ভালো কাজের প্রতিফল কয়েকগুণ
কৃতকর্মের ফল
.
তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তাতো তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন। -আশ-শূরা ৪২:৩০
.
মানুষের কৃতকর্মের কারণে সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে। -আর-রুম ৩০:৪১
.
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। -আন-নূর ২৪:৩১
.
আর তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, তারা প্রতি বছর একবার অথবা দু’বার কোন না কোন বিপদে পতিত হয়? তবুও তারা তাওবাহ করেনা, আর না তারা উপদেশ গ্রহণ করে। -আত-তাওবা ৯:১২৬
.
আমি যখন কোন জনবসতিকে ধ্বংস করতে চাই তখন তাদের সচ্ছল ব্যক্তিদেরকে আদেশ করি (আমার আদেশ মেনে চলার জন্য)। কিন্তু তারা অবাধ্যতা করতে থাকে। তখন সে জনবসতির প্রতি আমার ‘আযাবের ফায়সালা সাব্যস্ত হয়ে যায়। তখন আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করে দেই। -আল-ইসরা ১৭:১৬
.
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলেনঃ হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে।তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠি চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না। যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাশীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন। -ইবনে মাজাহ ৪০১৯
মহামারি
-সূরা আন-নিসা ৪:২৯
.
যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠি চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০১৯
.
প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর আপতিত হয়েছিল। অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়োনা। আর যখন প্লেগ এমন স্থানে দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়োনা।
-সহীহ বুখারী ৩২২৭, সহীহ মুসলিম ৫৫৮০, ৫৫৮১, ৫৫৮২, ৫৫৮৩, ৫৫৮৭, ৫৫৮৫
.
প্লেগ একটি আযাব বিশেষ। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন তাদের উপর তা প্রেরন করেন। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর মুমিন বান্দাগনের উপর তা (আযাবের সুরতে) রহমত স্বরূপ করে দিয়েছেন। কোন ব্যাক্তি যখন প্লেগাক্রান্ত স্থানে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে। তবে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে।
-সহীহ বুখারী ৩২২৮
.
অসুস্থ উটপালের মালিক (অসুস্থ উটগুলিকে) সুস্থ উটপালের মালিকের (উটের) কাছে আনবে না।
-সহীহ মুসলিম ৫৫৯৭
.
কুষ্ঠ রোগীদের দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে থেকো না।
-সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৫৪৩
.
কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি দূরে থাক তুমি বাঘ থেকে।
-সহীহ বুখারী ৫৩০২
.
উমার (রাঃ) শাম এর দিকে রওয়ানা হলেন। ‘সারগ’ পর্যন্ত পৌছলে 'আজনাদ' অধিবাসীদের (প্রতিনিধি ও অধিনায়ক) আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ) ও তাঁর সহকর্মীগণ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন। তখন তাঁরা খবর দিলেন যে, শামে মহামারী শুরু হয়ে গিয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন উমার (রাঃ) বললেন, প্রথম যুগের মুহাজিরদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলে তিনি তাঁদের পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁদের খবর দিলেন যে শামে মহামারী শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়লেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন, আপনি একটা বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, তাই আমরা আপনার ফিরে যাওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না। আর কেউ কেউ বললেন, আপনার সাথে রয়েছে প্রবীণ ব্যক্তি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ। তাই আমরা তাঁদেরকে এ মহামারীর মুখে এগিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না।
তিনি বললেন, আপনারা উঠুন। এরপর বললেন, আনসারীদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাঁদেরকে তাঁর কাছে ডেকে আনলে তিনি তাঁদের কাছেও পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা মুহাজিরদের পথ অনুসরণ করলেন এবং মুহাজিরগণের ন্যায় তাঁদের মধ্যেও মতপার্থক্য হল। তিনি বললেন, আপনারা উঠুন! এরপর তিনি বললেন, (মক্কা) বিজয়ের আগে হিজরতকারী কুরায়শের মুরব্বীদের যারা এখানে রয়েছেন, তাঁদের আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলাম। তাঁদের দুজেনও কিন্তু দ্বিমত পোষণ করলেন না। তাঁরা (সকলেই) বললেন, আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি যে, আপনি লোকদের নিয়ে ফিরে যান এবং তাঁদেরকে এ মহামারীর মুখে এগিয়ে দিবেন না।
তখন উমার (রাঃ) লোকদের মাঝে ঘোষণা দিলেন, আমি ফজর পর্যন্ত সওয়ারীর উপর থাকবো, তোমরাও (ফজর পর্যন্ত সওয়ারীর উপর) অবস্থান কর। তখন আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর তাকদীর থেকে পলায়ন করে? তখন উমার (রাঃ) বললেন, হে আবূ উবায়দা! তুমি ভিন্ন অন্য কেউ এ কথা বললে (রাবী বলেন) উমার (রাঃ) তাঁর বিরুদ্ধাচরণ অপছন্দ করতেন (তিনি বললেন) হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহরই তাকদীরের দিকে পলায়ন করছি। তোমার যদি একপাল উট থাকে আর তুমি একটি উপত্যকায় অবতীর্ণ হওয়ার পর দেখ যে, দুটি প্রান্তর রয়েছে, যার একটি সবুজ শ্যামল অপরটি শূন্য। সে ক্ষেত্রে তুমি যদি সবুজ শ্যামল প্রান্তরে (উট) চরাও, তাহলে আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে, আর যদি তৃণশূন্য প্রান্তরে চরাও, তাহলেও আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে।
এ সময় আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এলেন, তিনি (এতক্ষণ) তাঁর কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে (হাদীসের) ইলম রয়েছে। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা কোন এলাকায় এর সংবাদ শুনতে পাও, তখন তার উপরে (দুঃসাহস দেখিয়ে) এগিয়ে যেয়ো না। আর যখন কোন দেশে তোমাদের সেখানে থাকা অবস্থায় দেখা দেয়, তখন তা থেকে পলায়ন করে বেরিয়ে পড়ো না। তখন উমার (রাঃ) আল্লাহর হামদ করলেন। তারপর চলে গেলেন।
-সহীহ মুসলিম ৫৫৯১
কিয়ামত নিকটবর্তী
মুসলিম হয়েও আখেরাতে শাস্তিপ্রাপ্ত
যে ব্যক্তি জেনে শুনে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করে, তার জন্য জান্নাত হারাম। -সহীহ বুখারী ৪৩২৬
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সহীহ বুখারী ৫৯৮৪
চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সহীহ বুখারী ৬০৫৬
আমার সকল উম্মাতই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কিন্তু যে অস্বীকার করবে। তারা বললেন, কে অস্বীকার করবে। তিনি বললেনঃ যারা আমার অনুসরণ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে-ই অস্বীকার করবে। -সহীহ বুখারী ৭২৮০
যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ না থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সহীহ মুসলিম ৭৬
যার অন্তরে অণুপরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায় অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা। -সহীহ মুসলিম ১৬৬
চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। -সহীহ মুসলিম ১৯৩
তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা'আলা কথা বললেন না। তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদের (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (১) যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে খোটা দেয়; (২) যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে দোকানদারী করে এবং (৩) যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করে। -সহীহ মুসলিম ১৯৫
তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা'আলা কথা বললেন না, তাদের (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না। রাবী আবূ মু'আবিয়াহ বলেন, তাদের প্রতি তাকাবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (এরা হলো) ব্যভিচারী বুড়ো, মিথ্যাবাদী শাসক বা রাষ্ট্রপ্রধান ও অহঙ্কার দরিদ্র ব্যক্তি। -সহীহ মুসলিম ১৯৬
যে ব্যক্তি কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হক বিনষ্ট করে তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম ওয়াজিব করে রেখেছেন এবং জান্নাত হারাম করে রেখেছেন। -সহীহ মুসলিম ২৫০
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নামবাসী দু' প্রকার মানুষ, আমি যাদের (এ পর্যন্ত) দেখিনি। একদল মানুষ, যাদের সঙ্গে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে, তা দ্বারা তারা লোকজনকে মারবে এবং এক দল স্ত্রী লোক, যারা কাপড় পরিহিত উলঙ্গ, যারা অন্যদের আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা, তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। ওরা জান্নাতে যেতে পারবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না অথচ এত এত দূর হতে তার সুঘ্ৰাণ পাওয়া যায়। -সহীহ মুসলিম ৫৪৭৫
আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। -সহীহ মুসলিম ৬৪১৫
উপকার করে খোটা দানকারী আর মাতাপিতার অবাধ্যতাকারী এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সূনান নাসাঈ ৫৬৭২
যে দেহের গোশত হারাম উপার্জনে গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। -মিশকাতুল মাসাবীহ ২৭৭২
তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়ে দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষবেশিনী বা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং মেড়া পুরুষ; (যে তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা দেয় না।) -হাদীস সম্ভার ১৭১৩
বিচারক তিন শ্রেণীর। এক শ্রেণী জান্নাতে যাবে এবং দু'শ্রেণী জাহান্নামে যাবে। আর যে জান্নাতে যাবে সে ব্যক্তি তো এমন, যে সত্যকে জানার পর সে অনুযায়ী বিচার করবে। পক্ষান্তরে, যে বিচারক সত্যকে সত্য হিসাবে জানার পরও স্বীয় বিচারে জুলুম করবে, সে জাহান্নামে যাবে। আর সে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত ভুল বিচার করবে, সেও জাহান্নামে যাবে। -সূনান আবু দাউদ ৩৫৩৫
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম ও জান্নাত পরস্পর ঝগড়া করল। অতঃপর জাহান্নাম বলল, প্রতিপত্তি সম্পন্ন অহংকারী লোকেরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। জান্নাত বলল, দুর্বল ও নিঃস্ব, লোকেরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। তখন আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা শাস্তি দেব। কোন কোন সময় তিনি (রাবী) বলেছেন, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা বিপদগ্রস্থ করব। এরপর তিনি জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা করুণাসিক্ত করব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে ভরপুর (খোরাক)। -সহীহ মুসলিম ৬৯০৯
দুনিয়া বিমুখতা
সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমিই সর্বপ্রথম আরব যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। যুদ্ধের সময় আমাদের অবস্থা দেখেছি যে হুবলা পাতা ও ঝাউগাছ ব্যতীত খাবারের কিছুই ছিল না। আমাদের মল বকরির মলের মত হয়ে গিয়েছিল। যা ছিল সম্পূর্ণ শুক্নো। -বুখারী ৬৪৫৩
জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে আবার চলতে শুরু করলাম। তখন জীবিকা হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেই একটি করে খেজুর পেত, তা সে চুষত এবং পরে আবার সেটা কাপড়ের মধ্যে রেখে দিত। তখন আমরা আমাদের ধনুকের দ্বারা গাছের পাতা পাড়তাম এবং সেটা খেতাম। ফলে আমাদের চোয়ালে ঘা হয়ে গেল। -মুসলিম ৭৪০৭
উকবা ইবনু গাযওয়ান (রাঃ) একদা আমাদের মাঝে ভাষণ দিলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সাথী সাত ব্যক্তির সপ্তম জন ছিলাম। তখন আমাদের নিকট গাছের পাতা ব্যতীত আর কোন খাদ্যই ছিল না। ফলে আমাদের চোয়ালে ঘা হয়ে গেল। এ সময় আমি একটি চাঁদর পেয়েছিলাম। অতঃপর আমার ও সা’দ ইবনু মালিকের জন্য আমি তাকে দু'টুকরা করে নেই। এক টুকরা দিয়ে আমি লুঙ্গি বানিয়েছি এবং অপর টুকরা দিয়ে লুঙ্গি বানিয়েছে সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ)। -মুসলিম ৭১৬৬
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের তিনশত ব্যক্তির উর্ধ্বে একটি দলকে আবু উবায়দার নেতৃত্বে যুদ্ধে পাঠান। তিনি আমাদের পাথেয় হিসাবে এক থলি খেজুর দিলেন। আবু উবায়দা (রাঃ) এ থেকে আমাদেরকে একমুষ্ঠি করে দিতেন। আর যখন তা নিঃশেষ হতে চললো, তখন তিনি একটি একটি করে খেজুর বণ্টন করতেন। আমরা শিশুদের ন্যায় তা চুষতাম এবং পরে পানি পান করতাম। যখন তাও শেষ হলো, তখন আমরা এর মূল্য অনুভব করতে পারলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের বর্শা দ্বারা গাছের পাতা ঝরিয়ে তা খেতে লাগলাম। এরপর পানি পান করতাম। এই জন্য ঐ সেনাদলের নাম ‘পাতার দল’ হয়ে গেল।
যখন আমরা সমুদ্র তীরে পৌঁছলাম, সেখানে আমরা এক জন্তু দেখতে পেলাম, যা বালুর টিলার ন্যায় পড়ে ছিল। তাকে আম্বর বলা হতো। আবু উবায়দা (রাঃ) বললেনঃ এটা মৃত জন্তু, তোমরা তা খাবে না। এরপর তিনি বললেনঃ আমরাতো রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সেনাদল, আর আল্লাহ্ পাকের রাস্তায় রয়েছি এবং আমরা নিরুপায়। অতএব তোমরা আল্লাহর নামে খাও। পরে আমরা তা থেকে খেলাম এবং মাছের কিছু অংশ শুকালাম। এর চোখের কোটরে তের ব্যক্তি বসতে পারতো।
বর্ণনাকারী বলেনঃ আবু উবায়দা (রাঃ) এর পাঁজরের এক পাশের একখানা হাড় নিলেন। তারপর সর্ববৃহৎ উটের পিঠে হাওদা বসান। তারপর সেটিকে সেই হাড়ের নিচ দিয়ে চালিয়ে নেন। আমরা এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তোমরা এত দেরী করলে কেন? আমরা বললামঃ আমরা কুরায়শদের দলের প্রতীক্ষায় ছিলাম। আর আমরা তাঁর নিকট ঐ জন্তুর ঘটনাও বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ এটা আল্লাহ্-প্রদত্ত রিয্ক, যা তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমাদের নিকট এর কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে কি? রাবী বলেন, আমরা বললামঃ হ্যাঁ।
-নাসাঈ ৪৩৫৫
অনন্তকালের আফসোস
মৃতের দাফন সংক্রান্ত কিছু ফতোয়া
মসজিদে কারো জানাযার এলান করা বৈধ। মসজিদের মাইক আপনস্থানে রেখে (মাইক মসজিদের ভিতরে হোক বা বাইরে) এতে কারো জানাযার ঘোষণা করাও নাজায়েয নয়।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/3548
.
আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও নেককারদের মৃত্যু-সংবাদ দেওয়া সুন্নাত। মৃতের প্রভাব-প্রতিপত্তি উল্লেখ করে মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করা মাকরূহ। বিলাপ, আর্তনাদের সাথে প্রচার করা হারাম।
সাধারণভাবে মৃত্যু-সংবাদ পৌঁছাতে কোনো সমস্যা নেই। আর তা মৌখিকভাবে যেমন করা যায়, তদ্রূপ বর্তমানে মাইকের মাধ্যমেও করা যায়।
জানাযা কখন হবে এটি কোনো এলাকায় একবার জানিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। দীর্ঘ সময় নিয়ে মাইকে একই ঘোষণা বহুবার করা ঠিক নয়। কেননা এতে অন্যদের কষ্ট হতে পারে।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/2744
.
স্ত্রী মৃত স্বামীকে দেখতে পারবে, স্পর্শ করতে পারবে, এমনকি প্রয়োজনে তাকে গোসল ও দিতে পারবে।
কিন্তু স্বামী তার মৃত স্ত্রীকে স্পর্শ করতে পারবে না, গোসল দিতে পারবে না। তবে প্রয়োজনে (খাহেশাতে নফসানী ব্যতীত) দেখতে পারবে।
ifatwa.info/849
.
মৃতের দাফন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা উত্তম এবং বিনা ওজরে বিলম্ব করা মাকরূহ।
দাফনে দীর্ঘ বিলম্বের উদ্দেশ্যে লাশের পরিবর্তন ও বিকৃতি রোধে লাশকে হিমাগারে রাখা, ফর্মালিন মেডিসিন ইত্যাদি পচনরোধক ঔষধ দিয়ে রাখা জায়েয নয়। বরং লাশের স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার পূর্বেই দাফন করে দেওয়া জরুরি। এর অধিক বিলম্ব করা গুনাহ।
লাশ জানাযা-দাফনের জন্য প্রস্ত্তত হয়ে যাওয়ার পর সামাজিক, রাজনৈতিক বা দলীয় প্রথা পালনের উদ্দেশ্যে লাশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মকান্ড করা যেমন, লাশকে স্থানে স্থানে নিয়ে প্রদর্শন করা, শ্রদ্ধা নিবেদন করা, পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, ভিডিও করা, লাশকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে জীবনালোচনা করা, বিভিন্নমুখী ভাষণ-বক্তৃতা দেওয়া ইত্যাদি সবই গর্হিত।
মৃতের একাধিক জানাযা পড়া জায়েয নয়।
কোনো ব্যক্তি যে এলাকায় মারা যাবে তাকে সে এলাকার কবরস্থানে বা নিকটবর্তী কোনো কবরস্থানে দাফন করে দেওয়া উত্তম। ওজর ব্যতিত দূরবর্তী এলাকায় নিয়ে দাফন করা অনুত্তম।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1303
.
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাযার পিছনে চলতেন তখন অধিক চুপ থাকতেন এবং চিন্তায় খুব মগ্ন থাকতেন। সাহাবায়ে কেরামের আমল ব্যাপকভাবে এমনি ছিল; তাঁরা জানাযার পিছনে যাওয়ার সময় কোনো আওয়াজ করতেন না। জানাযার পিছনে চলার সময় মূল কাজ হল আখেরাতের ফিকিরে থাকা। যিকির করতে চাইলে তা হবে অনুচ্চ স্বরে। যিকির করতে গিয়ে আওয়াজ উঁচু করা মাকরূহ।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/2723
.
যেসব জায়গার মাটি শক্ত ও মজবুত সেসব জায়গায় লাহদ (বোগলী) কবর খনন করা সুন্নত। সেটা হল-স্বাভাবিকভাবে চার কোণা করে মাটি খোড়ার পর নীচে পশ্চিম (কিবলার) দিক দিয়ে একটি গর্ত করবে এবং পশ্চিম দিকের ঐ গর্তের মধ্যে লাশ রাখবে।
আর যেসব জায়গার মাটি নরম, লাহদ কবর করলে মাটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা আছে, সেসব জায়গায় সিন্দুক কবর করবে। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে চার কোণা করে মাটি খোড়ার পর নীচের দিকে গিয়ে মাঝ বরাবর একটি গর্ত করবে এবং সেখানে লাশ রাখবে।
কবরের গভীরতা সর্বনিম্ন নাভি পর্যন্ত থেকে সর্বোচ্চ একজন মধ্যম গড়নের ব্যক্তি দু’হাত উপরে তুলে দাঁড়ালে যতটুকু লম্বা হয় ততটুকুর মধ্যে রাখবে। তবে উপরের পরিমাণের মধ্যে যে এলাকায় যেটা প্রচলন সে এলাকায় সে পরিমাণই গভীর করা উচিত।
কবরের দের্ঘ্য হবে মৃতের দৈর্ঘ্য সমান এবং প্রস্থ হবে দৈর্ঘ্যরে অর্ধেক বা তারচেয়ে কিছুটা কম।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/2321
.
কবরের গভীরতা এ পরিমাণ হওয়া উচিত যেন লাশের দুর্গন্ধ না ছড়াং এবং হিংস্র পশুর আক্রমণ থেকেও লাশ হেফাযত থাকে। তাই অন্তত কোমর পরিমাণ গভীর করা উচিত। সম্ভব হলে পূর্ণ দেহ পরিমাণ গভীর করা উত্তম।
কবরে শায়িত ব্যক্তিকে বসানো, সওয়াল-জওয়াব করা এসব বরযখ নামক এক অদৃশ্য জগতে হবে। কাফন-দাফনের বিধানাবলির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই বরযখে মাইয়্যিত কিভাবে বসবে, ফেরেশতারা কোথায় থাকবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবার প্রয়োজন নেই। আল্লাহর হুকুম ও কুদরতেই এসব কিছু হবে। সুতরাং কবরে বেশি ফাঁকা না রেখে বাঁশগুলো লাশের কাছাকাছি রাখা নিয়ম।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/571
.
মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সুন্নত নিয়ম হল, ডান কাতে কিবলামুখী করে শোয়ানো। যেন মুখ ও সীনা কিবলার দিকে থাকে। এজন্য কবর এমনভাবে বানাবে যেন মাইয়্যেতকে সহজেই কিবলামুখী করা যায়। কিন্তু চিৎ করে রেখে শুধু চেহারা কিবলামুখী করে রাখলে সুন্নত আদায় হবে না।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1274
.
দাফনের সময় "মিনহা-খালাকনা-কুম ওয়া ফীহা-নু‘ঈদুকুম ওয়ামিনহা-নুখরিজুকুম তা-রাতান উখরা-।(ত্বোয়াহ ২০:৫৫)" পড়ার হাদীসকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম জঈফ তথা দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন।
ahlehaqmedia.com/কবরে-মাটি-দেবার-সময়-মিনহা
.
দাফনের সময় কবরের মাটি একটি ঝুড়িতে করে বাড়ির মহিলাদের কাছে নিয়ে আসা; মহিলারা দুআ পড়ে ঐ মাটি ছুঁয়ে দেয়; তারপর তা কবরে ঢেলে দেওয়া হয়।
এটি একটি অমূলক রসম, শরীয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই।
alkawsar.com/bn/article/1750
.
কবরের চার কোণে চার কুল পড়ে ডাল গেঁথে দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মনগড়া ও বিদআত।
alkawsar.com/bn/article/1010
.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের দাফন শেষ করে সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন প্রতিষ্ঠিত থাকে সেজন্য দু‘আ করো। কেননা তাকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
-সুনান আবূ দাউদ ৩২২১
.
সাধারণ অবস্থায় মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারতে যাওয়া থেকে বিরত থাকাই উচিত। তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা জায়েয। শর্তগুলো হচ্ছে-
নিয়মিত বা ঘন ঘন কবর যিয়ারতের জন্য যাবে না। কবরস্থানে গিয়ে জোরে জোরে কান্না করা, বিলাপ করা ইত্যাদি সবধরনের শরীয়তবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিপূর্ণ পর্দাসহ বের হবে। যাওয়া-আসা নিরাপদ হতে হবে। পথে কোনো ধরনের ফেতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকতে হবে।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/3406
.
মৃত্যুর পর শান্তি ও আযাব রূহ এবং দেহ উভয়ের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো শুধু রূহের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। তাই বলা উচিত হবে, হে আল্লাহ অমুকের মাগফিরাত করুন। রূহের মাগফিরাত করুন এমনটি না বলাই ভালো।
ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে বিনিময় নিয়ে কুরআন মাজীদ খতম করার যে প্রচলন রয়েছে তা সম্পূর্ণ বিদআত ও নাজায়েয।
alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/1761
.
মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য দুআ করা এবং সাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন নফল ইবাদত যেমন- দান-সদকা, তেলাওয়াত, যিকির-আযকারই যথেষ্ট এবং এটাই করণীয়। আর নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখের অপেক্ষা না করে নিজ নিজ তাওফীক অনুযায়ী এগুলো মাঝে মধ্যেই করা দরকার।
দান-সদকা করার ক্ষেত্রে গরীব দুঃখীদেরকে নগদে প্রদান করা ভালো এবং সদকায়ে জারিয়া হয় এমন খাতে ব্যয় করা উত্তম। কোনো দিন-তারিখ নির্ধারিত না করে গরীব-মিসকীনদেরকে খানা খাওয়ানোটা ঈসালে সাওয়াবের একটি বৈধ পন্থা।
তিন দিনা, সাত দিনা, একইশা, চল্লিশা এ সকল নামে অনুষ্ঠান করাকে জরুরি মনে করা হয় বা কমপক্ষে এরূপ ধারণা রাখা হয় যে, এ তারিখগুলোর বিশেষত্ব রয়েছে। অথচ শরয়ী দলীল-প্রমাণ ছাড়া বিশেষ দিন-তারিখ নির্ধারণ করে নেওয়া বিদআত ও নাজায়েয।
যিয়াফত তথা আড়ম্বরপূর্ণ দাওয়াত অনুষ্ঠানকেই ঈসালে সওয়াবের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। অথচ শরীয়র্তে যিয়াফতের আয়োজনের কথা তো আছে আনন্দের মুহূতে, মুসিবতের মুহূর্তে নয়।
আর যিয়াফতের আয়োজনে অনেক ক্ষেত্রে সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এটি আদৌ ঈসালে সাওয়াবের গ্রহণযোগ্য পন্থা নয়।
অনেক ক্ষেত্রে সদাকার ব্যয়ভার নির্বাহ করা হয় মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া এজমালী সম্পদ থেকে। ওয়ারিশদের মাঝে কোনো নাবালেগ থাকলেও তার সম্পদ বাদ দেওয়া হয় না। অথচ নাবালেগের সম্পদ তার অনুমতি নিয়েও খরচ করা নাজায়েয। এমনিভাবে বালেগ ওয়ারিশদের ক্ষেত্রেও এটা লক্ষ রাখা হয় না যে, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি আছে কি না।
এ ধরনের অনুষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই লোক দেখানোর জন্য বা সামাজিক রেওয়াজে প্রভাবিত হয়ে করা হয়। এটাও নাজায়েয। শরীয়ত বিরোধী এ জাতীয় আরো কর্মকান্ড এসব অনুষ্ঠানে হয়ে থাকে। ফলে এর দ্বারা মৃত ব্যক্তির উপকার হওয়া তো দূরের কথা উল্টো ব্যবস্থাকারীগণ গুনাহগার হয়ে থাকে।
কবর
যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। -বুখারী ১২৮০