূপ করো না, বরং যখন তুমি খেজুর ক্রয় করতে চাও, তখন এটাকে বিক্রি কর, তারপর এর মূল্য দ্বারা খরিদ করো। -মুসলিম ৩৯৩৮

স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, বৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ও লবনের বিনিময়ে লবন সমান সমান ও নগদ নগদ হতে হবে। এরপর কেউ যদি তা প্রদান করে বা গ্রহণ করে তবে তা সুদে পরিণত হবে গ্রহণকারী ও প্রদানকারী এতে সমপর্যায়ভূক্ত হবে। -মুসলিম ৩৯১৯

কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন আবাস (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, তাহাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করিতেছে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে যে ব্যক্তি কতিপয় কাতানের পাগড়ী সলফে ক্রয় করিয়াছে। সে সেইগুলিকে কজা করার পূর্বে বিক্রয় করিতে ইচ্ছা করিল তবে ইহা জায়েব কি? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিলেন-ইহা চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি ক্রয় করার অনুরূপ। তিনি ইহাকে মাকরূহ বলিলেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত। আমাদের মতে ক্রেতা যেই মূল্যে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই মূল্যের অধিক মূল্যে যাহার নিকট হইতে ক্রয় করিয়াছে তাহারই নিকট উহা বিক্রি করিতে ইচ্ছা করিলে তবে এই বিক্রয় মাকরূহ হইবে। আর যদি যে ব্যক্তির নিকট হইতে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করে তবে ইহাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই, যে ব্যক্তি সলফে ক্রয় করিয়াছে দাস অথবা জানোয়ার কিংবা পণ্য দ্রব্য। ইহাদের প্রত্যেকটির সঠিক গুণ বর্ণনা করা হইয়াছে, এইসব বস্তুতে সলফ করা হইয়াছে মেয়াদ পর্যন্ত। অতঃপর (সেই) মেয়াদ উপস্থিত হইল, তবে যেই বস্তুতে সলফ করিয়াছে সেই বস্তু কব্জা করার পূর্বে, যেই মূল্যে সলফ করা হইয়াছে সেই মূল্যের অধিক মূল্যে সেই বস্তু যাহার নিকট হইতে (পূর্বে) ক্রয় করিয়াছিল তাহার নিকট ক্রেতা পুনরায় বিক্রয় করিবে না। কারণ যদি এইরূপ করা হয় তবে ইহা সুদ [যাহা হারাম]। ইহা যেন এইরূপ করা হইল; যেমন ক্রেতা বিক্রেতাকে দিরহাম বা দীনার দিল, বিক্রেতা উহা দ্বারা উপকৃতও হইল। তারপর যখন পণ্য ক্রেতার নিকট সোপর্দ করার সময় উপস্থিত হইয়াছে তখন ক্রেতা সেই পণ্য কব্জা করিল না। বরং সে উহাকে পণ্যের মালিকের নিকট যেই মূল্যে সলফ নির্ধারিত হইয়াছিল সেই মূল্যের অধিক মূল্যে বিক্রয় করিল। ফল এই দাঁড়াইল যে, যে বস্তুকে সলফে ক্রয় করিয়াছিল সেই বস্তু মালিকের নিকট ফেরত দিল এবং নিজের পক্ষ হইতে (আরও কিছু) অতিরিক্ত প্রদান করিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি পশু কিংবা পণ্যের ব্যাপারে যাহার গুণাগুণ বর্ণনা করা হইয়াছে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বর্ণ কিংবা চাঁদির সলম করিয়াছে। অতঃপর মেয়াদ উপস্থিত হইয়াছে, তবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কিংবা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরে ক্রেতার জন্য সেই সামগ্রীকে যেকোন পণ্যের বিনিময়ে বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। কিন্তু সেই পণ্য যেই পরিমাণই হউক না কেন উহা নগদ প্রদান করিবে; মূল্য বা বিনিময়ে প্রদানে বিলম্ব করিবে না। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য হইলে তবে উহাকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করা হালাল হইবে না। আর সেই সামগ্ৰী [পশু কিংবা অন্য কোন পণ্য]-কে যাহার নিকট হইতে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই লোক ব্যতীত অন্য কাহারো নিকট স্বর্ণ বা চাঁদির কিংবা অন্য কোন পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করা ক্রেতার জন্য জায়েয হইবে উহাকে (সেই মুহূর্তে) কব্জা করিবে। উহা কব্জা করিতে বিলম্ব করিবে না। কারণ বিলম্ব করিলে খারাপ হইবে এবং উহাতে মাকরূহ হইবে। ইহা হইবে যেন ধারকে ধারে বিক্রয় করা। ধারকে ধারে বিক্রয় করার অর্থ হইতেছে কোন ব্যক্তি তাহার ঋণ যাহা অন্য ব্যক্তির জিম্মায় রহিয়াছে তাহা বিক্রয় করিতেছে, যেই ঋণ সে অন্য লোকের নিকট প্রাপ্য সেই ঋণের বিনিময়ে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন বস্তুতে সলম করিয়াছে, নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আর সেই বস্তু খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য নহে। তবে ক্রেতা উহাকে যাহার নিকট ইচ্ছা মুদ্রা কিংবা পণ্যের বিনিময়ে উহাকে পূর্ণ কব্জা করার পূর্বে যাহার নিকট হইতে উক্ত বস্তু ক্রয় করিয়াছে সে ব্যতীত অন্য লোকের নিকট বিক্রয় করিতে পারবে। কিন্তু যে ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রয় করিয়াছে সে ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করা জায়েয হইবে না। তবে (জায়েয হইবে) এমন পণ্যের বিনিময়ে (বিক্রয় করা) যাহাকে (নগদ) কব্জা করিবে, উহা কব্জা করিতে বিলম্ব করিবে না, (অর্থাৎ) ধারে বিক্রয় করিবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি সেই (সলমকৃত) দ্রব্য ক্রেতার কব্জায় দেওয়ার সময় উপস্থিত হয় নাই, তবে উহাকে মালিক বিক্রেতা-এর নিকট ভিন্ন জাতের পণ্য যাহার পার্থক্য সুস্পষ্ট এইরূপ পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই, উহাকে সঙ্গে সঙ্গে কব্জা করিবে। ইহাতে বিলম্ব করিবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি দীনার কিংবা দিরহাম দ্বারা চারিটি গুণ ও পরিচয় বর্ণিত বস্ত্রের ব্যাপারে সলম্ করিয়াছে-নির্দিষ্ট মেয়াদে, যখন মেয়াদ-এর (শেষ) সময় উপস্থিত হইল তখন উহার মালিক ক্রেতা উহা তলব করিল, তাহার নিকট সেই বস্ত্র পাওয়া গেল না। বরং (তদস্থলে) পাওয়া গেল সেই জাতীয় বস্ত্র হইতে নিকৃষ্ট রকমের বস্ত্র। বস্ত্র আদায় করা যাহার জিম্মায় সে ক্রেতাকে বলিল, “আপনাকে চার বস্ত্রের পরিবর্তে আমার এই বস্ত্র হইতে আটটি বস্ত্র প্রদান করিব।” ইহাতে কোন দোষ নাই যদি তাহারা উভয়ে পরস্পর পৃথক হওয়ার পূর্বে সেই সব বস্ত্র কব্জা করে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি ইহাতে মেয়াদ প্রবেশ করে (অর্থাৎ নগদ আদান-প্রদান না করিয়া ধারে বিক্রয় হয়)। তবে উহা জায়েয হইবে না। আর যদি মেয়াদ (এর শেষ সময়) আসার পূর্বে এইরূপ (চার বস্ত্রের পরিবর্তে আটটি বস্ত্র গ্রহণ করা) হয়, তবে ইহাও জায়েয হইবে না। কিন্তু যদি যেই বস্ত্রে সলম করা হইয়াছে সেই জাতের বস্ত্র হইতে ভিন্ন জাতের বস্ত্র ক্রেতার নিকট বিক্রয় করা হয় তবে জায়েয হইবে। -মুয়াত্তা মালিক ১৩৫৫
.

ক্রয় বিক্রয়

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন- ‘কোন প্রকারের জীবিকা উত্তম?’ উত্তরে তিনি বললেন— নিজ হাতের কামাই এবং সৎ ব্যবসায়।
-বুলুগুল মারাম ৭৮২
.
নিজ হাতে উপার্জিত জীবিকার খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায়না। আল্লাহর নাবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।
-সহীহ বুখারী ১৯৪২
.
সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নাবী, সিদ্দীক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে।
-সূনান তিরমিজী ১২১২ (যঈফ)
.
বনূ আনমারের মাতা কাইলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন উমরা আদায়কালে মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশে আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একজন ব্যবসায়ী নারী। আমি কোন জিনিস কিনতে চাইলে আমার ইপ্সিত মূল্যের চেয়ে কম দাম বলি। এরপর দাম বাড়িয়ে বলতে বলতে আমার ইপ্সিত মূল্যে গিয়ে পৌঁছি। আবার আমি কোন জিনিস বিক্রয় করতে চাইলে ইপ্সিত মূল্যের চাইতে বেশি মূল্য চাই। এরপর দাম কমাতে কমাতে অবশেষে আমার ইপ্সিত মূল্যে নেমে আসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে কাইলা! এরূপ করো না। তুমি কিছু কিনতে চাইলে তোমার ইপ্সিত মূল্যই বলো, হয় তোমাকে দেয়া হবে নয় দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেনঃ তুমি কোন কিছু বিক্রয় করতে চাইলে তোমার ইপ্সিত দামই চাও, হয় তুমি দিলে অথবা না দিলে।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ২২০৪ (যঈফ)
.
এক সঙ্গে ঋণ ও বিক্রি হালাল নয়। এক বিক্রিতে দুই ধরণের শর্ত করা এবং যিমান’ বা লোকসানের দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত লাভ জাইয নয়। আর তোমার হাতে যা নেই তা বিক্রি করাও বৈধ নয়।
-সূনান তিরমিজী ১২৩৭; ইবনু মাজাহ ২১৮৮
.
তোমরা অগ্রগামী হয়ে কাফেলার সাথে মিলিত হয়ো না। যদি কেউ এরূপ অনুগামী হয়ে সাক্ষাত করে এবং তার থেকে (কোন বস্তু) খরিদ করে তবে মালিক (বিক্রিতা) বাজারে পৌঁছার পর (বিক্রয় বহাল রাখা বা বাতিল করার ব্যাপারে) তার ইখতিয়ার থাকবে।
-সহীহ মুসলিম ৩৬৮১
.
শহরের লোক গ্রামের লোকের পক্ষ হয়ে বিক্রয় করতে পারবে না। লোকেদের একজনের দ্বারা অপরজনের রিযকের যে সুবিধা আল্লাহ সৃষ্টি করে রেখেছেন সে ব্যবস্থা চালু থাকতে দাও।
-সহীহ মুসলিম ৩৬৮৪
.
কোন ভাইয়ের দরদাম করার সময় কেউ যেন দরদাম না করে।
-সহীহ মুসলিম ৩৬৭২
.
খরিদ করার ইচ্ছা ব্যতীত মুল্য বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে দাম বলতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
-সহীহ মুসলিম ৩৬৭৬
.
যে ব্যক্তি ওলান ফুলান বকরী ক্রয় করবে, তিন দিন পর্যন্ত তার জন্য অবকাশ থাকবে। ইচ্ছা করলে রাখতে পারে, আর যদি ফেরত দেয় তবে সে সাথে এক সা' খেজুরও দিবে।
-সহীহ মুসলিম ৩৬৮৯

হাদিয়া দাওয়াত

শরীয়তের দৃষ্টিতে হাদিয়া বলা হয়, কোনো বিনিময় ছাড়া কাউকে কিছুর মালিক বানিয়ে দেওয়া। -বারো মাসের করণীয় বর্জনীয় ২৩৩
.
উসমান রা.-কে একব্যক্তি খতনা অনুষ্ঠানে দাওয়াত করে। তিনি অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা রাসুলের যুগে খতনা অনুষ্ঠানে যেতাম না এবং দাওয়াতও করা হতো না। -মুসনাদু আহমাদ ১৭৯০৮
-বারো মাসের করণীয় বর্জনীয় ১১৬
.
হাদিয়া বলা হয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আন্তরিক প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ যা অন্যকে দেয়া হয়।
যেসব ক্ষেত্রে কিছু দেয়ার জন্য আল্লাহ বা তাঁর রসূলের (সাঃ) তরফ থেকে নির্দেশ বা উৎসাহ রয়েছে এবং সওয়াবের নিয়তে দেওয়া হয়, সেগুলোকে সদকা বলা হয়। ফরয যাকাতও সদকার অন্তর্ভুক্ত।
-দান-সদকা ৮৩:২০৮
.
মৃতব্যক্তির রুহের মাগফেরাতের নিয়তে কোন খানার ব্যবস্থা করা হলে সেটা একান্তভাবেই গরীবের হক হয়ে যায়। যারা সদকা-ফেতরা খাওয়ার যোগ্য তাঁরাই কেবলমাত্র সেই খানা খেতে পারেন। ধনীদের পক্ষে এ খানা খাওয়া জায়েয হবে না।
যদি এই খানা মৃতব্যক্তির রুহের মাগফেরাত নিয়তে না হয়ে নিতান্তই দেশাচার পালনের নিয়তে হয় তবে অবশ্য অন্য কথা।
কিন্তু তার মধ্যে প্রশ্ন থেকে যায় যে, মৃত ব্যক্তিকে উসিলা করে এরূপ একটি খানা কেন তৈরী করা হলো? কারো মৃত্যুর ঘটনাটা কি আনন্দের – যে এজন্য আত্মীয়-স্বজন, পাড়া পড়শী নিয়ে ভোজ উৎসব করতে হবে?
মৃত ব্যক্তির জন্য ইসালে সওয়াব এবং রুহের মাগফেরাত কামনার সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে মিসকীনকে খানা খাওয়ানো, এতীম-অসহায়দের পুনর্বাসনে অর্থদান এবং দ্বীনি এলেমের প্রচার-প্রসারে সহায়তা করা।
-দান-সদকা ৮৬:২২০

মুহিউদ্দীন খান; রোযা, যাকাত ও অন্যান্য প্রসঙ্গ; মদীনা পাবলিকেশান্স
mashikmadina.files.wordpress.com/2014/10/5-daan-sadka.pdf

যাকাত ও উশর

যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী। -আল বাকারা ২:৮৩

তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন। -আল বাকারা ২:১১০

সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার। -আল বাকারা ২:১৭৭

হে ঈমানদারগণ!তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান খয়রাত বরবাদ করো না সে ব্যক্তির মত যে নিজের ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। অতএব, এ ব্যাক্তির দৃষ্টান্ত একটি মসৃণ পাথরের মত যার উপর কিছু মাটি পড়েছিল। অতঃপর এর উপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলো, অনন্তর তাকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিল। তারা ঐ বস্তুর কোন সওয়াব পায় না, যা তারা উপার্জন করেছে। আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। -আল বাকারা ২:২৬৪

হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্যে ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না। কেননা, তা তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত। -আল বাকারা ২:২৬৭

তাদেরকে সৎপথে আনার দায় তোমার নয়। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। যে মাল তোমরা ব্যয় কর, তা নিজ উপাকারার্থেই কর। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করো না। তোমরা যে, অর্থ ব্যয় করবে, তার পুরস্কার পুরোপুরি পেয়ে যাবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। -আল বাকারা ২:২৭২

আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। -আল ইমরান ৩:১৮০

কিন্তু যারা তাদের মধ্যে জ্ঞানপক্ক ও ঈমানদার, তারা তাও মান্য করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে। আর যারা নামাযে অনুবর্তিতা পালনকারী, যারা যাকাত দানকারী এবং যারা আল্লাহ ও কেয়ামতে আস্থাশীল। বস্তুতঃ এমন লোকদেরকে আমি দান করবো মহাপুণ্য। -আন নিসা ৪:১৬২

তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রসূল এবং মুমিনবৃন্দ-যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং বিনম্র। -আল মায়িদাহ ৫:৫৫

তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে-তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন-একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। -আল আনআম ৬:১৪১

অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি। -আত তাওবাহ্ ৯:১১

নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। -আত তাওবাহ্ ৯:১৮

হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। -আত তাওবাহ্ ৯:৩৪

সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার। -আত তাওবাহ্ ৯:৩৫

যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -আত তাওবাহ্ ৯:৬০

তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে। আর তুমি তাদের জন্য দোয়া কর, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনা স্বরূপ। বস্তুতঃ আল্লাহ সবকিছুই শোনেন, জানেন। -আত তাওবাহ্ ৯:১০৩

এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে।-আল মুমিনূন ২৩:৬০

আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। -আল মুনাফিকূন ৬৩:১০

নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও। -আন নূর ২৪:৫৬

যারা নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং পরকালে নিশ্চিত বিশ্বাস করে। -আন নম্‌ল ২৭:৩

যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আখেরাত সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। -লোকমান ৩১:৪

তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ দান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভূক্ত। -আল হাজ্জ্ব ২২:৪১

এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের -আল মাআরিজ ৭০:২৪-২৫

তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম। -আল বাইয়্যিনাহ ৯৮:৫

একদা এক মহিলা তার কন্যাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আসলো। তার কন্যার হাতে দু‘টি মোটা স্বর্ণের কঙ্কন ছিলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দু’টি কঙ্কন পরিয়ে দিবেন? বর্ণনাকারী বলেন, সে তৎক্ষণাত তা খুলে নাবী ﷺ সামনে রেখে দিয়ে বললো, এ দু‘টি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্য। -আবূ দাউদ ১৫৬৩

আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ইবনুল হাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী ﷺ এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার কাছে এসে আমার হাতে রূপার বড় আংটি দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! এটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উদ্দেশে সাজসজ্জার জন্য আমি এটা বানিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত দাও? আমি বললাম, না, অথবা আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন। তিনি বললেন, তোমাকে (জাহান্নামের) আগুনে নিয়ে যেতে এটাই যথেষ্ট। -আবূ দাউদ ১৫৬৫
.
বালিগ ব্যক্তির ব্যবহারের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (৫২.৫ ভরি =595g =৬১২.৩৬ গ্রাম রূপা বা ৭.৫ ভরি =85g =৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণের সমমূল্য) সম্পদ পূর্ণ এক বছর থাকলে; সে সম্পদের ৪০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত দেওয়া ফরজ। সোনা-রূপা, নগদ অর্থ, ব্যবসা পণ্য, পশু সম্পদ, কৃষি পণ্য ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয হয়।
কৃষি সম্পদের যাকাতে এক বছর অতিবাহিত হওয়ার শর্ত নেই; বরং তা অর্জিত হলেই এ যাকাত দিতে হয়। কৃত্রিম উপায়ে সেচ দিতে হয় এমন জমিতে উৎপাদিত ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ; কৃত্রিম উপরে সেচ দিতে হয় না এমন জমিতে উৎপাদিত ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত দিতে হবে। -দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম ৩২০

সাওম / সিয়াম / রোযা

রাসুলুল্লাহ ﷺ কে সারা বছর সাওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, সে সাওম পালন করেনি এবং সাওমহীনও থাকেনি। অতঃপর একাধারে দুই দিন সাওম পালন করা ও এক দিন সাওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন এভাবে সাওম পালনের সামর্থ্য কার আছে?
অতঃপর একদিন সাওম পালন ও দু দিন সাওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সাওম পালনের সামর্থ্য দান করেন।
অতঃপর একদিন সাওম পালন করা ও একদিন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, তা আমার ভাই দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর সাওম।
অতঃপর সোমবারের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনই আমি নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছি বা আমার উপর (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে।
আরও বললেন, প্রতি মাসে তিন দিন এবং গোটা রমযান মাস সাওম পালন করাই হল সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য।
অতঃপর আরাফাত দিবসের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।
অতঃপর আশূরার সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তাতে বিগত বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।
-মুসলিম ২৬১৮
.
যে ব্যাক্তি রমযান মাসের সিয়াম পালন করল, তারপর শাওয়াল মাসে ছয় দিনকে তার অনুগামী করল (৬টি রোযা পালন করল), সে যেন সারা বছর রোযা রাখল। -মুসলিম ২৬২৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ যিলহজ মাসের নয় তারিখ পর্যন্ত, আশুরার দিন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন, মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন। -আবূ দাউদ ২৪৩৭

রাসূলুল্লাহ ﷺ আইয়ামে বীয অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলো সারা বছর সওম রাখার সমতুল্য। -আবূ দাউদ ২৪৪৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল পেশ করা হয়। সুতরাং আমি ভালবাসি সায়িম অবস্থায় আমার আমলসমূহ পেশ করা হয়। -তিরমিজী ৭৪৫

আয়িশা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সাওম সম্পর্কে বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ একাধারে সাওম পালন করে যেতেন এমনকি আমরা বলতাম তিনি সাওম পালন করেছেন (আর কখনও ভংগ করবেন না)। আবার কখনও তিনি সাওম ছেড়ে দিতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি সাওম ছেড়ে দিয়েছেন (আর কখনো সাওম পালন করবেন না)।
আমি তাঁকে শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে এত অধিক (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি। তিনি যেন গোটা শাবান মাসই সাওম পালন করতেন। তিনি সামান্য (কয়টি দিন) ব্যতীত গোটা শাবান মাস সাওম পালন করতেন। -মুসলিম ২৫৯৩

রাসুলুল্লাহ ﷺ (হিজরত করে) মদিনায় এলেন এবং তিনি ইয়াহুদীদেরকে আশূরার দিন সিয়াম পালন করতে দেখতে পেলেন। এরপর তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তারা বলল, এ সে দিন, যে দিন আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম) ও বনী ইসরাঈলকে ফির'আউনের উপর বিজয়ী করেছেন। তাই এর সম্মানার্থে আমরা সাওম পালন করে থাকি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা তোমাদের চেয়েও মূসা (আলাইহিস সালাম) এর অধিক নিকটবর্তী। অতঃপর তিনি এ দিনে সাওম পালন করার নির্দেশ দিলেন। -মুসলিম ২৫২৭

রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন আশূরার দিন সিয়াম পালন করেন এবং লোকদেরকে সিয়াম পাননের নির্দেশ দেন তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইয়াহূদী এবং নাসারা এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব। বর্ণনাকারী বলেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ ﷺ এর ইনতেকাল হয়ে যায়। -মুসলিম ২৫৩৭
.
(اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ)
{আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযক্বিক্বা আফতারতু}
হে আল্লাহ্! আমি তোমারই জন্য রোযা রেখেছি এবং তোমরাই রিযক দ্বারা ইফতার করছি।
https://sunnah.com/abudawud:2358
.
(ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ)
{যাহাবায-যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল ‘উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লা-হু}
তৃষ্ণা নিবারিত হয়েছে, শিরা-উপশিরা পরিতৃপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ্ চাহেতু বিনিময় নির্ধারিত হয়েছে।
https://sunnah.com/abudawud:2357
.
রমযান মাসে রোযা + শাওয়াল মাসে ছয় রোযা = সারা বছর রোযার সমতুল্য।

আরাফাত দিবসের রোযা = পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের (সগীরা) গুনাহের কাফফারা।

মহররমের ৯+১০ (আশূরা) তারিখ রোযা = বিগত বছরের (সগীরা) গুনাহের কাফফারা।

যিলহজ মাসের ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রোযা। (বছরের শ্রেষ্ঠ দিন)

আইয়ামে বীযের রোযা (প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) = সারা বছর রোযার সমতুল্য।

প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা (এই বার গুলোতে আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয়)।

প্রায় সমস্ত শাবান মাস রোযা (শেষের সামান্য কয়টি দিন ব্যতীত)।

একদিন রোযা পালন করা ও একদিন না করা = দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা ছিলো।

রমাদান

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (রোযা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে এবং আর যারা ওতে অক্ষম তাদের উপর কর্তব্য হচ্ছে ফিদইয়া প্রদান করা, এটা একজন মিসকীনকে অন্নদান করা এবং অতএব যে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎকাজ করবে, তার পক্ষে তা আরও উত্তম আর সে অবস্থায় রোযা পালন করাই তোমাদের পক্ষে উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। রামাযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য পথ প্রদর্শন এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর। -আল বাকারা ২: ১৮৩-১৮৫
.
রামাযানের রাতে আপন স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করা তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, তারা তোমাদের জন্য এবং তোমরা তাদের জন্য আবরণ, তোমরা যে নিজেদের ক্ষতি করছিলে আল্লাহ তা জ্ঞাত আছেন, এ জন্য তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের (ভার) লাঘব করে দিলেন; অতএব এক্ষণে তোমরা (রামাযানের রাতেও) তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা অনুসন্ধান কর এবং প্রত্যুষে কালো সূতা হতে সাদা সূতা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা আহার ও পান কর, অতঃপর রাত সমাগম পর্যন্ত তোমরা সিয়াম পূর্ণ কর; তোমরা মাসজিদে ই‘তিকাফ করার সময় (তোমাদের স্ত্রীদের সাথে) মিলিত হবেনা; এটিই আল্লাহর সীমা। অতএব তোমরা উহার নিকটেও যাবেনা; এভাবে আল্লাহ মানবমন্ডলীর জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ বিবৃত করেন, যেন তারা সংযত হয়। -আল বাকারা ২:১৮৭
.
নাবী  ফরয ব্যতীত রমযানের তারাবীহর সালাত আদায় করার জন্যও উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন যে, যখন রমযান আগমন করে জান্নাতের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। -নাসাঈ ২১০৮
.
যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমাযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। -বুখারী ৩৮
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যার কাছে আমার উল্লেখ করা হল অথচ আমার উপর দরুদ পাঠ করল না। ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যার জীবনে রমযান মাস এল কিন্তু তাকে ক্ষমাপ্রাপ্ত না করেই তা অতিবাহিত হয়ে গেল। ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যে তার পিতামাতাকে (বা তাদের একজনকে) বৃদ্ধাবস্থায় পেল কিন্তু তাদের খেদমত করার মাধ্যমে সে জান্নাতী হতে পারলনা। আবদুর রহমান বলেনঃ আমি মনে করি তিনি বলেছেন তাদের (পিতামাতার) একজনকে পেল। -তিরমিজী ৩৫৪৫

আযান, ইকামাত, দোআ

আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ শিংগা ধ্বনি করে লোকদের নামাযের জন্য একত্র করার নির্দেশ প্রদান করেন তখন একদা আমি স্বপ্নে দেখি যে, এক ব্যক্তি শিংগা হাতে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে বলি, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি শিংগা বিক্রয় বরবে? সে বলে, তুমি শিংগা দিয়ে কি করবে? আমি বলি, আমি তার সাহায্যে নামাযের জামাআতে লোকদের ডাকব। সে বলল, আমি কি এর উত্তম কোন সন্ধান তোমাকে দেব না? আমি বলি, হাঁ। রাবী বলেন, তখন সে বলল, তুমি এইরূপ শব্দ উচ্চারণ করবেঃ “আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ; হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ।” (অনুবাদ: আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।) রাবী রলেন! অতঃপর ঐ স্হান হতে ঐ ব্যক্তি একটু দুরে সরে গিয়ে দাঁড়ায় এবং বলে- তুমি যখন নামায পড়তে দাঁড়াবে তখন বলবেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদুআল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; কাদ কামাতিস্ সালাহ্; কাদ কামাতিস্-সালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”। (অনুবাদ: আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; সলাতে দাঁড়ানোর সময় নিকটবর্তী হয়েছে; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।) অতঃপর ভোর বেলা আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর খিদমতে হাযির হয়ে তাঁর নিকট আমার স্বপ্নের বর্ণনা করি। নাবী ﷺ বলেন এটা অবশ্যই সত্য স্বপ্ন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি বিলালকে ডেকে তোমার সাথে নাও এবং তুমি যেরূপ স্বপ্ন দেখেছ- তদ্রুপ তাকে শিক্ষা দাও যাতে সে (বিলাল) ঐরূপে-আযান দিতে পারে। কেননা তাঁর কন্ঠস্বর তোমার স্বরের চাইতে অধিক উচ্চ। অতঃপর আমি বিলাল (রাঃ) -কে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়াই এবং তাকে আযানের শব্দগুলি শিক্ষা দিতে থাকি এবং তিনি উচ্চারণ পূর্বক আযান দিতে থাকেন। বিলালের এই আযান ধ্বনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) নিজ আবাসে বসে শুনতে পান। তা শুনে উমার (রাঃ) এত দ্রুত পদে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর খিদ্মতে আগমন করেন যে, তাঁর গায়ের চাঁদর মাটিতে হেচঁড়িয়ে যাচ্ছিলো। তিনি নাবী ﷺ-এর নিকটে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য নাবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন, আমিও ঐরূপ স্বপ্ন দেখেছি যেরূপ অন্যরা দেখেছে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য- (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী, মুসলিম)। -সূনান আবু দাউদ ৪৯৯ . মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মালিক ইবনু আবূ মাহ্যুরা থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে ব্ণিত। রাবী বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কে বলি, আমাকে আযানের নিয়ম-পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দিন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি আমার মাথার সম্মুখভাগে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেনঃ তুমি বলবে- আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, তা উচ্চ স্বরে বলবে। অতঃপর আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ - বলার সময় গলার স্বর নীচু করবে।অতঃপর উচ্চ কন্ঠে বলবেঃ আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, অতঃপর বলবেঃ হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্; হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ । অতঃপর ফজরের নামাযের আযানের সময় বলবেঃ আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম, আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম অতঃপর বলবেঃ আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ। (অনুবাদ: আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; সলাত ঘুম থেকে উত্তম; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।) -সূনান আবু দাউদ ৫০০ . রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, মু'আযযিন যখন "আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে তখন তোমাদের কেউ যদি "আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে। তারপর মু-আযযিন যখন "আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলে, তখন সেও "আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলে। অতঃপর মু’আযযিন যখন "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" বলে, তখন সেও "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" বলে। পরে মু’আযযিন যখন "হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্; হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ" বলে, তখন সে লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ বলে। এরপর মু’আযযিন যখন "আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে, তখন সেও "আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলল। তারপর মু’আযযিন যখন "লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলে, তখন সেও "লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলল-এসবই যদি সে বিশুদ্ধ অন্তরে বলে থাকে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (অনুবাদ: আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।) -সহীহ মুসলিম ৭৩৬ . আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুল কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মু'আযযীনকে আযান দিতে শুনবে, তখন সে যা বলে তাই বলবে। তারপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ করবে। কারণ যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে। ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোন এক বান্দাকে দেয়া হবে। আমি আশা করি যে, আমিই হব সেই বান্দা। যে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে, তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে। -সহীহ মুসলিম ৭৩৫ . রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আযান শুনে দু’আ করেঃ ‘হে আল্লাহ-এ পরিপূর্ণ আহবান ও সালাতের প্রতিষ্ঠিত মালিক, মুহাম্মাদ ﷺ কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকেমে মাহমূদে পৌছিয়ে দিন যার অঙ্গিকার আপনি করেছেন’- কিয়ামতের দিন সে আমার শাফা’আত লাভের অধিকারী হবে।
(للَّهُمَّ رَبَّ، هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ الْمَقَامَ الْمَحْمُودَ الَّذِي وَعَدْتَهُ، إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ،)
{উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা রাব্বা, হা-যিহিদ্ দা‘অ্ওয়াতিত তা-ম্মাতি, ওয়াস স্বালা-তিল ক্বা-য়িমাতি, আ-তি মু‘হাম্মাদান আল-ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা, ওয়াব‘আসহু মাকা-মাম মা‘হমূদানিল্লাযী্ ও‘য়াদতাহু। ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ।}
-সহীহ বুখারী ৫৮৭ . রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যাক্তি মু-আযযিনের আযান শুনে নিম্নের দুঁআটি পাঠ করে তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়ঃ (উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়ারসূলুহূ, রযীতু বিল্লা-হি রববাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলান ওয়াবিল ইসলা-মি দীনা।) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি সন্তুষ্ট আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ কে রাসুল হিসেবে পেয়ে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে। -সহীহ মুসলিম ৭৩৭ . যে মুসলমান সুন্দর রুপে উযূ করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি তার প্রতি নিবদ্ধ রেখে দুই রাকআত সালাত আদায় করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তোমাদের যে ব্যাক্তি কামিল বা পূর্ণরূপে উযূ করে এই দু’আ পাঠ করবে, (আশ্হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহূ) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল” তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতের প্রবেশ করতে পারবে। -সহীহ মুসলিম ৪৪৬ . যে ব্যাক্তি উযূ করে পাঠ করবেঃ (আশ্হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহূ) “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসুল”। -সহীহ মুসলিম ৪৪৭

দোয়া

হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দান করুন ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে আমাদেরকে রক্ষা করুন। -আল-বাকারাহ ২:২০১
.
হে আমার রাব্ব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে লালন পালন করেছিলেন। -বনী ইসরাঈল ১৭:২৪
.
আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’। -আল-ফুরকান ২৫:৭৪
.
হে আমার রাব্ব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজকে সহজ করে দিন,  আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আমার জন্য করে দিন একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হতে। -ত্ব-হা ২০:২৫-২৯
.
যাদের উপর কোন বিপদ নিপতিত হলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। -আল-বাকারাহ ২:১৫৬
.
তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছি, যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর আর দয়া না কর তাহলে আমরা অবশ্য অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’ -আল-আ'রাফ ৭:২৩
.
যুন্-নুন ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে দু'আ করেছিলেনঃ (لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظّالِمِينَ) {লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায-যা-লিমীন}[আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র-মহান, নিশ্চয় আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত।] -আল-আম্বিয়া ২১:৮৭
কোন মুসলিম যখনই এই দু'আ করে, আল্লাহ্ অবশ্যই তার দু'আ কবুল করে থাকেন। -তিরমিজী ৩৫০৫
.
যে ব্যক্তি- (أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ) {আস্তাগ্ফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আল্-হায়্য়ুল্ কায়ূওম, ওয়া-আতূবু ইলায়হে} [আমি মহামহিম আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি চিরস্থায়ী, সর্বসত্তার ধারক। আর আমি তাঁরই নিকট তওবা করছি।]
পাঠ করবে, যদিও সে ব্যক্তি যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে আসে, তবুও তার গোনাহ মার্জিত হবে। -আবু দাউদ ১৫১৭
.
তোমরা তোমাদের রব্বের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল।
(তোমরা তা করলে) তিনি অজস্র ধারায় তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন। -নূহ ৭১:১০-১২