হাদিয়া দাওয়াত

শরীয়তের দৃষ্টিতে হাদিয়া বলা হয়, কোনো বিনিময় ছাড়া কাউকে কিছুর মালিক বানিয়ে দেওয়া। -বারো মাসের করণীয় বর্জনীয় ২৩৩
.
উসমান রা.-কে একব্যক্তি খতনা অনুষ্ঠানে দাওয়াত করে। তিনি অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা রাসুলের যুগে খতনা অনুষ্ঠানে যেতাম না এবং দাওয়াতও করা হতো না। -মুসনাদু আহমাদ ১৭৯০৮
-বারো মাসের করণীয় বর্জনীয় ১১৬
.
হাদিয়া বলা হয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আন্তরিক প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ যা অন্যকে দেয়া হয়।
যেসব ক্ষেত্রে কিছু দেয়ার জন্য আল্লাহ বা তাঁর রসূলের (সাঃ) তরফ থেকে নির্দেশ বা উৎসাহ রয়েছে এবং সওয়াবের নিয়তে দেওয়া হয়, সেগুলোকে সদকা বলা হয়। ফরয যাকাতও সদকার অন্তর্ভুক্ত।
-দান-সদকা ৮৩:২০৮
.
মৃতব্যক্তির রুহের মাগফেরাতের নিয়তে কোন খানার ব্যবস্থা করা হলে সেটা একান্তভাবেই গরীবের হক হয়ে যায়। যারা সদকা-ফেতরা খাওয়ার যোগ্য তাঁরাই কেবলমাত্র সেই খানা খেতে পারেন। ধনীদের পক্ষে এ খানা খাওয়া জায়েয হবে না।
যদি এই খানা মৃতব্যক্তির রুহের মাগফেরাত নিয়তে না হয়ে নিতান্তই দেশাচার পালনের নিয়তে হয় তবে অবশ্য অন্য কথা।
কিন্তু তার মধ্যে প্রশ্ন থেকে যায় যে, মৃত ব্যক্তিকে উসিলা করে এরূপ একটি খানা কেন তৈরী করা হলো? কারো মৃত্যুর ঘটনাটা কি আনন্দের – যে এজন্য আত্মীয়-স্বজন, পাড়া পড়শী নিয়ে ভোজ উৎসব করতে হবে?
মৃত ব্যক্তির জন্য ইসালে সওয়াব এবং রুহের মাগফেরাত কামনার সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে মিসকীনকে খানা খাওয়ানো, এতীম-অসহায়দের পুনর্বাসনে অর্থদান এবং দ্বীনি এলেমের প্রচার-প্রসারে সহায়তা করা।
-দান-সদকা ৮৬:২২০

মুহিউদ্দীন খান; রোযা, যাকাত ও অন্যান্য প্রসঙ্গ; মদীনা পাবলিকেশান্স
mashikmadina.files.wordpress.com/2014/10/5-daan-sadka.pdf

যাকাত ও উশর

যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী। -আল বাকারা ২:৮৩

তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন। -আল বাকারা ২:১১০

সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার। -আল বাকারা ২:১৭৭

হে ঈমানদারগণ!তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান খয়রাত বরবাদ করো না সে ব্যক্তির মত যে নিজের ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। অতএব, এ ব্যাক্তির দৃষ্টান্ত একটি মসৃণ পাথরের মত যার উপর কিছু মাটি পড়েছিল। অতঃপর এর উপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলো, অনন্তর তাকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিল। তারা ঐ বস্তুর কোন সওয়াব পায় না, যা তারা উপার্জন করেছে। আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। -আল বাকারা ২:২৬৪

হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্যে ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না। কেননা, তা তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত। -আল বাকারা ২:২৬৭

তাদেরকে সৎপথে আনার দায় তোমার নয়। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। যে মাল তোমরা ব্যয় কর, তা নিজ উপাকারার্থেই কর। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করো না। তোমরা যে, অর্থ ব্যয় করবে, তার পুরস্কার পুরোপুরি পেয়ে যাবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। -আল বাকারা ২:২৭২

আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। -আল ইমরান ৩:১৮০

কিন্তু যারা তাদের মধ্যে জ্ঞানপক্ক ও ঈমানদার, তারা তাও মান্য করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে। আর যারা নামাযে অনুবর্তিতা পালনকারী, যারা যাকাত দানকারী এবং যারা আল্লাহ ও কেয়ামতে আস্থাশীল। বস্তুতঃ এমন লোকদেরকে আমি দান করবো মহাপুণ্য। -আন নিসা ৪:১৬২

তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রসূল এবং মুমিনবৃন্দ-যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং বিনম্র। -আল মায়িদাহ ৫:৫৫

তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে-তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন-একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। -আল আনআম ৬:১৪১

অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি। -আত তাওবাহ্ ৯:১১

নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। -আত তাওবাহ্ ৯:১৮

হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। -আত তাওবাহ্ ৯:৩৪

সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার। -আত তাওবাহ্ ৯:৩৫

যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -আত তাওবাহ্ ৯:৬০

তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে। আর তুমি তাদের জন্য দোয়া কর, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনা স্বরূপ। বস্তুতঃ আল্লাহ সবকিছুই শোনেন, জানেন। -আত তাওবাহ্ ৯:১০৩

এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে।-আল মুমিনূন ২৩:৬০

আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। -আল মুনাফিকূন ৬৩:১০

নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও। -আন নূর ২৪:৫৬

যারা নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং পরকালে নিশ্চিত বিশ্বাস করে। -আন নম্‌ল ২৭:৩

যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আখেরাত সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। -লোকমান ৩১:৪

তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ দান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভূক্ত। -আল হাজ্জ্ব ২২:৪১

এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের -আল মাআরিজ ৭০:২৪-২৫

তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম। -আল বাইয়্যিনাহ ৯৮:৫

একদা এক মহিলা তার কন্যাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আসলো। তার কন্যার হাতে দু‘টি মোটা স্বর্ণের কঙ্কন ছিলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দু’টি কঙ্কন পরিয়ে দিবেন? বর্ণনাকারী বলেন, সে তৎক্ষণাত তা খুলে নাবী ﷺ সামনে রেখে দিয়ে বললো, এ দু‘টি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্য। -আবূ দাউদ ১৫৬৩

আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ইবনুল হাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী ﷺ এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার কাছে এসে আমার হাতে রূপার বড় আংটি দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! এটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উদ্দেশে সাজসজ্জার জন্য আমি এটা বানিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত দাও? আমি বললাম, না, অথবা আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন। তিনি বললেন, তোমাকে (জাহান্নামের) আগুনে নিয়ে যেতে এটাই যথেষ্ট। -আবূ দাউদ ১৫৬৫
.
বালিগ ব্যক্তির ব্যবহারের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (৫২.৫ ভরি =595g =৬১২.৩৬ গ্রাম রূপা বা ৭.৫ ভরি =85g =৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণের সমমূল্য) সম্পদ পূর্ণ এক বছর থাকলে; সে সম্পদের ৪০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত দেওয়া ফরজ। সোনা-রূপা, নগদ অর্থ, ব্যবসা পণ্য, পশু সম্পদ, কৃষি পণ্য ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয হয়।
কৃষি সম্পদের যাকাতে এক বছর অতিবাহিত হওয়ার শর্ত নেই; বরং তা অর্জিত হলেই এ যাকাত দিতে হয়। কৃত্রিম উপায়ে সেচ দিতে হয় এমন জমিতে উৎপাদিত ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ; কৃত্রিম উপরে সেচ দিতে হয় না এমন জমিতে উৎপাদিত ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত দিতে হবে। -দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম ৩২০

সাওম / সিয়াম / রোযা

রাসুলুল্লাহ ﷺ কে সারা বছর সাওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, সে সাওম পালন করেনি এবং সাওমহীনও থাকেনি। অতঃপর একাধারে দুই দিন সাওম পালন করা ও এক দিন সাওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন এভাবে সাওম পালনের সামর্থ্য কার আছে?
অতঃপর একদিন সাওম পালন ও দু দিন সাওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সাওম পালনের সামর্থ্য দান করেন।
অতঃপর একদিন সাওম পালন করা ও একদিন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, তা আমার ভাই দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর সাওম।
অতঃপর সোমবারের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনই আমি নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছি বা আমার উপর (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে।
আরও বললেন, প্রতি মাসে তিন দিন এবং গোটা রমযান মাস সাওম পালন করাই হল সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য।
অতঃপর আরাফাত দিবসের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।
অতঃপর আশূরার সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তাতে বিগত বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।
-মুসলিম ২৬১৮
.
যে ব্যাক্তি রমযান মাসের সিয়াম পালন করল, তারপর শাওয়াল মাসে ছয় দিনকে তার অনুগামী করল (৬টি রোযা পালন করল), সে যেন সারা বছর রোযা রাখল। -মুসলিম ২৬২৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ যিলহজ মাসের নয় তারিখ পর্যন্ত, আশুরার দিন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন, মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন। -আবূ দাউদ ২৪৩৭

রাসূলুল্লাহ ﷺ আইয়ামে বীয অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলো সারা বছর সওম রাখার সমতুল্য। -আবূ দাউদ ২৪৪৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল পেশ করা হয়। সুতরাং আমি ভালবাসি সায়িম অবস্থায় আমার আমলসমূহ পেশ করা হয়। -তিরমিজী ৭৪৫

আয়িশা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সাওম সম্পর্কে বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ একাধারে সাওম পালন করে যেতেন এমনকি আমরা বলতাম তিনি সাওম পালন করেছেন (আর কখনও ভংগ করবেন না)। আবার কখনও তিনি সাওম ছেড়ে দিতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি সাওম ছেড়ে দিয়েছেন (আর কখনো সাওম পালন করবেন না)।
আমি তাঁকে শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে এত অধিক (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি। তিনি যেন গোটা শাবান মাসই সাওম পালন করতেন। তিনি সামান্য (কয়টি দিন) ব্যতীত গোটা শাবান মাস সাওম পালন করতেন। -মুসলিম ২৫৯৩

রাসুলুল্লাহ ﷺ (হিজরত করে) মদিনায় এলেন এবং তিনি ইয়াহুদীদেরকে আশূরার দিন সিয়াম পালন করতে দেখতে পেলেন। এরপর তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তারা বলল, এ সে দিন, যে দিন আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম) ও বনী ইসরাঈলকে ফির'আউনের উপর বিজয়ী করেছেন। তাই এর সম্মানার্থে আমরা সাওম পালন করে থাকি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা তোমাদের চেয়েও মূসা (আলাইহিস সালাম) এর অধিক নিকটবর্তী। অতঃপর তিনি এ দিনে সাওম পালন করার নির্দেশ দিলেন। -মুসলিম ২৫২৭

রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন আশূরার দিন সিয়াম পালন করেন এবং লোকদেরকে সিয়াম পাননের নির্দেশ দেন তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইয়াহূদী এবং নাসারা এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব। বর্ণনাকারী বলেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ ﷺ এর ইনতেকাল হয়ে যায়। -মুসলিম ২৫৩৭
.
(اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ)
{আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযক্বিক্বা আফতারতু}
হে আল্লাহ্! আমি তোমারই জন্য রোযা রেখেছি এবং তোমরাই রিযক দ্বারা ইফতার করছি।
https://sunnah.com/abudawud:2358
.
(ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ)
{যাহাবায-যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল ‘উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লা-হু}
তৃষ্ণা নিবারিত হয়েছে, শিরা-উপশিরা পরিতৃপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ্ চাহেতু বিনিময় নির্ধারিত হয়েছে।
https://sunnah.com/abudawud:2357
.
রমযান মাসে রোযা + শাওয়াল মাসে ছয় রোযা = সারা বছর রোযার সমতুল্য।

আরাফাত দিবসের রোযা = পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের (সগীরা) গুনাহের কাফফারা।

মহররমের ৯+১০ (আশূরা) তারিখ রোযা = বিগত বছরের (সগীরা) গুনাহের কাফফারা।

যিলহজ মাসের ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রোযা। (বছরের শ্রেষ্ঠ দিন)

আইয়ামে বীযের রোযা (প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) = সারা বছর রোযার সমতুল্য।

প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা (এই বার গুলোতে আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয়)।

প্রায় সমস্ত শাবান মাস রোযা (শেষের সামান্য কয়টি দিন ব্যতীত)।

একদিন রোযা পালন করা ও একদিন না করা = দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা ছিলো।

রমাদান

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (রোযা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে এবং আর যারা ওতে অক্ষম তাদের উপর কর্তব্য হচ্ছে ফিদইয়া প্রদান করা, এটা একজন মিসকীনকে অন্নদান করা এবং অতএব যে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎকাজ করবে, তার পক্ষে তা আরও উত্তম আর সে অবস্থায় রোযা পালন করাই তোমাদের পক্ষে উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। রামাযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য পথ প্রদর্শন এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর। -আল বাকারা ২: ১৮৩-১৮৫
.
রামাযানের রাতে আপন স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করা তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, তারা তোমাদের জন্য এবং তোমরা তাদের জন্য আবরণ, তোমরা যে নিজেদের ক্ষতি করছিলে আল্লাহ তা জ্ঞাত আছেন, এ জন্য তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের (ভার) লাঘব করে দিলেন; অতএব এক্ষণে তোমরা (রামাযানের রাতেও) তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা অনুসন্ধান কর এবং প্রত্যুষে কালো সূতা হতে সাদা সূতা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা আহার ও পান কর, অতঃপর রাত সমাগম পর্যন্ত তোমরা সিয়াম পূর্ণ কর; তোমরা মাসজিদে ই‘তিকাফ করার সময় (তোমাদের স্ত্রীদের সাথে) মিলিত হবেনা; এটিই আল্লাহর সীমা। অতএব তোমরা উহার নিকটেও যাবেনা; এভাবে আল্লাহ মানবমন্ডলীর জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ বিবৃত করেন, যেন তারা সংযত হয়। -আল বাকারা ২:১৮৭
.
নাবী  ফরয ব্যতীত রমযানের তারাবীহর সালাত আদায় করার জন্যও উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন যে, যখন রমযান আগমন করে জান্নাতের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। -নাসাঈ ২১০৮
.
যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমাযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। -বুখারী ৩৮
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যার কাছে আমার উল্লেখ করা হল অথচ আমার উপর দরুদ পাঠ করল না। ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যার জীবনে রমযান মাস এল কিন্তু তাকে ক্ষমাপ্রাপ্ত না করেই তা অতিবাহিত হয়ে গেল। ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যে তার পিতামাতাকে (বা তাদের একজনকে) বৃদ্ধাবস্থায় পেল কিন্তু তাদের খেদমত করার মাধ্যমে সে জান্নাতী হতে পারলনা। আবদুর রহমান বলেনঃ আমি মনে করি তিনি বলেছেন তাদের (পিতামাতার) একজনকে পেল। -তিরমিজী ৩৫৪৫

আযান, ইকামাত, দোআ

আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ শিংগা ধ্বনি করে লোকদের নামাযের জন্য একত্র করার নির্দেশ প্রদান করেন তখন একদা আমি স্বপ্নে দেখি যে, এক ব্যক্তি শিংগা হাতে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে বলি, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি শিংগা বিক্রয় বরবে? সে বলে, তুমি শিংগা দিয়ে কি করবে? আমি বলি, আমি তার সাহায্যে নামাযের জামাআতে লোকদের ডাকব। সে বলল, আমি কি এর উত্তম কোন সন্ধান তোমাকে দেব না? আমি বলি, হাঁ। রাবী বলেন, তখন সে বলল, তুমি এইরূপ শব্দ উচ্চারণ করবেঃ “আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ; হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ।” (অনুবাদ: আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।) রাবী রলেন! অতঃপর ঐ স্হান হতে ঐ ব্যক্তি একটু দুরে সরে গিয়ে দাঁড়ায় এবং বলে- তুমি যখন নামায পড়তে দাঁড়াবে তখন বলবেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদুআল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; কাদ কামাতিস্ সালাহ্; কাদ কামাতিস্-সালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”। (অনুবাদ: আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; সলাতে দাঁড়ানোর সময় নিকটবর্তী হয়েছে; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।) অতঃপর ভোর বেলা আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর খিদমতে হাযির হয়ে তাঁর নিকট আমার স্বপ্নের বর্ণনা করি। নাবী ﷺ বলেন এটা অবশ্যই সত্য স্বপ্ন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি বিলালকে ডেকে তোমার সাথে নাও এবং তুমি যেরূপ স্বপ্ন দেখেছ- তদ্রুপ তাকে শিক্ষা দাও যাতে সে (বিলাল) ঐরূপে-আযান দিতে পারে। কেননা তাঁর কন্ঠস্বর তোমার স্বরের চাইতে অধিক উচ্চ। অতঃপর আমি বিলাল (রাঃ) -কে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়াই এবং তাকে আযানের শব্দগুলি শিক্ষা দিতে থাকি এবং তিনি উচ্চারণ পূর্বক আযান দিতে থাকেন। বিলালের এই আযান ধ্বনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) নিজ আবাসে বসে শুনতে পান। তা শুনে উমার (রাঃ) এত দ্রুত পদে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর খিদ্মতে আগমন করেন যে, তাঁর গায়ের চাঁদর মাটিতে হেচঁড়িয়ে যাচ্ছিলো। তিনি নাবী ﷺ-এর নিকটে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য নাবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন, আমিও ঐরূপ স্বপ্ন দেখেছি যেরূপ অন্যরা দেখেছে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য- (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী, মুসলিম)। -সূনান আবু দাউদ ৪৯৯ . মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মালিক ইবনু আবূ মাহ্যুরা থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে ব্ণিত। রাবী বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কে বলি, আমাকে আযানের নিয়ম-পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দিন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি আমার মাথার সম্মুখভাগে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেনঃ তুমি বলবে- আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, তা উচ্চ স্বরে বলবে। অতঃপর আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ - বলার সময় গলার স্বর নীচু করবে।অতঃপর উচ্চ কন্ঠে বলবেঃ আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, অতঃপর বলবেঃ হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্; হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ । অতঃপর ফজরের নামাযের আযানের সময় বলবেঃ আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম, আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম অতঃপর বলবেঃ আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ। (অনুবাদ: আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ছালাতের জন্য এসো; কল্যাণের জন্য এসো; সলাত ঘুম থেকে উত্তম; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।) -সূনান আবু দাউদ ৫০০ . রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, মু'আযযিন যখন "আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে তখন তোমাদের কেউ যদি "আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে। তারপর মু-আযযিন যখন "আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলে, তখন সেও "আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলে। অতঃপর মু’আযযিন যখন "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" বলে, তখন সেও "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" বলে। পরে মু’আযযিন যখন "হাইয়্যা ‘আলাস্ সলা-হ্; হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ" বলে, তখন সে লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ বলে। এরপর মু’আযযিন যখন "আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে, তখন সেও "আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলল। তারপর মু’আযযিন যখন "লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলে, তখন সেও "লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলল-এসবই যদি সে বিশুদ্ধ অন্তরে বলে থাকে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (অনুবাদ: আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত; আল্লাহ সবার চেয়ে বড়; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।) -সহীহ মুসলিম ৭৩৬ . আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুল কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মু'আযযীনকে আযান দিতে শুনবে, তখন সে যা বলে তাই বলবে। তারপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ করবে। কারণ যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে। ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোন এক বান্দাকে দেয়া হবে। আমি আশা করি যে, আমিই হব সেই বান্দা। যে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে, তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে। -সহীহ মুসলিম ৭৩৫ . রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আযান শুনে দু’আ করেঃ ‘হে আল্লাহ-এ পরিপূর্ণ আহবান ও সালাতের প্রতিষ্ঠিত মালিক, মুহাম্মাদ ﷺ কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকেমে মাহমূদে পৌছিয়ে দিন যার অঙ্গিকার আপনি করেছেন’- কিয়ামতের দিন সে আমার শাফা’আত লাভের অধিকারী হবে।
(للَّهُمَّ رَبَّ، هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ الْمَقَامَ الْمَحْمُودَ الَّذِي وَعَدْتَهُ، إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ،)
{উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা রাব্বা, হা-যিহিদ্ দা‘অ্ওয়াতিত তা-ম্মাতি, ওয়াস স্বালা-তিল ক্বা-য়িমাতি, আ-তি মু‘হাম্মাদান আল-ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা, ওয়াব‘আসহু মাকা-মাম মা‘হমূদানিল্লাযী্ ও‘য়াদতাহু। ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ।}
-সহীহ বুখারী ৫৮৭ . রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যাক্তি মু-আযযিনের আযান শুনে নিম্নের দুঁআটি পাঠ করে তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়ঃ (উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়ারসূলুহূ, রযীতু বিল্লা-হি রববাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলান ওয়াবিল ইসলা-মি দীনা।) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি সন্তুষ্ট আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ কে রাসুল হিসেবে পেয়ে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে। -সহীহ মুসলিম ৭৩৭ . যে মুসলমান সুন্দর রুপে উযূ করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি তার প্রতি নিবদ্ধ রেখে দুই রাকআত সালাত আদায় করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তোমাদের যে ব্যাক্তি কামিল বা পূর্ণরূপে উযূ করে এই দু’আ পাঠ করবে, (আশ্হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহূ) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল” তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতের প্রবেশ করতে পারবে। -সহীহ মুসলিম ৪৪৬ . যে ব্যাক্তি উযূ করে পাঠ করবেঃ (আশ্হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহূ) “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসুল”। -সহীহ মুসলিম ৪৪৭

দোয়া

হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দান করুন ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে আমাদেরকে রক্ষা করুন। -আল-বাকারাহ ২:২০১
.
হে আমার রাব্ব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে লালন পালন করেছিলেন। -বনী ইসরাঈল ১৭:২৪
.
আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’। -আল-ফুরকান ২৫:৭৪
.
হে আমার রাব্ব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজকে সহজ করে দিন,  আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আমার জন্য করে দিন একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হতে। -ত্ব-হা ২০:২৫-২৯
.
যাদের উপর কোন বিপদ নিপতিত হলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। -আল-বাকারাহ ২:১৫৬
.
তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছি, যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর আর দয়া না কর তাহলে আমরা অবশ্য অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’ -আল-আ'রাফ ৭:২৩
.
যুন্-নুন ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে দু'আ করেছিলেনঃ (لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظّالِمِينَ) {লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায-যা-লিমীন}[আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র-মহান, নিশ্চয় আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত।] -আল-আম্বিয়া ২১:৮৭
কোন মুসলিম যখনই এই দু'আ করে, আল্লাহ্ অবশ্যই তার দু'আ কবুল করে থাকেন। -তিরমিজী ৩৫০৫
.
যে ব্যক্তি- (أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ) {আস্তাগ্ফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আল্-হায়্য়ুল্ কায়ূওম, ওয়া-আতূবু ইলায়হে} [আমি মহামহিম আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি চিরস্থায়ী, সর্বসত্তার ধারক। আর আমি তাঁরই নিকট তওবা করছি।]
পাঠ করবে, যদিও সে ব্যক্তি যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে আসে, তবুও তার গোনাহ মার্জিত হবে। -আবু দাউদ ১৫১৭
.
তোমরা তোমাদের রব্বের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল।
(তোমরা তা করলে) তিনি অজস্র ধারায় তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন। -নূহ ৭১:১০-১২

যিকর

যে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। -মুসলিম ৭৩৫
.
দুটি কালেমা জিহ্বার উপর (উচ্চারণে) খুবই হালকা, মীযানের (পাল্লায়) অত্যান্ত ভারী, রাহমান (পরম দয়ালু আল্লাহ) এর কাছে খুবই প্রিয়। তা হলো: (سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ) {সুব্হানাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী, সুব্হানাল্লা-হিল ‘আযীম।} [আমি আল্লাহ তা'আলার জন্য সপ্রশংসা পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি]। -মুসলিম ৬৬০১
.
কেউ যদি (سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وَبِحَمْدِهِ) {সুব্হানাল্লা-হিল ‘আযীম ওয়াবিহামদিহী।} [মহান আল্লাহর প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।]
পাঠ করে তবে তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর চারা লাগান হয়। -তিরমিজী ৩৪৬৪
.
এক ব্যক্তি নাবী ﷺ এর নিকট এসে বলেন- আমি কুরআন মুখস্হ করে রাখতে পারি না। অতএব আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা কুরআনের পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। তখন নাবী ﷺ বলেনঃ তুমি বলবেঃ (سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ) {সুবহা-নাল্লাহি, ওয়ালহামদু লিল্লাহি, ওয়া লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার, ওয়া লা- হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লাহ} [আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই।]। তখন ঐ ব্যক্তি বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা তো আল্লাহর জন্য- আমার জন্য কি? জবাবে নাবী ﷺ বলেনঃ তুমি বল- (اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي) {আল্লাহুম্মা ইরহামনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া আফিনী ওয়াহদিনী} [হে আল্লাহ আমাকে দয়া করুন; আমাকে রিযিক দান করুন, আমাকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন এবং আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন] । অতঃপর রাবী বলেনঃ ঐ ব্যক্তি ঐগুলি হাতের অংগুলিতে গণনা করেন। তখন নাবী ﷺ বলেনঃ এই ব্যক্তি উত্তম বস্তু দ্বারা তার হাত পরিপূর্ণ করেছে। -আবু দাউদ ৮৩২
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আমাকে একটি কালাম শিক্ষা দিন, যা আমি পাঠ করব। তিনি বললেন, তুমি বলবে- (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ) {লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, আল্লা-হু আকবার কাবীরান, ওয়ালহামদুলিল্লা-হি কাসীরান, সুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল আ-লামীন, লা হাউলা ওয়ালা কূওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হিল ‘আযীযিল হাকীম।} [আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, আল্লাহ মহান, সর্বাপেক্ষা মহান, আল্লাহরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং আমি আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত ভাল কাজ করার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য কারো নেই, তিনি পরাক্রমশালী জ্ঞানবান।] সে বলল, এই সব তো আমার প্রতিপালকের জন্য। আমার জন্য কি? তিনি বললেন, বল,
(للَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي) {আল্লা-হুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুক্বনী} [হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে হিদায়াত নসীব করুন এবং আমাকে রিযক দান করুন।] মূসা (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি (عَافِنِي) {আফিনী} [আমাকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন] ও বলেছেন। তবে আমার তা সঠিক মনে নেই। -মুসলিম ৬৬০৩
.
(لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ) {লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ} [আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: দু’আটি বেশী করে পাঠ করবে, এ হল জান্নাতের সঞ্চয়-ভান্ডার।
মাকহুল (রহঃ) বলেন: দু’আটি যে ব্যক্তি পাঠ করবে, তার জন্য সত্তরটি অনিষ্টের দ্বার রুদ্ধ করে দেওয়া হবে। সর্বনিম্ন দরওয়াজাটি হল দারিদ্র। -তিরমিজী ৩৬০১
.
যে ব্যক্তি (رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا) {রাদীতু বিল্লা-হি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলা-মি দীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।} [আল্লাহকে রব (প্রতিপালক) রূপে, ইসলামকে দ্বীনরূপে এবং মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ ﷺ কে নাবীরূপে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট], তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল। -মুসলিম ৪৭২৬
.
তোমরা 'ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম' বলাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর। -তিরমিজী ৩৫২৫

দুআ ও যিকর (নির্ধারিত সময়/ সংখ্যায়)

(السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ) একদা একব্যক্তি নবী ﷺ এর কাছে এসে বলেঃ {আসসালামু আলায়কুম}। নবী ﷺ তার সালামের জবাব দিলে সে ব্যক্তি বসে পড়ে। তখন নবী ﷺ বলেনঃ সে দশটি নেকী পেয়েছে। এরপর একব্যক্তি এসে বলেঃ {আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ}। তিনি তার সালামের জবাব দিলে সে ব্যক্তি বসে পড়ে। তখন নবী ﷺ বলেনঃ সে বিশটি নেকী পেয়েছে। এরপর {ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারকাতুহু}। নবী ﷺ তার সালামের জবাব দিলে সে বসে পড়ে। তখন তিনি বলেনঃ সে ত্রিশটি নেকী পেয়েছে। -আবু দাউদ ৫১০৫
...
বাড়ি থেকে বের হওয়া
(بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) {বিসমিল্লা-হি, তাওয়াক্কাল্তু ‘আলাল্লা-হি, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি} [আল্লাহ্‌র নামে, আমি আল্লাহ্‌র উপর নির্ভর করলাম। কোনো অবলম্বন নেই এবং কোনো শক্তি নেই আল্লাহ্‌র সাহায্য ছাড়া।]
যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবে, তখন তাকে বলা হয়, তুমি হেদায়াত প্রাপ্ত হয়েছো, রক্ষা পেয়েছো ও নিরাপত্তা লাভ করেছো। সুতরাং শয়তানরা তার থেকে দূর হয়ে যায় এবং অন্য এক শয়তান বলে, তুমি ঐ ব্যক্তিকে কি করতে পারবে যাকে পথ দেখানো হয়েছে, নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছে। -আবূ দাউদ ৫০৯৫, ৫০০৭, তিরমিজী ৩৪২৬
...
কোন স্থানে পৌছে
(أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ) {আ’ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি, মিন শাররি মা-খালাক্ব} [আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম দিয়ে তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির খারাবী হতে আশ্রয় চাই।]
যে লোক কোন ঘাটিতে নেমে এ দু’আ পড়ে, সে ঐ ঘাটি হতে অন্য ঘাটিতে রওনা না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোন কিছুই কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। -মুসলিম ২৭০৮, ২৭০৯, ৬৬৩১
...
বাজারে প্রবেশ করে
(لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكُ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَىٌّ لاَ يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) {লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহঈ ওয়াইয়ুমীতু ওয়াহুয়া হায়্যুন লা ইয়ামূতু বিয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।} [একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মারেন। আর তিনি চিরঞ্জীব, মারা যাবেন না। সকল প্রকার কল্যাণ তাঁর হাতে নিহিত। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।] কেউ যদি বাজারে প্রবেশ করে এই দু’আটি পাঠ করে তবে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য এক লক্ষ নেকী লিখবেন, এক লক্ষ গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তার এক লক্ষ দরজা বুলন্দ করে দিবেন।
-সূনান তিরমিজী ৩৪২৮
যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশকালে বলেঃ আল্লাহ তার আমলনামায় এক লক্ষ পুণ্য লিপিবদ্ধ করেন, তাঁর এক লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করেন। -ইবনে মাজাহ ২২৩৫
...
বিপদগ্রস্তকে দেখে:
 (الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً إِلاَّ عُوفِيَ مِنْ ذَلِكَ الْبَلاَءِ) {আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী ‘আ-ফানী মিম্মাবতালা-কা বিহী, ওয়া ফাদ্দালানী ‘আলা কাসীরিম মিম্মান খালাক্বা তাফদীলান} [সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আপনাকে যে পরীক্ষায় ফেলেছেন তা থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার সৃষ্টির অনেকের উপরে আমাকে অধিক সম্মানিত করেছেন।] কেউ যদি কাউকে বিপদগ্রস্ত দেখে এই দু’আটি পাঠ করে তবে সে যত দিন জীবিত থাকবে ততদিন পর্যন্ত যে কোন ধরনের বিপদ হোক না কেন- আল্লাহ তাকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত রাখবেন। -তিরমিজী ৩৪৩১, ইবনে মাজাহ ৩৮৯২
...
(أَعُوْذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ) {আউযুবিল্লাহি মিনাশশাইতানির রাজীম} [আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই বিতাড়িত শয়তান থেকে।] পড়লে ক্রোধ চলে যায়। -বুখারী ৫৬৮৫
...
ঋণ মুক্তি:
(اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ) {আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা ওয়া আ‘গনিনী বিফাদলিকা ‘আম্মান সিওয়াকা।} [হে আল্লাহ! হারাম থেকে মুক্ত রেখে তোমার প্রদত্ত হালাল বস্তুই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্যসব কিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দাও।] তোমার যিম্মায় যদি ছবীর পাহাড় (তায় কাবীলায় অবস্থিত আরবের একটি বড় পাহাড়) ঋণও থাকে, তবে এতে আল্লাহ তা’আলা তাও আদায় করে দিবেন। -তিরমিজী ৩৫৬৩
...
খাওয়া
.
খানার শুরুতে (بِسْمِ اللَّهِ) {বিসমিল্লাহ} [আল্লাহর নামে]। শুরুতে বলতে ভুলে গেলে (بسمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ) {বিস্‌মিল্লাহি ফী আওওয়ালিহী ওয়া আখিরিহী।} [এর শুরু ও শেষ আল্লাহ্‌র নামে।] -তিরমিজী ১৮৬৪
.
(الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقَنِيهِ، مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ) {আল‘হামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত‘আমানী হা-যা ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি ‘হাওলিম মিন্নী ওয়ালা- কুওয়াহ।} [সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমাকে এ আহার করালেন এবং এ রিযিক দিলেন যাতে ছিল না আমার পক্ষ থেকে কোনো উপায়, ছিল না কোনো শক্তি-সামর্থ্য।] কেউ যদি খাওয়ার পর এই দু’আ পাঠ করে তবে তার পূর্বের সব গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হবে। -তিরমিজী ৩৪৫৮
...
পায়খানা
.
জ্বীন ও মানুষের গোপন অঙ্গের মাঝখানের পর্দা হল পায়খানায় প্রবেশকালে তার (بِسْمِ اللَّهِ) {বিসমিল্লাহ} [আল্লাহর নামে] বলা। -ইবনে মাজাহ ২৯৭
.
নাবী ﷺ যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন, তখন তিনি বলতেনঃ (اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ) {আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল খুব্সি ওয়াল খাবা-ইসি।} [ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে যাবতীয় পূরুষ ও স্ত্রী জাতীয় শয়তানদের থেকে পানা চাচ্ছি।] -বুখারী ৫৮৮৩
.
(غُفْرَانَكَ) {গুফরা-নাকা} [আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি]। রাসূলুল্লাহ ﷺ পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলতেন। -ইবনে মাজাহ ৩০০
...
ঘুম
.
রাতে শয্যা গ্রহণের সময় তুমি ৩৩ বার (سُبْحَانَ اللّٰهِ) {সুবহা-নাল্লাহ} [আল্লাহ অতি-পবিত্র], ৩৩ বার (الْحَمْدُ لِلَّهِ) {আলহামদুলিল্লা-হ} [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য] এবং ৩৪ বার (وَاللّٰهُ أَكْبَرُ) {আল্লা-হু আকবার} [আল্লাহ অতি-মহান] পাঠ করবে। -মুসলিম ৬৬৭০
.
যখন শয্যাগ্রহণ করবে তখন {সুবহানাল্লাহ}, {আল্লাহু আকবার} এবং {আলহামদু লিল্লাহ} পাঠ করবে একশতবার। এ যবানে তো হল একশ কিন্তু মীযানের পাল্লায় হবে হাজার। -তিরমিজী ৩৪১০
.
{আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম।} -আল-বাকারাহ্ ২৫৫
যখন তুমি রাতে শয্যায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পড়বে। তখন আল্লাহ্র তরফ থেকে তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না। -বুখারী ২১৬২
.
{আ-মানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়া রুসুলিহ, লা নুফাররিক্বু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়া ক্বালু সামি‘না ওয়া আতা‘না গুফ্রা-নাকা রব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর। লা ইয়ুকাল্লিফুল্লাহু নাফ্সান ইল্লা উস‘আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাক্তাসাবাত রব্বানা লা তুআখিয্না ইন নাসীনা আও আখ্ত্বা’না। রব্বনা ওয়ালা তাহ্মিল ‘আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু ‘আলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা। রব্বনা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা-লা ত্বা-ক্বাতা লানা বিহী। ওয়া‘ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলা-না ফানসুরনা ‘আলাল ক্বাউমিল কাফিরীন।} -সূরা বাকারাহ্ আয়াত (২৮৫-২৮৬)
রাত্রে কুরআন তেলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত তেলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট। -বুখারী ৩৭১৮
.
{ক্বুল ইয়া আইয়ুহাল কা-ফিরূণ! লা আ‘বুদু মা তা‘বুদূন। ওয়া লা আনতুম ‘আ-বিদূনা মা আ‘বুদ। ওয়া লা আনা ‘আ-বিদুম মা ‘আবাদতুম। ওয়া লা আনতুম ‘আ-বিদূনা মা আ‘বুদ। লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন।} -সূরা কা-ফিরূণ ১০৯
শোবার সময় সূরা কাফিরুন তিলাওয়াত করবে। কেননা, এ সূরা শিরক থেকে মুক্তকারী। -আবু দাউদ ৪৯৭১
.
{ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।} -সূরা ইখলাস
রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়বে। সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। -মুসলিম ১৭৫৯
.
{ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ।} -সূরা ফালাক
{ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। মালিকিন্না-সি, ইলা-হিন্নাসি, মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-সি, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।} -সূরা নাস
প্রতি রাতে রাসূল ﷺ শয্যা গ্রহনকালে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে দু’হাত একত্রিত করে হাতে ফুঁক দিয়ে সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তাঁর দেহের সম্মুখভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার করে এরূপ করতেন। -বুখারী ৪৬৪৮

নাবী ﷺ যখন শয্যা-গ্রহণ করতেন তখন তিনি বলতেন: (اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَحْيَا وَبِاسْمِكَ أَمُوتُ) {আল্লাহুম্মা বিসমিকা আহয়্যা অ বিসমিকা আমুতু।} [হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই জীবিত আছি আর তোমার নামেই মৃত্যূবরণ করছি।] আর যখন তিনি নিদ্রা থেকে উঠতেন তখন বলতেন: (الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ) {আল-'হামদু লিল্লা-হিল লাযী আ'হইয়া-না- বা'দা মা- আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর।} [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবন দান করেছেন। আর তার দিকেই প্রত্যাবর্তন।] -মুসলিম ৬৬৩৯
.
(اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ‏) {আল্লা-হুম্মা, আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়াফাওআদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু যাহরী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়ারাহবাতান ইলাইকা, লা- মালজাআ ওয়ালা- মানজা- মিনকা ইল্লা- ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা, ওয়াবি নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।} [হে আল্লাহ! আমি আমার নিজকে তোমারই কাছে সমর্পণ করছি। আমার চেহারাকে তোমার দিকে ফিরাচ্ছি! আমার কর্ম তোমার কাছে সোপর্দ করছি। আমার নির্ভরশীলতা তোমারই প্রতি আশা ও ভয় উভয় অবস্থায়। তোমার কাছে ছাড়া আর কোথাও আশ্রয় ও মুক্তির জায়গা নেই। আমি ঈমান এনেছি তোমার কিতাবের প্রতি যা তুমি অবতীর্ণ করেছ এবং তোমার নাবীর প্রতি যাকে তুমি প্রেরণ করেছ।] যখন তুমি তোমার শয্যা গ্রহন করতে যাবে তখন এই বলবে, অনন্তর এ রাত্রিতে যদি তোমার মৃত্যু হয়, তা হলে ফিতরাতের ওপর তোমার মৃত্যু হবে। আর যদি (জীবিতাবস্থায়) তোমার ভোর হয়, তুমি কল্যাণের অধিকারী হবে। -বুখারী ৬৯৮০
.
তোমাদের কেও যদি ঘুমে ভয় পায় তবে যেন সে এই দু’আ পাঠ করে, তাহলে তার কোন অনিষ্ট হবে না: (أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ ‏.‏ فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ) {আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লাহিত্তা-ম্মাতি মিন্ গাদ্বাবিহি ওয়া ইক্বা-বিহি ওয়া শাররি ‘ইবা-দিহি ওয়ামিন হামাযা-তিশ্শায়া-ত্বীনি ওয়া আন ইয়াহ্দুরূন} [আল্লাহ তা’আলার পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের ওয়াসীলায় আমি পানাহ চাইছি তাঁর গযব, তার শাস্তি এবং তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে (আরো পানাহ চাই) শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও উপস্থিতি থেকে।]
বিপদের সময় দু’আ: {আ’উজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতে মিন গাযাবিহি ওয়া শাররি ইবাহিদি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াতিনে ওয়া আই- ইয়াহ দুরূনী।}
-তিরমিজী ৩৫২৮, আবু দাউদ ৩৮৫৩
.
(لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ) {লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়া‘হদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল ‘হামদ, ওয়া হুআ ‘আলা- কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদীর, ‘আল-‘হামদু লিল্লাহ’, ওয়া ‘সুব‘হা-নাল্লা-হ’, ওয়া লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়া ‘আল্লা-হু আকবার’, লা- ‘হাওলা ওয়া লা- ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।} [আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, এবং প্রশংসা তাঁরই। এবং তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাবান। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। কোনো অবলম্বন নেই, কোনো ক্ষমতা নেই আল্লাহর (সাহায্য) ছাড়া।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ রাতে যখন কারো ঘুম ভেঙে যায়, তখন সে জাগ্রত হয়ে যেন এ দু'আ পাঠ করেঃ আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, বাদশাহী তাঁরই, আর সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপর শক্তিমান। পবিত্র-মহান আল্লাহ্, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ্ মহান, সমস্ত শক্তিই আল্লাহ্র। এরপর বলবেঃ হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন। নবী ﷺ আরো বলেছেনঃ আর দু'আ করলে, তা কবূল হবে। এরপর যদি সে ব্যক্তি উঠে উযূ করে, তারপর সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত কবূল হবে। -আবু দাউদ ৪৯৭৬, ইবনে মাজাহ ৩৮৭৮
...
রোগ
.
নবী ﷺ তাঁর কোন কোন স্ত্রীকে সূরা নাস ও সূরা ফালাক পড়ে ডান হাত দিয়ে বুলিয়ে দিতেন এবং পড়তেনঃ
(اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا)
{আল্লা-হুম্মা রাব্বান না-স, আয্‌হিবিল বা-'স, ইশ্‌ফি, ওয়া আনতাশ শা-ফী, লা- শিফা-আ ইল্লা- শিফা-উকা, শিফা-আন লা- ইউগা-দিরু সাক্বামা}
[হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দাও, যা কোন রোগ অবশিষ্ট থাকে না।] -বুখারী ৫৭৪৩
.
(أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا) {আযহিবিল বাস রব্বান নাস, ওয়াশফে আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামান} [সঙ্কট দূর করে দিন, হে মানুষের-প্রতিপালক! আর শিফা ও নিরাময় করুন, আপনই নিরাময়কারী। আপনার শিফা ও নিরাময় ব্যতীত আর কোন (বাস্তব নির্ভরযোগ্য) শিফা নেই। এমন নিরাময় করুন যার পর কোন রোগ-ব্যাধি অবশিষ্ট না থাকে।] রাসুলুল্লাহ ﷺ কোন রোগীর কাছে গেলে তার জন্য এই দুআ করতেন। -মুসলিম ৫৫১৯, ৫৫২১, ৫৫২২, বুখারী ৫২৭৩, তিরমিজী ৩৫৬৫, আবু দাউদ ৩৮৪৩, ইবনে মাজাহ ৩৫২০, ৩৫৩০, মুসনাদে আহমেদ ৫৬৫
.
তোমার শরীরের যে অংশ বেদনাক্রান্ত হয়, তার উপরে তোমার হাত রেখে তিনবার (بِسْمِ اللَّهِ) {বিসমিল্লাহ} [আল্লাহর নামে।] বলবে এবং সাতবার বলবে: (أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ) {আ‘ঊযু বিল্লা-হি ওয়া ক্বুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহা-যিরু।} [আল্লাহ এবং তাঁর কুদরতের শরণাপন্ন হচ্ছি-যা আমি অনুভব করি এবং যা আশঙ্কা করি, তার অকল্যাণ থেকে। -মুসলিম ৫৫৪৯
.
(اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ) {আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনূনি, ওয়াল জুযা-মি, ওয়ামিন্ সাইয়্যিয়িল আসক্বা-ম} [ইয়া আল্লাহ! আমি শ্বেত (কুষ্ঠ) রোগ হতে, পাগ্লামী হতে, খুজ্লী-পাঁচড়া হতে এবং ঘৃণ্য রোগ হতে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।] রসূলুল্লাহ ﷺ এরূপ দু’আ করতেন। -আবু দাউদ ১৫৫৪, সূনান নাসাঈ ৫৪৯২, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ২৪৭০
.
রোগীর জন্য দোয়া
(أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ) {আসআলুল্লা-হাল ‘আযীম, রাব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম আন ইয়াশফিইয়াক} [আমি মহান আরশের রব (প্রভু) মহামহিম আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দুআ প্রার্থনা করছি, তিনি তোমাকে রোগ হতে সুস্থতা দান করুন]
কোন লোক যদি কোন রোগীকে দেখতে যায় যার মৃত্যুক্ষণ আসেনি, সে তাকে সাতবার এই দুআ করলে, তাকে রোগমুক্ত করা হবে। -আত তিরমিজী ২০৮৩
.
রোগশয্যায়
(لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللّٰهِ) {লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, আল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়ালা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ} [আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, যাবতীয় রাজত্ব তাঁরই, তার জন্যই সকল প্রশংসা, আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই।]
কেউ যখন বলে ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া আর আল্লাহ মহান। তখন তার রব আল্লাহ তা’আলা তার এ বক্তব্য সত্যায়ন করে বলেনঃ হ্যাঁ, আমি ছাড়া ইলাহ নাই আর আমি মহান। সে যখন বলেঃ ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া তিনি তো একক। আল্লাহ্ বলেনঃ আমি ছাড়া ইলাহ নেই আমি একক। যখন সে বলেঃ ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া তিনি তো একক। তার কোন শরীক নেই। আল্লাহ বলেনঃ আমি ছাড়া ইলাহ নেই আমি একক আমার শরীক নেই। যখন সে বলেঃ ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া। বাদশাহী তারই আর তারই সব তারীফ। আল্লাহ বলেনঃ আমি ছাড়া ইলাহ নেই। বাদশাহী আমারই। আমারই সব তারীফ। যখন সে বলেঃ ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া। আল্লাহ বলেনঃ ইলাহ নেই আমি ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আমি ছাড়া। নাবী ﷺ আরো বলতেনঃ কেউ যদি তার রোগশয্যায় এই কথাগুলো বলে এরপর সে মারা যায় তবে জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না। -তিরমিজী ৩৪৩০
...
বিপদে পতিত ব্যাক্তি
(إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا)
{ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জিউন। আল্ল-হুম্মা' জুৱনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খয়রাম মিনহা}
[আমরা আল্লাহরই জন্যে এবং তারই কাছে ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে আমার মুসীবাতে সাওয়াব দান কর এবং এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর।]
কোন মুসলিমের ওপর মুসীবাত আসলে যদি সে বলে, তবে মহান আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করে থাকেন। -মুসলিম ৯১৮, ১৯৯৯
...
লায়লাতুল ক্বাদর এ বলবে: (اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي){আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন কারীমুন তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নী।} [হে আল্লাহ! তুমি তো খুবই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাই তুমি ভালবাস। সুতরাং ক্ষমা করে দাও আমাকে।] -তিরমিজী ৩৫১৩

সালাতের পর যিকর

প্রত্যেক সালাতের পর
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন তার সালাত শেষ করতেন, তখন তিনবার ইস্তিগফার করতেন  (أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ) {আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ} [আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।] এবং বলতেন: (اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ) {আল্ল-হুম্মা আন্তাস সালা-ম, ওয়া মিনকাস্ সালা-ম, তাবা-রকতা ইয়া- যালজালা-লি ওয়াল ইকর-ম।} [হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময় এবং আপনার থেকেই শান্তি। আপনি বরকতময় হে মহিমান্বিত ও সষ্মানিত।] -মুসলিম ১২১২
.
(اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِك) {আল্লাহুম্মা আইন্নী আলা যিক্রিকা ওয়া শুক্রিকা ওয়া হুস্নি ইবাদাতিক।} [হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার যিকর করতে, শুকর করতে এবং আপনার ইবাদত সুন্দরভাবে করতে তাওফীক ও ক্ষমতা প্রদান করুন।]
মুআয ইব্ন জাবাল (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর হাত ধরে বলেন, হে মুআয! আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালবাসি। অতঃপর তিনি ﷺ বলেনঃ আমি তোমাকে কিছু ওসয়িত করতে চাই; তুমি নামায পাঠের পর এটা কোন সময় ত্যাগ করবে না। -আবু দাউদ ১৫২২
.
প্রত্যেক সালাতের পর ১০ বার {সুবহানাল্লাহ}, ১০ বার {আলহামদুলিল্লাহ্} এবং ১০ বার {আল্লাহ আকবর}। এই আমল দ্বারা তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের মর্যাদা অর্জন করতে পারবে, আর তোমাদের পরবর্তীদের চাইতে এগিয়ে যেতে পারবে, আর তোমাদের অনুরূপ আমল কেউ করতে পরেবে না, কেবলমাত্র যারা তোমাদের ন্যায় আমল করবে তারা ব্যতীত। -বুখারী ৫৮৯০
.
যে ব্যাক্তি প্রত্যেক সালাতের পর (سُبْحَانَ اللّٰهِ) {সুবহা-নাল্লাহ} [আল্লাহ অতি-পবিত্র] তেত্রিশবার, (الْحَمْدُ لِلَّهِ) {আলহামদুলিল্লা-হ} [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য] তেত্রিশবার ও (وَاللّٰهُ أَكْبَرُ) {আল্লা-হু আকবার} [আল্লাহ অতি-মহান] তেত্রিশবার বলবে এই হল নিরানব্বই-আর একশত পূর্ণ করার জন্য বলবে: (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) {লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর} [আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব (সার্বভৌম ক্ষমতা) একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, সব কিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।] তার পাপ সমুহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মত হয়। -মুসলিম ১২৩০, আবু দাউদ ২৯৭৭
.
আমরা প্রত্যেক নামাযের পরে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করতে আদিষ্ট হলাম। এক আনসারী ব্যক্তি স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, কোন এক ব্যক্তি তাকে বলছে তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ কি প্রতি নামাযের পরে ৩৩ বার তাসবীহ, ৩৩ বার তাহমীদ ও ৩৪ বার তাকবীর পাঠ করতে আদেশ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এগুলো তোমরা ২৫ বার করে পাঠ কর। আর তার সাথে ২৫ বার তাহলীল অর্থাৎ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' পাঠ কর। লোকটি সকাল বেলা নাবী ﷺ -এর কাছে গিয়ে তা বর্ণনা করল। তিনি ﷺ বললেন, আচ্ছা তাই কর। -তিরমিজী ৩৪১৩; নাসাঈ ১৩৫৩
.
প্রত্যেক সালাতের পর দশবার {সুবহানাল্লাহ} দশবার {আলহামদু লিল্লাহ} দশবার {আল্লাহু আকবার} পাঠ করবে। যবানে তো মোট হয় একশত পঞ্চাশবার আর মীযানের পাল্লায় হবে এক হাজার পাঁচশতবার। -তিরমিজী ৩৪১০
.
ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ। -সূরা ফালাক
ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। মালিকিন্না-সি, ইলা-হিন্নাসি, মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-সি, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স। -সূরা নাস
প্রত্যেক সালাতের পর মু’আওওয়াযাতায়ন (সুরা ফালাক ও নাস) পাঠ করতে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। -তিরমিজী ২৯০৩, আবু দাউদ ১৫২৩, নাসাঈ ১৩৩৯
...
সকাল- সন্ধা
.
ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। -সূরা ইখলাস
সকাল-সন্ধ্যায় {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} এবং মুআওওয়াযাতায়ন {কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বিরাব্বিন নাস} তিন বার পাঠ করবে; তবে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। -তিরমিজী ৩৫৭৫
.
(بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ) {বিসমিল্লা-হিল লাযী লা- ইয়াদুর্‌রু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা- ফিস সামা-ই, ওয়াহুআস সামীউল ‘আলীম।} [আল্লাহর নামে যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।]
যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে, সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। -আবূ দাউদ ৫০৮৮; ৫০০০, তিরমিজী ৩৩৮৮, ইবনে মাজাহ ৩৮৬৯
.
সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার
(اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ) {আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ'বদুকা ওয়া আনা আ'লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ'উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি'মাতিকা আ'লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা।} [হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।]
যে ব্যাক্তি দিনের (সকাল) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ ইস্তিগফার পড়বে আর সন্ধা হওয়ার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যাক্তি রাতের (প্রথম) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হওয়ার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে। -বুখারী ৫৮৬৭
.
(لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) {লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর} [আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব (সার্বভৌম ক্ষমতা) একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, সব কিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান]
যে ব্যক্তি ভোরে উপনীত হয়ে বলে, সে ইসমাঈল (আ)-এর বংশের একটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য সওয়াব পাবে, তার দশটি গুনাহ মোচন হবে, তার মর্যাদা দশ গুণ বৃদ্ধি করা হবে এবং সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে। সে সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে অনুরূপ দোয়া করলে ভোর হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ নিরাপদ/প্রতিদান থাকবে। -ইবনে মাজাহ ৩৮৬৭, আবু দাউদ ৪৯৯৩ (তিরমিজী ৩৫৩৪) (তিরমিজী ৩৪৭৪ যঈফ)
.
যে ব্যক্তি দশবার পাঠ করবে সে যেন ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) এর বংশের চারজন গোলামকে মুক্তি দান করল। -মুসলিম ৬৬০০ (তিরমিজী ৩৫৫৩)
.
যে ব্যাক্তি দিনের মধ্যে একশ বার পড়বে সে দশজন গোলাম আযাদ করার সাওয়াব অর্জন করবে এবং তার জন্য একশটি নেকী লেখা হবে, আর তার একশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। আর সে দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত (শয়তান তার কুমন্ত্রণা থেকে) এটা তার জন্য রক্ষা কবচে পরিণত হবে এবং তার চাইতে বেশী ফযীলত ওয়ালা আমল আর কারো হবে না। তবে যে ব্যাক্তি এ আমল তার চাইতেও বেশী করবে। -বুখারী ৫৯৬১; মুসলিম ৬৫৯৮, ইবনে মাজাহ ৩৭৯৮
.
(سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ) {সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী} (আমি আল্লাহর সপ্রশংসা পবিত্রতা বর্ণনা করছি)
আর যে ব্যক্তি দিনে একশ' বার পাঠ করবে, তার যাবতীয় গোনাহ মোচন করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয়। -মুসলিম ৬৫৯৮, বুখারী ৫৯৬৩
.
কেউ যদি সকালে একশবার এবং সন্ধ্যায় একশবার পাঠ করে তবে কিয়ামতের দিন সে যে আমল নিয়ে আসবে তার চাইতে উত্তম আমল নিয়ে কেউ আসবে না, ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে তার আনুরূপ বা তার চাইতে বেশী পাঠ করেছে। -তিরমিজী ৩৪৬৯
.
যে একশ'বার তাসবীহ {সুবহানাল্লাহ} পাঠ করলে তার জন্য এক হাজার নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে (অথবা) এবং তার থেকে এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। -মুসলিম ৬৬০৭
.
শতবার (وَاللّٰهُ أَكْبَرُ) {আল্লা-হু আকবার} [আল্লাহ অতি-মহান], শতবার (الْحَمْدُ لِلَّهِ) {আলহামদুলিল্লা-হ} [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য] এবং শতবার (سُبْحَانَ اللّٰهِ) {সুবহা-নাল্লাহ} [আল্লাহ অতি-পবিত্র] পড়ো।
তা জিনপোষ ও লাগামসহ একশত ঘোড়া আল্লাহর পথে (জিহাদে) দান করার চেয়ে উত্তম, একশত উটের চেয়ে উত্তম এবং একশত গোলাম আযাদ করার চেয়ে উত্তম। -ইবনে মাজাহ ৩৮১০
.
(سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ) {সুবহানাল্লা-হি ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার} [আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান]
এ (বাক্য) পাঠ করা যার উপর সূর্য উদিত হয় সে সব জিনিসের চাইতে অধিক পছন্দনীয়। -মুসলিম ৬৬০২
.
যখন তুমি মাগরিবের সালাত শেষ করবে, তখন সাতবার এ দু'আ পাঠ করবেঃ (اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ) {আল্লা-হুম্মা, আজিরনী মিনান না-র} [হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।]
কেননা, সন্ধ্যায় যদি তুমি এ দু’আ পাঠ কর এবং সে রাতে মারা যাও, তবে তুমি জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে। আর ফজরের সালাত আদায়ের পর যদি তুমি এরুপ বল, আর তুমি যদি সেদিন মারা যাও, তবে তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। -আবু দাউদ ৪৯৯৪ (যঈফ)
...
সকাল
.
(سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ) {সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়াবি‘হামদিহী, ‘আদাদা খালক্বিহী, ওয়ারিদ্বা-নাফসীহী, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহী ওয়া মিদা-দা কালিমাতিহী। } [আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি তার অগণিত সৃষ্টির সমান, তার সন্তুষ্টি, তার আরশের ওযনের পরিমাণ ও তার কালেমার (কালির) সংখ্যার পরিমাণ।]
জুওয়ায়রিয়া (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রত্যূষে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। যখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন তখন তিনি সালাতের জায়গায় ছিলেন। এরপর তিনি দুহা’র পরে ফিরে এলেন। তখনও তিনি বসেছিলেন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম তুমি সেই অবস্থায়ই আছ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। নাবী ﷺ বললেনঃ আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওযন করলে এই কালেমা চারটির ওযনই বেশী হবে। -মুসলিম ৬৬৬৫
...
উযূ হল ঈমানের অর্ধেক। {আলহামদুলিল্লাহ} পূর্ণ করে মীযান। {সুবহানাল্লাহ} এবং {আলহামদুলিল্লাহ} পূর্ণ করে আকাশমন্ডলী ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থান। সালাত হল নূর, সাদাকা হল দলীল, ধৈর্য হল জ্যোতি আর কুরআন তোমার পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরুপ। প্রত্যেক মানুষ সকাল করে এবং নিজেকে বিক্রি করে। অনন্তর কেউ নিজেকে মুক্ত করে আর কেউ নিজেকে ধ্বংস করে। -তিরমিজী ৩৫১৭

সালাতের যিকর

আল্লা-হু আকবর (আল্লাহ সবার চেয়ে বড়)।
.
রাসূল ﷺ যখন রাতে সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীরের পর বলতেন:
(سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ)
{সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবা-রাকাসমুকা ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুকা।}
[হে আল্লাহ, পবিত্রতা এবং প্রশংসা আপনারই; বরকতময় আপনার নাম; অতি উচ্চ আপনার মর্যাদা, আর কোন ইলাহ নেই আপনি ছাড়া]।
এরপর বলতেন:
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا
পরে বলতেন:
(أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ)
[আমি পানাহ চাই আল্লাহর যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ অভিশপ্ত শয়তান ও তাঁর ওয়াসওয়াসা, দম্ভ ও যাদু টোনা থেকে।]
-সূনান তিরমিজী ২৪২
.
{আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম। বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম।}
[বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।]
.
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমি নাবী ﷺ এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সুরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আলে ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন।
তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতে (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ) {সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আযীম।} [আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি] বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) {সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ।} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন]। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষন ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবং (سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَ)ى {সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা।} [আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি] বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিল তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, জারীর (রহঃ) এর হাদীসে অতিরিক্ত রয়েছে যে, নাবী  ﷺ বললেন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ) {সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ। রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু।} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শোনেন আমাদের প্রতিপালক! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা]। -মুসলিম ১৬৮৭
.
রিফা’আ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাঃ) বলেন, একবার আমরা নাবী ﷺ এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ){সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ} [যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন!] বললেন, তখন পিছন থেকে এক সাহাবী (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ) {রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু। হামদান কাছীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহি।} [আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা।] বললেন। সালাত  শেষ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের বেশী ফিরিশতা এর সাওয়াব কে আগে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন। -বুখারী ৭৬৩
.
নাবী ﷺ দু সাজদাহর মাঝখানে বসে বলতেন: {রব্বিগফির লী রব্বিগফির লী} [প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, প্রভু আমায় ক্ষমা করুন]। -ইবনে মাজাহ ৮৯৭
.
রাসূল ﷺ দুই সিজদার মাঝে বলতেনঃ
(اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي)
{রাব্বিগ- ফিরলী, ওয়ার’হামনী, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী}
[হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, আমর প্রতি দয়া করুন, আমাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন, আমকে সৎপথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে রিযক দান করুন।] -তিরমিজী ২৮৪
.
নাবী ﷺ দুই সিজদার মাঝে নিম্নের দু’আ পাঠ করতেন। {আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়া আফিনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী}।
-সূনান আবু দাউদ ৮৫০
.
আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ এর পিছনে সালাত পড়ার সময় (বৈঠকে) বলতাম, (السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ) [আল্লাহর উপর সালাম, অমুকের উপর সালাম] একদিন রাসূল ﷺ আমাদের বললেন, আল্লাহর নামই সালাম। তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে সে যেন বলেঃ
(التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ)
{আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্সালাওয়া-তু ওয়াত্তায়্যিবা-তু আস্সালা-মু ‘আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু। আস্সালা-মু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লা-হিস সা-লেহীন।}
[যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী, আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক। যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়, সে আসমানেই থাক অথবা জমীনে।]
পরে বলবে (أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ) {আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।} [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।] এরপর তা যা মন চায় দু'আ করবে। -মুসলিম ৭৮২
.
ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ) বলেন, এক বার কাবা ইবনু উজরা (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি তোমাকে একটি হাদিয়া দেব না? একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের কাছে এলেন! আমরা বললাম, (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আপনাকে কিভাবে সালাম দিতে হয় তাতো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর সালাত আমরা কি ভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ
(اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ)
{আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।}
[হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করো- যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো- যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।]
-মুসলিম ৭৯৩
.
আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দু’আ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দু’আটি বলবেঃ
(اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ)
{আল্লা-হুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরা। ওয়ালা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা। ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম।}
[হে আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অধিক যুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।] -বুখারী ৭৯৫
.
{আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।}
[আল্লাহর পক্ষ হ’তে আপনার উপর শান্তি ও অনুগ্রহ বর্ষিত হোক।]
.
জানাযার দোয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাযার সালাতে এ দু‘আ করতেন-
(للَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا، وَمَيِّتِنَا، وَصَغِيرِنَا، وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِسْلَامِ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ)
{আল্লা-হুম্মাগফির লি‘হায়্যিনা- ওয়া মায়্যিতিনা- ওয়া সগীরিনা- ওয়া কাবীরিনা- ওয়া যাকারিনা- ওয়া উনছা-না- ওয়া শা-হিদিনা- ওয়া গা-য়িবিনা-। আল্লা-হুম্মা মান আ‘হ্ইয়াইতাহু মিন্না- ফা’আ‘হয়িহি ‘আলাল-ঈমা-ন। ওয়ামান তাওয়াফ্‌ফাইতাহু মিন্না- ফাতাওয়াফফাহু ‘আলাল ইসলাম। আল্লা-হুম্মা লা- তা‘হরিমনা- আজরাহু ওয়ালা- তুদ্বিল্লানা- বা‘দাহু-}
[হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ-নারী এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখেন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দিবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সাওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।] -আবূ দাউদ ৩২০১