[ভিত্তিহীন বর্ণনা-১] অনেককে বলতে শোনা যায়, 'আল্লাহ তাআলা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর পাঠিয়েছেন।' এক
.
[ইসরাঈলী রেওয়ায়েত-২] প্রসিদ্ধ আছে, ইবলীস আদম আ. ও হাওয়া আ. কে ওয়াসওয়াসা দেওয়ার জন্য জান্নাতে ঢুকতে চাইলে জান্নাতের প্রহরীরা বাঁধা দেয়। তাই সে সাপের মুখে করে লুকিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে। এ অপরাধের কারণে সাপের শরীরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। সাপের পা খসে পড়ে। এরপর থেকেই সাপকে বুকে ভর দিয়ে চলতে হয়।
.
[জাল বর্ণনা-৩] আল্লাহ পাক একবার মুসা আ. কে উদ্দেশ করে বললেন, তুমি বনী ইসরাঈলকে (মূসা আ. এর কওমকে) জানিয়ে দাও, যে ব্যক্তি আহমদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি অবিশ্বাসী অবস্থায় আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, সে যেই হোক আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব। হযরত মূসা আ. আরয করলেন, আহমদ কে?
আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন- হে মুসা, আমার ইজ্জত ও গৌরবের শপথ!
আমি সমস্ত সৃষ্টিজগতের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত কাউকে সৃষ্টি করিনি। আমি তাঁর নাম আরশের মধ্যে আমার নামের সঙ্গে আসমান ও জমিন এবং চন্দ্র ও সূর্য সৃষ্টির বিশ লক্ষ বছর আগে লিপিবদ্ধ করেছি। আমার ইজ্জত ও গৌরবের শপথ! আমার মাখলুকের জন্য জান্নাত হারাম যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ না করবে।
এরপর মূসা আ. আরয করলেন, হে আল্লাহ, আমাকে সেই উম্মতের নবী বানিয়ে দাও। আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন, সেই উম্মতের নবী তাদের মধ্য থেকেই হবে। মূসা আ. পুনরায় আরয করলেন, তবে আমাকে সেই নবীর এক উম্মত বানিয়ে দাও। আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন, তুমি তাঁর আগেই নবীরূপে আবির্ভূত হয়েছ। আর সেই নবী তোমার পরে প্রেরিত হবেন। তবে জান্নাতে তাঁর সঙ্গে তোমাকে একত্র করে দেব।
.
[ইসরাঈলী রেওয়ায়েত-৪] সুলাইমান আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা একটি আংটি দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তার বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন। এর বদৌলতেই জীব-জন্তু, জিন-পরী, আকাশ-বাতাস সবকিছু তাঁর বশীভূত ছিল। এই আংটিটিতে 'ইসমে আযম' লেখা থাকায় শৌচাগারে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর এক স্ত্রীর কাছে তা রেখে যেতেন। একবার তিনি আংটিটি তাঁর স্ত্রীর কাছে রেখে গেলে একটি দুষ্ট জিন (তাঁর বেশ ধরে এসে) আংটিটি নিয়ে নেয়। ফলে তিনি রাজত্ব হারান। জীবন ধারণের জন্য তিনি এক জেলের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন। পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি প্রতিদিন দু'টো মাছ পেতেন। একদিন একটি মাছ কাটার পর মাছের পেটে তিনি তাঁর হারানো আংটিটি ফিরে পান। ঘটনা হল, উক্ত দুষ্ট জিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সবাই বুঝে ফেলে যে, সে আসলে সুলাইমান আ. নয়। তাই সে আংটিটি সমুদ্রে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর একটি মাছ তা খেয়ে ফেলে। সেই মাছটিই সুলাইমান আ.এর জালে ধরা পড়ে...।
.
[ভিত্তিহীন ঘটনা-৫] লোকমুখে প্রসিদ্ধ, সুলাইমান আ. একবার আল্লাহর সকল সৃষ্টিজীবকে দাওয়াত খাওয়ানোর ইচ্ছা করেন। অনুগত জিন-ইনসানের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে খাবার জমা করা হয়। বিপুল পরিমাণ খাদ্য জমা হয়ে গেলে মেহমানদারি শুরু করা হয়। কিন্তু সমুদ্রের একটি মাছই তাঁর সকল খাদ্যসামগ্রী খেয়ে ফেলে। এমনকি মাছটি আরও খাবার চাইতে থাকে। মাছটি বলে, 'আমার রব আমাকে প্রতিদিন এর তিনগুণ খাবার খেতে দেন।' এ কথা শুনে সুলাইমান আ. সেজদায় লুটিয়ে পড়েন!
.
[ইসরাঈলী রেওয়ায়েত-৬] আইয়ূব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে প্রচলিত আছে, কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর সারা শরীরে ঘা হয়ে যায়। শরীরে পোকা বাসা বাঁধে এবং শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার কারণে লোকেরা তাঁকে জনবসতি থেকে বের করে দেয়। স্ত্রী ছাড়া তাঁর সকল আত্মীয়-পরিজন আস্তে আস্তে তাঁকে পরিত্যাগ করে। খাবারের ব্যবস্থা করতে তাঁর স্ত্রী মানুষের বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য হন। এমনকি একসময় তাকে তার মাথার চুল বিক্রি করতে হয়...।
.
[ইসরাঈলী রেওয়ায়েত-৭] প্রচলিত আছে, বনী ইসরাঈল হযরত যাকারিয়া আ. কে মারার জন্য ধাওয়া করলে তিনি একটি গাছের মধ্যে আশ্রয় নেন। কিন্তু শয়তান তার কাপড়ের প্রান্ত ধরে ফেলে। কাপড়ের প্রান্ত বের হয়ে থাকার কারণে দুর্বৃত্তরা বুঝতে পারে যে তিনি গাছে লুকিয়েছেন। এরপর তারা গাছটিকে করাত দিয়ে চিরে ফেলে।
.
[ভাত্তহীন ঘটনা-৯] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দেখলেন, ছেলেরা খেলছে আর একটি ছেলে মাঠের এক কোণে বসে কাঁদছে। তার গায়ে জীর্ণ-শীর্ণ কাপড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? ছেলেটি নবীজীকে চিনতে পারেনি। উত্তরে সে বলল, আমার কথা ছাড়ুন, আমার বাবা নবীজীর সঙ্গে এক যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, আর আমার মায়ের অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছে। তারা আমার ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করে নিয়েছে। এরপর সেই স্বামী আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব, পরার মতো পোশাক নেই, খাবার নেই, থাকার জায়গা নেই। এই ছেলেদের যখন দেখলাম, সুন্দর পোশাক পরে খেলছে তখন আমার খুব খারাপ লেগেছে, আর খুব কান্না আসছিল। তিনি ছেলেটির হাত ধরে বললেন, আজ থেকে আমিই তোমার বাবা, আয়েশা তোমার মা, আর আমার মেয়ে ফাতেমা তোমার বোন। আলী তোমার চাচা, হাসান-হুসাইন তোমার ভাই। এরপর তিনি ছেলেটিকে ঘরে নিয়ে যান এবং তাকে খেতে দেন। ভালো পোশাক পরান। একটু পর ছেলেটি হাসতে হাসতে বের হয়, তখন অন্য ছেলেরা জিজ্ঞাসা করে, একটু আগে তোমাকে কাঁদতে দেখলাম, এখন আবার হাসছ? ছেলেটি বলল, আমার পরার মতো কাপড় ছিল না, এখন কাপড় পেয়েছি; আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, এখন পেটপুরে খেয়েছি; আমি এতিম ছিলাম, এখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বাবা এবং আয়েশা রা. আমার মা হয়ে গেছেন ...। এ কথা শুনে ছেলেরা বলল, হায়! যদি আমাদের বাবাও সেই গযওয়ায় তথা যুদ্ধে শহীদ হতেন।
.
[ভিত্তিহীন ঘটনা-১০] প্রচলিত একটি পুস্তকে উল্লেখ করা হয়েছে-
"ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিবার পূর্বে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) একজন বড় ধনাঢ্য লোক ছিলেন। যেদিন হযরত (দ.) এর খেদমতে আসিয়া তিনি ইসলামে দীক্ষিত হইলেন সেই দিন হইতেই তাঁহার যত ধন-সম্পত্তি ছিল সমস্তই আল্লাহর রাস্তায় খরচ করিতে লাগিলেন। অবশেষে অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত হইয়াই সংসার-যাত্রা নির্বাহ করিতেন এবং খোদা তাআলার সন্তোষ লাভের আশা করিতেন। কিছুদিন পর এইরূপ অবস্থা হইয়াছিল যে, নিজের ও পরিবারের খোরাক পোশাকের জন্য অনেক কষ্ট করিতে বাধ্য হইলেন। একদিন পরনের কাপড়-অভাবে মসজিদে নামায পড়িতে যাইতে কিঞ্চিৎ দেরী হইয়াছিল দেখিয়া হযরত (দ.) বলিলেন, "হে আবু বকর! আমি জীবিত থাকিতেই ইসলামের প্রতি আপনাদের এত অবহেলা হইতেছে, আমি অভাবে আরও কত কি হয় বলা যায় না।"
তখন সিদ্দীক (রা.) বলিলেন, "হুজুর! আমার অবহেলার কিছুই নহে, বাস্তবিক আমার পরনের কাপড় ছিল না, সেই হেতু আমি ছোট একখানা কাপড়ের সহিত বালিশের কাপড় ছিঁড়িয়া খেজুর পাতা ও কাঁটা দ্বারা সেলাই করত ধুইয়া শুকাইয়া পরিয়া আসিতে এত গৌণ হইয়াছে। হুজুর মার্জনার চক্ষে দর্শন করুন।” সিদ্দীক (রা.) এর কথা শুনিয়া হযরতের প্রাণ গলিয়া গেল। তাই তিনি দুঃখিত অন্তরে নামায আদায় করিয়া তাহার জন্য কিঞ্চিত দুআ করিলেন।
ইহার কিছুক্ষণ পরেই জিবরাঈল (আ.) সম্পূর্ণ খেজুর পাতার পোশাক পরিয়া হযরত (দ.) এর সম্মুখে হাজির হইলেন। হযরত (দ.) তাহা দেখিয়া অবাক হইলেন ও জিজ্ঞাসা করিলেন, ভাই জিবরাঈল! প্রত্যহ তোমার শরীরে জরির পোশাক দেখিতে পাই, আর আজ খেজুর পাতার পোশাক দেখিতে পাইতেছি কেন? তদুত্তরে জিবরাঈল (আ.) বলিলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) খেজুর পত্রের সেলাই করা কাপড় পরিয়া নামায পড়িতে আসিয়াছিলেন, তখন আল্লাহ তাআলা সমস্ত ফেরেশতাকে ডাকিয়া বলিলেন, 'দেখ হে ফেরেশতাগণ! আবু বকর আমার সন্তোষ লাভের জন্য কতই না কষ্ট স্বীকার করিতেছেন। অতএব তোমরা যদি আজ আমার সন্তোষ চাও, আমার দফতরে তোমাদের নাম রাখিতে চাও, তবে এখনই আবু বকরের সম্মানার্থে সকলেই খেজুর পত্রের পোশাক পরিধান কর। নচেৎ আজই আমার দফতর হইতে সমস্ত ফেরেশতার নাম কাটিয়া দিব।' এই কঠোর বাক্য শুনিয়া আমরা সকলেই তাঁহার সম্মানার্থে খেজুর পত্রের পোশাক পরিতে বাধ্য হইয়াছি।"(১)
.
[ভিত্তিহীন ঘটনা-১২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কন্যা-উম্মে কুলসুম রা. ও ফাতেমা রা. ছিলেন যথাক্রমে উসমান রা. ও আলী রা.এর সহধর্মিণী। উসমান রা. ছিলেন বেশ ধনী। কিন্তু আলী রা.এর তেমন সম্পদ ছিল না। উম্মে কুলসুম রা. একবার মদীনার সম্ভ্রান্ত মহিলাদের দাওয়াত করেন। কিন্তু ফাতেমা রা. কে দাওয়াত করা হয়নি। ভরা মজলিসে দরিদ্র বোনের কারণে তিনি বিব্রত হতে চাননি! ফাতেমা রা. এতে খুবই মর্মাহত হন। তাঁর মনঃকষ্টের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় দাওয়াতের মজলিসে। আগত মেহমানরা খেতে বসলে দেখা গেল, পাকানো ভাত চাল হয়ে আছে, আর গোশতের টুকরোগুলো পাথরের টুকরোয় পরিণত হয়ে গেছে।
.
[ভিত্তিহীন ঘটনা-১৩] বেলাল রা. ছিলেন হাবশা বা আবিসিনিয়ার বাসিন্দা। (এরা ছিল অনারব)। এ কারণে আরবী উচ্চারণ তাঁর সম্পূর্ণরূপে শুদ্ধ হত 'না। আযানের মধ্যে 'আশহাদু' শব্দটি তাঁর মুখে 'আছহাদু' উচ্চারিত হয়ে যেত। একবার সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে গিয়ে আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বেলালের আযান শুনে কাফেররা বিদ্রূপ করে বলে, মুহাম্মদ এমন কিছু বোকাকে মুসলমান বানিয়েছে যারা আরবী বর্ণের শুদ্ধ উচ্চারণ পর্যন্ত জানে না। কাফেরদের বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যে আমরা বিব্রত বোধ করি। আমাদের অনুরোধ, বেলালের পরিবর্তে অন্য কাউকে মুআযযিন নিযুক্ত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের আবেদন মঞ্জুর করে বেলাল রা.এর স্থানে অন্য একজনকে মুআযযিন হিসেবে নিযুক্ত করলেন।
নতুন মুআযযিন এক ওয়াক্ত নামাযের আযান দেওয়ার পরই আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে ফেরেশতা এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আজ কী হয়েছে যে আযান দেওয়া হল না?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আজ তো আযান হয়েছে।
ফেরেশতা বললেন, বেলাল যখন আযান দেন তখন সেই আযানের আওয়ায আরশে মুআল্লা পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের সঙ্গে নিয়ে সেই আযান শুনেন। আজ বেলালের আযান আরশে মুআল্লায় পৌঁছায়নি। তাই আল্লাহ পাক জানতে চেয়েছেন, আজ কি আযান হয়নি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেন, এখন থেকে বেলালই আযান দেবে। বেলালের 'সীন'ই আল্লাহর কাছে 'শীন।'
.
[ভিত্তিহীন ঘটনা-১৪] একবার জাবের রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করেন। ইত্যবসরে জাবের রা.এর এক শিশু ছেলে আরেক ছেলেকে হত্যা করে। এরপর সে ভয়ে পালাতে গিয়ে চুলায় পড়ে যায়। ফলে সেও মারা যায়। জাবের রা. এর স্ত্রী এসব বিষয় চেপে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মেহমানদারি করেন। খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে জাবের রা. ছেলেদের মৃতদেহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এনে রাখেন। সব শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলে দু'টিকে জীবিত করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করেন। তাঁর দুআর বদৌলতে আল্লাহ তাআলা ছেলে দুটিকে জীবিত করে দেন।
.
[ভিত্তিহীন ঘটনা-১৫] হাসান ও হুসাইন রা. তখন ছোট। একবার ঈদে তাদের নতুন পোশাকের ব্যবস্থা হয়নি। ঈদের দিন সকালে তাই তারা দু'জন খুব কান্নাকাটি করছিলেন। 'তোমাদের নতুন কাপড় দেওয়া হবে' এ কথা বলে ফাতেমা রা. তাঁদের শান্ত করে গোসল করতে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর সেজদায় লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকেন। তখন জিবরাঈল আ. দর্জির বেশ ধরে দু'টি নতুন কাপড় নিয়ে আসেন। একটি লাল, আরেকটি নীল। নতুন কাপড় পেয়ে তারা খুবই খুশি হল। নানাজীকে দেখানোর জন্য তারা কাপড় দু'টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেল। কিন্তু তিনি কাপড় দু'টি দেখে কেঁদে ফেলেন। এরপর লাল কাপড়টি হুসাইন রা.কে আর নীল কাপড়টি হাসান রা.কে পরিয়ে দেন। হুসাইন রা.এর শাহাদাত এবং হাসান রা.কে বিষ পান করানোর প্রতি ইঙ্গিত ছিল কাপড় দুটিতে। যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবতা হয়ে দেখা দেয়।
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-১৬] ওহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দাঁত ভেঙে যায়। উয়াইস কারনী রহ. তা জানতে পেরে নিজের সবগুলো দাঁত ভেঙে ফেলেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন্ দাঁত ভেঙেছে তা তিনি জানতেন না।
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-১৭] ইন্তেকালের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উয়াইস কারনী রহ. কে নিজের একটি খিরকা দিয়ে যান। উমর ও আলী রা. কে এই খিরকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। রাসূলের ইন্তেকালের পর তাঁরা এই খিরকা উয়াইস কারনীকে পৌঁছে দেন।
.
[হাদীস নয়-১৮] 'জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে চীন দেশে যাও।'
.
[হাদীস নয়-২১] যে ইলম অনুযায়ী আমল করে আল্লাহ তাকে অজানা বিষয়ের জ্ঞান দান করেন।
.
[হাদীস নয়-২২] বিদ্যানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও দামি।
.
[হাদীস নয়-২৪] মসজিদ আল্লাহর ঘর আর মাদ্রাসা আমার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) ঘর।
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-২৬] আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও।
.
[হাদীসে নেই-৩৩] কোনো কোনো ওযিফার বইয়ে ওযুর প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার ভিন্ন ভিন্ন দুআ উল্লেখ করা হয়েছে। এ দুআগুলো নির্ভরযোগ্যসূত্রে প্রমাণিত নয়। তাই এ দুআগুলোকে 'মা'ছুর দুআ' (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি তাকবীরে তাশরীকের প্রেক্ষাপট
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫৩] ইবরাহীম আ. যখন শিশু ইসমাঈল আ.কে কুরবানি করার জন্য কাত করে শোয়ান তখন আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল আ. কে ফিদয়া নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আসতে আসতেই কুরবানি হয়ে যায় কি না এ ভয়ে তিনি 'আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার' (الله أَكْبَرُ الله أكبر) আওয়াজ দেন। তাঁর আওয়াজ শুনে ইবরাহীম আ. আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেন, জিবরাঈল আ. ফিদয়া নিয়ে আসছেন। তখন তিনি বলে উঠেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর' (لا إلَهَ إِلَّا اللهُ اللهُ أكث) । ইসমাঈল আ. উঠে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করে বলেন, 'আল্লাহু আকবার ওয়া-লিল্লাহিল হামদ' (أَكْبَرُ وَاللَّهِ الْحَمْدُ)। তিনজনের দুআর সমষ্টিই হল নিচের দুআ (তাকবীরে তাশরীক)-
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
এরপর থেকেই এ দুআটি পড়ার রীতি চালু হয়।
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫৬]
১. চার হাজার দিনার সদকা দিয়া ঘুমাইবেন।
২. এক খতম কোরআন শরীফ পড়িয়া ঘুমাইবেন।
৩. জান্নাতের মূল্য দিয়া ঘুমাইবেন।
৪. উভয়ের বিবাদ মিটাইয়া ঘুমাইবেন।
৫. এক হজ করিয়া ঘুমাইবেন।
হযরত আলী রা. বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই কাজ আমার জন্য বড়ই কঠিন। আমি কী করিয়া এই কাজ করিতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন-
১. চার বার সূরা ফাতিহা পড়িয়া ঘুমাইলে চার হাজার দিনার সদকা করার সওয়াব তোমার আমলনামায় লিখা হইবে।
২. তিনবার সূরা ইখলাস পড়িয়া ঘুমাইলে এক খতম কোরআন পড়ার সওয়াব পাইবে।
৩. তিনবার দরূদ শরীফ পড়িয়া ঘুমাইলে জান্নাতের মূল্য আদায় হইয়া যাইবে।
৪. দশবার ইসতিগফার পড়িয়া ঘুমাইলে উভয়ের বিবাদ মিটানোর সওয়াব পাইবে।
৫. দশবার কালেমায়ে তামজীদ পড়িয়া ঘুমাইলে এক হজের সওয়াব পাইবে।
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৫৮] যারা দৈনিক বিশবার মৃত্যুর স্মরণ করবে, মৃত্যুর পর তারা শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৬০] সালাম প্রদান করলে নব্বই নেকি পাওয়া যায়, আর সালামের উত্তর দিলে দশ নেকি পাওয়া যায়।
.
[জাল বর্ণনা-৭১] আশুরার দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে।
.
[জাল বর্ণনা-৭২] আশুরার দিন আল্লাহ তাআলা হযরত ইদরীস আ. কে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছিলেন। এ দিনই তিনি ইবরাহীম আ. কে অগ্নিকুণ্ড থেকে রক্ষা করেছেন, মূসা আ. কে তাওরাত দিয়েছেন, ইসমাঈল আ. এর জন্য আসমান থেকে দুম্বা পাঠিয়েছেন, ইউসুফ আ. কে জেলখানা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ দিনই ইয়াকূব আ. তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। এ দিনই আইয়ূব আ. কে আরোগ্য দান করা হয়, ইউনুস আ. কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দান করা হয়। এ দিনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বাপর সব গোনাহ ক্ষমা করা হয়। এ দিনই ইউনুস আ. এর কওমের তওবা কবুল করা হয়, ঈসা আ. কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়, সুলাইমান আ. কে রাজত্ব দান করা হয়। এ দিনই আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা ও সমুদ্ররাজি সৃষ্টি করা হয়। এ দিনই আল্লাহ তাআলা লওহে মাহফুয ও কলম সৃষ্টি করেছেন।
অপর এক বর্ণনায় আছে, এ দিন আল্লাহ তাআলা আদম আ. ও জিবরাঈল আ. কে সৃষ্টি করেছেন। এ দিনই ইবরাহীম আ. ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন। এ দিনই দাউদ আ. এর গোনাহ ক্ষমা করা হয়। এ দিনই আল্লাহ তাআলা আরশে সমাসীন হন।
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৭৬] ২৭ রজব ইসরা ও মেরাজ সংঘটিত হয়।
.
[জাল বর্ণনা-৭৭] তিন ধরনের খাবারের হিসাব নেওয়া হবে না- সাহরির খাবার, ইফতারের খাবার এবং যে খাবার মুসলমানের সঙ্গে খাওয়া হয়।
.
[জাল বর্ণনা-৮৩] স্বামী-স্ত্রী যখন হাসি-খুশি দেখা-সাক্ষাৎ করে তখন আল্লাহ তাআলাও তাদের উভয়ের প্রতি রহমতের নজর করেন। (২)
.
[জাল বর্ণনা-৮৮] বিবির শরমগাহের (স্ত্রীলিঙ্গের) দিকে দেখে দেখে ছোহবত (সঙ্গম) করলে এবং তাতে সন্তান জন্ম নিলে সেই সন্তান বে-তমিজ ও বেআদব হবে অথবা অন্ধও হতে পারে।
.
[হাদিস নয় ৯৩] আচার-আচরণ কর ভাইয়ের মতো, লেনদেন কর অপরিচিতের মতো।
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-৯৬] নামায মুমিনের মেরাজ।
.
[হাদীস নয়-৯৮] আঠারো হাজার মাখলুকাত
.
[হাদীস নয়-১০২] দুনিয়া আখেরাতের শস্যক্ষেত্র
.
[হাদিস নয় ১০৩] হক কথা না বলে যে চুপ থাকে সে বোবা শয়তান
.
[ভিত্তিহীন বর্ণনা-১০৪] এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমার ছেলে খুব বেশি মিষ্টি খায়, আপনি ওকে কিছু বলে দিন। নবীজী উত্তরে বললেন, ওকে কিছু দিন পর নিয়ে আসুন। কিছুদিন পর তারা এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেটিকে এত বেশি মিষ্টি খেতে নিষেধ করেন। ছেলেটি নবীজীর কথা শুনে মিষ্টি খাওয়া কমিয়ে দেয়। লোকটি তখন নবীজীকে বলল, আপনি ওকে সেদিন কেন নিষেধ করলেন না? তিনি বললেন, আমার নিজেরও বেশি মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস ছিল। কোনো কিছুতে নিজে অভ্যস্ত থাকলে অন্যকে নিষেধ করা যায় না। এ কয়দিনে আমি মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করেছি।
.
[জাল বর্ণনা-১০৮] তিন কারণে আরবদের ভালোবাসবে- আমি আরবী, কুরআনের ভাষা আরবী, জান্নাতীদের ভাষা আরবী।